২০ অক্টোবর ২০২৬
অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি

স্বপ্ন ছুতে গিয়ে ফিরছেন লাশ হয়ে, স্বজনদের কান্নায় ভারী বাতাস

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬
স্বপ্ন ছুতে গিয়ে ফিরছেন লাশ হয়ে, স্বজনদের কান্নায় ভারী বাতাস

কেউ গিয়েছিলেন অর্থ আয় করে ঋণ শোধ করতে, কারও ইচ্ছা ছিল স্বপ্নের বাড়ি বানানো। কারও স্বপ্ন ছিল দেশে ফিরে ভালো পরিবারে বিয়ে করে সংসার পাতার। কেউ আবার গিয়েছিলেন সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে।

কারও ঘরে সন্তান জন্ম নিয়েছে মাত্র ১৪ দিন আগে। কেউ ফিরে বিয়ে করবেন বলে দিন গুনছিলেন দেশে ফেরার। দেশে স্বজনদের অপেক্ষা, কবে বাড়ি ফিরবে প্রিয় মানুষটি। সবার ফেরার সময় হয়েছে, কিন্তু জীবন্ত নয়, লাশ হয়ে। স্বজনদের অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে তবে আনন্দ নিয়ে নয়, শোকের কান্নায়।

গত রোববার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১২ জনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলা ও একজনের সদর উপজেলায়, দুজনের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় এবং আরেকজনের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায়।

নিহতরা হলেন–নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের মোহন প্রামাণিক (২২), তাঁর ছোট ভাই সুমন প্রামাণিক (১৬), একই গ্রামের রুবেল প্রামাণিক (৩০) ও কলিমুল্লাহ প্রামাণিক (৩৫), সাদনগর গ্রামের সাগর (৩৮), খরস্রোতা গ্রামের মজিদুল (৩৪) ও আব্দুল জলিল (৪৮), উজানপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২), ডুবাই গ্রামের সুমন (৩১) ও হাসিবুল হাসান শুভ (৩৭), বোয়ালা গ্রামের হৃদয় (৩২), মধ্য বোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ (৩০) ও নওগাঁ পৌরসভার পার-নওগাঁ মহল্লার শাহিন (৩৮); নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা শ্রীপুরপাড়া গ্রামের গোলাম রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন শুভ (২৯), দিঘীরপাড় গ্রামের জাকের হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন (৩০) এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ডাঙ্গাপাড়ার শ্যামল উদ্দিন মাঝি (৪৬)।

‘বাড়ি এসে বিয়া করমু মা’
গন্ডগোহালি গ্রামের মোহন ও সুমনের বাড়িতে এখন শুধু কান্নার শব্দ। দুই সন্তানকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা ময়না খাতুন। স্বজনরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরপরই ছেলেদের ছবি বুকে জড়িয়ে বিলাপ করছেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ময়না খাতুন বলেন, ‘বড় ছাওয়াল গেছে সাত বছর হচ্ছে, আর মেজো ছাওয়াল গেছে দুই বছর। কোনোদিনও ছুটিতে আসেনি। ছাওয়ালটা বলছিল, মা, কষ্ট করে খেয়ে দেনা শোধ করছি কেবল। বাড়ির কাজটা শুরু করছি, বাড়ি এসে বিল্ডিংয়ের কাজটা শেষ করে বিয়া করমু মা। মেয়ে-টেয়ে দেখো না, আমি ১০টা দেখে একটা বিয়ে করমু। কিন্তু আসা হলো না। কী সর্বনাশ হলো বাবা আমার।’

মায়ের সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। যে ছেলের বিয়ের জন্য পাত্রী দেখার কথা ছিল, এখন তাঁরই শেষ মুখ দেখার অপেক্ষায় মা।

১৪ দিনের সন্তান বাবার অপেক্ষায়
রুবেল প্রামাণিকের বাড়ির শোক যেন আরও গভীর। ৯ বছর আগে সৌদি আরব গিয়েছিলেন তিনি। সাড়ে ছয় বছর পর ছুটিতে বাড়ি এসে বিয়ে করেন। এরপর আবার ফিরে যান সৌদি আরব। তাঁদের ঘর আলো করে আসে কন্যাসন্তান। ছয় মাসের ছুটি কাটিয়ে মাত্র তিন মাস আগে কর্মস্থলে ফিরেছিলেন রুবেল। এর মধ্যেই জন্ম নেয় তাঁর আরেক সন্তান। সেই নবজাতকের বয়স এখন মাত্র ১৪ দিন।

রুবেলের বাবা মোহাম্মদ সাইদুর বলেন, ‘আমার রুবেলের ৯ বছর হচ্ছে সৌদি যাওয়ার বয়স। সাড়ে ছয় বছর পরে ছুটিতে আইছিল। আসার পরে ছাওয়ালোক আবার বিয়া দিনু। বিয়া করে আবার গেলো সৌদি। যেয়ে দুই বছরকার মাথাত আলো বাড়িত। আসে ছয় মাসের ছুটি কাটে গেলো। ছয় মাস ছুটি কাটায়ে যায়ে কেবল তিন মাস হলো।’

কথা বলতে বলতে কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে তাঁর। বলেন, ‘আমার তো আর দুনিয়ার বুকে কেউ থাকলো না বাবা। আমার নাতনি হছে, কেবল ১৪ দিন হচ্ছে। ১৪ দিনের ছাওয়াল থুয়ে চলে গেল।’

বাবা জানেন না, কীভাবে ১৪ দিনের শিশুকে বোঝাবেন; যার জন্য বাবা আর কখনও ফিরবেন না।

ঋণের বোঝা এখন কার কাঁধে?
উজানপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ দেড় বছর আগে সৌদি আরব যান। বিদেশ যাওয়ার জন্য পরিবারকে ঋণ করতে হয়েছিল। ফরিদের পাঠানো টাকায় চলছিল সংসার, শোধ হচ্ছিল ঋণ। স্ত্রী ও দুই বছরের মেয়েকে রেখে এখন তিনি ফিরবেন লাশ হয়ে।

ফরিদের বাবা ময়েন শেখ বলেন, ‘ছেলেটাক বিদেশ পাঠাতে হামি অনেক ঋণের মধ্যে পড়ে আছি। ফরিদের পাঠানো টাকা দিয়েই সংসার চলছিল। এখন ঋণ শোধ করমু ক্যামন করে আর সংসার চালামু ক্যামনে?’

পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে এখন পরিবারটির সামনে আরও বড় অনিশ্চয়তা। ছোট্ট মেয়েটি হয়তো বাবাকে খুঁজবে; কিন্তু সেই বাবা আর কোনোদিন তাকে কোলে নিতে পারবেন না।

ঘুমের মধ্যেই মৃত্যু
ডুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান শুভর চাচা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় শ্রমিকেরা ঘুমিয়ে ছিলেন। কারখানার মূল ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল বলে তাঁদের কাছে খবর এসেছে। দিনের বেলায় শ্রমিকেরা ঘুমাতেন এবং রাতে কাজ করতেন। তিনি বলেন, ঘুমন্ত অবস্থায় কারখানায় আগুন লাগায় হাসিবুলসহ সেখানে থাকা সব শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

বিএ পাস করার পর স্থানীয় একটি এনজিওতে চাকরি করতেন হাসিবুল। চাকরি চলে যাওয়ার পর কিছুদিন বেকার ছিলেন। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় তিন বছর আগে সৌদি আরব যান তিনি। চাচার ভাষায়, পরিবারের জন্যই বিদেশে গিয়েছিল। এখন সেই পরিবারের কাছেই ফিরবে লাশ হয়ে।

শেষ দেখার অপেক্ষা
গন্ডগোহালি, উজানপৈ, ডুবাইসহ নিহতদের গ্রামগুলোতে এখন একই দৃশ্য। স্বজনদের চোখে পানি, মুখে আহাজারি। কেউ প্রিয়জনের ছবি বুকে জড়িয়ে আছেন। কেউ নির্বাক হয়ে বসে আছেন। আবার কেউ বারবার মোবাইল ফোনের দিকে তাকাচ্ছেন–যদি ওপার থেকে মরদেহ দেশে পাঠানোর কোনো খবর আসে।

স্বজনদের এখন আর কোনো দাবি নেই। নেই স্বপ্ন পূরণের হিসাবও। শুধু একটাই অপেক্ষা–কবে দেশে আসবে প্রিয় মানুষগুলোর মরদেহ।
কোনো মা অপেক্ষা করছেন শেষবার ছেলের মুখ দেখবেন বলে। কোনো স্ত্রী অপেক্ষা করছেন স্বামীর নিথর দেহের পাশে বসবেন বলে। কোনো বাবা অপেক্ষা করছেন সন্তানের লাশ কাঁধে নেওয়ার জন্য। আর ১৪ দিনের শিশুটি জানবে না যে বাবার ফেরার অপেক্ষায় থাকার কথা, সেই বাবা ফিরছেন কফিনবন্দি হয়ে।

শোকাহত পরিবারগুলোর কাছে প্রতিটি মুহূর্ত এখন দীর্ঘ হয়ে উঠেছে। প্রিয়জনের কণ্ঠ আর শোনা যাবে না–তবু শেষবারের মতো মুখটি দেখার আশায় দিন গুনছেন স্বজনরা।

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইং কাজ করছে। যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

৪০ দিনের শিশুকে নিয়ে শামীমের স্ত্রীর আহাজারি
মাত্র ৪০ দিনের শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে স্বামীর স্মৃতিচারণ করতে করতে কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন শামীমের স্ত্রী মিতু বেগম। বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আমার ছেলেটা বাবার মুখ চিনে উঠতে পারল না। সংসারের সুখের জন্য বিদেশে গিয়েছিল, এখন শুধু তাঁর লাশটাই দেশে ফিরবে। আমার সন্তানকে নিয়ে আমি এখন কীভাবে বাঁচব?’

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দীঘিরপাড় গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন (৩০)। সাত মাস আগে সৌদি আরব যান। অপর দুজন রবিউল আওয়াল হৃদয় (২৮) পাঁচ বছর আগে ও তিন বছর আগে সাব্বির হোসেন শুভ (২৯) সৌদি আরব পাড়ি জমান। অতি সাধারণ কৃষক পরিবারের এসব সন্তান মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে বিদেশ যান। এখনও তাদের সেসব ঋণ শোধ হয়নি। তাদের ব্যাংক এবং এনজিওতে ঋণ রয়েছে।

শামীমের বাবা জাকির হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলেটা সংসারের হাল ধরেছিল। এখন আমার সব শেষ হয়ে গেলো। দেনা কীভাবে পরিশোধ করব?’

টিকিট কেটেও ফেরা হলো না শ্যামলের
তিন কন্যার মুখে হাসি ফোটাতে আট বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন রাজশাহীর বাগমারার শ্যামল উদ্দিন মাঝি। তবে এ সময়ের মধ্যে পরিবারের জন্য কিছুই করতে পারেননি তিনি। ঋণ করে বিদেশে গিয়ে পালিয়ে ছিলেন দীর্ঘ সময়। কিছু দিন আগে এক লাখ টাকাও নিয়েছেন মেয়ে জামাইয়ের কাছ থেকে। পরিবারের অনুরোধে আগামী শুক্রবার একবারে দেশে ফেরার জন্য বিমানের টিকিট কেনাসহ সব প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু জীবিত নয় যদি ফেরার সুযোগ হয় ফিরবেন লাশ হয়ে।

শ্যামল উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনেরা আহাজারি করছেন। প্রতিবেশীরা তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। শ্যামলের স্ত্রী রশিদা খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়ে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলছেন।

সংজ্ঞা ফিরতেই রশিদা খাতুন বিলাপ করে বলে ওঠেন, ‘তুমার সঙ্গে হামার কালকেই কথা হলো। তুমি বাড়িত আসবে বললে, আর রাতে তুমার মরার খবর পানু।’

প্রধানমন্ত্রীর শোক
রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সোমবার এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং রিয়াদে বাংলাদেশ মিশনকে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দ্রুততম সময়ে নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

জামায়াতের শোক
সৌদি আরবে আগুনে ১৬ জন বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের পক্ষে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই শোক জানান।

রাজমিস্ত্রির হাত ধরে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
রাজমিস্ত্রির হাত ধরে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

জীবিকার তাগিদে সুদূর দুবাইয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন। স্বপ্ন ছিল, প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়বেন, স্ত্রীকে নিয়ে সুখের সংসার সাজাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের সংসার ঘিরেই এবার দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কামুল্ল্যা গ্রামের প্রবাসী শাকিল হোসেন ওরফে কাবিলের স্ত্রী লাভলী খাতুনের বিরুদ্ধে দুই সন্তানকে বাড়িতে রেখে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ অক্টোবর গভীর রাতে একই গ্রামের আজিজুলের সঙ্গে চলে যান লাভলী খাতুন। এ সময় বাড়ি থেকে নগদ পাঁচ লাখ টাকা, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সম্পদ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে শাকিল হোসেন ওরফে কাবিলের সঙ্গে লাভলী খাতুনের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে রয়েছে দুই ছেলে সন্তান।

পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ও সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে কাজ করছেন কাবিল। পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রবাসে থেকে কষ্টার্জিত অর্থ পাঠিয়ে সংসার পরিচালনা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক এ ঘটনায় পরিবারটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, একই গ্রামের ইরফান হোসেনের ছেলে আজিজুল পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।

দীর্ঘদিন ধরে কাবিলের বাড়িতে নির্মাণকাজ করার সুবাদে লাভলী খাতুনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। তাঁদের আরও দাবি, বিষয়টি জানার পর কাবিল ও তাঁর দুই সন্তান লাভলী খাতুনকে ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসার অনুরোধ করেছিলেন।

কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ অক্টোবর গভীর রাতে দুই সন্তানকে বাড়িতে রেখে লাভলী খাতুন আজিজুলের সঙ্গে চলে যান।

এ সময় নগদ পাঁচ লাখ টাকা, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার ও বাড়িতে থাকা মূল্যবান সম্পদ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে, আজিজুলের সংসারেও এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে আজিজুলের স্ত্রীর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি, তিনি গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি।

ঘটনার পর দুই সন্তানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে পারিবারিক অনিশ্চয়তা। কাবিলের ছেলেরা জানান তারা বর্তমানে মায়ের কাছে ফিরতে চায় না। তাদের চাওয়া, বাবার কষ্টার্জিত টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখা কাবিলের সংসারে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

এ ঘটনায় নন্দীগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে।

বেড়া দিয়ে প্রবাসী স্ত্রীর বাড়িকে ‘কবরস্থান ঘোষণা’

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
বেড়া দিয়ে প্রবাসী স্ত্রীর বাড়িকে ‘কবরস্থান ঘোষণা’

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের গাজিরগাছখোলা গ্রামে সৌদি আরবপ্রবাসী মামুন মোল্লার বসতবাড়িতে প্রবেশের পথে বাঁশের বেড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত নেতা ও ছেংগারচর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী আবদুল হাই শিকদারের বিরুদ্ধে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে এ ঘটনার প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বাড়িতে যাতায়াতের পথ উন্মুক্ত রাখা এবং স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, বাড়ির প্রবেশমুখে বাঁশের বেড়া দেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া সন্তানদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

প্রবাসী মামুন মোল্লার স্ত্রী আঁখি আক্তার অভিযোগ করেন, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে থাকেন। অনেক কষ্টে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তারা বাড়িটি নির্মাণ করেছেন। বাড়িতে প্রবেশের জন্য গেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার সময় প্রবেশমুখে বাঁশের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে পরিবারের সদস্যরা বিপাকে পড়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ নেই। বেড়া দেওয়ার কারণে ছেলে সাইকেল নিয়ে বের হতে পারছে না। স্কুলে যেতে তাকে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে পাড়ি দিতে হচ্ছে।

মামুন মোল্লার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে আশরাফুল জানায়, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বাড়ির সামনে বেড়া দেওয়ায় সাইকেল নিয়ে বের হতে পারছে না সে। স্কুল ও কোচিংয়ে যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে তাকে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে স্কুলে যেতে হচ্ছে।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে আবদুল হাই শিকদার বলেন, জমি আমার। এখানে কবরস্থান রয়েছে। কবরস্থানের নিরাপত্তার জন্য বেড়া দিয়েছি।

এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার (ওসি) মানস বড়ুয়া জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখা হবে। জমির মালিকানা ও চলাচলের পথ নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে আইনিভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কেউ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটালে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্যারিসে লুটপাটে বাংলাদেশি আট দোকান ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
প্যারিসে লুটপাটে বাংলাদেশি আট দোকান ক্ষতিগ্রস্ত

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘটিত লুটপাটে বাংলাদেশি মালিকানাধীন অন্তত আটটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই মোবাইল ফোন বিক্রি ও অর্থ স্থানান্তরের (মানি ট্রান্সফার) সেবা দিতো। প্রাথমিক হিসাবে, প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৭ লাখ ইউরো ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো জিএসআর ইনফোরমেটিক, থ্রি-জি ইনফরমেটিক, প্যারিস টেলিকম, আয়মান সার্ভিস, থ্রি-ডি ইনফোরমেটিক, ফোন স্টোর, বদি টেলিকম ও রাফিদ ইলেকট্রনিকস। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এসব দোকান থেকে মোবাইল ফোন, অন্যান্য পণ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ লুট করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, দোকান বন্ধ রাখা এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে পাহারার ব্যবস্থা করেও লুটপাট ঠেকানো সম্ভব হয়নি। জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশকে ফোন করেও তাৎক্ষণিক সহায়তা পাননি বলে দাবি তাঁদের। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দুই দোকানে ক্ষতি ১ লাখ ৮০ হাজার ইউরো

ক্ষতিগ্রস্ত রাফিদ ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী রবিউল হাসান জানান, তাঁর দোকানে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইউরো মূল্যের পণ্যসামগ্রী ছিল। দোকান তালাবদ্ধ থাকা অবস্থায় সেগুলো লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রবিউল হাসান বলেন, আমার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ইউরোর পণ্যসামগ্রী দোকানে ছিলো। এখন ব্যবসা আবার শুরু করার মতো সম্বল নেই।

ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিনের ফোন স্টোর ও বদি টেলিকমেও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, দুই প্রতিষ্ঠানে মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ইউরোর ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে একটি দোকান মাত্র তিন মাস আগে চালু করেছিলেন তিনি।

আজিম উদ্দিন বলেন, দুটি দোকান থেকেই পণ্যসামগ্রী লুট করা হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানে রিয়া মানি ট্রান্সফারের কাউন্টারে প্রায় ৩০ হাজার ইউরো নগদ অর্থ ছিলো বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, ঘটনার সময় পুলিশকে একাধিকবার ফোন করেও সহায়তা পাননি।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

প্যারিসের সামাজিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আইসার সভাপতি ওবায়দুল্লাহ কয়েছের অভিযোগ, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বাংলাদেশি মালিকানাধীন মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফারের দোকানগুলোতে লুটপাট চালিয়েছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রবাসী ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তার আশঙ্কা, সহিংসতার ঘটনাগুলো ফ্রান্সে অভিবাসনবিরোধী রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিলো কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মোবাইল ফোন ও মানি ট্রান্সফার ব্যবসায়ী মুহিবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের প্রতিষ্ঠান রক্ষায় ব্যক্তিগতভাবে পাহারার ব্যবস্থা করেছিলেন। তারপরও বিভিন্ন স্থানে লুটপাট ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে।

ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে তাদের বিনিয়োগ, জীবিকা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা

প্রতিবেদনে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়। শ্রমিক ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে মজুরি, পেনশন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশজুড়ে ১১০টি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। আয়োজক সংগঠনগুলোর দাবি ছিল, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ। বিক্ষোভের বেশির ভাগ শান্তিপূর্ণ থাকলেও প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে।

অভিমান করে ছাদ থেকে ঝাঁপ দিলেন প্রবাসীর স্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
অভিমান করে ছাদ থেকে ঝাঁপ দিলেন প্রবাসীর স্ত্রী

মাদারীপুরের কালকিনিতে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে মিম আক্তার (১৮) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রী আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।

রোববার ভোরে উপজেলার মিয়ারহাট বাজারের আনসার উদ্দিন মৃধার বাড়ির তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে ওই প্রবাসীর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত গৃহবধূ মিম আক্তার খুনেরচর গ্রামের প্রবাসী রাশেদ সরদারের স্ত্রী। ভুক্তভোগীর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীর স্ত্রী মিম আক্তার অল্প কিছুদিন ধরে তার বাবা-মাকে নিয়ে মিয়ারহাট বাজারের আনসার উদ্দিন মৃধার বাড়ির দুইতলায় ভাড়া থাকতেন।

বেড়া দিয়ে প্রবাসী স্ত্রীর বাড়িকে ‘কবরস্থান ঘোষণা’

কিন্তু পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে তার মায়ের সঙ্গে অভিমান করে ওই ভাড়া বাড়ির তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে মাটিতে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কালকিনি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মিম আক্তারের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। নিহতের বাবা আলামিন খান বলেন, কী কারণে আমার মেয়ে মারা গেছে- তা এখন বলতে পারছি না।

এ ব্যাপারে কালকিনি থানার ওসি জহিরুল আলম জানান, খবর পেয়ে আমি পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছে। কী কারণে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন- তা সঠিকভাবে বলতে পারব না। আমরা জেনেছি মিম আক্তারের অল্প কিছুদিন আগে বিয়ে হয়েছে। স্বামী বিদেশ আছেন।

ভিডিওতে প্রেমিককে দায়ী করে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যা

রিয়াদে কাভার্ড ভ্যানের আগুনে পুড়ে প্রাণ হারালেন প্রবাসী

কিং খালিদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রবাসীর মৃত্যু: দেশে শোকের ছায়া

রিয়াদে কাভার্ড ভ্যানের আগুনে পুড়ে প্রাণ হারালেন প্রবাসী

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
রিয়াদে কাভার্ড ভ্যানের আগুনে পুড়ে প্রাণ হারালেন প্রবাসী

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কাভার্ড ভ্যানে আগুনে পুড়ে মো. শামীম রেজা নামে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ প্রবাসজীবনের ইতি টেনে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।

কয়েক দিন আগেই নিয়েছিলেন ফাইনাল এক্সিট ভিসা। তবে দেশে ফেরার আগেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এই প্রবাসী।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রিয়াদের ২২ নম্বর এক্সিটের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শামীম রেজা সিরাজগঞ্জ জেলার চক খাদুলী গ্রামের মো. নিজাম উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে। তার ছোট ভাই নুরুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রিয়াদের ২২ নম্বর এক্সিটের মাঝামাঝি এলাকায় শামীম রেজার কাভার্ড ভ্যানে আগুন ধরে যায়।

এতে আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় সিমুচি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর স্বপ্ন দেখছিলেন শামীম রেজা।

সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি ফাইনাল এক্সিটও নিয়েছিলেন। আগামী ১২ ডিসেম্বর তার ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু দেশে ফেরার আগেই তার জীবনের এমন করুণ পরিণতি পরিবার ও স্বজনদের শোকস্তব্ধ করে দিয়েছে।

এদিকে, সৌদি আরবে অবস্থানরত নিহতের ছোট ভাই নুরুল ইসলাম শামীম রেজার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

কী কারণে কাভার্ড ভ্যানে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।