২০ অক্টোবর ২০২৬

প্রথমবার বিমান ভ্রমণ? স্বস্তিদায়ক যাত্রার এ টু জেড গাইডলাইন

প্রকাশ: বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬
প্রথমবার বিমান ভ্রমণ? স্বস্তিদায়ক যাত্রার এ টু জেড গাইডলাইন

প্রথমবার বিমানে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই রোমাঞ্চকর। তবে একইসঙ্গে কিছুটা দুশ্চিন্তাও কাজ করতে পারে। বিমানবন্দরে কী করতে হবে, কোথায় যেতে হবে বা কোন ধাপে কী ঘটবে—এসব নিয়ে প্রশ্ন থাকাটা স্বাভাবিক। আগে থেকে কিছু বিষয় জানা থাকলে পুরো যাত্রাই অনেক সহজ মনে হতে পারে।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

কী নেওয়া যাবে, কোথায় নেওয়া যাবে জেনে নিন
বিমান যাত্রার আগে কোন জিনিস কেবিন ব্যাগে নেওয়া যাবে, কোনটি চেকড লাগেজে রাখতে হবে এবং কোন জিনিস বহন করা যাবে না, সে সম্পর্কে ধারণা থাকা ভালো। অনেক সময় পাওয়ার ব্যাংক, লিথিয়াম ব্যাটারিযুক্ত যন্ত্র, তরল পদার্থ বা ধারালো কিছু জিনিস নিয়ে যাত্রীরা বিভ্রান্তিতে পড়েন। বিমানবন্দরে গিয়ে এসব কারণে ব্যাগ খুলে জিনিসপত্র সরানোর প্রয়োজনও হতে পারে। তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের নিয়ম দেখে নেওয়া ভালো। এতে নিরাপত্তা তল্লাশি ও চেক-ইনের সময় ঝামেলা এড়ানো সহজ হয়।

ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন

সময় হাতে নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছান
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সাধারণত নির্ধারিত সময়ের অন্তত তিন ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ক্ষেত্রে দুই ঘণ্টা আগে পৌঁছানো যথেষ্ট হতে পারে। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর চেক-ইন, নিরাপত্তা তল্লাশি ও গেট খুঁজে বের করার জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়। তাই শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়া এড়ানোই ভালো।

পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতের কাছে রাখুন
বিমানবন্দরে বিভিন্ন ধাপে পাসপোর্ট, বোর্ডিং পাস বা ভিসাসংক্রান্ত নথি দেখানোর প্রয়োজন হতে পারে। তাই এগুলো এমন জায়গায় রাখুন, যেন সহজেই বের করা যায়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র খুঁজতে গিয়ে বারবার ব্যাগ খুলতে হলে অযথা ঝামেলা বাড়তে পারে।


চেক-ইন
চেক-ইনের সময় ফ্লাইট কর্তৃপক্ষ আপনার ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে এবং বোর্ডিং পাস দেয়। যদি চেকড লাগেজ থাকে, সেটিও এই ধাপে জমা দিতে হয়। অনেক এয়ারলাইন অনলাইনে চেক-ইনের সুযোগ দেয়। তবে প্রথমবার ভ্রমণ করলে কাউন্টারে গিয়ে চেক-ইন করাই অনেকের কাছে সহজ মনে হয়।

লাগেজের ওজন আগে থেকেই মেপে নেওয়া ভালো। নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ওজন হলে বিমানবন্দরে গিয়ে অতিরিক্ত ফি দিতে হতে পারে বা ব্যাগ থেকে কিছু জিনিস বের করার ঝামেলায় পড়তে হতে পারে। তাই বাসা থেকেই ওজন যাচাই করে নেওয়া সুবিধাজনক। চেকড লাগেজের পাশাপাশি ব্যাকপ্যাক বা কেবিন ব্যাগের ওজনসীমাও আগে থেকে জেনে সে অনুযায়ী ওজন মেপে নেওয়া ভালো। এতে বিমানবন্দরে গিয়ে অতিরিক্ত ওজন নিয়ে ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কা কমে।

নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য প্রস্তুত থাকুন
চেক-ইনের পর সাধারণত নিরাপত্তা তল্লাশির ধাপ আসে। এ সময় ব্যাগ স্ক্যান করা হয় এবং যাত্রীদেরও নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়। নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশনা অনুসরণ করলেই সাধারণত কোনো সমস্যা হয় না।

ইমিগ্রেশন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশনের একটি ধাপ থাকে। এ সময় একজন কর্মকর্তা আপনার পাসপোর্ট, ভিসা ও ভ্রমণসংক্রান্ত কিছু তথ্য যাচাই করতে পারেন। প্রথমবার ভ্রমণকারীদের অনেকেই এই ধাপটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে থাকলে এবং প্রশ্নের উত্তর স্পষ্টভাবে দিতে পারলে সাধারণত উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ থাকে না। ভ্রমণের উদ্দেশ্য, কোথায় যাচ্ছেন বা কত দিন থাকবেন—এ ধরনের কিছু সাধারণ প্রশ্ন করা হতে পারে।

গেট নম্বর দেখে নিন
বোর্ডিং পাসে সাধারণত গেট নম্বর উল্লেখ থাকে। তবে কখনো কখনো গেট পরিবর্তনও হতে পারে। তাই বিমানবন্দরের ডিসপ্লে বোর্ডে নিজের ফ্লাইটের তথ্য মাঝে মাঝে দেখে নেওয়া ভালো।

বোর্ডিং শুরু হলেই দৌড়ানোর প্রয়োজন নেই
অনেক নতুন যাত্রী বোর্ডিং ঘোষণা শোনামাত্র উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কিন্তু যাত্রীদের ধাপে ধাপে ফ্লাইটে ওঠানো হয়। আপনার গ্রুপ বা সারির ডাক আসলে স্বাভাবিকভাবেই লাইনে দাঁড়াতে পারেন।

কেবিন ব্যাগ কোথায় রাখবেন
ছোট ব্যাগ বা ব্যাকপ্যাক সামনের সিটের নিচে রাখা যায়। বড় কেবিন ব্যাগ ওভারহেড বিনে রাখতে হয়। ব্যাগ তুলতে সমস্যা হলে কেবিন ক্রু বা অন্য কোনো যাত্রীর সাহায্য চাইতে দ্বিধা করবেন না।

সিটবেল্ট বাঁধতে ভুলবেন না
উড়োজাহাজে বসার পর সিটবেল্ট বাঁধার নির্দেশনা দেওয়া হয়। উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় এটি বাধ্যতামূলক। সিটবেল্ট বাঁধার সংকেত বন্ধ থাকলেও অনেক নিয়মিত যাত্রী বসে থাকার সময় সিটবেল্ট আলগাভাবে বেঁধে রাখেন।

টার্বুলেন্স স্বাভাবিক বিষয়
প্রথমবার ভ্রমণকারীদের অনেকের কাছেই টার্বুলেন্স ভীতিকর মনে হতে পারে। এতে উড়োজাহাজ কিছুটা কাঁপতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক এবং পাইলট ও কেবিন ক্রুরা এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষিত থাকেন। টার্বুলেন্সের সময় শান্ত থাকা এবং সিটবেল্ট বাঁধা রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

দেশ-বিদেশের খবর হোয়াটসঅ্যাপে পেতে জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে

প্রয়োজন হলে কেবিন ক্রুদের সাহায্য চাইতে পারেন
ফ্লাইটে ছোটখাটো অনেক বিষয়েই সাহায্যের প্রয়োজন হতে পারে। পানির প্রয়োজন, আসনসংক্রান্ত কোনো সমস্যা বা অন্য কোনো প্রশ্ন থাকলে কেবিন ক্রুদের জানাতে পারেন। যাত্রীদের সহায়তা করা তাদের দায়িত্বের অংশ। তাই প্রশ্ন করতে সংকোচ বোধ করার প্রয়োজন নেই।

ট্রানজিট থাকলে নির্দেশনা অনুসরণ করুন
একটি ফ্লাইট থেকে নেমে অন্য ফ্লাইট ধরতে হলে বিমানবন্দরের নির্দেশনা বোর্ড অনুসরণ করুন। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিট যাত্রীদের জন্য পরিষ্কার নির্দেশনা দেওয়া থাকে। কোনো কিছু বুঝতে সমস্যা হলে বিমানবন্দর কর্মীদের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

লাগেজ সংগ্রহের জায়গা আগে দেখে নিন
গন্তব্যে পৌঁছানোর পর যাদের চেকড লাগেজ আছে, তাদের ব্যাগেজ ক্লেইম বা লাগেজ সংগ্রহের নির্দিষ্ট স্থানে যেতে হয়। ডিসপ্লে বোর্ডে সাধারণত কোন বেল্টে কোন ফ্লাইটের লাগেজ আসবে, তা উল্লেখ থাকে।

প্রথম উড়োজাহাজ যাত্রা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে একবার পুরো প্রক্রিয়াটি পার হয়ে গেলে দেখা যায়, বিষয়টি যতটা জটিল মনে হয়েছিল, বাস্তবে ততটা নয়। আগে থেকে কিছু ধারণা থাকলে প্রথম ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

রাজমিস্ত্রির হাত ধরে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
রাজমিস্ত্রির হাত ধরে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

জীবিকার তাগিদে সুদূর দুবাইয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন। স্বপ্ন ছিল, প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়বেন, স্ত্রীকে নিয়ে সুখের সংসার সাজাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের সংসার ঘিরেই এবার দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কামুল্ল্যা গ্রামের প্রবাসী শাকিল হোসেন ওরফে কাবিলের স্ত্রী লাভলী খাতুনের বিরুদ্ধে দুই সন্তানকে বাড়িতে রেখে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ অক্টোবর গভীর রাতে একই গ্রামের আজিজুলের সঙ্গে চলে যান লাভলী খাতুন। এ সময় বাড়ি থেকে নগদ পাঁচ লাখ টাকা, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সম্পদ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে শাকিল হোসেন ওরফে কাবিলের সঙ্গে লাভলী খাতুনের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে রয়েছে দুই ছেলে সন্তান।

পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ও সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে কাজ করছেন কাবিল। পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রবাসে থেকে কষ্টার্জিত অর্থ পাঠিয়ে সংসার পরিচালনা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক এ ঘটনায় পরিবারটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, একই গ্রামের ইরফান হোসেনের ছেলে আজিজুল পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।

দীর্ঘদিন ধরে কাবিলের বাড়িতে নির্মাণকাজ করার সুবাদে লাভলী খাতুনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। তাঁদের আরও দাবি, বিষয়টি জানার পর কাবিল ও তাঁর দুই সন্তান লাভলী খাতুনকে ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসার অনুরোধ করেছিলেন।

কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ অক্টোবর গভীর রাতে দুই সন্তানকে বাড়িতে রেখে লাভলী খাতুন আজিজুলের সঙ্গে চলে যান।

এ সময় নগদ পাঁচ লাখ টাকা, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার ও বাড়িতে থাকা মূল্যবান সম্পদ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে, আজিজুলের সংসারেও এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে আজিজুলের স্ত্রীর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি, তিনি গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি।

ঘটনার পর দুই সন্তানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে পারিবারিক অনিশ্চয়তা। কাবিলের ছেলেরা জানান তারা বর্তমানে মায়ের কাছে ফিরতে চায় না। তাদের চাওয়া, বাবার কষ্টার্জিত টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখা কাবিলের সংসারে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

এ ঘটনায় নন্দীগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে।

বেড়া দিয়ে প্রবাসী স্ত্রীর বাড়িকে ‘কবরস্থান ঘোষণা’

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
বেড়া দিয়ে প্রবাসী স্ত্রীর বাড়িকে ‘কবরস্থান ঘোষণা’

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের গাজিরগাছখোলা গ্রামে সৌদি আরবপ্রবাসী মামুন মোল্লার বসতবাড়িতে প্রবেশের পথে বাঁশের বেড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত নেতা ও ছেংগারচর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী আবদুল হাই শিকদারের বিরুদ্ধে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনার প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বাড়িতে যাতায়াতের পথ উন্মুক্ত রাখা এবং স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, বাড়ির প্রবেশমুখে বাঁশের বেড়া দেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া সন্তানদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

প্রবাসী মামুন মোল্লার স্ত্রী আঁখি আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে থাকেন। অনেক কষ্টে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তারা বাড়িটি নির্মাণ করেছেন। বাড়িতে প্রবেশের জন্য গেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার সময় প্রবেশমুখে বাঁশের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে পরিবারের সদস্যরা বিপাকে পড়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ নেই। বেড়া দেওয়ার কারণে ছেলে সাইকেল নিয়ে বের হতে পারছে না। স্কুলে যেতে তাকে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দিতে হচ্ছে।

মামুন মোল্লার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে আশরাফুল জানায়, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বাড়ির সামনে বেড়া দেওয়ায় সাইকেল নিয়ে বের হতে পারছে না সে। স্কুল ও কোচিংয়ে যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে তাকে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে স্কুলে যেতে হচ্ছে।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে আবদুল হাই শিকদার বলেন, জমি আমার। এখানে কবরস্থান রয়েছে। কবরস্থানের নিরাপত্তার জন্য বেড়া দিয়েছি।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার (ওসি) মানস বড়ুয়া জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখা হবে। জমির মালিকানা ও চলাচলের পথ নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে আইনিভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কেউ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটালে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্যারিসে লুটপাটে বাংলাদেশি আট দোকান ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
প্যারিসে লুটপাটে বাংলাদেশি আট দোকান ক্ষতিগ্রস্ত

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘটিত লুটপাটে বাংলাদেশি মালিকানাধীন অন্তত আটটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই মোবাইল ফোন বিক্রি ও অর্থ স্থানান্তরের (মানি ট্রান্সফার) সেবা দিতো। প্রাথমিক হিসাবে, প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৭ লাখ ইউরো ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো জিএসআর ইনফোরমেটিক, থ্রি-জি ইনফরমেটিক, প্যারিস টেলিকম, আয়মান সার্ভিস, থ্রি-ডি ইনফোরমেটিক, ফোন স্টোর, বদি টেলিকম ও রাফিদ ইলেকট্রনিকস। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এসব দোকান থেকে মোবাইল ফোন, অন্যান্য পণ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ লুট করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, দোকান বন্ধ রাখা এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাহারার ব্যবস্থা করেও লুটপাট ঠেকানো সম্ভব হয়নি। জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশকে ফোন করেও তাৎক্ষণিক সহায়তা পাননি বলে দাবি তাঁদের। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দুই দোকানে ক্ষতি ১ লাখ ৮০ হাজার ইউরো

ক্ষতিগ্রস্ত রাফিদ ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী রবিউল হাসান জানান, তাঁর দোকানে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইউরো মূল্যের পণ্যসামগ্রী ছিল। দোকান তালাবদ্ধ থাকা অবস্থায় সেগুলো লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রবিউল হাসান বলেন, আমার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইউরোর পণ্যসামগ্রী দোকানে ছিলো। এখন ব্যবসা আবার শুরু করার মতো সম্বল নেই।

ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিনের ফোন স্টোর ও বদি টেলিকমেও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, দুই প্রতিষ্ঠানে মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ইউরোর ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে একটি দোকান মাত্র তিন মাস আগে চালু করেছিলেন তিনি।

আজিম উদ্দিন বলেন, দুটি দোকান থেকেই পণ্যসামগ্রী লুট করা হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানে রিয়া মানি ট্রান্সফারের কাউন্টারে প্রায় ৩০ হাজার ইউরো নগদ অর্থ ছিলো বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ঘটনার সময় পুলিশকে একাধিকবার ফোন করেও সহায়তা পাননি।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

প্যারিসের সামাজিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আইসার সভাপতি ওবায়দুল্লাহ কয়েছের অভিযোগ, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বাংলাদেশি মালিকানাধীন মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফারের দোকানগুলোতে লুটপাট চালিয়েছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রবাসী ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তার আশঙ্কা, সহিংসতার ঘটনাগুলো ফ্রান্সে অভিবাসনবিরোধী রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিলো কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফার ব্যবসায়ী মুহিবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের প্রতিষ্ঠান রক্ষায় ব্যক্তিগতভাবে পাহারার ব্যবস্থা করেছিলেন। তারপরও বিভিন্ন স্থানে লুটপাট ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে।

ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে তাদের বিনিয়োগ, জীবিকা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা

প্রতিবেদনে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়। শ্রমিক ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে মজুরি, পেনশন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশজুড়ে ১১০টি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। আয়োজক সংগঠনগুলোর দাবি ছিল, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। বিক্ষোভের বেশির ভাগ শান্তিপূর্ণ থাকলেও প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে।

অভিমান করে ছাদ থেকে ঝাঁপ দিলেন প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
অভিমান করে ছাদ থেকে ঝাঁপ দিলেন প্রবাসীর স্ত্রী

মাদারীপুরের কালকিনিতে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে মিম আক্তার (১৮) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রী আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।

রোববার ভোরে উপজেলার মিয়ারহাট বাজারের আনসার উদ্দিন মৃধার বাড়ির তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে ওই প্রবাসীর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত গৃহবধূ মিম আক্তার খুনেরচর গ্রামের প্রবাসী রাশেদ সরদারের স্ত্রী। ভুক্তভোগীর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীর স্ত্রী মিম আক্তার অল্প কিছুদিন ধরে তার বাবা-মাকে নিয়ে মিয়ারহাট বাজারের আনসার উদ্দিন মৃধার বাড়ির দুইতলায় ভাড়া থাকতেন।

বেড়া দিয়ে প্রবাসী স্ত্রীর বাড়িকে ‘কবরস্থান ঘোষণা’

কিন্তু পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে তার মায়ের সঙ্গে অভিমান করে ওই ভাড়া বাড়ির তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কালকিনি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মিম আক্তারের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। নিহতের বাবা আলামিন খান বলেন, কী কারণে আমার মেয়ে মারা গেছে- তা এখন বলতে পারছি না।

এ ব্যাপারে কালকিনি থানার ওসি জহিরুল আলম জানান, খবর পেয়ে আমি পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছে। কী কারণে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন- তা সঠিকভাবে বলতে পারব না। আমরা জেনেছি মিম আক্তারের অল্প কিছুদিন আগে বিয়ে হয়েছে। স্বামী বিদেশ আছেন।

ভিডিওতে প্রেমিককে দায়ী করে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা

রিয়াদে কাভার্ড ভ্যানের আগুনে পুড়ে প্রাণ হারালেন প্রবাসী

কিং খালিদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রবাসীর মৃত্যু: দেশে শোকের ছায়া

রিয়াদে কাভার্ড ভ্যানের আগুনে পুড়ে প্রাণ হারালেন প্রবাসী

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
রিয়াদে কাভার্ড ভ্যানের আগুনে পুড়ে প্রাণ হারালেন প্রবাসী

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কাভার্ড ভ্যানে আগুনে পুড়ে মো. শামীম রেজা নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ প্রবাসজীবনের ইতি টেনে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।

কয়েক দিন আগেই নিয়েছিলেন ফাইনাল এক্সিট ভিসা। তবে দেশে ফেরার আগেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এই প্রবাসী।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রিয়াদের ২২ নম্বর এক্সিটের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শামীম রেজা সিরাজগঞ্জ জেলার চক খাদুলী গ্রামের মো. নিজাম উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে। তার ছোট ভাই নুরুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রিয়াদের ২২ নম্বর এক্সিটের মাঝামাঝি এলাকায় শামীম রেজার কাভার্ড ভ্যানে আগুন ধরে যায়।

এতে আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় সিমুচি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর স্বপ্ন দেখছিলেন শামীম রেজা।

সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি ফাইনাল এক্সিটও নিয়েছিলেন। আগামী ১২ ডিসেম্বর তার ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু দেশে ফেরার আগেই তার জীবনের এমন করুণ পরিণতি পরিবার ও স্বজনদের শোকস্তব্ধ করে দিয়েছে।

এদিকে, সৌদি আরবে অবস্থানরত নিহতের ছোট ভাই নুরুল ইসলাম শামীম রেজার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

কী কারণে কাভার্ড ভ্যানে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।