২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজায় তহবিল নিয়ে কাতারবিরোধী অপপ্রচার চলছে বলে কঠোর জবাব দোহার!

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
গাজায় তহবিল নিয়ে কাতারবিরোধী অপপ্রচার চলছে বলে কঠোর জবাব দোহার!

গাজায় পাঠানো কাতার সরকারের অর্থ হামাস ও তার সামরিক শাখার কাছে ব্যাপকভাবে অপব্যবহার বা পাচার হয়েছে- দ্য নিউ ইয়র্কারে প্রকাশিত এমন অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে।

পত্রিকাটির নিবন্ধে ইসরায়েলের জব্দকৃত নথিপত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, ২০১৯ সালে এক হামাস নেতা কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছিলেন, ‘কাতারের অনুদানই হামাস আন্দোলনের প্রধান ধমনী’।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৭ অক্টোবরের হামলায় কাতারের অর্থ কীভাবে কাজে লেগেছিল, তা প্রকাশ পায়। হামাসের যোদ্ধারা বিশাল এক সুড়ঙ্গব্যবস্থায় জড়ো হয়েছিল। ওই সুড়ঙ্গগুলোতে ছিল বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, নজরদারি ক্যামেরা ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। সেখান থেকে তারা বডি ক্যামেরা পরা অবস্থায় এবং ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে কাতার জানিয়েছে, এই নিবন্ধটি দেশটির বিরুদ্ধে ‘বৃহত্তর অপতথ্য প্রচারণার’ অংশ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কাতারবিরোধী এই অপপ্রচারের পেছনে কট্টর ডানপন্থী ইসরায়েলিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে।

কাতারের ভাষ্যমতে, গাজায় পাঠানো তাদের সমস্ত সহায়তা ‘ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে সমন্বিত প্রক্রিয়ার’ মাধ্যমেই পরিচালিত হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই সহায়তা প্রক্রিয়াগুলোর অধীনে, সমস্ত আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী গাজা উপত্যকায় প্রবেশের আগে ইসরায়েলের মাধ্যমেই পাঠানো হয়েছিল। প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সম্পৃক্ততা ছাড়া এর কোনোটিই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

কাতার জোর দিয়ে জানিয়েছে, তাদের সহায়তা তিন ভিন্ন প্রধানমন্ত্রীর আমলের ধারাবাহিক ইসরায়েলি সরকারগুলোর সাথে সমন্বয় করা হয়েছিল। কাতার বলেছে, ‘যেসব তহবিল হামাসের কাছে পৌঁছে থাকতে পারে, সেগুলোর দায়িত্ব কাতার রাষ্ট্রের নয়, বরং ইসরায়েলের, যারা সেগুলোর সরবরাহ তদারকি করেছিল’।’

কাতার অভিযোগ করেছে, যারা এই ‘মিথ্যা অভিযোগ’ ছড়াচ্ছে, তারা আসলে অঞ্চলে ‘নৈরাজ্য ও বিভেদ’ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

গাজায় তহবিল নিয়ে কাতারবিরোধী অপপ্রচার চলছে বলে কঠোর জবাব দোহার!

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
গাজায় তহবিল নিয়ে কাতারবিরোধী অপপ্রচার চলছে বলে কঠোর জবাব দোহার!

গাজায় পাঠানো কাতার সরকারের অর্থ হামাস ও তার সামরিক শাখার কাছে ব্যাপকভাবে অপব্যবহার বা পাচার হয়েছে- দ্য নিউ ইয়র্কারে প্রকাশিত এমন অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে।

পত্রিকাটির নিবন্ধে ইসরায়েলের জব্দকৃত নথিপত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, ২০১৯ সালে এক হামাস নেতা কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছিলেন, ‘কাতারের অনুদানই হামাস আন্দোলনের প্রধান ধমনী’।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৭ অক্টোবরের হামলায় কাতারের অর্থ কীভাবে কাজে লেগেছিল, তা প্রকাশ পায়। হামাসের যোদ্ধারা বিশাল এক সুড়ঙ্গব্যবস্থায় জড়ো হয়েছিল। ওই সুড়ঙ্গগুলোতে ছিল বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, নজরদারি ক্যামেরা ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। সেখান থেকে তারা বডি ক্যামেরা পরা অবস্থায় এবং ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে কাতার জানিয়েছে, এই নিবন্ধটি দেশটির বিরুদ্ধে ‘বৃহত্তর অপতথ্য প্রচারণার’ অংশ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কাতারবিরোধী এই অপপ্রচারের পেছনে কট্টর ডানপন্থী ইসরায়েলিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে।

কাতারের ভাষ্যমতে, গাজায় পাঠানো তাদের সমস্ত সহায়তা ‘ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে সমন্বিত প্রক্রিয়ার’ মাধ্যমেই পরিচালিত হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই সহায়তা প্রক্রিয়াগুলোর অধীনে, সমস্ত আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী গাজা উপত্যকায় প্রবেশের আগে ইসরায়েলের মাধ্যমেই পাঠানো হয়েছিল। প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সম্পৃক্ততা ছাড়া এর কোনোটিই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

কাতার জোর দিয়ে জানিয়েছে, তাদের সহায়তা তিন ভিন্ন প্রধানমন্ত্রীর আমলের ধারাবাহিক ইসরায়েলি সরকারগুলোর সাথে সমন্বয় করা হয়েছিল। কাতার বলেছে, ‘যেসব তহবিল হামাসের কাছে পৌঁছে থাকতে পারে, সেগুলোর দায়িত্ব কাতার রাষ্ট্রের নয়, বরং ইসরায়েলের, যারা সেগুলোর সরবরাহ তদারকি করেছিল’।’

কাতার অভিযোগ করেছে, যারা এই ‘মিথ্যা অভিযোগ’ ছড়াচ্ছে, তারা আসলে অঞ্চলে ‘নৈরাজ্য ও বিভেদ’ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

অবকাঠামো ও আবাসন খাতে আগামী ৫ বছরে ৩৮.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে দোহা

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
অবকাঠামো ও আবাসন খাতে আগামী ৫ বছরে ৩৮.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে দোহা

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত কাতার অর্থনৈতিক ফোরামের বিশেষ সংস্করণে কাতারের বিশাল অর্থনৈতিক কৌশল এবং বেসরকারি খাতের প্রসারে নতুন রূপরেখা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহামান্য শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল থানি। ফোরামে তিনি কাতারের জন্য ৬০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ পাইপলাইন এবং নতুন একটি আর্থিক প্ল্যাটফর্ম চালুর ঘোষণা দেন।

অবকাঠামো ও আবাসন খাতে বিশাল বিনিয়োগ:

আগামী পাঁচ বছরে কাতার প্রায় ৩৮.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের নতুন অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যা মূলত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (PPP) ভিত্তিতে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া রিয়েল এস্টেট ও আতিথেয়তা খাতে আরও ২২.৫ বিলিয়ন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ৫.৮ বিলিয়ন ডলারের সুমসাইমা বিচ (Smeasma Beach) উন্নয়ন প্রকল্প।

‘দোহা ইনভেস্টমেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ:

এই অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের গতি ত্বরান্বিত করতে কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি (QIA)-এর অভ্যন্তরীণ পোর্টফোলিও তত্ত্বাবধানের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দোহা ইনভেস্টমেন্ট’ (Doha Investment) নামের একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর মূল লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বেসরকারি খাতের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা, স্থানীয় পুঁজিবাজারকে গভীরতর করা এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে কাতারি ব্যবসাগুলোর প্রতিযোগিতাসক্ষমতা নিশ্চিত করা।

ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা:

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাকে একটি ‘ভূমিকম্পের’ সাথে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক নিরাপত্তার এই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে কাতারের শক্ত ভিত, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং পুনর্গঠন পরিকল্পনা সফলভাবে কাজ করেছে। সামুদ্রিক রুট ও সাপ্লাই চেইনে বিঘ্ন ঘটলেও নতুন শিপিং রুট চালুর মাধ্যমে স্থানীয় বাজার সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। একই সাথে ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং আর্থিক প্রবাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংকট মোকাবেলার পাশাপাশি কাতার তার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অনুযায়ী নর্থ ফিল্ড সম্প্রসারণের কাজও চালিয়ে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কাতারের নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবকে ‘ভূমিকম্প’ বললেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি।ছবি: সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবকে ‘ভূমিকম্প’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানো এবং উত্তেজনার চক্র বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে আয়োজিত কাতার ইকোনমিক ফোরামের অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শেখ মোহাম্মদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে এমন একটি কাঠামো প্রয়োজন, যেখানে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা হবে এবং কোনো দেশ অন্য কোনো দেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারবে না।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি একটি ‘ভূমিকম্পের’ মতো, যার ‘কম্পন’ মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর ফলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলোও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘সংকটের সময় প্রায় প্রতিটি আলোচনা শুরু হয়েছে নিরাপত্তা ও উত্তেজনা প্রশমনের বিষয় দিয়ে। এরপর তা জ্বালানি সরবরাহ, নৌপথ এবং বিনিয়োগের পরিকল্পনার দিকে গিয়েছে। এগুলো ছিল একই প্রশ্নের ভিন্ন প্রকাশ। যখন এত কিছুই ব্যাহত হচ্ছে, তখন কোন বিষয়টির ওপর নির্ভর করা যেতে পারে?’

কাতারের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ‘ভিত্তি’ এই সংকটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেলেও দেশটি তা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানান কাতারের প্রধানমন্ত্রী। তবে তিনি স্বীকার করেন, চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব কাতারের ওপরও পড়ছে।

শেখ মোহাম্মদ বলেন, ‘এমন কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়, যেখানে কোনো একটি দেশকে স্থায়ীভাবে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রাখা হয়। আমাদের উত্তেজনার উৎসগুলো মোকাবিলা করতে হবে এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরি করতে হবে।’

নিউইয়র্ক থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ক্রিস্টেন সালুমি জানান, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের বৈঠকে এই বার্তা আবারও উঠে আসতে পারে।

আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের মিডিয়া সেন্টার পরিদর্শন করলেন শেখ জোয়ান

টিয়াড নাগোয়া হোটেলে ‘কাতার হাউস’ চালু: কাতারের সংস্কৃতি ও দোহা ২০৩০-এর প্রস্তুতি তুলে ধরছে কাতার অলিম্পিক কমিটি
প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের মিডিয়া সেন্টার পরিদর্শন করলেন শেখ জোয়ান

জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের মূল প্রেস সেন্টার (MPC) এবং আন্তর্জাতিক ব্রডকাস্ট সেন্টার (IBC) পরিদর্শন করেছেন কাতার অলিম্পিক কমিটি (QOC) ও এশিয়া অলিম্পিক কাউন্সিলের (OCA) সভাপতি মহামান্য শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল থানি। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (IOC) সভাপতি কার্স্টি কভেন্ট্রিকে সাথে নিয়ে তিনি এই পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে তারা উভয় সেন্টারের কার্যপ্রণালী, কন্টেন্ট উৎপাদন ও সম্প্রচার অপারেশনের জন্য ব্যবহৃত আধুনিক প্রযুক্তি এবং সংবাদকর্মীদের জন্য প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র, স্টুডিও ও ব্রডকাস্টিং সুবিধা ঘুরে দেখেন।

এ সময় তারা ‘এশিয়ান গেমস ফর অল’ উদ্যোগের আওতায় ওিসিএ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ৯ জন তরুণ প্রতিবেদকের সাথেও মতবিনিময় করেন। তরুণ ক্রীড়া সাংবাদিকদের ভবিষ্যৎ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই কর্মসূচির ভূমিকা নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করা হয়।

কাতারের বিশাল প্রতিনিধিদল ও কাতার হাউস:

২০তম এশিয়ান গেমসের এই আসরে কাতারের পক্ষ থেকে ২৪৩ জন অ্যাথলেটসহ মোট ৪২৭ সদস্যের একটি বিশাল প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে। দেশের ১৮টি জাতীয় ফেডারেশনের অধীনে তারা এবারের গেমসের ২৬টি খেলা এবং ৩২টি ডিসিপ্লিনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত এই আসর চলবে।

উল্লেখ্য, ২০৩০ সালে তৃতীয়বারের মতো এশিয়ান গেমসের স্বাগতিক হতে চলেছে দোহা। ২০০৬ সালে সফলভাবে আসর আয়োজনের পর ২০৩০ সালের ডিসেম্বরে দোহায় এই মহাদেশীয় প্রতিযোগিতা পুনরায় ফিরে আসার প্রস্তুতি চলছে।

আইচি-নাগোয়া ২০২৬ এশিয়ান গেমসে কাতারের অংশগ্রহণকে স্মরণীয় করে রাখতে টিয়াড নাগোয়া হোটেলে (TIAD Nagoya Hotel) ‘কাতার হাউস’ চালু করেছে কাতার অলিম্পিক কমিটি, যেখানে কাতারের সংস্কৃতি, ক্রীড়া ইতিহাস এবং দোহা ২০৩০-এর প্রস্তুতি তুলে ধরা হচ্ছে।

সৌদি আরবের রিয়াদে হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানাল কাতার

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
সৌদি আরবের রিয়াদে হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানাল কাতার

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা জানিয়েছে কাতার। একই সঙ্গে দেশটির বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টারও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দোহা।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, রিয়াদ ছাড়াও বিশ, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবুতে বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার প্রচেষ্টার নিন্দা জানানো হচ্ছে। এসব হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে কাতার। বিবৃতিতে সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে কাতার। দেশটির সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি জানিয়েছেন, শনিবার ভোরে রিয়াদের দিকে হুথেদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনাক্ত করে ধ্বংস করে। একই সময়ে বিশ, তাইফ, ফারাসান ও ইয়ানবুতেও বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে জোট।

এর আগে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়ি দাবি করেন, রিয়াদের ‘সংবেদনশীল’ স্থাপনা এবং ইয়ানবুতে সৌদি তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব দাবির ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রিয়াদের কাছে শনিবার একটি বড় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ রাতভর রিয়াদ ও আল-খারজ এলাকায় আকাশপথে সম্ভাব্য হুমকির সতর্কতা জারি করার পর পরে ‘অল ক্লিয়ার’ ঘোষণা করে। হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য জানায়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই নতুন উত্তেজনার মধ্যে রিয়াদে শনিবারের হামলাটি রাজধানীকে লক্ষ্য করে প্রথম বড় ধরনের হামলা হিসেবে সামনে এসেছে। একই সময়ে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় হুথি ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াইও বেড়েছে।

কাতার এর আগেও সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছিল। ১৫ সেপ্টেম্বর দোহা খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়ে বেসামরিক নাগরিক ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিল।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা শুধু দুই পক্ষের সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর প্রভাব উপসাগরীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও পড়ছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও সৌদি আরবে হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং ইয়েমেনে সামরিক উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।