কাতারে অন্যতম পরিচিত বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ ঘরোয় রেস্টুরেন্ট। সম্প্রতি এর খাবারের মান নিয়ে ফেসবুকে অভিযোগ তোলেন কয়েকজন গ্রাহক। এর উত্তরে ঘরোয়া রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি কাতার প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে যে অনুরোধ রেখেছেন, তা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:
বর্তমান সময়ে কাতারের ব্যবসা-বাণিজ্য নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো প্রতিষ্ঠানের ভালো-মন্দ নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা ও পরামর্শ অবশ্যই হতে পারে। গ্রাহকদের মতামতকে আমরা সম্মান করি এবং নিজেদের ভুল-ত্রুটি সংশোধন করে আরও উন্নত হওয়ার চেষ্টা করি।
তবে আমাদের বিনীত প্রশ্ন—কোনো অভিযোগ বা অসন্তোষ থাকলে তা সরাসরি আমাদের জানানোর সুযোগ না দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেস্টুরেন্টের ছবি প্রকাশ করে বিভিন্ন মন্তব্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানির চেষ্টা করা কতটা যুক্তিসংগত?
আমাদের পক্ষ থেকে একটি অনুরোধ—প্রথমে আমাদের জানান, আমাদের বক্তব্য শোনার সুযোগ দিন। আমরা যদি আপনাদের অভিযোগের সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারি কিংবা সমস্যার যথাযথ সমাধান করতে ব্যর্থ হই, তখন আপনারা অবশ্যই আপনাদের বিবেচনায় পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারেন। কিন্তু আমাদের কথা শোনার এবং নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগটুকু কি আমরা পেতে পারি না?
বাংলাদেশি ভাই হিসেবে আমরা আপনাদের কাছ থেকে নিশ্চয়ই এতটুকু সহযোগিতা ও সহমর্মিতা প্রত্যাশা করি। একজন শুভাকাঙ্ক্ষী কিংবা একজন মুমিনের কাছ থেকেও আমরা পারস্পরিক সম্মান, ন্যায়বিচার ও সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার মানসিকতা প্রত্যাশা করি।
একবার কি ভেবে দেখেছেন, কেউ কি নিজের প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি চায়? দীর্ঘ আট বছর ধরে ঘরোয়া রেস্টুরেন্ট কীভাবে টিকে আছে? নিশ্চয়ই এর পেছনে রয়েছে অনেক মানুষের পরিশ্রম, ত্যাগ, স্বপ্ন, কর্মসংস্থান এবং আপনাদেরই ভালোবাসা ও সহযোগিতা।
আপনারাই আমাদের শক্তি, আপনারাই আমাদের পথপ্রদর্শক। আপনাদের অভিযোগ, পরামর্শ ও সমালোচনাকে আমরা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে চাই। ভুল হলে তা শুধরে নিতে চাই, সীমাবদ্ধতা থাকলে তা কাটিয়ে উঠতে চাই। কারণ, আপনাদের সন্তুষ্টি ও বিশ্বাসই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রেরণা।
কিন্তু কিছু ভাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে বিষয়গুলো উপস্থাপন করছেন, তাতে সমস্যার সমাধানের চেয়ে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কী বলা উচিত, তা আমাদের জানা নেই। আমরা শুধু চাই, কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট জানুন, সত্যতা যাচাই করুন এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার সুযোগ দিন।
আমরা গঠনমূলক সমালোচনাকে ভয় পাই না। বরং সমালোচনা হোক সত্যের ভিত্তিতে, আলোচনা হোক সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং প্রতিটি পদক্ষেপে বজায় থাকুক পারস্পরিক সম্মান।
আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে ছোট করা নয়, কারও সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করাও নয়। আমরা শুধু চাই, ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হোক; অভিযোগ থাকলে তা সমাধানের চেষ্টা করা হোক; আর কোনো প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে মতামত দেওয়ার আগে ন্যায়সংগত অবস্থান গ্রহণ করা হোক।
মনে রাখবেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শুধু একজন মালিকের স্বপ্ন নয়, জড়িয়ে থাকে বহু মানুষের জীবিকা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ।
সবার প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই আমাদের এই বিনীত অনুরোধ। আসুন, আমরা একে অপরের প্রতিপক্ষ না হয়ে সহযোগী হই। ক্ষতির কারণ না হয়ে সংশোধনের পথ দেখাই।
আপনাদের ভালোবাসা, বিশ্বাস, সমালোচনা ও সহযোগিতা নিয়েই ঘরোয়া রেস্টুরেন্ট আরও ভালো হতে চায়, ইনশাআল্লাহ।
ঘরোয়া রেস্টুরেন্ট — আপনাদের ভালোবাসায়, আপনাদের পাশে।