১১ অক্টোবর ২০২৬

ইউরোপের স্বপ্নে বিভোর প্রবাসীরা ঝুঁকি নিচ্ছেন বসনিয়া সীমান্তে, শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশ

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
ইউরোপের স্বপ্নে বিভোর প্রবাসীরা ঝুঁকি নিচ্ছেন বসনিয়া সীমান্তে, শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশ

বসনিয়া-হারৎসেগোভিনায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে অনিয়মিতভাবে সীমান্ত পারাপার করতে গিয়ে বা এ ধরনের চেষ্টার সময় শনাক্ত হওয়া অভিবাসীর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৬ শতাংশ বেড়েছে।

এ সময়ে শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশের ৬৮ জন নাগরিক রয়েছেন। তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও মিশর, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও তুরস্কের নাগরিকেরা রয়েছেন।

বসনিয়া-হারৎসেগোভিনার মন্ত্রিপরিষদ গৃহীত ‘দেশটিতে অভিবাসন পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির সীমান্ত পুলিশ অনিয়মিতভাবে সীমান্ত পারাপার করতে গিয়ে বা এ ধরনের চেষ্টার সময় মোট ১ হাজার ১৯৩ জনকে শনাক্ত করেছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে কম।

অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের চেষ্টায় সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছেন মিশরের নাগরিকেরা। তাদের সংখ্যা ১৩৬। এরপর আফগানিস্তানের ১১৫ জন, পাকিস্তানের ১১৩ জন, বাংলাদেশের ৬৮ জন এবং তুরস্কের ৬৩ জন নাগরিক রয়েছেন।

দেশটির বিদেশি নাগরিকবিষয়ক পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বসনিয়া-হারৎসেগোভিনায় মোট ৩ হাজার ৪৬৮ জন অভিবাসীর তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৬৬ শতাংশ বেশি।

এ সময়ে দেশটির অস্থায়ী অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানরত অভিবাসীর সংখ্যাও বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এসব কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ৯২৪ জন অবস্থান করেছেন। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল গড়ে ৫৮১ জন।

এদিকে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে ৪ হাজার ৫৬৯টি অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ২৩ শতাংশ বেশি। অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ ছিল কর্মসংস্থান।

বসনিয়া-হারৎসেগোভিনার মন্ত্রিপরিষদ গত বছরের সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা নিয়েও একটি প্রতিবেদন গ্রহণ করেছে।

কর্মপরিকল্পনায় সীমান্তে তল্লাশি ও নজরদারি, আন্তসীমান্ত অপরাধ দমন, আন্তর্জাতিক সুরক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আচরণসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া দেশটির রাষ্ট্রীয় তদন্ত ও সুরক্ষা সংস্থার (সিপা) জন্য বিশেষায়িত সরকারি যানবাহন কেনা ও ব্যবহারের শর্তাবলি নিয়ে একটি বিধিমালার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ।

প্রস্তাবিত বিধিমালায় চারটি শ্রেণিতে মোট ১৮০টি বিশেষায়িত যানবাহনের কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি যানবাহনের ক্রয়মূল্য ৩৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার বসনীয় মার্কের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।

দুর্নীতিবিরোধী রাষ্ট্রসমূহের জোট (গ্রেকো)-এর পঞ্চম মূল্যায়ন পর্বে দেওয়া সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কিত তথ্যও গ্রহণ করেছে বসনিয়া-হারৎসেগোভিনার মন্ত্রিপরিষদ।

২০২৪ সালের নভেম্বরে গ্রেকো জানিয়েছিল, সংস্থাটির দেওয়া মোট ২৫টি সুপারিশের মধ্যে বসনিয়া-হারৎসেগোভিনা মাত্র দুটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করেছে। ১৫টি সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং বাকি আটটি বাস্তবায়ন করা হয়নি।

নতুন তথ্যের ভিত্তিতে আগামী নভেম্বরে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশটির অগ্রগতি পুনর্মূল্যায়ন করার কথা রয়েছে গ্রেকোর।

এছাড়া, গত বছরের জন্য দেশটিতে সংগঠিত অপরাধ দমনের কৌশল বাস্তবায়নসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনও গ্রহণ করেছে মন্ত্রিপরিষদ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চারটি কৌশলগত লক্ষ্যের আওতায় মোট ৫১টি কার্যক্রম পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৯টি কার্যক্রম, অর্থাৎ ৫৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ, সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাকি ২২টি কার্যক্রম, অর্থাৎ ৪৩ দশমিক ১৪ শতাংশ, আংশিক বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস

ইউরোপের স্বপ্নে বিভোর প্রবাসীরা ঝুঁকি নিচ্ছেন বসনিয়া সীমান্তে, শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশ

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১০, ২০২৬
ইউরোপের স্বপ্নে বিভোর প্রবাসীরা ঝুঁকি নিচ্ছেন বসনিয়া সীমান্তে, শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশ

বসনিয়া-হারৎসেগোভিনায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে অনিয়মিতভাবে সীমান্ত পারাপার করতে গিয়ে বা এ ধরনের চেষ্টার সময় শনাক্ত হওয়া অভিবাসীর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৬ শতাংশ বেড়েছে।

এ সময়ে শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশের ৬৮ জন নাগরিক রয়েছেন। তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও মিশর, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও তুরস্কের নাগরিকেরা রয়েছেন।

বসনিয়া-হারৎসেগোভিনার মন্ত্রিপরিষদ গৃহীত ‘দেশটিতে অভিবাসন পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির সীমান্ত পুলিশ অনিয়মিতভাবে সীমান্ত পারাপার করতে গিয়ে বা এ ধরনের চেষ্টার সময় মোট ১ হাজার ১৯৩ জনকে শনাক্ত করেছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে কম।

অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের চেষ্টায় সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছেন মিশরের নাগরিকেরা। তাদের সংখ্যা ১৩৬। এরপর আফগানিস্তানের ১১৫ জন, পাকিস্তানের ১১৩ জন, বাংলাদেশের ৬৮ জন এবং তুরস্কের ৬৩ জন নাগরিক রয়েছেন।

দেশটির বিদেশি নাগরিকবিষয়ক পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বসনিয়া-হারৎসেগোভিনায় মোট ৩ হাজার ৪৬৮ জন অভিবাসীর তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৬৬ শতাংশ বেশি।

এ সময়ে দেশটির অস্থায়ী অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানরত অভিবাসীর সংখ্যাও বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এসব কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ৯২৪ জন অবস্থান করেছেন। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল গড়ে ৫৮১ জন।

এদিকে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে ৪ হাজার ৫৬৯টি অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ২৩ শতাংশ বেশি। অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ ছিল কর্মসংস্থান।

বসনিয়া-হারৎসেগোভিনার মন্ত্রিপরিষদ গত বছরের সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা নিয়েও একটি প্রতিবেদন গ্রহণ করেছে।

কর্মপরিকল্পনায় সীমান্তে তল্লাশি ও নজরদারি, আন্তসীমান্ত অপরাধ দমন, আন্তর্জাতিক সুরক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আচরণসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া দেশটির রাষ্ট্রীয় তদন্ত ও সুরক্ষা সংস্থার (সিপা) জন্য বিশেষায়িত সরকারি যানবাহন কেনা ও ব্যবহারের শর্তাবলি নিয়ে একটি বিধিমালার প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ।

প্রস্তাবিত বিধিমালায় চারটি শ্রেণিতে মোট ১৮০টি বিশেষায়িত যানবাহনের কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি যানবাহনের ক্রয়মূল্য ৩৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার বসনীয় মার্কের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।

দুর্নীতিবিরোধী রাষ্ট্রসমূহের জোট (গ্রেকো)-এর পঞ্চম মূল্যায়ন পর্বে দেওয়া সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কিত তথ্যও গ্রহণ করেছে বসনিয়া-হারৎসেগোভিনার মন্ত্রিপরিষদ।

২০২৪ সালের নভেম্বরে গ্রেকো জানিয়েছিল, সংস্থাটির দেওয়া মোট ২৫টি সুপারিশের মধ্যে বসনিয়া-হারৎসেগোভিনা মাত্র দুটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করেছে। ১৫টি সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং বাকি আটটি বাস্তবায়ন করা হয়নি।

নতুন তথ্যের ভিত্তিতে আগামী নভেম্বরে সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশটির অগ্রগতি পুনর্মূল্যায়ন করার কথা রয়েছে গ্রেকোর।

এছাড়া, গত বছরের জন্য দেশটিতে সংগঠিত অপরাধ দমনের কৌশল বাস্তবায়নসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনও গ্রহণ করেছে মন্ত্রিপরিষদ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চারটি কৌশলগত লক্ষ্যের আওতায় মোট ৫১টি কার্যক্রম পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৯টি কার্যক্রম, অর্থাৎ ৫৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ, সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাকি ২২টি কার্যক্রম, অর্থাৎ ৪৩ দশমিক ১৪ শতাংশ, আংশিক বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস

চাকরির লোভে ডেকে নিয়ে সাইপ্রাসে বাংলাদেশি তরুণকে হত্যা! ঘাতকের যাবজ্জীবন

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬
চাকরির লোভে ডেকে নিয়ে সাইপ্রাসে বাংলাদেশি তরুণকে হত্যা! ঘাতকের যাবজ্জীবন

সাইপ্রাসে বাংলাদেশি নাগরিক শাহরিয়ার আহমেদ ইমনকে হত্যার ঘটনায় ২২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দেওয়া রায়ে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক অপরাধে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

আদালতের শুনানিতে বলা হয়, গত ৭ জুন একটি বাসে ইমনের সাথে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় হয়। পরে তারা একে অপরের সাথে যোগাযোগের তথ্য বিনিময় করেন। বাসে থাকার সময় কোনো একটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটিও হয়েছিল বলে আদালতকে জানানো হয়।

এরপর ৯ জুন একটি ছুরি কেনেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। দুই দিন পর, ১১ জুন তিনি ইমনের সাথে যোগাযোগ করে জানান, প্রতিদিন ৫০ ইউরো বেতনের একটি চাকরির সুযোগ রয়েছে।

ইমনের রুমমেট আদালতকে জানান, ওই দিন ইমন তাকে নতুন কর্মস্থলে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। লারনাকার কোফিনু গ্রামের একটি মুরগি উৎপাদন কারখানায় কাজ করার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তবে এর বেশি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

কিছুক্ষণ পর ইমনের বাবা ছেলের কাছ থেকে একটি ভীতিকর বার্তা পান। সেখানে তাকে বাঁচানোর জন্য আকুতি জানিয়ে বলা হয়, তা না হলে তাকে হত্যা করা হতে পারে।

এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইমনের বাবার কাছে আরও কয়েকটি বার্তা পাঠানো হয়। সেখানে ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৩৫ হাজার ইউরো দাবি করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ না দিলে ইমনের কিডনি বের করে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

ছেলের এমন বার্তা পাওয়ার পর ইমনের বাবা তার রুমমেটের সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি বার্তার জবাব দিয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন এবং দাবিকৃত অর্থের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। একই সাথে ইমনের যেন কোনো ক্ষতি না করা হয়, সে অনুরোধও করেন।

ওই রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে ইমনের বাবার কাছে আরও একটি বার্তা আসে। সেখানে বলা হয়, ১৪ জুনের মধ্যে ১০ হাজার ইউরো না দিলে ইমনের কিডনি বের করে নেওয়া হবে। এটিই ছিল তার বাবার কাছে আসা শেষ বার্তা।

এদিকে, ১৬ জুন বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল ইমনের। স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার জন্য তিনি সাইপ্রাস সরকারের একটি কর্মসূচির আওতায় আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত দিনে তিনি লারনাকা বিমানবন্দরে উপস্থিত হননি।

পরে পুলিশ ২২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। তদন্তে জানা যায়, তিনি ইমনকে কোফিনুর একটি কসাইখানার কাছের নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে ছুরি দিয়ে হামলার পর শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়।

আদালতে আরও জানানো হয়, হত্যার পর ইমনের লাশ অন্য একটি স্থানে টেনে নিয়ে গিয়ে আবারও শ্বাসরোধ করা হয়। পরে খড় দিয়ে লাশ ঢেকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান অভিযুক্ত ব্যক্তি। যাওয়ার আগে তিনি নিজের হাত ও জুতা ধুয়ে ফেলেছিলেন। পরে ওই স্থান থেকেই ইমনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

আদালত হত্যাকাণ্ডটিকে পূর্বপরিকল্পিত বলে রায়ে উল্লেখ করেছে। হত্যার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি অপরাধেও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এসব অপরাধে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে দুই বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে দুই বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

সৌদি আরবের জেদ্দায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দেশটির জেদ্দা শহরের একটি ভবনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত মহিউল ইসলাম পলাশ ঢাকার দোহার উপজেলার উত্তর শিমুলিয়া গ্রামের কুদ্দুস মোল্লার ছেলে এবং ওবায়দুল ইসলাম একই গ্রামের হারুন বেপারির ছেলে। তারা বেশ কয়েক বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে সৌদি আরবের জেদ্দার তামান ইন আখের নামক স্থানে একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় পলাশ ও ওবায়দুল সেই ভবনে অবস্থান করছিলেন। আগুন ভবনটির চারপাশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তারা আর বাইরে বের হতে পারেননি।

পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করলে ভবনের ভেতর থেকে পলাশ ও ওবায়দুলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের মরদেহ বর্তমানে জেদ্দার স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর দিল সৌদি আরব

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০৮, ২০২৬
প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর দিল সৌদি আরব

উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ চালু করেছে সৌদি আরব। এখন থেকে কাজের ভিসার প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই যোগ্য পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরবে নেওয়ার সুযোগ পাবেন এসব কর্মী।

সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ বলছে, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা।

নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য কর্মীরা তাদের জীবনসঙ্গী (স্ত্রী), ২৫ বছরের কম বয়সী ছেলে এবং অবিবাহিত মেয়েকে সৌদি আরবে নিয়ে যেতে পারবেন।

প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা হলে কর্মীর কর্মসংস্থান ভিসার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি যোগ্য পরিবারের সদস্যদের জন্যও প্রবেশ ভিসা দেওয়া যাবে। ফলে পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরবে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে কর্মীদের নিজেদের কাজের ভিসা পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যরা দেশটিতে পৌঁছানোর পর প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী তাদের বসবাসের অনুমতিপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।

নতুন এই উদ্যোগের ফলে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য সৌদি আরবে পরিবার নিয়ে বসবাসের প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে দেশটিতে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পাঁচদিনে প্রবাসীরা পাঠালেন ৬ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
পাঁচদিনে প্রবাসীরা পাঠালেন ৬ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা

চলতি বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম পাঁচদিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ৫১ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় ছয় হাজার ৩০৯ কোটি ৯০ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)। এর মধ্যে গত সোমবারই প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ৩৪০ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মুখপাত্র আরিফ হোসেন জানান, গত বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম পাঁচদিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে ৯১০ কোটি ৪০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৮০০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৭০ শতাংশ।