২২ অক্টোবর ২০২৬
কমিউনিটি সংবাদ

গ্রাহকদের সমালোচনার জবাবে ঘরোয়া রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬
গ্রাহকদের সমালোচনার জবাবে ঘরোয়া রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

কাতারে অন্যতম পরিচিত বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ ঘরোয় রেস্টুরেন্ট। সম্প্রতি এর খাবারের মান নিয়ে ফেসবুকে অভিযোগ তোলেন কয়েকজন গ্রাহক। এর উত্তরে ঘরোয়া রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি কাতার প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে যে অনুরোধ রেখেছেন, তা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

বর্তমান সময়ে কাতারের ব্যবসা-বাণিজ্য নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো প্রতিষ্ঠানের ভালো-মন্দ নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা ও পরামর্শ অবশ্যই হতে পারে। গ্রাহকদের মতামতকে আমরা সম্মান করি এবং নিজেদের ভুল-ত্রুটি সংশোধন করে আরও উন্নত হওয়ার চেষ্টা করি।

তবে আমাদের বিনীত প্রশ্ন—কোনো অভিযোগ বা অসন্তোষ থাকলে তা সরাসরি আমাদের জানানোর সুযোগ না দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেস্টুরেন্টের ছবি প্রকাশ করে বিভিন্ন মন্তব্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানির চেষ্টা করা কতটা যুক্তিসংগত?

আমাদের পক্ষ থেকে একটি অনুরোধ—প্রথমে আমাদের জানান, আমাদের বক্তব্য শোনার সুযোগ দিন। আমরা যদি আপনাদের অভিযোগের সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারি কিংবা সমস্যার যথাযথ সমাধান করতে ব্যর্থ হই, তখন আপনারা অবশ্যই আপনাদের বিবেচনায় পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারেন। কিন্তু আমাদের কথা শোনার এবং নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগটুকু কি আমরা পেতে পারি না?

বাংলাদেশি ভাই হিসেবে আমরা আপনাদের কাছ থেকে নিশ্চয়ই এতটুকু সহযোগিতা ও সহমর্মিতা প্রত্যাশা করি। একজন শুভাকাঙ্ক্ষী কিংবা একজন মুমিনের কাছ থেকেও আমরা পারস্পরিক সম্মান, ন্যায়বিচার ও সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার মানসিকতা প্রত্যাশা করি।

একবার কি ভেবে দেখেছেন, কেউ কি নিজের প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি চায়? দীর্ঘ আট বছর ধরে ঘরোয়া রেস্টুরেন্ট কীভাবে টিকে আছে? নিশ্চয়ই এর পেছনে রয়েছে অনেক মানুষের পরিশ্রম, ত্যাগ, স্বপ্ন, কর্মসংস্থান এবং আপনাদেরই ভালোবাসা ও সহযোগিতা।

আপনারাই আমাদের শক্তি, আপনারাই আমাদের পথপ্রদর্শক। আপনাদের অভিযোগ, পরামর্শ ও সমালোচনাকে আমরা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে চাই। ভুল হলে তা শুধরে নিতে চাই, সীমাবদ্ধতা থাকলে তা কাটিয়ে উঠতে চাই। কারণ, আপনাদের সন্তুষ্টি ও বিশ্বাসই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রেরণা।

কিন্তু কিছু ভাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে বিষয়গুলো উপস্থাপন করছেন, তাতে সমস্যার সমাধানের চেয়ে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কী বলা উচিত, তা আমাদের জানা নেই। আমরা শুধু চাই, কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট জানুন, সত্যতা যাচাই করুন এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার সুযোগ দিন।

আমরা গঠনমূলক সমালোচনাকে ভয় পাই না। বরং সমালোচনা হোক সত্যের ভিত্তিতে, আলোচনা হোক সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং প্রতিটি পদক্ষেপে বজায় থাকুক পারস্পরিক সম্মান।

আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে ছোট করা নয়, কারও সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করাও নয়। আমরা শুধু চাই, ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হোক; অভিযোগ থাকলে তা সমাধানের চেষ্টা করা হোক; আর কোনো প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে মতামত দেওয়ার আগে ন্যায়সংগত অবস্থান গ্রহণ করা হোক।

মনে রাখবেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শুধু একজন মালিকের স্বপ্ন নয়, জড়িয়ে থাকে বহু মানুষের জীবিকা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ।

সবার প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই আমাদের এই বিনীত অনুরোধ। আসুন, আমরা একে অপরের প্রতিপক্ষ না হয়ে সহযোগী হই। ক্ষতির কারণ না হয়ে সংশোধনের পথ দেখাই।

আপনাদের ভালোবাসা, বিশ্বাস, সমালোচনা ও সহযোগিতা নিয়েই ঘরোয়া রেস্টুরেন্ট আরও ভালো হতে চায়, ইনশাআল্লাহ।

ঘরোয়া রেস্টুরেন্ট — আপনাদের ভালোবাসায়, আপনাদের পাশে।

কমিউনিটি সংবাদ

গ্রাহকদের সমালোচনার জবাবে ঘরোয়া রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬
গ্রাহকদের সমালোচনার জবাবে ঘরোয়া রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

কাতারে অন্যতম পরিচিত বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ ঘরোয় রেস্টুরেন্ট। সম্প্রতি এর খাবারের মান নিয়ে ফেসবুকে অভিযোগ তোলেন কয়েকজন গ্রাহক। এর উত্তরে ঘরোয়া রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি কাতার প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে যে অনুরোধ রেখেছেন, তা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

বর্তমান সময়ে কাতারের ব্যবসা-বাণিজ্য নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো প্রতিষ্ঠানের ভালো-মন্দ নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা ও পরামর্শ অবশ্যই হতে পারে। গ্রাহকদের মতামতকে আমরা সম্মান করি এবং নিজেদের ভুল-ত্রুটি সংশোধন করে আরও উন্নত হওয়ার চেষ্টা করি।

তবে আমাদের বিনীত প্রশ্ন—কোনো অভিযোগ বা অসন্তোষ থাকলে তা সরাসরি আমাদের জানানোর সুযোগ না দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেস্টুরেন্টের ছবি প্রকাশ করে বিভিন্ন মন্তব্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানির চেষ্টা করা কতটা যুক্তিসংগত?

আমাদের পক্ষ থেকে একটি অনুরোধ—প্রথমে আমাদের জানান, আমাদের বক্তব্য শোনার সুযোগ দিন। আমরা যদি আপনাদের অভিযোগের সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারি কিংবা সমস্যার যথাযথ সমাধান করতে ব্যর্থ হই, তখন আপনারা অবশ্যই আপনাদের বিবেচনায় পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারেন। কিন্তু আমাদের কথা শোনার এবং নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগটুকু কি আমরা পেতে পারি না?

বাংলাদেশি ভাই হিসেবে আমরা আপনাদের কাছ থেকে নিশ্চয়ই এতটুকু সহযোগিতা ও সহমর্মিতা প্রত্যাশা করি। একজন শুভাকাঙ্ক্ষী কিংবা একজন মুমিনের কাছ থেকেও আমরা পারস্পরিক সম্মান, ন্যায়বিচার ও সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার মানসিকতা প্রত্যাশা করি।

একবার কি ভেবে দেখেছেন, কেউ কি নিজের প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি চায়? দীর্ঘ আট বছর ধরে ঘরোয়া রেস্টুরেন্ট কীভাবে টিকে আছে? নিশ্চয়ই এর পেছনে রয়েছে অনেক মানুষের পরিশ্রম, ত্যাগ, স্বপ্ন, কর্মসংস্থান এবং আপনাদেরই ভালোবাসা ও সহযোগিতা।

আপনারাই আমাদের শক্তি, আপনারাই আমাদের পথপ্রদর্শক। আপনাদের অভিযোগ, পরামর্শ ও সমালোচনাকে আমরা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে চাই। ভুল হলে তা শুধরে নিতে চাই, সীমাবদ্ধতা থাকলে তা কাটিয়ে উঠতে চাই। কারণ, আপনাদের সন্তুষ্টি ও বিশ্বাসই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রেরণা।

কিন্তু কিছু ভাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে বিষয়গুলো উপস্থাপন করছেন, তাতে সমস্যার সমাধানের চেয়ে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কী বলা উচিত, তা আমাদের জানা নেই। আমরা শুধু চাই, কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট জানুন, সত্যতা যাচাই করুন এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার সুযোগ দিন।

আমরা গঠনমূলক সমালোচনাকে ভয় পাই না। বরং সমালোচনা হোক সত্যের ভিত্তিতে, আলোচনা হোক সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং প্রতিটি পদক্ষেপে বজায় থাকুক পারস্পরিক সম্মান।

আমাদের উদ্দেশ্য কাউকে ছোট করা নয়, কারও সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করাও নয়। আমরা শুধু চাই, ভুল হলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হোক; অভিযোগ থাকলে তা সমাধানের চেষ্টা করা হোক; আর কোনো প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে মতামত দেওয়ার আগে ন্যায়সংগত অবস্থান গ্রহণ করা হোক।

মনে রাখবেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শুধু একজন মালিকের স্বপ্ন নয়, জড়িয়ে থাকে বহু মানুষের জীবিকা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ।

সবার প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই আমাদের এই বিনীত অনুরোধ। আসুন, আমরা একে অপরের প্রতিপক্ষ না হয়ে সহযোগী হই। ক্ষতির কারণ না হয়ে সংশোধনের পথ দেখাই।

আপনাদের ভালোবাসা, বিশ্বাস, সমালোচনা ও সহযোগিতা নিয়েই ঘরোয়া রেস্টুরেন্ট আরও ভালো হতে চায়, ইনশাআল্লাহ।

ঘরোয়া রেস্টুরেন্ট — আপনাদের ভালোবাসায়, আপনাদের পাশে।

কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ল

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬
কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ল

সৌদি আরবগামী ফ্লাইট পরিচালনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনল কাতার এয়ারওয়েজ।

আঞ্চলিক সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামে ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে কাতারের পতাকাবাহী এই রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা।

একই সাথে জেদ্দা রুটেও ফ্লাইট সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক দাপ্তরিক বার্তায় কাতার এয়ারওয়েজ জানায়, আগামী ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে আসা-যাওয়ার সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল সম্পূর্ণ স্থগিত থাকবে।

এছাড়া জেদ্দা রুটে আগে যেখানে প্রতিদিন ৭টি করে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালিত হতো, তা কমিয়ে প্রতিদিন ৪টি ফ্লাইটে নামিয়ে আনা হয়েছে।

বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের চরম সতর্কবার্তা কাতারের

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যেসব যাত্রীর আগে থেকেই টিকিট বুকিং করা রয়েছে, তাদের ফ্লাইট ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে এয়ারলাইন্সের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সেই সাথে ফ্লাইট চলাচলের বর্তমান সময়সূচি পরিস্থিতি অনুযায়ী যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে বিমান সংস্থাটি।

ফ্লাইট সংক্রান্ত যেকোনো সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য, টিকিট পুনঃনির্ধারণ বা বুকিং আপডেট জানার জন্য যাত্রীদের কাতার এয়ারওয়েজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ অথবা সরাসরি কাস্টমার সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেট ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা, সতর্ক করল কাতার
লুসাইল প্রাসাদে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর সম্মানে কাতারের আমিরের নৈশভোজ

বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের চরম সতর্কবার্তা কাতারের

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬
বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের চরম সতর্কবার্তা কাতারের

চলমান আঞ্চলিক চরম উত্তেজনা এবং নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক মধ্যস্থতা ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার।

মঙ্গলবার দোহায় আয়োজিত 'গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরাম'-এ দেওয়া এক বক্তব্যে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাজেদ বিন মোহাম্মদ আল-আনসারি।

মাজেদ আল-আনসারি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ পর্যায়ভিত্তিক আলোচনা থামেনি।

উভয় পক্ষই কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানে যুক্ত রয়েছে। আলোচনার গোপনীয়তার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই বিষয়ে মিডিয়ায় বিস্তারিত তথ্য না আসাই প্রমাণ করে মধ্যস্থতাকারীরা সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অনিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা পুরো অঞ্চলকে এমন এক ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক শান্তিকে বিঘ্নিত করবে।

সম্প্রতি সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় রিয়াদের পাশে শক্ত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে কাতার। আল-আনসারি স্পষ্ট করে জানান, নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় ভাইপ্রতিম দেশ সৌদি আরবের গৃহীত যেকোনো পদক্ষেপে দোহার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও উল্লেখ করেন, অতীতে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে।

যেকোনো যুদ্ধবিরতি মূলত একটি স্থায়ী গন্তব্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। এ সময় মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সংকটগুলো একসাথে নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতাকে ব্যবহার করার তীব্র সমালোচনাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।

বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেট ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা, সতর্ক করল কাতার

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬
বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেট ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা, সতর্ক করল কাতার

হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্রের তলদেশের ইন্টারনেট ক্যাবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ইরানসহ পুরো অঞ্চলের দেশগুলোতে ইন্টারনেট সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করে সতর্কবার্তা দিয়েছে কাতার।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান তীব্র উত্তেজনার মাঝে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হুসেইন মাহবি জানান, হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে ৭টি প্রধান ইন্টারনেট ক্যাবল গেছে এবং তারা সেখানে ‘নতুন অস্ত্র ও নতুন লক্ষ্যবস্তুর’ দিকে ইঙ্গিত করেন।

ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়িও সতর্ক করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে ডেটা সেন্টার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সমুদ্রের তলদেশের ক্যাবলে হামলা চালানো হতে পারে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে জানানো হয় সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইরানের বাহিনীটি ওই হুমকি দেয় বাহিনীটি।

আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে সাতটি প্রধান ডেটা যোগাযোগ ক্যাবল গেছে।’ তার দাবি, ইন্টারনেট ও বাণিজ্যিক ডেটার সব প্রবাহ এসব ক্যাবলের মধ্য দিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শুধু তাদের জানাতে চাই, নতুন লক্ষ্যবস্তু প্রকাশ করা হবে। নতুন অস্ত্রেরও আত্মপ্রকাশ ঘটবে।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, তেহরানের স্যাক্রেড ডিফেন্স জাদুঘরে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মোহেব্বি।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার অবশিষ্টাংশ বলে তিনি যাকে উল্লেখ করেছেন, সেগুলোকে অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করার অঙ্গীকার করেছেন।

এর আগে মার্চের শুরুর দিকে ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও বাহরাইনে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অবকাঠামোর সরাসরি ক্ষতি, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন এবং ক্লাউড সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব হামলার পরই নতুন হুমকি এলো।

টেলিযোগাযোগ খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে ডেটা পরিবহনের ৯০ শতাংশের বেশি সক্ষমতা লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ফাইবার-অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

মঙ্গলবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইব্রাহিম আল-হাশমি বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলো সেচ, লবণ উৎপাদন ও মৎস্য আহরণের জন্য হরমুজ প্রণালির পানির ওপর নির্ভরশীল। তিনি সতর্ক করে বলেন, ক্ষয়ক্ষতি হলে পানির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

কাতার বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্রের তলদেশে থাকা ইন্টারনেট ক্যাবল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ইরানসহ পুরো অঞ্চলের দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে জলপথটিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা ও হুমকি অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

মঙ্গলবারের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক ইব্রাহিম আল-হাশমি বলেন, সমুদ্রের তলদেশে থাকা ক্যাবল সংযোগে কোনো বিঘ্ন ঘটলে ইরানসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে।

লুসাইল প্রাসাদে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর সম্মানে কাতারের আমিরের নৈশভোজ

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬
লুসাইল প্রাসাদে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর সম্মানে কাতারের আমিরের নৈশভোজ

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ঐতিহাসিক কাতার সফর উপলক্ষে দোহার লুসাইল প্রাসাদে এক রাজকীয় নৈশভোজের আয়োজন করেছেন কাতারের আমির মহামান্য শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। নৈশভোজে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ও তাঁর সাথে থাকা সফরসঙ্গী উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে দেওয়া স্বাগত বক্তব্যে ফরাসি প্রেসিডেন্টকে উষ্ণ অভিবাদন জানিয়ে কাতারের আমির দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও যৌথ মূলবোধের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা গভীর বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফর দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্কের ক্ষেত্রগুলোকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

প্রত্যুত্তরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ কাতারের আমিরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। দুই দেশের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের প্রশংসা করে তিনি প্রযুক্তি, জ্বালানি ও শিল্প খাতে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

একই সাথে ভবিষ্যৎমুখী সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে যৌথ বিনিয়োগের লক্ষ্যে 'ওয়ান প্ল্যানেট' সাভরেন ওয়েলথ ফান্ডস উদ্যোগের আওতায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন ম্যাক্রোঁ।

বর্ণাঢ্য এই নৈশভোজে কাতারের আমিরের সহধর্মিণী হার হাইনেস শেখা জওয়াহের বিনতে হামাদ বিন সুহাইম আল থানি উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আমিরের ব্যক্তিগত প্রতিনিধি শেখ জসিম বিন হামাদ আল থানি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন খলিফা আল থানি, শেখ মোহাম্মদ বিন খলিফা আল থানি, শেখ জসিম বিন খলিফা আল থানি এবং প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন জাসিম আল থানি।

নৈশভোজে অন্যান্যের মধ্যে শূরা কাউন্সিলের স্পিকার হাসান বিন আবদুল্লাহ আল-গানিমসহ কাতারের রাজপরিবারের সদস্য, সরকারের মন্ত্রী, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।