২০ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ঐতিহাসিক চুক্তি সফল করতে এবার সরাসরি মাঠে নামল কাতার

মধ্যস্থতাকারী দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন, কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানির একজন উপদেষ্টা বলে ইরানের আইএসএনএ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।
প্রকাশ: রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ঐতিহাসিক চুক্তি সফল করতে এবার সরাসরি মাঠে নামল কাতার

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে কাতারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিনিধিরা চুক্তির চূড়ান্তকরণ সহজতর করতে রোববার সকালে তেহরানে উড়ে গেছেন বলে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র সিএনএন-কে জানিয়েছে।

প্রতিনিধিদলটি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে বলে আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।

মধ্যস্থতাকারী দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন, কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানির একজন উপদেষ্টা বলে ইরানের আইএসএনএ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।


তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, এই সফরের উদ্দেশ্য হলো কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কিত সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করা।

সর্বশেষ এই বৈঠকটি এমন সময়ে হয়েছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্ভাব্য চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে সমঝোতা স্মারক কবে স্বাক্ষর করা হবে সেই বিষয়টিও।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে বলা হয়েছিল চুক্তিটি রবিবার স্বাক্ষরিত হবে।

ইরানি ও কাতারি কর্মকর্তারা চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেহরানে আবারও বৈঠক করেন, যেখানে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান প্রস্তাবিত চুক্তির খসড়া উপস্থাপন করে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় কাতারের তীব্র নিন্দা

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলায় কাতারের তীব্র নিন্দা

লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক উত্তেজনা, শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা এবং দেশটির ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বিভিন্ন লঙ্ঘনের বিষয়টি বৈরুত সফরে আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল বলে জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি।

লেবানন সফরকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর বিষয়ে আল থানি বলেন, ইসরায়েলের ক্রমাগত উত্তেজনা সৃষ্টির বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর পাশাপাশি শান্তিরক্ষী বাহিনীর ওপর হামলা এবং লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলের লঙ্ঘন নিয়েও কথা হয়েছে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার উপায় এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বৈঠকে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিও আলোচনায় এসেছে।

আল থানি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়নের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পাদিত সব চুক্তি বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেন তিনি।

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিয়ে কাতারের এই অবস্থান সামনে এল। আল থানি বলেন, প্রস্তাবটির পাশাপাশি জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বিতভাবে হওয়া সব চুক্তি কার্যকর করাও গুরুত্বপূর্ণ।

অপরাধ দমনে একজোট কাতার ও মিসর

লেবাননের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মেটাতে হাত বাড়াল কাতার

অপরাধ দমনে একজোট কাতার ও মিসর

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
অপরাধ দমনে একজোট কাতার ও মিসর

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে কাতার ও মিসর। সম্প্রতি মিশরের রাজধানী কায়রোতে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত বৈঠকে কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ খলিফা বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি এবং মিসরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহমুদ তৌফিক নিজ নিজ দেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন।

সেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে অপরাধ দমন এবং নিরাপত্তা ইস্যু যৌথভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে উভয় দেশ একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

লেবাননের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মেটাতে হাত বাড়াল কাতার

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
লেবাননের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মেটাতে হাত বাড়াল কাতার

লেবাননের দুর্বল হয়ে পড়া জ্বালানি খাত পুনরুজ্জীবিত করা এবং দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকট সমাধানে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কাতার।

এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে সহযোগিতার একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলা এবং কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন লেবানন ও কাতারের প্রধানমন্ত্রী।

লেবানন সফরকালে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি বলেন, জ্বালানি খাতে সহযোগিতার জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো প্রতিষ্ঠা এবং বাস্তবসম্মত সমাধান উপস্থাপনে তাঁরা একমত হয়েছেন।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, লেবাননের সঙ্গে এ প্রকল্প নিয়ে বহু বছর ধরেই আলোচনা চলছে। এটি পুরোনো একটি উদ্যোগ হলেও এখন বাস্তবায়নের মুখ দেখতে যাচ্ছে।

জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ কাতারের এই উদ্যোগ লেবাননের দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সমস্যার সমাধানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

দেশটির জ্বালানি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে প্রকল্পটির বিস্তারিত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সূত্র: ডন

সৌদির ওপর হামলায় কাতারের কড়া হুঁশিয়ারি

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
সৌদির ওপর হামলায় কাতারের কড়া হুঁশিয়ারি

সৌদি আরবের নিরাপত্তা কাতার তথা সমগ্র উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) যৌথ নিরাপত্তার সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত বলে পুনর্ব্যক্ত করেছে কাতারের মন্ত্রিসভা।

একই সাথে সাম্প্রতিক শূরা কাউন্সিলে দেওয়া মহামান্য আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির ভাষণকে সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজের মূল দিকনির্দেশনা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার দোহায় প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন জাসিম আল থানির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভার শুরুতেই সম্প্রতি রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বারংবার হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

একে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের মারাত্মক লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সাধারণ নাগরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচলের ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে কাতার। নিজেদের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সৌদি আরবের গৃহীত যেকোনো পদক্ষেপে কাতারের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবার মন্ত্রণালয়ের সামাজিক কৌশল (২০২৫-২০৩০)-এর অংশ হিসেবে প্রস্তুতকৃত শিশুদের অধিকারবিষয়ক নতুন খসড়া আইন এবং শিশুদের ডিজিটাল সুরক্ষাসংক্রান্ত খসড়া আইনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

শিশুদের নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই খসড়া আইনটি সর্বসাধারণের মতামতের জন্য কাতারের 'আল মিযান' আইনি পোর্টাল ও 'শারিক' প্ল্যাটফর্মে ১০ দিনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।

এছাড়া পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং কাতারএনার্জির যৌথ উদ্যোগে প্রস্তুতকৃত তেজস্ক্রিয় পদার্থের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিষয়ক একটি খসড়া নির্দেশিকাও মন্ত্রিসভায় নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে।

পারমাণবিক বা তেজস্ক্রিয় উপাদানের ব্যবহার, পরিবহন ও সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) মানদণ্ড নিশ্চিত করতে এটি প্রস্তুত করা হয়।

সভা শেষে কাতার-আর্মেনিয়া বিচারিক সহযোগিতা এবং কাতার-বাহরাইন পরিবহন ও লজিস্টিকস সেবাসংক্রান্ত কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকও অনুমোদন প্রদান করা হয়।

বাকুতে সিকা (CICA) সম্মেলনে কাতারের আমিরের অংশগ্রহণ

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬

আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত এশিয়ায় সহযোগিতা ও আস্থার ব্যবস্থাপনাবিষয়ক সম্মেলনের (CICA) সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন কাতারের আমির মহামান্য শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।

আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি ইলহাম আলিয়েভের আমন্ত্রণে হায়দার আলিয়েভ সেন্টারে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সম্মেলনে কাতারের আমিরের সঙ্গে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন জাসিম আল থানি, আমিরি দিওয়ানের প্রধান আব্দুল্লাহ বিন মোহাম্মদ আল খানিফাইসহ উচ্চপর্যায়ের একটি সরকারি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল।

সম্মেলনের ফাঁকে আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি ইলহাম আলিয়েভের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন কাতারের আমির। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এছাড়া উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতি শাভকাত মিরজিইয়োয়েভের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন তিনি, যেখানে বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের অংশীদারিত্ব ও অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় স্থান পায়।

সিকা (CICA) সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে কাতারের আমির এশিয়ার দেশগুলোর অভিন্ন স্বার্থ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সমন্বয় এবং সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

এশিয়ান মহাদেশের বিশাল সম্ভাবনাকে যথাযথ কাজে লাগিয়ে এর সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে যৌথ প্রয়াস চালানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। সম্মেলন শেষে কাতারের আমির ও তাঁর প্রতিনিধিদল বাকু ত্যাগ করেন।