২০ অক্টোবর ২০২৬

প্রবাসীদের জন্য পূর্বাচলে ‘প্রবাসী সিটি’ ও গুলশানে বিশেষায়িত হাসপাতাল করার বড় পরিকল্পনা!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ১১, ২০২৬
প্রবাসীদের জন্য পূর্বাচলে ‘প্রবাসী সিটি’ ও গুলশানে বিশেষায়িত হাসপাতাল করার বড় পরিকল্পনা!


প্রবাসী কর্মীদের হয়রানি, পাসপোর্ট জটিলতা, দালালচক্র, ভিসা প্রতারণা, দূতাবাসে সেবা সংকট, লাশ দেশে আনা, পুনর্বাসন ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি প্রশ্নে জাতীয় সংসদে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।

এ সময় প্রবাসীদের সমস্যা সরেজমিনে দেখতে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেন বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

তার এই প্রস্তাব নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখতে পারে বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ অনুযায়ী প্রবাসী কর্মীদের নিয়ে সাধারণ আলোচনার প্রস্তাব তোলেন শফিকুর রহমান।

স্পিকার আলোচনার জন্য দেড় ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করেন।

সে আলোচনায় অংশ নিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, “যেসব দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের সমস্যা বেশি, সেখানে এই টাস্কফোর্স গিয়ে প্রবাসী কর্মী ও দূতাবাস কর্মকর্তাদের বক্তব্য শুনতে পারে। আমরা যদি একটা ‘টোটাল প্যাকেজের’ দিকে যাই, আমি রেমিটেন্স বাড়ার উদ্দেশ্যে বলছি না; মানবতাকে সম্মান করার উদ্দেশ্যে বলছি।

“প্রবাসীদের আমরা টাকার মেশিন হিসেবে না দেখি। আমরা যেন আমাদের প্রাণ হিসেবে, কলিজা হিসেবে দেখি।”

‘শ্রমিক রপ্তানি’ ও ‘মানুষ রপ্তানি’ ধরনের পরিভাষা নিয়েও আপত্তি তোলেন তিনি। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “পণ্য রপ্তানি হয়, মানুষ রপ্তানি না হোক। এটাকে একটা সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে যাই।”

বিদেশে থাকা বাংলাদেশি গবেষক, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও পেশাজীবীদের দেশে ফিরিয়ে আনার পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “তারা টাকা চান না; তারা সম্মান ও কাজ করার পরিবেশ চান। ফাইন্যান্সিয়াল রেমিটেন্স তো অবশ্যই লাগবে। কিন্তু তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় ইন্টেলেকচুয়াল রেমিটেন্স।”

প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট করতে গিয়ে এমআরপি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য মিল না থাকার কারণে অনেকেই সমস্যায় পড়ছেন দাবি করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, “নামের বানান, বয়সের সামান্য অমিল বা তথ্যগত ত্রুটির কারণে অনেকের ই-পাসপোর্ট হচ্ছে না। এতে বহু প্রবাসী বিদেশে অবৈধ হয়ে পড়ছেন বা পড়ার ঝুঁকিতে আছেন। এই সংখ্যা শত নয়, হাজার হাজার।”

বিদেশ থেকেই এনআইডি ও পাসপোর্টের তথ্যগত জটিলতা সহজে নিরসনের ব্যবস্থা করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

প্রবাসে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশ দ্রুত দেশে আনার দাবিও তোলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।

একই বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসুদ বলেন, প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখলেও তারা পদে পদে হয়রানির শিকার হন। তিনি অভিযোগ করেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের লাগেজ কেটে মালামাল চুরি, ভিসা প্রতারণা, টিকিট জালিয়াতি, রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণা ও দূতাবাসে সেবা না পাওয়ার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে।

ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সি ও বিদেশে ভুয়া কোম্পানির নামে শ্রমিক পাঠানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসবের সঙ্গে দূতাবাস, মন্ত্রণালয় ও বিদেশি সিন্ডিকেটের যোগসাজশ থাকে। আহত হয়ে দেশে ফেরা প্রবাসী এবং প্রবাসে মারা যাওয়া কর্মীদের পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য কর্মপরিকল্পনা তৈরির দাবি তোলেন তিনি।

নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য বরকতউল্লাহ বুলু হজের সময় সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীদের দুরবস্থার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “হারাম শরিফ ও মিনায় অনেক বাংলাদেশি অত্যন্ত কম মজুরিতে পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন। বাংলাদেশিরা ৪০০ রিয়াল বেতন পায়। পাকিস্তানি, নেপালি, ভারতীয়রা পায় দুই-তিন হাজার রিয়াল।” মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুললে যেন আগের মতো সিন্ডিকেট তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেন তিনি। দূতাবাসে পাসপোর্ট নবায়নে ছয় থেকে নয় মাস সময় লাগার অভিযোগ তোলার পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর দাবিও জানান বুলু।

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, প্রবাসী শ্রমবাজারের সমস্যা নতুন নয়; এর পেছনে দীর্ঘদিনের আদম ব্যবসায়ী ‘সিন্ডিকেট’ কাজ করছে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হলেও মানব পাচার, দালালচক্র ও ভিসা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ইউরোপগামী অনিরাপদ রুটে অনেক বাংলাদেশির মৃত্যু হলেও মানব পাচারকারীদের বিচার হয় না বলে অভিযোগ করেন তিনি। “মানব পাচারের যে হত্যা হয়, তাদের বিচারও দ্রুত করতে হবে।”

পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের অনেকেই কম মজুরি, অস্বাস্থ্যকর আবাসন ও পাসপোর্ট জটিলতায় ভুগছেন। তিনি বলেন, পাসপোর্ট নবায়নে সাত-আট মাস লেগে যায়। এতে অনেকের ভিসা শেষ হয়ে তারা বিদেশে অবৈধ হয়ে পড়েন। প্রতিটি মিশনে প্রবাসী শ্রমিকদের আইনি সহায়তার জন্য আইনজীবী প্যানেল রাখার প্রস্তাব দেন তিনি।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, প্রবাসীদের শুধু ‘রেমিটেন্স যোদ্ধা’ হিসেবে নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের বড় অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে। এ সময় তিনি রেমিটেন্স আসার তথ্যও তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কার্ডে ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত থাকবে। প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠাতে পারবেন এবং দেশে থাকা পরিবারের সদস্য নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সেই টাকা ব্যবহার করতে পারবেন। প্রবাসীদের আবাসন সুবিধা ও বিনিয়োগ আকর্ষণে ‘প্রবাসী সিটি’ গড়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

প্রথমে পূর্বাচলে, পরে জেলা পর্যায়ে এ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। গুলশানে ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের জায়গায় প্রবাসীদের জন্য বিশেষায়িত আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

নুরুল হক নুর বিভিন্ন সময় প্রবাসী কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের কয়েক ক্ষেত্রে সহায়তার হিসাবও তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৩ হাজার রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স আছে; যাচাই-বাছাই করলে ৪০০ থেকে ৫০০টির বেশি টিকবে না বলে তার ধারণা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, প্রবাসীদের সমস্যা জাতীয় সমস্যা, এটি সরকার ও বিরোধী দল মিলে সমাধান করতে হবে। তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসন, বিশেষ করে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর ঘটনা রোধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমবারের মতো মাইগ্রেশন উইং খোলা হয়েছে। অভিবাসন-সংক্রান্ত সমস্যা, বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিদের ফেরত আনা, বিদেশে আটক নাগরিকদের সহায়তা এবং শ্রমবাজার-সংক্রান্ত কূটনৈতিক তৎপরতা সমন্বয়ে কাজ করবে তারা।

এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম।

এরপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নিরাপদ, আধুনিক ও সহজলভ্য পাসপোর্ট সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। বিশ্বের ৭৩টি বাংলাদেশ মিশনের মধ্যে ৭১টিতে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু রয়েছে।

গত ছয় মাসে বিদেশি মিশনগুলো থেকে ইস্যু করা পাসপোর্টের প্রায় ৮৬ শতাংশ ই-পাসপোর্ট এবং ১৪ শতাংশ এমআরপি পাসপোর্ট ছিল। তিনি বলেন, বিদেশে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক বাংলাদেশিরা এনআইডির পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করেও পাসপোর্টের আবেদন করতে পারবেন। তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হলে জন্মনিবন্ধন সংশোধনের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেন, বিদেশি মিশনগুলোতে পাসপোর্ট সেবা পেতে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। ‘মাল্টিপল অ্যাকটিভ বায়োমেট্রিক’, তথ্যের অমিল, হারানো পাসপোর্ট, পূর্ববর্তী পাসপোর্ট যাচাই বা বিশেষ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আবেদন নিষ্পত্তিতে দেরি হচ্ছে। তিনি বলেন, অনেক সময় প্রয়োজনীয় নথি যথাসময়ে আপলোড না করা, সমস্যার প্রকৃতি না বোঝা বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় না হওয়ায় প্রবাসীদের দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়।

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাসপোর্ট সেবায় ভোগান্তির কথাও তুলে ধরেন তিনি।

টাস্কফোর্স হতে পারে

প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাবের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখতে পারে।

তিনি বলেন, শ্রমবাজারের সমস্যা, রিক্রুটিং এজেন্সি, পাসপোর্ট, বিমানবন্দর, দূতাবাস সেবা—এসব বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতেও আলোচনা হতে পারে।

প্রবাসীদের বিমানবন্দরসহ সব জায়গায় যথাযথ সম্মান দিতে স্বরাষ্ট্র, প্রবাসী কল্যাণ, পররাষ্ট্র ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় মিলে একটি ওয়ার্কিং কমিটি করতে পারে বলেও মত দেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা। এর আগে শ্রমবাজার নিয়ে দুই মন্ত্রী ও উপদেষ্টাকে মালয়েশিয়া পাঠানোর বিষয়টি তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগের সরকারের সময়ে অনেক ক্ষেত্রে মানব পাচার, অর্থ পাচার ও শ্রমিক প্রতারণা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত ১০০ জনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

ভোট হয়নি

আলোচনা শেষে স্পিকার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা সাধারণ আলোচনা চেয়েছেন, প্রস্তাবে সংসদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয় না থাকায় তা ভোটে দেওয়া হচ্ছে না।

দীর্ঘ আলোচনায় সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার পক্ষে একমত হন। বিভিন্ন বক্তা সংসদীয় টাস্কফোর্স, প্রবাসী কার্ড, দূতাবাস সংস্কার, পাসপোর্ট সেবা সহজীকরণ এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জবাবদিহি বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। এরপর আলোচনা সমাপ্ত ঘোষণা করেন স্পিকার।

রাজমিস্ত্রির হাত ধরে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
রাজমিস্ত্রির হাত ধরে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

জীবিকার তাগিদে সুদূর দুবাইয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন। স্বপ্ন ছিল, প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়বেন, স্ত্রীকে নিয়ে সুখের সংসার সাজাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের সংসার ঘিরেই এবার দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কামুল্ল্যা গ্রামের প্রবাসী শাকিল হোসেন ওরফে কাবিলের স্ত্রী লাভলী খাতুনের বিরুদ্ধে দুই সন্তানকে বাড়িতে রেখে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ অক্টোবর গভীর রাতে একই গ্রামের আজিজুলের সঙ্গে চলে যান লাভলী খাতুন। এ সময় বাড়ি থেকে নগদ পাঁচ লাখ টাকা, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সম্পদ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে শাকিল হোসেন ওরফে কাবিলের সঙ্গে লাভলী খাতুনের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে রয়েছে দুই ছেলে সন্তান।

পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ও সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে কাজ করছেন কাবিল। পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রবাসে থেকে কষ্টার্জিত অর্থ পাঠিয়ে সংসার পরিচালনা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক এ ঘটনায় পরিবারটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, একই গ্রামের ইরফান হোসেনের ছেলে আজিজুল পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।

দীর্ঘদিন ধরে কাবিলের বাড়িতে নির্মাণকাজ করার সুবাদে লাভলী খাতুনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। তাঁদের আরও দাবি, বিষয়টি জানার পর কাবিল ও তাঁর দুই সন্তান লাভলী খাতুনকে ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসার অনুরোধ করেছিলেন।

কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ অক্টোবর গভীর রাতে দুই সন্তানকে বাড়িতে রেখে লাভলী খাতুন আজিজুলের সঙ্গে চলে যান।

এ সময় নগদ পাঁচ লাখ টাকা, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার ও বাড়িতে থাকা মূল্যবান সম্পদ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে, আজিজুলের সংসারেও এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে আজিজুলের স্ত্রীর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি, তিনি গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি।

ঘটনার পর দুই সন্তানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে পারিবারিক অনিশ্চয়তা। কাবিলের ছেলেরা জানান তারা বর্তমানে মায়ের কাছে ফিরতে চায় না। তাদের চাওয়া, বাবার কষ্টার্জিত টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখা কাবিলের সংসারে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

এ ঘটনায় নন্দীগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে।

বেড়া দিয়ে প্রবাসী স্ত্রীর বাড়িকে ‘কবরস্থান ঘোষণা’

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
বেড়া দিয়ে প্রবাসী স্ত্রীর বাড়িকে ‘কবরস্থান ঘোষণা’

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের গাজিরগাছখোলা গ্রামে সৌদি আরবপ্রবাসী মামুন মোল্লার বসতবাড়িতে প্রবেশের পথে বাঁশের বেড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত নেতা ও ছেংগারচর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী আবদুল হাই শিকদারের বিরুদ্ধে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনার প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বাড়িতে যাতায়াতের পথ উন্মুক্ত রাখা এবং স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, বাড়ির প্রবেশমুখে বাঁশের বেড়া দেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া সন্তানদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

প্রবাসী মামুন মোল্লার স্ত্রী আঁখি আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে থাকেন। অনেক কষ্টে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তারা বাড়িটি নির্মাণ করেছেন। বাড়িতে প্রবেশের জন্য গেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার সময় প্রবেশমুখে বাঁশের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে পরিবারের সদস্যরা বিপাকে পড়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ নেই। বেড়া দেওয়ার কারণে ছেলে সাইকেল নিয়ে বের হতে পারছে না। স্কুলে যেতে তাকে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দিতে হচ্ছে।

মামুন মোল্লার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে আশরাফুল জানায়, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বাড়ির সামনে বেড়া দেওয়ায় সাইকেল নিয়ে বের হতে পারছে না সে। স্কুল ও কোচিংয়ে যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে তাকে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে স্কুলে যেতে হচ্ছে।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে আবদুল হাই শিকদার বলেন, জমি আমার। এখানে কবরস্থান রয়েছে। কবরস্থানের নিরাপত্তার জন্য বেড়া দিয়েছি।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার (ওসি) মানস বড়ুয়া জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখা হবে। জমির মালিকানা ও চলাচলের পথ নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে আইনিভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কেউ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটালে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্যারিসে লুটপাটে বাংলাদেশি আট দোকান ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
প্যারিসে লুটপাটে বাংলাদেশি আট দোকান ক্ষতিগ্রস্ত

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘটিত লুটপাটে বাংলাদেশি মালিকানাধীন অন্তত আটটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই মোবাইল ফোন বিক্রি ও অর্থ স্থানান্তরের (মানি ট্রান্সফার) সেবা দিতো। প্রাথমিক হিসাবে, প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৭ লাখ ইউরো ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো জিএসআর ইনফোরমেটিক, থ্রি-জি ইনফরমেটিক, প্যারিস টেলিকম, আয়মান সার্ভিস, থ্রি-ডি ইনফোরমেটিক, ফোন স্টোর, বদি টেলিকম ও রাফিদ ইলেকট্রনিকস। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এসব দোকান থেকে মোবাইল ফোন, অন্যান্য পণ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ লুট করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, দোকান বন্ধ রাখা এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাহারার ব্যবস্থা করেও লুটপাট ঠেকানো সম্ভব হয়নি। জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশকে ফোন করেও তাৎক্ষণিক সহায়তা পাননি বলে দাবি তাঁদের। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দুই দোকানে ক্ষতি ১ লাখ ৮০ হাজার ইউরো

ক্ষতিগ্রস্ত রাফিদ ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী রবিউল হাসান জানান, তাঁর দোকানে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইউরো মূল্যের পণ্যসামগ্রী ছিল। দোকান তালাবদ্ধ থাকা অবস্থায় সেগুলো লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রবিউল হাসান বলেন, আমার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইউরোর পণ্যসামগ্রী দোকানে ছিলো। এখন ব্যবসা আবার শুরু করার মতো সম্বল নেই।

ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিনের ফোন স্টোর ও বদি টেলিকমেও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, দুই প্রতিষ্ঠানে মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ইউরোর ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে একটি দোকান মাত্র তিন মাস আগে চালু করেছিলেন তিনি।

আজিম উদ্দিন বলেন, দুটি দোকান থেকেই পণ্যসামগ্রী লুট করা হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানে রিয়া মানি ট্রান্সফারের কাউন্টারে প্রায় ৩০ হাজার ইউরো নগদ অর্থ ছিলো বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ঘটনার সময় পুলিশকে একাধিকবার ফোন করেও সহায়তা পাননি।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

প্যারিসের সামাজিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আইসার সভাপতি ওবায়দুল্লাহ কয়েছের অভিযোগ, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বাংলাদেশি মালিকানাধীন মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফারের দোকানগুলোতে লুটপাট চালিয়েছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রবাসী ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তার আশঙ্কা, সহিংসতার ঘটনাগুলো ফ্রান্সে অভিবাসনবিরোধী রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিলো কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফার ব্যবসায়ী মুহিবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের প্রতিষ্ঠান রক্ষায় ব্যক্তিগতভাবে পাহারার ব্যবস্থা করেছিলেন। তারপরও বিভিন্ন স্থানে লুটপাট ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে।

ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে তাদের বিনিয়োগ, জীবিকা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা

প্রতিবেদনে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়। শ্রমিক ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে মজুরি, পেনশন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশজুড়ে ১১০টি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। আয়োজক সংগঠনগুলোর দাবি ছিল, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। বিক্ষোভের বেশির ভাগ শান্তিপূর্ণ থাকলেও প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে।

অভিমান করে ছাদ থেকে ঝাঁপ দিলেন প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
অভিমান করে ছাদ থেকে ঝাঁপ দিলেন প্রবাসীর স্ত্রী

মাদারীপুরের কালকিনিতে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে মিম আক্তার (১৮) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রী আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।

রোববার ভোরে উপজেলার মিয়ারহাট বাজারের আনসার উদ্দিন মৃধার বাড়ির তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে ওই প্রবাসীর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত গৃহবধূ মিম আক্তার খুনেরচর গ্রামের প্রবাসী রাশেদ সরদারের স্ত্রী। ভুক্তভোগীর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীর স্ত্রী মিম আক্তার অল্প কিছুদিন ধরে তার বাবা-মাকে নিয়ে মিয়ারহাট বাজারের আনসার উদ্দিন মৃধার বাড়ির দুইতলায় ভাড়া থাকতেন।

বেড়া দিয়ে প্রবাসী স্ত্রীর বাড়িকে ‘কবরস্থান ঘোষণা’

কিন্তু পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে তার মায়ের সঙ্গে অভিমান করে ওই ভাড়া বাড়ির তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কালকিনি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মিম আক্তারের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। নিহতের বাবা আলামিন খান বলেন, কী কারণে আমার মেয়ে মারা গেছে- তা এখন বলতে পারছি না।

এ ব্যাপারে কালকিনি থানার ওসি জহিরুল আলম জানান, খবর পেয়ে আমি পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছে। কী কারণে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন- তা সঠিকভাবে বলতে পারব না। আমরা জেনেছি মিম আক্তারের অল্প কিছুদিন আগে বিয়ে হয়েছে। স্বামী বিদেশ আছেন।

ভিডিওতে প্রেমিককে দায়ী করে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা

রিয়াদে কাভার্ড ভ্যানের আগুনে পুড়ে প্রাণ হারালেন প্রবাসী

কিং খালিদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রবাসীর মৃত্যু: দেশে শোকের ছায়া

রিয়াদে কাভার্ড ভ্যানের আগুনে পুড়ে প্রাণ হারালেন প্রবাসী

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
রিয়াদে কাভার্ড ভ্যানের আগুনে পুড়ে প্রাণ হারালেন প্রবাসী

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কাভার্ড ভ্যানে আগুনে পুড়ে মো. শামীম রেজা নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ প্রবাসজীবনের ইতি টেনে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।

কয়েক দিন আগেই নিয়েছিলেন ফাইনাল এক্সিট ভিসা। তবে দেশে ফেরার আগেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এই প্রবাসী।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রিয়াদের ২২ নম্বর এক্সিটের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শামীম রেজা সিরাজগঞ্জ জেলার চক খাদুলী গ্রামের মো. নিজাম উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে। তার ছোট ভাই নুরুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রিয়াদের ২২ নম্বর এক্সিটের মাঝামাঝি এলাকায় শামীম রেজার কাভার্ড ভ্যানে আগুন ধরে যায়।

এতে আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় সিমুচি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর স্বপ্ন দেখছিলেন শামীম রেজা।

সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি ফাইনাল এক্সিটও নিয়েছিলেন। আগামী ১২ ডিসেম্বর তার ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু দেশে ফেরার আগেই তার জীবনের এমন করুণ পরিণতি পরিবার ও স্বজনদের শোকস্তব্ধ করে দিয়েছে।

এদিকে, সৌদি আরবে অবস্থানরত নিহতের ছোট ভাই নুরুল ইসলাম শামীম রেজার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

কী কারণে কাভার্ড ভ্যানে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।