১৫ অক্টোবর ২০২৬
ইরান যুদ্ধের ধাক্কা:

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি কিনছে কাতার

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি কিনছে কাতার

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বব্যাপী মোট এলএনজি রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশের যোগান দিত কাতার। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে কাতারের গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা চরমভাবে ব্যাহত হওয়ায় দেশটি নিজস্ব গ্রাহকদের চাহিদাও যথাযথভাবে পূরণ করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক কাতার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে এলএনজি আমদানির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাতে বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম এমন তথ্য জানিয়েছে।

আলোচনাটি খুবই গোপনীয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করা শর্তে ওই ব্যক্তিরা জানান, চালু থাকা ও নির্মাণাধীন রপ্তানি প্রকল্পগুলো থেকে গ্যাস পেতে আগ্রহী কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে নিজস্ব সরবরাহ বাড়াতে বিকল্প খুঁজছে কাতার।

সম্ভাব্য এই চুক্তিগুলো থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ কীভাবে কাতারকে তার গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে গ্যাসের বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য করছে।

একসময় বিশ্বের মোট এলএনজির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ একাই সরবরাহ করত কাতার। কিন্তু হরমুজ প্রণালি দিয়ে গ্যাস ট্যাংকার চলাচলের ঝুঁকির কারণে তাদের সরবরাহ এখন প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে কাতারএনার্জি সাড়া দেয়নি।

ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে কাতার তাদের রাস লাফান এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ করার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিল। তবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই স্থাপনা সংঘাতের প্রথম কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি পুরোপুরি মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছরের মতো সময় লাগতে পারে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিগগিরই যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। সংঘাত আরও বাড়াতে প্রস্তুত ইরান। শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এ যুদ্ধ ২০২৯ সাল পর্যন্ত চলতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের আশঙ্কাই হয়তো কাতারকে বাণিজ্যের ওপর আরও বেশি মনোযোগ দিতে বাধ্য করছে।

কাতারের হাতে ইতিমধ্যেই মার্কিন সরবরাহের কিছু সুযোগ রয়েছে। তারা টেক্সাসে অবস্থিত গোল্ডেন পাস এলএনজি কারখানার অন্যতম মালিক। কারখানাটি গত এপ্রিলে রপ্তানি শুরু করেছে, ক্রমাগত উৎপাদনও বাড়াচ্ছে।

পারস্য উপসাগরীয় দেশটি তাদের কাতারএনার্জি ট্রেডিং ইউনিটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পরিবহনের সক্ষমতাও ধারাবাহিকভাবে বাড়াচ্ছে। এই ইউনিটটি মূলত স্বল্পমেয়াদি ব্যবসার ওপর কাজ করে।

ইসরায়েলি অপরাধীদের বিচারে সোচ্চার শেখ তামিম

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ইসরায়েলি অপরাধীদের বিচারে সোচ্চার শেখ তামিম

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজ্জায় চলমান দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি গণহত্যার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দোহায় কাতারের শুরা কাউন্সিলের ৫৫তম বার্ষিক অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “গাজ্জা উপত্যকায় যা ঘটেছে, তা নিঃসন্দেহে গণহত্যা। এর অপরাধীদের কোনোভাবেই জবাবদিহি থেকে রেহাই দেওয়া যাবে না।”

গাজ্জায় ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজ্জায় দখলদার ইসরাইলের হামলায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এ ছাড়া গাজ্জার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। গাজ্জায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়।

জাতিসংঘের প্রধান বিচারিক সংস্থা আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) গাজ্জায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে, এমন অভিযোগে দক্ষিণ আফ্রিকার করা একটি মামলারও শুনানি করছে। এই মামলায় কয়েকটি দেশও যোগ দিয়েছে।

কাতারের আমীর আরও বলেন, “আমরা আমাদের ভাই এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখব, যাতে আমাদের অঞ্চল স্থিতিশীল ও নিরাপদ থাকে।”

কাতার, মিসর ও তুরস্ক গাজ্জায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যস্থতা করে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর ওই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

তবে চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও গাজ্জায় দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি গণহত্যা অব্যাহত রয়েছে। গাজ্জার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এরপর ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ৪৯৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ২৯৯ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

এ ছাড়া গাজ্জায় প্রবেশের জন্য নির্ধারিত খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী, আশ্রয় সামগ্রী এবং তৈরি আবাসিক ঘরের পরিমাণও ইসরাইল আটকে দিচ্ছে। গাজ্জায় প্রায় ২৪ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন। এর মধ্যে প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন। তীব্র মানবিক সংকটের মধ্যেই তাদের জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

কাতারে কৃষি ছবি তুলে জিতে নিন ৩০ হাজার রিয়াল পুরস্কার

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
কাতারে কৃষি ছবি তুলে জিতে নিন ৩০ হাজার রিয়াল পুরস্কার

কাতারের কৃষি ও খামারভিত্তিক সৌন্দর্য, বৈচিত্র্য ও সৃজনশীলতা ক্যামেরার মাধ্যমে তুলে ধরতে শুরু হয়েছে ‘Qatar Agriculture Lens Contest 2026’।

কাতারে বসবাসকারী যে কোনো প্রবাসী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা কাতারের বিভিন্ন খামার ও কৃষি-দৃশ্যের ছবি তুলে নিজেদের সৃজনশীলতা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। একজন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ ১০টি ছবি জমা দিতে পারবেন।

প্রতিযোগিতায় মোট ১ লাখ কাতারি রিয়াল পুরস্কার দেওয়া হবে:

  • প্রথম পুরস্কার: ৩০,০০০ রিয়াল
  • দ্বিতীয় পুরস্কার: ২০,০০০ রিয়াল
  • তৃতীয় পুরস্কার: ১৫,০০০ রিয়াল
  • চতুর্থ থেকে দশম স্থান: প্রত্যেকে ৫,০০০ রিয়াল

ছবির জন্য যেসব শর্ত মানতে হবে

  • প্রতিযোগিতাটি কাতারে বসবাসকারী সবার জন্য উন্মুক্ত।
  • ছবি অবশ্যই প্রফেশনাল ক্যামেরা দিয়ে তুলতে হবে।
  • প্রতিযোগী সর্বোচ্চ ১০টি ছবি জমা দিতে পারবেন।
  • প্রতিটি ছবিতে সংশ্লিষ্ট খামারের নম্বর উল্লেখ করতে হবে।
  • ছবি উচ্চমানের JPEG বা JPG ফরম্যাটে জমা দিতে হবে।
  • ছবির সবচেয়ে ছোট পাশের দৈর্ঘ্য কমপক্ষে ৩,০০০ পিক্সেল হতে হবে।
  • প্রিন্ট কোয়ালিটি হতে হবে ৩০০ DPI।
  • সাদা-কালো ছবি গ্রহণযোগ্য নয়।
  • ড্রোন দিয়ে তোলা ছবি গ্রহণ করা হবে না।
  • ছবিতে কোনো স্বাক্ষর, লোগো, ফ্রেম বা পরিচয় শনাক্তকারী চিহ্ন যোগ করা যাবে না।
  • ডিজিটাল কম্পোজিটিং বা একাধিক ছবি মিলিয়ে নতুন ছবি তৈরি করা যাবে না।
  • ক্রপিং, সোজা করা, রঙ ও আলো সামঞ্জস্য এবং ছবির অনাকাঙ্ক্ষিত অংশ সরানোর মতো মৌলিক সম্পাদনা করা যাবে।
  • ছবির মূল EXIF তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে এবং তা মুছে বা পরিবর্তন করা যাবে না।

ছবি জমা দেওয়ার নিয়ম

অংশগ্রহণকারীদের প্রথমে WeTransfer-এর মাধ্যমে ছবি আপলোড করতে হবে। এরপর আয়োজকদের দেওয়া QR কোড স্ক্যান করে ই-মেইলের মাধ্যমে ছবি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

ছবি জমা দেওয়ার শেষ সময়: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬।

আরও পড়ুন

কোনো আপস করা হবে না: হুঁশিয়ারি কাতারের আমিরের

সৌদির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর

যুদ্ধের প্রভাবে ৬ মাসে কাতারের রাজস্ব কমেছে ৪২ শতাংশ

সৌদির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
সৌদির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর

সৌদি আরবের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পর দেশটির পাশে আরও দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হামাদ বিন জাসিম বিন জাবের আল থানি।

তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে সমর্থন দেওয়া আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। একই সঙ্গে ইরানকে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন কাতারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

পোস্টে হামাদ বিন জাসিম বলেন, কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা সৌদি আরবের পাশে বাস্তবসম্মত ও দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করেছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানই এখন তাঁদের প্রধান প্রতিপক্ষ। তাঁর মতে, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) বর্তমানে বিভিন্ন বৈরী ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও দূরদর্শিতা প্রয়োজন।

ইয়েমেন থেকে আসা হুমকির প্রসঙ্গ তুলে হামাদ বিন জাসিম বলেন, এসব হুমকির পরিকল্পনা ও নির্দেশনা ইয়েমেনের বাইরে থেকে আসছে বলে তিনি মনে করেন। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানো কাতারের জন্য আরও জরুরি হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে তাঁর বক্তব্যে উল্লিখিত হুমকির উৎস ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার গৌণ বিরোধগুলো এক পাশে সরিয়ে রাখা প্রয়োজন। এর পরিবর্তে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে।

হামাদ বিন জাসিম ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ের বড় একটি অংশে তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন।

কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলার পর তাঁর এই বক্তব্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, সৌদি আরবের সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্পর্ক এবং ইরানকে ঘিরে বিদ্যমান উত্তেজনাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। আল জাজিরা

কাতার আমিরের হুশিয়ারি: কোনো আপস হবে না

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
কাতার আমিরের হুশিয়ারি: কোনো আপস হবে না

আঞ্চলিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের মধ্যেও কাতার নিজস্ব সক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংহতির প্রমাণ দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানী দোহায় কাতারের শূরা কাউন্সিলে দেওয়া বক্তব্যে আমির বলেন, কয়েক মাসের অস্থিতিশীলতার মধ্যে কাতার ও পুরো অঞ্চলকে ‘অভূতপূর্ব পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হতে হয়েছে। এসব ঘটনা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংহতি ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাকে আবারও প্রমাণ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর কাতারও সংঘাতের প্রভাবের মুখে পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি করেছে।যুদ্ধের মধ্যে ইরান একাধিকবার কাতারে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে মার্চে বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাস লাফান গ্যাস স্থাপনাতেও হামলা হয়।

আমির শেখ তামিম বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগেই নেওয়া বিভিন্ন নীতির কারণে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার পরিণতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে কাতার।

তিনি আরও বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) সদস্যদেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না। তার ভাষায়, ‘উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর নিরাপত্তা এবং তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এমন বিষয়, যেখানে কোনো ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়।’

এদিকে, ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের আমির। তিনি বলেন, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি জ্বালানি স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামো সুরক্ষায় আরও বেশি উদ্যোগ নিতে হবে।

বক্তব্যে আমির শেখ তামিম যুদ্ধ বন্ধ করা এবং মতবিরোধ শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের বিষয়ে কাতারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি দেশটির সমর্থনও তুলে ধরেছেন তিনি।

আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে কাতারের এই বক্তব্যে একদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাবে ৬ মাসে কাতারের রাজস্ব কমেছে ৪২ শতাংশ

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
যুদ্ধের প্রভাবে ৬ মাসে কাতারের রাজস্ব কমেছে ৪২ শতাংশ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে গ্যাস অবকাঠামো ও রপ্তানি খাতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে কাতার। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কাতারের রাজস্ব ৪২ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলথানি।

মঙ্গলবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি শুরা কাউন্সিলের উদ্বোধনী ভাষণে এই কথা বলেন।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক দেশ কাতার। যুক্তরাষ্ট্রের পরেই দেশটির অবস্থান। তবে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানির ‘উল্লেখযোগ্য অংশ’ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।

আরও পড়ুন

রাজধানী দোহায় শুরা কাউন্সিলের বার্ষিক অধিবেশনে আমির বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং রাস লাফান শিল্পনগরীর কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনা সরাসরি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশের রপ্তানির উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যাহত হয়েছে।’ ‘এই সংকট সরকারি অর্থ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, এটাই স্বাভাবিক। এর ফলে বছরের প্রথম ছয় মাসে মোট রাজস্ব ৪২ শতাংশ কমেছে’, যোগ করেন তিনি।

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে রাস লাফান স্থাপনাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল বন্ধ থাকায় কাতারের রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। এলএনজি পরিবহনে এটাই ছিল কাতারের একমাত্র নৌপথ।

তবে বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র নর্থ ফিল্ডের বড় ধরনের সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন আমির। তিনি কাউন্সিলকে বলেন, ‘নর্থ ফিল্ড গ্যাস প্রকল্পের সম্প্রসারণের কাজ নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে।’

পারস্য উপসাগরের তলদেশ দিয়ে ইরানের ভূখণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত নর্থ ফিল্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে কাতারের বার্ষিক গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা ১৪ কোটি ২০ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এক্সনমোবিলের সঙ্গে যৌথভাবে বাস্তবায়নাধীন গোল্ডেন পাস এলএনজি প্রকল্পের কাজও ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ অর্জন করেছে বলে জানান আমির।

চলমান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি কাতার।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি বছর কাতারের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ কমতে পারে।