১৪ অক্টোবর ২০২৬

কোনো আপস করা হবে না: হুঁশিয়ারি কাতারের আমিরের

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
কোনো আপস করা হবে না: হুঁশিয়ারি কাতারের আমিরের

আঞ্চলিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের মধ্যেও কাতার তার সক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংহতির প্রমাণ দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানী দোহায় কাতারের শূরা কাউন্সিলে দেওয়া বক্তব্যে আমির বলেন, কয়েক মাসের অস্থিতিশীলতার মধ্যে কাতার ও পুরো অঞ্চলকে ‘অভূতপূর্ব পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হতে হয়েছে। এসব ঘটনা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংহতি ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাকে আবারও প্রমাণ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর কাতারও সংঘাতের প্রভাবের মুখে পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি করেছে।যুদ্ধের মধ্যে ইরান একাধিকবার কাতারে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে মার্চে বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাস লাফান গ্যাস স্থাপনাতেও হামলা হয়।

শেখ তামিম বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগেই নেওয়া বিভিন্ন নীতির কারণে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার পরিণতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে কাতার।

তিনি বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) সদস্যদেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না। তার ভাষায়, ‘উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর নিরাপত্তা এবং তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এমন বিষয়, যেখানে কোনো ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়।’

এদিকে, ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের আমির। তিনি বলেন, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি জ্বালানি স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামো সুরক্ষায় আরও বেশি উদ্যোগ নিতে হবে।

আল জাজিরার প্রতিবেদক জেইন বাসরাভি জানান, বক্তব্যে শেখ তামিম যুদ্ধ বন্ধ করা এবং মতবিরোধ শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের বিষয়ে কাতারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি দেশটির সমর্থনও তুলে ধরেছেন তিনি।

আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে কাতারের এই বক্তব্যে একদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সৌদির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
সৌদির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর

সৌদি আরবের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পর দেশটির পাশে আরও দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হামাদ বিন জাসিম বিন জাবের আল থানি।

তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে সমর্থন দেওয়া আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। একই সঙ্গে ইরানকে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন কাতারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

পোস্টে হামাদ বিন জাসিম বলেন, কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা সৌদি আরবের পাশে বাস্তবসম্মত ও দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করেছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানই এখন তাঁদের প্রধান প্রতিপক্ষ। তাঁর মতে, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) বর্তমানে বিভিন্ন বৈরী ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও দূরদর্শিতা প্রয়োজন।

ইয়েমেন থেকে আসা হুমকির প্রসঙ্গ তুলে হামাদ বিন জাসিম বলেন, এসব হুমকির পরিকল্পনা ও নির্দেশনা ইয়েমেনের বাইরে থেকে আসছে বলে তিনি মনে করেন। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানো কাতারের জন্য আরও জরুরি হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে তাঁর বক্তব্যে উল্লিখিত হুমকির উৎস ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার গৌণ বিরোধগুলো এক পাশে সরিয়ে রাখা প্রয়োজন। এর পরিবর্তে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে।

হামাদ বিন জাসিম ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ের বড় একটি অংশে তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন।

কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলার পর তাঁর এই বক্তব্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, সৌদি আরবের সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্পর্ক এবং ইরানকে ঘিরে বিদ্যমান উত্তেজনাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। আল জাজিরা

কোনো আপস করা হবে না: হুঁশিয়ারি কাতারের আমিরের

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
কোনো আপস করা হবে না: হুঁশিয়ারি কাতারের আমিরের

আঞ্চলিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের মধ্যেও কাতার তার সক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংহতির প্রমাণ দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানী দোহায় কাতারের শূরা কাউন্সিলে দেওয়া বক্তব্যে আমির বলেন, কয়েক মাসের অস্থিতিশীলতার মধ্যে কাতার ও পুরো অঞ্চলকে ‘অভূতপূর্ব পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হতে হয়েছে। এসব ঘটনা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংহতি ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাকে আবারও প্রমাণ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর কাতারও সংঘাতের প্রভাবের মুখে পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি করেছে।যুদ্ধের মধ্যে ইরান একাধিকবার কাতারে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে মার্চে বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাস লাফান গ্যাস স্থাপনাতেও হামলা হয়।

শেখ তামিম বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগেই নেওয়া বিভিন্ন নীতির কারণে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার পরিণতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে কাতার।

তিনি বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) সদস্যদেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না। তার ভাষায়, ‘উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর নিরাপত্তা এবং তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এমন বিষয়, যেখানে কোনো ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়।’

এদিকে, ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের আমির। তিনি বলেন, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি জ্বালানি স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামো সুরক্ষায় আরও বেশি উদ্যোগ নিতে হবে।

আল জাজিরার প্রতিবেদক জেইন বাসরাভি জানান, বক্তব্যে শেখ তামিম যুদ্ধ বন্ধ করা এবং মতবিরোধ শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের বিষয়ে কাতারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি দেশটির সমর্থনও তুলে ধরেছেন তিনি।

আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে কাতারের এই বক্তব্যে একদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাবে ৬ মাসে কাতারের রাজস্ব কমেছে ৪২ শতাংশ

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
যুদ্ধের প্রভাবে ৬ মাসে কাতারের রাজস্ব কমেছে ৪২ শতাংশ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে গ্যাস অবকাঠামো ও রপ্তানি খাতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে কাতার। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কাতারের রাজস্ব ৪২ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন কাতারের আমির।

আজ মঙ্গলবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক দেশ কাতার। যুক্তরাষ্ট্রের পরেই দেশটির অবস্থান। তবে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানির ‘উল্লেখযোগ্য অংশ’ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।

আরও পড়ুন

কোনো আপস করা হবে না: হুঁশিয়ারি কাতারের আমিরের

সৌদির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানী দোহায় শুরা কাউন্সিলের বার্ষিক অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং রাস লাফান শিল্পনগরীর কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনা সরাসরি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশের রপ্তানির উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যাহত হয়েছে।’

‘এই সংকট সরকারি অর্থ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, এটাই স্বাভাবিক। এর ফলে বছরের প্রথম ছয় মাসে মোট রাজস্ব ৪২ শতাংশ কমেছে’, যোগ করেন তিনি।

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে রাস লাফান স্থাপনাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল বন্ধ থাকায় কাতারের রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। এলএনজি পরিবহনে এটাই ছিল কাতারের একমাত্র নৌপথ।

তবে বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র নর্থ ফিল্ডের বড় ধরনের সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন আমির। তিনি কাউন্সিলকে বলেন, ‘নর্থ ফিল্ড গ্যাস প্রকল্পের সম্প্রসারণের কাজ নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে।’

পারস্য উপসাগরের তলদেশ দিয়ে ইরানের ভূখণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত নর্থ ফিল্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে কাতারের বার্ষিক গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা ১৪ কোটি ২০ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এক্সনমোবিলের সঙ্গে যৌথভাবে বাস্তবায়নাধীন গোল্ডেন পাস এলএনজি প্রকল্পের কাজও ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ অর্জন করেছে বলে জানান আমির।

চলমান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি কাতার।

আজ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি বছর কাতারের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ কমতে পারে।

কাতারে বাংলাদেশ স্কুলে বিজ্ঞান ও সৃজনশীলতার বর্ণিল উৎসব

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬
কাতারে বাংলাদেশ স্কুলে বিজ্ঞান ও সৃজনশীলতার বর্ণিল উৎসব

শ্রেণিকক্ষের পাঠ যখন বাস্তবতার স্পর্শে প্রাণ পায়, তখন জ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত হয় কৌতূহল, সৃজনশীলতা আর নতুন কিছু করার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন ও সম্ভাবনারই বর্ণিল প্রকাশ ঘটেছে কাতারের দোহায় বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজে।

বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বিজ্ঞান মেলা ও চারু-কারুকলা প্রদর্শনী ২০২৬’। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আয়োজিত এ উৎসবে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, শিল্পবোধ, কল্পনাশক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তার অপূর্ব সমন্বয় ঘটে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন মোঃ ওয়ালিউর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুদানি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ ইউসুফ আলতাহির, প্যালেস্টাইন স্কুলের অধ্যক্ষ ড. আব্দেল মুসলেহ, ব্রাইট ফিউচার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ আলী জুলকারনাইন, শ্রীলংকান স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মিস্টার জিওয়ানথা ও মিস্টার চামারা, বাংলাদেশ দূতাবাসের ডিফেন্স অ্যাটাশে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোঃ ইশতিয়াক আহমদ, বাংলাদেশ স্কুলের দাতা সদস্য জনাব মোঃ আব্দুল মতিন পাটোয়ারী, অত্র প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্য মোঃ আমিনুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মাহমুদুল হাসান, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জিল্লুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল হক এবং অভিভাবক-শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি মোঃ ফিরুজ আহমদ।

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, অভিভাবকসহ বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রদর্শনীতে ছিল সৃজনশীলতার এক বিশাল সমারোহ। প্রভাতী শাখার কেজি-১ থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তৈরি ৩০৮টি চারু ও কারুকলার চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়। পঞ্চম থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা উপস্থাপন করে ১৯৫টি বিজ্ঞান প্রকল্প। এসব প্রকল্পে বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও ব্যবহারিক শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহের পাশাপাশি তাদের অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগে রূপ দেওয়ার দক্ষতাও ফুটে ওঠে। দিবা শাখার প্রাথমিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ১৫০টি এবং পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ৭৫টি সৃজনশীল চিত্রকর্ম প্রদর্শনীতে স্থান পায়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ ওয়ালিউর রহমান শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বৈজ্ঞানিক কৌতূহল ও উদ্ভাবনী মানসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত বিভিন্ন প্রকল্পের প্রশংসা করে শিক্ষার্থীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি ও ব্যবহারিক দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসাইন আহমদ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব কর্মকাণ্ড, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও সৃজনশীল প্রকাশের মাধ্যমে প্রয়োগ করার সুযোগ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে আরও অর্থবহ ও প্রাণবন্ত করে তোলে।

একদিকে শিশুদের কোমল হাতে ফুটে ওঠা রঙিন শিল্পকর্ম, অন্যদিকে কিশোর শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধিৎসু মন থেকে জন্ম নেওয়া বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প—সব মিলিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিণত হয় মেধা, মনন ও স্বপ্নের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। প্রতিটি প্রকল্প যেন ছিল—শিক্ষার্থীদের শুধু ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি ও নিজেদের অপার সম্ভাবনার এক বাস্তব পরিচয়।

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ, বৈজ্ঞানিক মননের অপূর্ব সৃষ্টি এবং নিজেদের কল্পনাপ্রসূত সৃষ্টিশীলতা বৃহত্তর দর্শকদের সামনে উপস্থাপনের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধানী ও উদ্ভাবনী চিন্তায় উৎসাহিত করার এক বিরল প্রয়াস। সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিকতা, পরিকল্পনা, অক্লান্ত পরিশ্রম ও অব্যাহত উৎসাহ-উদ্দীপনায় বিজ্ঞান ও শিল্পের এ আয়োজন হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের মেধা ও স্বপ্নের এক উজ্জ্বল প্রদর্শনী।

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানাল কাতার

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানাল কাতার

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমানে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর চালানো নজিরবিহীন ও ভয়াবহ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কাতার। এই হামলায় হতাহতের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দোহা এই হামলার ঘটনায় "কঠোরতম ভাষায়" নিন্দা জ্ঞাপন করছে। একই সাথে এই হামলাকে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং বেসামরিক নাগরিকের নিরাপত্তা, বেসামরিক বিমান চলাচল ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রতি এক প্রত্যক্ষ ও গুরুতর হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও নিশ্চিত করে যে, কাতার সৌদি আরবের সাথে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছে। একই সাথে নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সৌদি আরব সরকারের গৃহীত যেকোনো বিধিসম্মত পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তের প্রতি দোহার পূর্ণ সমর্থন থাকবে।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জোর দিয়ে বলা হয়, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা কাতারের নিজস্ব নিরাপত্তা এবং গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) ভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর যৌথ নিরাপত্তার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

কাতার সরকার এই হামলায় নিহত শহীদদের পরিবার, সৌদি সরকার এবং দেশটির সাধারণ জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে এবং আহতদের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য কামনা করেছে।