২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও যৌথ উদ্যোগের ওপর জোর দিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী!

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও যৌথ উদ্যোগের ওপর জোর দিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী!

ইরানের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধকে এ অঞ্চলের জন্য একটি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে দেখা উচিত।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের ফাঁকে অনুষ্ঠিত কাতার ইকোনমিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় আল-থানি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এই যুদ্ধ সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে। এখনই আঞ্চলিক নিরাপত্তাকাঠামো গড়ে তোলার সময়।’

আল-থানি আরো বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংকট নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলোকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। একই সঙ্গে এর প্রভাব শুধু এ অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।

তিনি বলেন, ‘ইরান আমাদের প্রতিবেশী। উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইরানকে একত্র করে এমন একটি নিরাপত্তা কাঠামো ছাড়া আমাদের বুঝতে হবে যে, এ অঞ্চল আগের মতো চলতে পারবে না। এমন একটি কাঠামো প্রয়োজন, যেখানে কেউই অন্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে না।’ সরকারিনীতি পড়ুন

কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি অঞ্চল হিসেবে আমাদের দায়িত্বশীলভাবে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে, ইরানের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং ইরানেরও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে।’

তিনি জানান, কাতার ও তার আঞ্চলিক অংশীদারেরা এ ধরনের একটি নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। সাম্প্রতিক সংঘাত আঞ্চলিক সহযোগিতা আরো বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আল-থানি বলেন, ‘আমরা এ লক্ষ্যেই কাজ করছি। আমাদের আঞ্চলিক অংশীদাররাও এতে বিশ্বাস করে। আমরা আশা করছি, এই যুদ্ধ সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা হবে এবং এখনই তা বাস্তবায়নের সময়।’

তিনি আরো বলেন, উত্তেজনা কমানো ও কূটনৈতিক সমঝোতা এগিয়ে নিতে কাতার তার মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি যোগাযোগের চ্যানেলগুলো খোলা রাখা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করাও অব্যাহত থাকবে।

ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও যৌথ উদ্যোগের ওপর জোর দিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী!

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও যৌথ উদ্যোগের ওপর জোর দিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী!

ইরানের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধকে এ অঞ্চলের জন্য একটি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে দেখা উচিত।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের ফাঁকে অনুষ্ঠিত কাতার ইকোনমিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় আল-থানি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এই যুদ্ধ সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে। এখনই আঞ্চলিক নিরাপত্তাকাঠামো গড়ে তোলার সময়।’

আল-থানি আরো বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংকট নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলোকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। একই সঙ্গে এর প্রভাব শুধু এ অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।

তিনি বলেন, ‘ইরান আমাদের প্রতিবেশী। উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইরানকে একত্র করে এমন একটি নিরাপত্তা কাঠামো ছাড়া আমাদের বুঝতে হবে যে, এ অঞ্চল আগের মতো চলতে পারবে না। এমন একটি কাঠামো প্রয়োজন, যেখানে কেউই অন্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে না।’ সরকারিনীতি পড়ুন

কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি অঞ্চল হিসেবে আমাদের দায়িত্বশীলভাবে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে, ইরানের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং ইরানেরও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে।’

তিনি জানান, কাতার ও তার আঞ্চলিক অংশীদারেরা এ ধরনের একটি নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। সাম্প্রতিক সংঘাত আঞ্চলিক সহযোগিতা আরো বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আল-থানি বলেন, ‘আমরা এ লক্ষ্যেই কাজ করছি। আমাদের আঞ্চলিক অংশীদাররাও এতে বিশ্বাস করে। আমরা আশা করছি, এই যুদ্ধ সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা হবে এবং এখনই তা বাস্তবায়নের সময়।’

তিনি আরো বলেন, উত্তেজনা কমানো ও কূটনৈতিক সমঝোতা এগিয়ে নিতে কাতার তার মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি যোগাযোগের চ্যানেলগুলো খোলা রাখা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করাও অব্যাহত থাকবে।

জাতিসংঘে মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও যুদ্ধ এড়ানোর বার্তা কাতারের আমিরের!

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
জাতিসংঘে মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও যুদ্ধ এড়ানোর বার্তা কাতারের আমিরের!
জাতিসংঘের সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে গতকাল মঙ্গলবার ভাষণ দিচ্ছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।

মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়গুলোর একটির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব পুরো বিশ্বেই পড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ রয়েছে। কূটনৈতিক উপায়ে উপসাগরীয় সংকট সমাধান করা সম্ভব এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পুনরায় চালু করে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা করা উচিত।

ইরানসহ পুরো অঞ্চলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এই সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এসব মন্তব্য করেন ।

ইরান ঘিরে চলমান যুদ্ধ, প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে কাতারের আমির বলেন, বছরের পর বছর সংকট ব্যবস্থাপনা পিছিয়ে দেওয়া এবং অস্থায়ী ও অবাস্তব নীতির কারণে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিরোধ নিষ্পত্তির পথ হওয়া উচিত সংলাপ ও আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকারের প্রতি সম্মান।

শেখ তামিম মধ্যপ্রাচ্যে একটি আঞ্চলিক ‘সম্মিলিত নিরাপত্তা’ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তার মতে, এ ধরনের ব্যবস্থায় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান থাকতে হবে। বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি এবং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিও এর অংশ হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, এমন নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকলে একটি পক্ষ তার প্রতিবেশী দেশগুলোকে এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে, যে যুদ্ধ তাদের নিজেদের নয়। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও স্থাপনায় হামলা হতে পারে এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব তুলে ধরে কাতারের আমির বলেন, বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ জ্বালানি বাণিজ্য যে আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে পরিচালিত হয়, সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো চাপ ও দর-কষাকষির হাতিয়ার হয়ে উঠলে এর মূল্য দিতে হয় বিশ্বের সাধারণ মানুষকে। এর প্রভাব খাদ্য ও ওষুধের দাম এবং মানুষের জীবিকার ওপরও পড়ে।

গাজা পরিস্থিতিকেও তার বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব দেন কাতারের আমির। তিনি বলেন, ফিলিস্তিন প্রশ্নকে উপেক্ষা করে ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলা যায় না। গাজায় যা ঘটেছে, তাকে তিনি ‘সব অর্থেই গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এই বিপর্যয় ঠেকাতে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার মাত্রা ও বিপর্যয়ের ব্যাপকতার মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে।

শেখ তামিম অভিযোগ করেন, গাজার জনগণকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়াকে সমাধান হিসেবে দেখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিনি ইসরাইলের প্রতি গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধ করা, সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার, অবরোধ প্রত্যাহার এবং শর্তহীনভাবে মানবিক সহায়তা প্রবেশের আহ্বান জানান।

পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার বক্তব্যে ইসরায়েলি দখলদারত্ব, বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার হরণের অভিযোগ উঠে আসে। তিনি পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারকে ফিলিস্তিনি জনগণের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। আল-আকসা মসজিদসহ ইসলামি ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা রক্ষার কথাও বলেন তিনি।

সিরিয়া ও লেবাননে ইসরাইলের কর্মকাণ্ড নিয়েও মন্তব্য করেন কাতারের আমির। তার অভিযোগ, ইসরাইল প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। সিরিয়ায় ইসরাইলি হামলা এবং ১৯৬৭ সাল থেকে গোলান মালভূমির নিয়ন্ত্রণে থাকার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন। লেবাননের ক্ষেত্রেও ইসরাইলি সেনাদের উপস্থিতি ও দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলো ধ্বংসের অভিযোগ তোলেন তিনি।

আঞ্চলিক অন্যান্য সংকটের প্রসঙ্গে শেখ তামিম মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবসানের আহ্বান জানান। সিরিয়া ও লিবিয়ার পুনর্গঠন ও জাতীয় পুনর্মিলনের প্রচেষ্টায় কাতারের সমর্থনের কথাও তিনি জানান।

সুদানে টেকসই শান্তির জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের আহ্বান জানিয়ে তিনি সোমালিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি কাতারের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। ইয়েমেন সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষেও অবস্থান জানান তিনি।

ভাষণের শেষ দিকে শেখ তামিম বলেন, কাতারের মূল্যবোধ শুধু উচ্চারিত স্লোগান নয়। এর কেন্দ্রে রয়েছে জাতির মর্যাদা কোনোভাবেই আপস না করার বিশ্বাস। তার ভাষায়, প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তা একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।

গাজায় তহবিল নিয়ে কাতারবিরোধী অপপ্রচার চলছে বলে কঠোর জবাব দোহার!

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
গাজায় তহবিল নিয়ে কাতারবিরোধী অপপ্রচার চলছে বলে কঠোর জবাব দোহার!

গাজায় পাঠানো কাতার সরকারের অর্থ হামাস ও তার সামরিক শাখার কাছে ব্যাপকভাবে অপব্যবহার বা পাচার হয়েছে- দ্য নিউ ইয়র্কারে প্রকাশিত এমন অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে।

পত্রিকাটির নিবন্ধে ইসরায়েলের জব্দকৃত নথিপত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়, ২০১৯ সালে এক হামাস নেতা কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছিলেন, ‘কাতারের অনুদানই হামাস আন্দোলনের প্রধান ধমনী’।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৭ অক্টোবরের হামলায় কাতারের অর্থ কীভাবে কাজে লেগেছিল, তা প্রকাশ পায়। হামাসের যোদ্ধারা বিশাল এক সুড়ঙ্গব্যবস্থায় জড়ো হয়েছিল। ওই সুড়ঙ্গগুলোতে ছিল বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, নজরদারি ক্যামেরা ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক। সেখান থেকে তারা বডি ক্যামেরা পরা অবস্থায় এবং ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে কাতার জানিয়েছে, এই নিবন্ধটি দেশটির বিরুদ্ধে ‘বৃহত্তর অপতথ্য প্রচারণার’ অংশ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কাতারবিরোধী এই অপপ্রচারের পেছনে কট্টর ডানপন্থী ইসরায়েলিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে।

কাতারের ভাষ্যমতে, গাজায় পাঠানো তাদের সমস্ত সহায়তা ‘ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে সমন্বিত প্রক্রিয়ার’ মাধ্যমেই পরিচালিত হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই সহায়তা প্রক্রিয়াগুলোর অধীনে, সমস্ত আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী গাজা উপত্যকায় প্রবেশের আগে ইসরায়েলের মাধ্যমেই পাঠানো হয়েছিল। প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সম্পৃক্ততা ছাড়া এর কোনোটিই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

কাতার জোর দিয়ে জানিয়েছে, তাদের সহায়তা তিন ভিন্ন প্রধানমন্ত্রীর আমলের ধারাবাহিক ইসরায়েলি সরকারগুলোর সাথে সমন্বয় করা হয়েছিল। কাতার বলেছে, ‘যেসব তহবিল হামাসের কাছে পৌঁছে থাকতে পারে, সেগুলোর দায়িত্ব কাতার রাষ্ট্রের নয়, বরং ইসরায়েলের, যারা সেগুলোর সরবরাহ তদারকি করেছিল’।’

কাতার অভিযোগ করেছে, যারা এই ‘মিথ্যা অভিযোগ’ ছড়াচ্ছে, তারা আসলে অঞ্চলে ‘নৈরাজ্য ও বিভেদ’ সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

অবকাঠামো ও আবাসন খাতে আগামী ৫ বছরে ৩৮.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে দোহা

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
অবকাঠামো ও আবাসন খাতে আগামী ৫ বছরে ৩৮.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে দোহা

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত কাতার অর্থনৈতিক ফোরামের বিশেষ সংস্করণে কাতারের বিশাল অর্থনৈতিক কৌশল এবং বেসরকারি খাতের প্রসারে নতুন রূপরেখা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহামান্য শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল থানি। ফোরামে তিনি কাতারের জন্য ৬০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ পাইপলাইন এবং নতুন একটি আর্থিক প্ল্যাটফর্ম চালুর ঘোষণা দেন।

অবকাঠামো ও আবাসন খাতে বিশাল বিনিয়োগ:

আগামী পাঁচ বছরে কাতার প্রায় ৩৮.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের নতুন অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যা মূলত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (PPP) ভিত্তিতে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া রিয়েল এস্টেট ও আতিথেয়তা খাতে আরও ২২.৫ বিলিয়ন ডলার বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ৫.৮ বিলিয়ন ডলারের সুমসাইমা বিচ (Smeasma Beach) উন্নয়ন প্রকল্প।

‘দোহা ইনভেস্টমেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ:

এই অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের গতি ত্বরান্বিত করতে কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি (QIA)-এর অভ্যন্তরীণ পোর্টফোলিও তত্ত্বাবধানের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দোহা ইনভেস্টমেন্ট’ (Doha Investment) নামের একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর মূল লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বেসরকারি খাতের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা, স্থানীয় পুঁজিবাজারকে গভীরতর করা এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে কাতারি ব্যবসাগুলোর প্রতিযোগিতাসক্ষমতা নিশ্চিত করা।

ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা:

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাকে একটি ‘ভূমিকম্পের’ সাথে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক নিরাপত্তার এই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে কাতারের শক্ত ভিত, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং পুনর্গঠন পরিকল্পনা সফলভাবে কাজ করেছে। সামুদ্রিক রুট ও সাপ্লাই চেইনে বিঘ্ন ঘটলেও নতুন শিপিং রুট চালুর মাধ্যমে স্থানীয় বাজার সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। একই সাথে ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং আর্থিক প্রবাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংকট মোকাবেলার পাশাপাশি কাতার তার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অনুযায়ী নর্থ ফিল্ড সম্প্রসারণের কাজও চালিয়ে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কাতারের নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবকে ‘ভূমিকম্প’ বললেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি।ছবি: সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবকে ‘ভূমিকম্প’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানো এবং উত্তেজনার চক্র বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে আয়োজিত কাতার ইকোনমিক ফোরামের অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শেখ মোহাম্মদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে এমন একটি কাঠামো প্রয়োজন, যেখানে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা হবে এবং কোনো দেশ অন্য কোনো দেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারবে না।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি একটি ‘ভূমিকম্পের’ মতো, যার ‘কম্পন’ মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর ফলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলোও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘সংকটের সময় প্রায় প্রতিটি আলোচনা শুরু হয়েছে নিরাপত্তা ও উত্তেজনা প্রশমনের বিষয় দিয়ে। এরপর তা জ্বালানি সরবরাহ, নৌপথ এবং বিনিয়োগের পরিকল্পনার দিকে গিয়েছে। এগুলো ছিল একই প্রশ্নের ভিন্ন প্রকাশ। যখন এত কিছুই ব্যাহত হচ্ছে, তখন কোন বিষয়টির ওপর নির্ভর করা যেতে পারে?’

কাতারের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ‘ভিত্তি’ এই সংকটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেলেও দেশটি তা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানান কাতারের প্রধানমন্ত্রী। তবে তিনি স্বীকার করেন, চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব কাতারের ওপরও পড়ছে।

শেখ মোহাম্মদ বলেন, ‘এমন কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়, যেখানে কোনো একটি দেশকে স্থায়ীভাবে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রাখা হয়। আমাদের উত্তেজনার উৎসগুলো মোকাবিলা করতে হবে এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরি করতে হবে।’

নিউইয়র্ক থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ক্রিস্টেন সালুমি জানান, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের বৈঠকে এই বার্তা আবারও উঠে আসতে পারে।