১৪ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলি অপরাধীদের বিচারে সোচ্চার শেখ তামিম

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ইসরায়েলি অপরাধীদের বিচারে সোচ্চার শেখ তামিম

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজ্জায় চলমান দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি গণহত্যার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দোহায় কাতারের শুরা কাউন্সিলের ৫৫তম বার্ষিক অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “গাজ্জা উপত্যকায় যা ঘটেছে, তা নিঃসন্দেহে গণহত্যা। এর অপরাধীদের কোনোভাবেই জবাবদিহি থেকে রেহাই দেওয়া যাবে না।”

গাজ্জায় ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজ্জায় দখলদার ইসরাইলের হামলায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এ ছাড়া গাজ্জার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। গাজ্জায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়।

জাতিসংঘের প্রধান বিচারিক সংস্থা আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) গাজ্জায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে, এমন অভিযোগে দক্ষিণ আফ্রিকার করা একটি মামলারও শুনানি করছে। এই মামলায় কয়েকটি দেশও যোগ দিয়েছে।

কাতারের আমীর আরও বলেন, “আমরা আমাদের ভাই এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখব, যাতে আমাদের অঞ্চল স্থিতিশীল ও নিরাপদ থাকে।”

কাতার, মিসর ও তুরস্ক গাজ্জায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যস্থতা করে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর ওই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

তবে চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও গাজ্জায় দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি গণহত্যা অব্যাহত রয়েছে। গাজ্জার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এরপর ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ৪৯৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ২৯৯ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

এ ছাড়া গাজ্জায় প্রবেশের জন্য নির্ধারিত খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী, আশ্রয় সামগ্রী এবং তৈরি আবাসিক ঘরের পরিমাণও ইসরাইল আটকে দিচ্ছে। গাজ্জায় প্রায় ২৪ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন। এর মধ্যে প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন। তীব্র মানবিক সংকটের মধ্যেই তাদের জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

ইসরায়েলি অপরাধীদের বিচারে সোচ্চার শেখ তামিম

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
ইসরায়েলি অপরাধীদের বিচারে সোচ্চার শেখ তামিম

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজ্জায় চলমান দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি গণহত্যার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দোহায় কাতারের শুরা কাউন্সিলের ৫৫তম বার্ষিক অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “গাজ্জা উপত্যকায় যা ঘটেছে, তা নিঃসন্দেহে গণহত্যা। এর অপরাধীদের কোনোভাবেই জবাবদিহি থেকে রেহাই দেওয়া যাবে না।”

গাজ্জায় ইসরাইলের যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজ্জায় দখলদার ইসরাইলের হামলায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এ ছাড়া গাজ্জার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। গাজ্জায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়।

জাতিসংঘের প্রধান বিচারিক সংস্থা আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) গাজ্জায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে, এমন অভিযোগে দক্ষিণ আফ্রিকার করা একটি মামলারও শুনানি করছে। এই মামলায় কয়েকটি দেশও যোগ দিয়েছে।

কাতারের আমীর আরও বলেন, “আমরা আমাদের ভাই এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখব, যাতে আমাদের অঞ্চল স্থিতিশীল ও নিরাপদ থাকে।”

কাতার, মিসর ও তুরস্ক গাজ্জায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যস্থতা করে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর ওই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

তবে চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও গাজ্জায় দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি গণহত্যা অব্যাহত রয়েছে। গাজ্জার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এরপর ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ৪৯৩ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ২৯৯ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

এ ছাড়া গাজ্জায় প্রবেশের জন্য নির্ধারিত খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী, আশ্রয় সামগ্রী এবং তৈরি আবাসিক ঘরের পরিমাণও ইসরাইল আটকে দিচ্ছে। গাজ্জায় প্রায় ২৪ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন। এর মধ্যে প্রায় ২১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন। তীব্র মানবিক সংকটের মধ্যেই তাদের জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

কাতারে কৃষি ছবি তুলে জিতে নিন ৩০ হাজার রিয়াল পুরস্কার

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
কাতারে কৃষি ছবি তুলে জিতে নিন ৩০ হাজার রিয়াল পুরস্কার

কাতারের কৃষি ও খামারভিত্তিক সৌন্দর্য, বৈচিত্র্য ও সৃজনশীলতা ক্যামেরার মাধ্যমে তুলে ধরতে শুরু হয়েছে ‘Qatar Agriculture Lens Contest 2026’।

কাতারে বসবাসকারী যে কোনো প্রবাসী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা কাতারের বিভিন্ন খামার ও কৃষি-দৃশ্যের ছবি তুলে নিজেদের সৃজনশীলতা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। একজন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ ১০টি ছবি জমা দিতে পারবেন।

প্রতিযোগিতায় মোট ১ লাখ কাতারি রিয়াল পুরস্কার দেওয়া হবে:

  • প্রথম পুরস্কার: ৩০,০০০ রিয়াল
  • দ্বিতীয় পুরস্কার: ২০,০০০ রিয়াল
  • তৃতীয় পুরস্কার: ১৫,০০০ রিয়াল
  • চতুর্থ থেকে দশম স্থান: প্রত্যেকে ৫,০০০ রিয়াল

ছবির জন্য যেসব শর্ত মানতে হবে

  • প্রতিযোগিতাটি কাতারে বসবাসকারী সবার জন্য উন্মুক্ত।
  • ছবি অবশ্যই প্রফেশনাল ক্যামেরা দিয়ে তুলতে হবে।
  • প্রতিযোগী সর্বোচ্চ ১০টি ছবি জমা দিতে পারবেন।
  • প্রতিটি ছবিতে সংশ্লিষ্ট খামারের নম্বর উল্লেখ করতে হবে।
  • ছবি উচ্চমানের JPEG বা JPG ফরম্যাটে জমা দিতে হবে।
  • ছবির সবচেয়ে ছোট পাশের দৈর্ঘ্য কমপক্ষে ৩,০০০ পিক্সেল হতে হবে।
  • প্রিন্ট কোয়ালিটি হতে হবে ৩০০ DPI।
  • সাদা-কালো ছবি গ্রহণযোগ্য নয়।
  • ড্রোন দিয়ে তোলা ছবি গ্রহণ করা হবে না।
  • ছবিতে কোনো স্বাক্ষর, লোগো, ফ্রেম বা পরিচয় শনাক্তকারী চিহ্ন যোগ করা যাবে না।
  • ডিজিটাল কম্পোজিটিং বা একাধিক ছবি মিলিয়ে নতুন ছবি তৈরি করা যাবে না।
  • ক্রপিং, সোজা করা, রঙ ও আলো সামঞ্জস্য এবং ছবির অনাকাঙ্ক্ষিত অংশ সরানোর মতো মৌলিক সম্পাদনা করা যাবে।
  • ছবির মূল EXIF তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে এবং তা মুছে বা পরিবর্তন করা যাবে না।

ছবি জমা দেওয়ার নিয়ম

অংশগ্রহণকারীদের প্রথমে WeTransfer-এর মাধ্যমে ছবি আপলোড করতে হবে। এরপর আয়োজকদের দেওয়া QR কোড স্ক্যান করে ই-মেইলের মাধ্যমে ছবি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

ছবি জমা দেওয়ার শেষ সময়: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬।

আরও পড়ুন

কোনো আপস করা হবে না: হুঁশিয়ারি কাতারের আমিরের

সৌদির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর

যুদ্ধের প্রভাবে ৬ মাসে কাতারের রাজস্ব কমেছে ৪২ শতাংশ

সৌদির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
সৌদির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর

সৌদি আরবের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পর দেশটির পাশে আরও দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হামাদ বিন জাসিম বিন জাবের আল থানি।

তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবকে সমর্থন দেওয়া আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। একই সঙ্গে ইরানকে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন কাতারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

পোস্টে হামাদ বিন জাসিম বলেন, কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা সৌদি আরবের পাশে বাস্তবসম্মত ও দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করেছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানই এখন তাঁদের প্রধান প্রতিপক্ষ। তাঁর মতে, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) বর্তমানে বিভিন্ন বৈরী ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মুখোমুখি হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও দূরদর্শিতা প্রয়োজন।

ইয়েমেন থেকে আসা হুমকির প্রসঙ্গ তুলে হামাদ বিন জাসিম বলেন, এসব হুমকির পরিকল্পনা ও নির্দেশনা ইয়েমেনের বাইরে থেকে আসছে বলে তিনি মনে করেন। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানো কাতারের জন্য আরও জরুরি হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে তাঁর বক্তব্যে উল্লিখিত হুমকির উৎস ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার গৌণ বিরোধগুলো এক পাশে সরিয়ে রাখা প্রয়োজন। এর পরিবর্তে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে।

হামাদ বিন জাসিম ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ের বড় একটি অংশে তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন।

কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলার পর তাঁর এই বক্তব্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, সৌদি আরবের সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্পর্ক এবং ইরানকে ঘিরে বিদ্যমান উত্তেজনাকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। আল জাজিরা

যুদ্ধের প্রভাবে ৬ মাসে কাতারের রাজস্ব কমেছে ৪২ শতাংশ

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬
যুদ্ধের প্রভাবে ৬ মাসে কাতারের রাজস্ব কমেছে ৪২ শতাংশ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে গ্যাস অবকাঠামো ও রপ্তানি খাতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে কাতার। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কাতারের রাজস্ব ৪২ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আলথানি।

মঙ্গলবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি শুরা কাউন্সিলের উদ্বোধনী ভাষণে এই কথা বলেন।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক দেশ কাতার। যুক্তরাষ্ট্রের পরেই দেশটির অবস্থান। তবে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানির ‘উল্লেখযোগ্য অংশ’ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।

আরও পড়ুন

রাজধানী দোহায় শুরা কাউন্সিলের বার্ষিক অধিবেশনে আমির বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং রাস লাফান শিল্পনগরীর কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনা সরাসরি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশের রপ্তানির উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যাহত হয়েছে।’ ‘এই সংকট সরকারি অর্থ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, এটাই স্বাভাবিক। এর ফলে বছরের প্রথম ছয় মাসে মোট রাজস্ব ৪২ শতাংশ কমেছে’, যোগ করেন তিনি।

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে রাস লাফান স্থাপনাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল বন্ধ থাকায় কাতারের রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। এলএনজি পরিবহনে এটাই ছিল কাতারের একমাত্র নৌপথ।

তবে বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র নর্থ ফিল্ডের বড় ধরনের সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন আমির। তিনি কাউন্সিলকে বলেন, ‘নর্থ ফিল্ড গ্যাস প্রকল্পের সম্প্রসারণের কাজ নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে।’

পারস্য উপসাগরের তলদেশ দিয়ে ইরানের ভূখণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত নর্থ ফিল্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে কাতারের বার্ষিক গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা ১৪ কোটি ২০ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এক্সনমোবিলের সঙ্গে যৌথভাবে বাস্তবায়নাধীন গোল্ডেন পাস এলএনজি প্রকল্পের কাজও ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ অর্জন করেছে বলে জানান আমির।

চলমান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি কাতার।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি বছর কাতারের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ কমতে পারে।

কাতারে বাংলাদেশ স্কুলে বিজ্ঞান ও সৃজনশীলতার বর্ণিল উৎসব

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২৬
কাতারে বাংলাদেশ স্কুলে বিজ্ঞান ও সৃজনশীলতার বর্ণিল উৎসব

শ্রেণিকক্ষের পাঠ যখন বাস্তবতার স্পর্শে প্রাণ পায়, তখন জ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত হয় কৌতূহল, সৃজনশীলতা আর নতুন কিছু করার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন ও সম্ভাবনারই বর্ণিল প্রকাশ ঘটেছে কাতারের দোহায় বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজে।

বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বিজ্ঞান মেলা ও চারু-কারুকলা প্রদর্শনী ২০২৬’। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আয়োজিত এ উৎসবে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্কতা, শিল্পবোধ, কল্পনাশক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তার অপূর্ব সমন্বয় ঘটে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন মোঃ ওয়ালিউর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুদানি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ ইউসুফ আলতাহির, প্যালেস্টাইন স্কুলের অধ্যক্ষ ড. আব্দেল মুসলেহ, ব্রাইট ফিউচার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ আলী জুলকারনাইন, শ্রীলংকান স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মিস্টার জিওয়ানথা ও মিস্টার চামারা, বাংলাদেশ দূতাবাসের ডিফেন্স অ্যাটাশে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোঃ ইশতিয়াক আহমদ, বাংলাদেশ স্কুলের দাতা সদস্য জনাব মোঃ আব্দুল মতিন পাটোয়ারী, অত্র প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্য মোঃ আমিনুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মাহমুদুল হাসান, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জিল্লুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মনিরুল হক এবং অভিভাবক-শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি মোঃ ফিরুজ আহমদ।

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, অভিভাবকসহ বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

প্রদর্শনীতে ছিল সৃজনশীলতার এক বিশাল সমারোহ। প্রভাতী শাখার কেজি-১ থেকে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তৈরি ৩০৮টি চারু ও কারুকলার চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়। পঞ্চম থেকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা উপস্থাপন করে ১৯৫টি বিজ্ঞান প্রকল্প। এসব প্রকল্পে বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও ব্যবহারিক শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহের পাশাপাশি তাদের অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগে রূপ দেওয়ার দক্ষতাও ফুটে ওঠে। দিবা শাখার প্রাথমিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ১৫০টি এবং পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ৭৫টি সৃজনশীল চিত্রকর্ম প্রদর্শনীতে স্থান পায়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ ওয়ালিউর রহমান শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বৈজ্ঞানিক কৌতূহল ও উদ্ভাবনী মানসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত বিভিন্ন প্রকল্পের প্রশংসা করে শিক্ষার্থীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি ও ব্যবহারিক দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসাইন আহমদ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও আন্তরিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব কর্মকাণ্ড, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ও সৃজনশীল প্রকাশের মাধ্যমে প্রয়োগ করার সুযোগ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে আরও অর্থবহ ও প্রাণবন্ত করে তোলে।

একদিকে শিশুদের কোমল হাতে ফুটে ওঠা রঙিন শিল্পকর্ম, অন্যদিকে কিশোর শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধিৎসু মন থেকে জন্ম নেওয়া বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্প—সব মিলিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিণত হয় মেধা, মনন ও স্বপ্নের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। প্রতিটি প্রকল্প যেন ছিল—শিক্ষার্থীদের শুধু ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি ও নিজেদের অপার সম্ভাবনার এক বাস্তব পরিচয়।

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ, বৈজ্ঞানিক মননের অপূর্ব সৃষ্টি এবং নিজেদের কল্পনাপ্রসূত সৃষ্টিশীলতা বৃহত্তর দর্শকদের সামনে উপস্থাপনের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধানী ও উদ্ভাবনী চিন্তায় উৎসাহিত করার এক বিরল প্রয়াস। সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিকতা, পরিকল্পনা, অক্লান্ত পরিশ্রম ও অব্যাহত উৎসাহ-উদ্দীপনায় বিজ্ঞান ও শিল্পের এ আয়োজন হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের মেধা ও স্বপ্নের এক উজ্জ্বল প্রদর্শনী।