২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ-পাকিস্তানে এলএনজি সরবরাহ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছে কাতার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
বাংলাদেশ-পাকিস্তানে এলএনজি সরবরাহ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছে কাতার

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এলএনজি সরবরাহে ‘ফোর্স ম্যাজুর’-এর মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে কাতার। এ কারণে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে সরবরাহ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা ব্লুমবার্গকে তথ্যটি জানিয়েছেন।

ফরাসি শব্দ ‘ফোর্স ম্যাজুর’ বলতে কোনো চুক্তির অপ্রত্যাশিত বা নিয়ন্ত্রণের বাইরের ঘটনাকে বোঝায়। এমন ক্ষেত্রে শর্ত পূরণ করতে না পারা পক্ষকে দায়ী করা যায় না। কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে জানিয়েছে যে, এলএনজি সরবরাহ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।

আরও দুজন ব্যক্তির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের অন্তত একজন ক্রেতাকে সরবরাহ স্থগিতের কথা জানানো হয়েছে। ইতালির এডিসন এসপিএ জানিয়েছে, তাদের এলএনজি সরবরাহ ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

বিষয়টি নিয়ে মন্তব্যের অনুরোধ করলেও কাতারএনার্জি তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দেয়নি। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কাতারএনার্জি প্রায় প্রতি মাসেই ‘ফোর্স ম্যাজুর’ পরিস্থিতি ও সরবরাহ স্থগিতের বিষয়ে ক্রেতাদের জানিয়ে আসছে।

চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়েছে কাতার। কিন্তু এটি যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় অনেক কম। সম্প্রতি ইরান জানিয়েছে, প্রণালি খুলে দেওয়ার শর্তে তারা কোনো ছাড় দেবে না। অন্যদিকে দেশটির সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো নিয়ে পরস্পরবিরোধী ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহ সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এশিয়া ও ইউরোপে এলএনজির দাম ২০২২ সালের শেষ দিকের পর প্রায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ-পাকিস্তানে এলএনজি সরবরাহ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছে কাতার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
বাংলাদেশ-পাকিস্তানে এলএনজি সরবরাহ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছে কাতার

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এলএনজি সরবরাহে ‘ফোর্স ম্যাজুর’-এর মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে কাতার। এ কারণে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে সরবরাহ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা ব্লুমবার্গকে তথ্যটি জানিয়েছেন।

ফরাসি শব্দ ‘ফোর্স ম্যাজুর’ বলতে কোনো চুক্তির অপ্রত্যাশিত বা নিয়ন্ত্রণের বাইরের ঘটনাকে বোঝায়। এমন ক্ষেত্রে শর্ত পূরণ করতে না পারা পক্ষকে দায়ী করা যায় না। কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে জানিয়েছে যে, এলএনজি সরবরাহ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।

আরও দুজন ব্যক্তির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের অন্তত একজন ক্রেতাকে সরবরাহ স্থগিতের কথা জানানো হয়েছে। ইতালির এডিসন এসপিএ জানিয়েছে, তাদের এলএনজি সরবরাহ ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

বিষয়টি নিয়ে মন্তব্যের অনুরোধ করলেও কাতারএনার্জি তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দেয়নি। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কাতারএনার্জি প্রায় প্রতি মাসেই ‘ফোর্স ম্যাজুর’ পরিস্থিতি ও সরবরাহ স্থগিতের বিষয়ে ক্রেতাদের জানিয়ে আসছে।

চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়েছে কাতার। কিন্তু এটি যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় অনেক কম। সম্প্রতি ইরান জানিয়েছে, প্রণালি খুলে দেওয়ার শর্তে তারা কোনো ছাড় দেবে না। অন্যদিকে দেশটির সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো নিয়ে পরস্পরবিরোধী ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহ সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এশিয়া ও ইউরোপে এলএনজির দাম ২০২২ সালের শেষ দিকের পর প্রায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

গাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রস্তুত হলো ১ কোটির বেশি খাবারের প্যাকেট

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
গাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রস্তুত হলো ১ কোটির বেশি খাবারের প্যাকেট

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আয়োজিত এক বিশাল মানবিক সমাবেশে গাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ১ কোটি বা ১০ মিলিয়নের বেশি খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত করা হয়েছে। মরহুম শেখ আহমেদ বিন রশিদের উদারতা ও দাতব্য কাজের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ‘মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভস’ এবং ‘অপারেশন গ্যালেন্ট নাইট ৩’-এর যৌথ উদ্যোগে ‘আহমেদ বিন রশিদ হিউম্যানিটারিয়ান ব্রিজ’ শীর্ষক এই ইভেন্টের আয়োজন করা হয়।

গাজার অসহায় পরিবার ও শিশুদের মাঝে বিতরণের জন্য খাদ্য সহায়তা প্যাকেট তৈরির এই মহতী উদ্যোগে শত শত স্বেচ্ছাসেবী, সাধারণ মানুষ এবং মরহুম শেখ আহমেদ বিন রশিদের শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।

ন্যাশনাল নিউজের বরাতে জানা যায়, দুবাই সিভিল এভিয়েশন অথরিটির প্রেসিডেন্ট এবং এমিরেটস এয়ারলাইন অ্যান্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী শেখ আহমেদ বিন সাঈদসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শেখ আহমেদ বিন সাঈদ বলেন, সারাজীবন মরহুম শেখ আহমেদ বিন রশিদ দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি উদারতা, বিনয় এবং আত্মত্যাগের এক অনন্য প্রতীক হয়ে বেঁচে ছিলেন।

এমবিআরজিআই-এর মহাসচিব মোহাম্মদ আল গারগাবি বলেন, এই আয়োজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের চিরন্তন মূল্যবোধেরই বহিঃপ্রকাশ। তিনি উল্লেখ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় সূচনার শুরু থেকেই শেখ আহমেদ বিন রশিদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং তার অসামান্য অবদান ও সামাজিক প্রভাব সর্বজনস্বীকৃত।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার গাজার ১০ লাখ মানুষের জন্য শীতবস্ত্র সরবরাহের একটি বড় উদ্যোগ শুরু করে আমিরাত। আসন্ন হাড়কাঁপানো শীত ও তাপমাত্রা হ্রাসের মুখোমুখি হওয়া ফিলিস্তিনিদের উষ্ণতা দিতে এই উদ্যোগ জীবনরক্ষাকারী ভূমিকা পালন করবে। ইতোমধ্যে ‘জায়েদ চ্যারিটেবল অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ ৫০ হাজার জ্যাকেট, মৌসুমী প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং কম্বলসহ ৫ হাজার উইন্টার কিট বিমানযোগে গাজায় পাঠিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদের নির্দেশনায় শুরু হওয়া ‘অপারেশন গ্যালেন্ট নাইট ৩’-এর আওতায় গাজায় এ পর্যন্ত ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি (১৪.৬ বিলিয়ন দিরহাম) সহায়তা পাঠানো হয়েছে, যা গাজায় প্রেরিত মোট বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার ৪৬ শতাংশ। এখন পর্যন্ত ৭৯৬টি বিমান, ২৫টি কার্গো জাহাজ এবং ১৪ হাজার ৩টি ট্রাকের মাধ্যমে মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টনেরও বেশি ত্রাণসামগ্রী সেখানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির অংশীদারিত্বে গাজার ১০ লাখ মানুষের জন্য ১ কোটি ১৭ লাখ ডলারের প্রত্যক্ষ খাদ্য সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিল এমবিআরজিআই। এই ফাউন্ডেশনটি কেবল ২০২৫ সালেই বিশ্বের ১২২টি দেশের প্রায় ১৬.৫ কোটি মানুষের কল্যাণে ২.৩ বিলিয়ন দিরহামের বেশি অর্থ ব্যয় করেছে।

পাশাপাশি গাজার স্বাস্থ্য খাতকে শক্তিশালী করতে এবং শিশুসহ অন্যান্য রোগীদের জন্য জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহের জন্য ৩ কোটি ৭০ লাখ দিরহাম অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে এই সংস্থাটি।

হিমায়িত মুরগি ও নির্দিষ্ট কৃষিপণ্যের আমদানি শুল্ক বাড়াল কাতার

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
হিমায়িত মুরগি ও নির্দিষ্ট কৃষিপণ্যের আমদানি শুল্ক বাড়াল কাতার

স্থানীয় উৎপাদকদের সুরক্ষা এবং আমদানি নীতিতে সামঞ্জস্য আনতে নির্বাচিত খাদ্য ও কৃষিপণ্যের শুল্ক হার বৃদ্ধি করেছে কাতার। দেশটির আমির মহামান্য শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ২০২৬ সালের ৪৫ নম্বর আমিরি ডিক্রি জারির মাধ্যমে এই নতুন শুল্ক হার অনুমোদন করেছেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিচার মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত অফিসিয়াল গেজেটের ১৭তম সংখ্যায় ডেক্রিটি প্রকাশ করা হয়।

কাতারের সংবিধান, সংশোধিত কাস্টমস আইন (২০০২ সালের ৪০ নম্বর আইন) এবং শুল্ক অব্যাহতি ও সমন্বিত শুল্ক সংক্রান্ত পূর্ববর্তী ডেক্রিগুলোর পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই নতুন আদেশ জারি করা হয়েছে।

শীতলীকৃত মুরগির শুল্ক বাড়িয়ে ১৮ শতাংশ নির্ধারণ

ডেক্রির প্রথম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু তাজা ও হিমায়িত মুরগির মাংস আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে—আস্ত তাজা বা হিমায়িত মুরগি, হিমায়িত মুরগির বুক, মুরগির উরু, মুরগির ডানা।

নির্দিষ্ট কৃষিপণ্যে ১৫ শতাংশ শুল্ক

ডিক্রির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ফসলের ভরা মৌসুমে নির্দিষ্ট কিছু কৃষিপণ্যের আমদানিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পণ্যের ধরন অনুযায়ী এই সময়ের মেয়াদ ভিন্ন হয়ে থাকে:

  • টমেটো: জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল এবং মে মাসে এই ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে।

  • বেগুন: জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল, নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসে শুল্ক প্রযোজ্য হবে।

  • করলা বা জুকিনি: জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল, অক্টোবর, নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসে এই শুল্ক কার্যকর থাকবে।

নতুন শুল্ক কবে থেকে কার্যকর হবে?

ডেক্রির তৃতীয় অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে নিজ নিজ এখতিয়ারের মধ্যে এই ডেক্রি বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অফিসিয়াল গেজেটে প্রকাশের ৬০ দিন পর থেকে এই নতুন শুল্ক নীতি কার্যকর হবে। যেহেতু ডেক্রিটি গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে, তাই নির্ধারিত ৬০ দিন মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন শুল্কহার কার্যকর হবে।

সমন্বিত কাস্টমস শুল্ক নীতির নিয়মিত হালনাগাদের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য নির্দিষ্ট মৌসুমে দেশীয় কৃষিপণ্যের বাজার সুরক্ষা করা।

গাজায় মানবিক সংকট নিরসনে কাতার, জর্ডান ও যুক্তরাজ্যের ‘কল টু অ্যাকশন’ বৈঠক

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
গাজায় মানবিক সংকট নিরসনে কাতার, জর্ডান ও যুক্তরাজ্যের ‘কল টু অ্যাকশন’ বৈঠক

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার শোচনীয় মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিশেষ “কল টু অ্যাকশন” বৈঠকের আয়োজন করেছে কাতার, জর্ডান ও যুক্তরাজ্য। গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই ত্রিমুখী বৈঠকে কাতারের প্রতিনিধিত্ব করেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ বিন সালেহ আল-খুলাইফি।

বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে ড. আল-খুলাইফি ফিলিস্তিন জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে কাতারের সর্বোচ্চ গুরুত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, গাজায় একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি অর্জন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এবং নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর রেজুলেশনে অনুমোদিত ব্যাপকভিত্তিক ২০ দফার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে কাতারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা।

কাতারের মানবিক ও চিকিৎসা সহায়তা

দাপ্তরিক কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি গাজায় ব্যাপক মানবিক উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে ড. আল-খুলাইফি জানান, কাতার ইতোমধ্যে প্রায় ৪ লাখ ৩৬ হাজার মানুষকে খাদ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও তাঁবু সরবরাহ করেছে। এছাড়া, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থাকি রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড প্রস্থেটিকস হাসপাতালের কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।

তিনি আরও জানান, গত তিন বছরে গাজায় প্রায় ৩ কোটি লিটার জ্বালানি সরবরাহ করেছে কাতার। সম্প্রতি চিকিৎসা কেন্দ্র ও জরুরি সেবাগুলোর কার্যক্রম সচল রাখতে জাতিসংঘর সাথে নতুন একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার আওতায় আরও ১৩ লাখ লিটার জ্বালানি সরবরাহ করা হবে।

শীতের আগে জরুরি সহায়তার আহ্বান

গাজায় দ্রুত, টেকসই এবং বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানবিক সংস্থাগুলোকে নিরাপদে তাদের দায়িত্ব পালন করতে দিতে হবে এবং স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসা কেন্দ্র ও চিকিৎসা পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে আসন্ন শীত মৌসুমের কথা মাথায় রেখে গাজাবাসীর জন্য দ্রুত আশ্রয়ণ কেন্দ্র, নিরাপদ পানীয় জল এবং স্যানিটেশন সেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষে ড. আল-খুলাইফি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ফিলিস্তিনের জরুরি মানবিক চাহিদা পূরণ, পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতে আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং পিস বোর্ডের সাথে কাতার তার কাজ চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা।

জাতিসংঘের কাউন্টার-টেররিজম ট্রাস্ট ফান্ডে কাতারের অনুদান ১৪১ মিলিয়ন ডলার

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
জাতিসংঘের কাউন্টার-টেররিজম ট্রাস্ট ফান্ডে কাতারের অনুদান ১৪১ মিলিয়ন ডলার

সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও প্রতিরোধকে নিজেদের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেছে কাতার। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বৈশ্বিক সন্ত্রাস দমনে দেশটির দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি এবং জাতিসংঘের সাথে অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০১৯ সাল থেকে জাতিসংঘ কাউন্টার-টেররিজম অফিস বা ইউএনওসিটি (UNOCT)-এর ট্রাস্ট ফান্ডের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ হলো কাতার। এ পর্যন্ত দেশটির মোট আর্থিক অনুদানের পরিমাণ ১৪১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে, যা এই তহবিলে আসা মোট অনুদানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

কাতারের বিশেষ ভূমিকা ও অবদানসমূহ:

  • সবচেয়ে বড় দাতা: ২০১৯ সাল থেকে জাতিসংঘ কাউন্টার-টেররিজম অফিসে এককভাবে সর্বোচ্চ আর্থিক অবদান রেখে চলেছে কাতার।

  • দোহায় আন্তর্জাতিক কেন্দ্র: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আচরণগত অন্তর্দৃষ্টি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কেন্দ্র এবং সংসদীয় সম্পৃক্ততা বিষয়ক ইউএনওসিটি প্রোগ্রাম অফিস দোহার মাটিতে hosted বা পরিচালিত হচ্ছে।

  • সক্ষমতা বৃদ্ধি: দোহায় অবস্থিত ইউএনওসিটি প্রোগ্রাম অফিসের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার জন্য কাতার নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।

  • বৈশ্বিক কৌশলগত আলোচনা: জাতিসংঘের বৈশ্বিক সন্ত্রাস দমন কৌশল পর্যালোচনা সংক্রান্ত রেজুলেশনের যৌথ আলোচনায় ইসলামিক গ্রুপের অংশ হিসেবে কাতার সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে একযোগে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে কাতার সবসময় তার কূটনৈতিক ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।