১৬ অক্টোবর ২০২৬

ফ্লাইট বাতিল: বিকল্প রুটে সৌদি ফিরছেন প্রবাসীরা

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ফ্লাইট বাতিল: বিকল্প রুটে সৌদি ফিরছেন প্রবাসীরা

নোয়াখালী সদরের মামুন। সৌদি আরবের রিয়াদে একটি কোম্পানির লরি চালান। গত দুই মাস আগে ৫ বছরের প্রবাস জীবনে প্রথম দেশে আসেন। গত ১১ অক্টোবর তার রিয়াদে ফিরতি ফ্লাইট ছিল। কিন্তু সেটি বাতিল হয়ে যায়।

তারপর ১২ তারিখও ফ্লাইটের টিকিট করেছিলেন। সেটিও বাতিল হয়ে যায়। মাত্র ৫ দিন ভিসার মেয়াদ থাকায় টেনশনে পড়ে যান মামুন। অবশেষে আজ ১৫ অক্টোবর মদিনার ফ্লাইটের টিকিট পান। যুদ্ধ আতঙ্ক থাকলেও তিনি যে শেষ পর্যন্ত সৌদি আরব যেতে পারছেন তাতেই খুশি তিনি।

মামুনের সঙ্গে কথা হয় বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালে। তিনি বলেন, ভিসার মেয়াদ শেষ। যেতেও পারছি না। অনেক টেনশনে ছিলাম। অবশেষে মদিনা হয়ে যেতে পারছি।

মামুন বলেন, অনেক হয়রানি হতে হলো। এখন মদিনাতে আরেক হয়রানি অপেক্ষা করছে। মদিনা থেকে রিয়াদ যেতে বাসে সময় লাগবে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা। সেখানেও হয়রানির সঙ্গে খরচও আছে। আমাদের করার কিছু নেই। যেতেই হবে। এ কারণে অতিরিক্ত টাকা খরচ, ঝুঁকি সব মেনেই যাচ্ছি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

এ রকম হয়রানির শিকার মানিকগঞ্জের পারভেজ। তিনি বলেন, আমরা অনেক হয়রানি হলাম। একের পর এক ফ্লাইট বাতিল। মনে হচ্ছিল যেতেই পারবে না। কিন্তু মদিনা হয়ে যেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমার ভিসার মেয়াদ ৭ দিনের মতো আছে। কিন্তু এখনই যাচ্ছি, কারণ আবারও যদি সমস্যা হয়। আমরা জানি আতঙ্ক আছে, কিন্তু করার কিছু নাই। যেতেই হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আলামিন বলেন, রিয়াদ, দাম্মাম সব ফ্লাইট বাতিল। কবে চালু হবে কেউ জানে না। ভিসার মেয়াদও শেষ। এখন আমরা কী করবো! বাধ্য হয়ে মদিনা হয়ে যাচ্ছি। মদিনায় যাওয়ার পর সেখান থেকে রিয়াদ যাবো। সেখানেও ১৪ ঘণ্টা লাগবে। সরাসরি হলে এই ঝামেলা থাকতো না। কিন্তু আমরা কি করবো বলেন, আমাদের জীবন বাঁচাতে এটা ছাড়া কোনও নেই।

সরেজমিন বিমানবন্দর ঘুরে দেখা যায়, মদিনা হয়েই প্রবাসীরা রিয়াদ যাচ্ছেন। যাদের ভিসার মেয়াদ শেষের পথে মূলত তারাই টিকিট চেঞ্জ করে নিয়ে যাচ্ছেন। মদিনার বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ৩ টা ৫৫ তে। এ কারণে ১২টার মধ্যেই যাত্রীরা উপস্থিত হন। ফ্লাইট যাওয়ার কথায় তাদের মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ থেকে হাসিমুখ দেখা যায়।

যাত্রীরা জানান, গ্রাম থেকে টিকিট পরিবর্তন করতে বার বার আসা, মদিনা থেকে রিয়াদ যেতে খরচ। সবমিলিয়ে অতিরিক্ত ২০ থেকে ২৫ হাজার লাগছে। তারপরও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় যেতে পারায় তাদের চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ কেটে আনন্দের ঝলক লক্ষ্য করা যায়।

প্রসঙ্গত, গত ১০ অক্টোবর রিয়াদ বিমানবন্দর হুথিদের আক্রমণের শিকার হয়। এরপর দাম্মাম বিমানবন্দরেও আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র। এতে করে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার (১৪ অক্টোবর) পর্যন্ত ১০০ ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। আটকা পড়েন ১৫ হাজারের বেশি প্রবাসী।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

ফ্লাইট বাতিল: বিকল্প রুটে সৌদি ফিরছেন প্রবাসীরা

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ফ্লাইট বাতিল: বিকল্প রুটে সৌদি ফিরছেন প্রবাসীরা

নোয়াখালী সদরের মামুন। সৌদি আরবের রিয়াদে একটি কোম্পানির লরি চালান। গত দুই মাস আগে ৫ বছরের প্রবাস জীবনে প্রথম দেশে আসেন। গত ১১ অক্টোবর তার রিয়াদে ফিরতি ফ্লাইট ছিল। কিন্তু সেটি বাতিল হয়ে যায়।

তারপর ১২ তারিখও ফ্লাইটের টিকিট করেছিলেন। সেটিও বাতিল হয়ে যায়। মাত্র ৫ দিন ভিসার মেয়াদ থাকায় টেনশনে পড়ে যান মামুন। অবশেষে আজ ১৫ অক্টোবর মদিনার ফ্লাইটের টিকিট পান। যুদ্ধ আতঙ্ক থাকলেও তিনি যে শেষ পর্যন্ত সৌদি আরব যেতে পারছেন তাতেই খুশি তিনি।

মামুনের সঙ্গে কথা হয় বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালে। তিনি বলেন, ভিসার মেয়াদ শেষ। যেতেও পারছি না। অনেক টেনশনে ছিলাম। অবশেষে মদিনা হয়ে যেতে পারছি।

মামুন বলেন, অনেক হয়রানি হতে হলো। এখন মদিনাতে আরেক হয়রানি অপেক্ষা করছে। মদিনা থেকে রিয়াদ যেতে বাসে সময় লাগবে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা। সেখানেও হয়রানির সঙ্গে খরচও আছে। আমাদের করার কিছু নেই। যেতেই হবে। এ কারণে অতিরিক্ত টাকা খরচ, ঝুঁকি সব মেনেই যাচ্ছি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

এ রকম হয়রানির শিকার মানিকগঞ্জের পারভেজ। তিনি বলেন, আমরা অনেক হয়রানি হলাম। একের পর এক ফ্লাইট বাতিল। মনে হচ্ছিল যেতেই পারবে না। কিন্তু মদিনা হয়ে যেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমার ভিসার মেয়াদ ৭ দিনের মতো আছে। কিন্তু এখনই যাচ্ছি, কারণ আবারও যদি সমস্যা হয়। আমরা জানি আতঙ্ক আছে, কিন্তু করার কিছু নাই। যেতেই হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আলামিন বলেন, রিয়াদ, দাম্মাম সব ফ্লাইট বাতিল। কবে চালু হবে কেউ জানে না। ভিসার মেয়াদও শেষ। এখন আমরা কী করবো! বাধ্য হয়ে মদিনা হয়ে যাচ্ছি। মদিনায় যাওয়ার পর সেখান থেকে রিয়াদ যাবো। সেখানেও ১৪ ঘণ্টা লাগবে। সরাসরি হলে এই ঝামেলা থাকতো না। কিন্তু আমরা কি করবো বলেন, আমাদের জীবন বাঁচাতে এটা ছাড়া কোনও নেই।

সরেজমিন বিমানবন্দর ঘুরে দেখা যায়, মদিনা হয়েই প্রবাসীরা রিয়াদ যাচ্ছেন। যাদের ভিসার মেয়াদ শেষের পথে মূলত তারাই টিকিট চেঞ্জ করে নিয়ে যাচ্ছেন। মদিনার বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ৩ টা ৫৫ তে। এ কারণে ১২টার মধ্যেই যাত্রীরা উপস্থিত হন। ফ্লাইট যাওয়ার কথায় তাদের মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ থেকে হাসিমুখ দেখা যায়।

যাত্রীরা জানান, গ্রাম থেকে টিকিট পরিবর্তন করতে বার বার আসা, মদিনা থেকে রিয়াদ যেতে খরচ। সবমিলিয়ে অতিরিক্ত ২০ থেকে ২৫ হাজার লাগছে। তারপরও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় যেতে পারায় তাদের চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ কেটে আনন্দের ঝলক লক্ষ্য করা যায়।

প্রসঙ্গত, গত ১০ অক্টোবর রিয়াদ বিমানবন্দর হুথিদের আক্রমণের শিকার হয়। এরপর দাম্মাম বিমানবন্দরেও আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র। এতে করে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার (১৪ অক্টোবর) পর্যন্ত ১০০ ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। আটকা পড়েন ১৫ হাজারের বেশি প্রবাসী।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সরাসরি মন্ত্রীর ই-মেইলে অভিযোগ জানানোর আহ্বান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সরাসরি মন্ত্রীর ই-মেইলে অভিযোগ জানানোর আহ্বান

বিমানবন্দরে প্রবাসীরা হয়রানির শিকার হলে অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি ই-মেইলে জানাতে বলেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রবাসীদের যে কোনো সমস্যা সমাধানে সরকার সর্বদা আন্তরিক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিমানবন্দরে হয়রানি সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে তা সরাসরি নিষ্পত্তির জন্য আমাদের ইমেইল [email protected]এ পাঠানো জন্য অনুরোধ করছি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের বন্দরে শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় আক্রান্ত বাংলাদেশিদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং শ্রম উইং সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমাদের ২ জন প্রবাসী নাগরিক মৃত্যুবরণ করেছেন এবং অনেকেই আহত হয়ে স্থানীয় কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আমরা সার্বক্ষণিক তাদের চিকিৎসার খোঁজ নিচ্ছি। আমি নিজেও আহতদের একজনের বাবার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে সমবেদনা জানিয়েছি ও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছি।

সৌদি প্রবাসীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এই ক্রান্তিকালীন সময়ে আপনারা সবাই অত্যন্ত সাবধানে ও নিরাপদ আশ্রয়ে থাকবেন। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

মন্ত্রী আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জের শ্রমজীবী মেয়েরা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে কাজ করতে পারেন, সেজন্য তাদের আবাসন সুবিধার জন্য মহিলা হোস্টেল এবং চিকিৎসা সহায়তার জন্য ৫ শয্যার হাসপাতাল সরজমিনে পরিদর্শন করেছি। এলাকার সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করতে আগামী ৭ নভেম্বর এই শ্রমজীবী মহিলা হোস্টেল এবং পাঁচ শয্যার হাসপাতালের কার্যক্রম পূর্ণ উদ্যোমে পুনরায় উদ্বোধন করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।

প্রবাসী বাবার দুর্দিনে সংসারের হাল ধরেছিলেন ফয়সাল, সড়কেই ঝরলো প্রাণ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬
প্রবাসী বাবার দুর্দিনে সংসারের হাল ধরেছিলেন ফয়সাল, সড়কেই ঝরলো প্রাণ

প্রবাসে কাজ না থাকায় দীর্ঘ দিন ধরে বাড়িতে টাকা পারছেন না প্রবাসী বাবা। তাই চারজনের ছোট্ট সংসারটির দায়িত্ব এসে পড়ে ১৮ বছরের তরুণ মো. ফয়সালের কাঁধে। কিন্তু হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় সড়কের ঝরে গেল সেই ফয়সালের প্রাণ।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা। প্রবাসী বাবার সংসারের হাল ধরা ফয়সালের মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের ছগুড়া-হাতিমারা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ফয়সাল কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পারুয়ারা গ্রামের জমশের বাড়ির প্রবাসী খোরশেদ আলমের বড় ছেলে। তিনি দেবিদ্বার জেলা পরিষদ মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করতেন।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে বের হয়েছিলেন ১৮ বছরের তরুণ। কিন্তু আর ফেরা হলো না ১৮ বছর বয়সী তরুণ মো. ফয়সালের। কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দেবিদ্বারগামী একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে কুমিল্লাগামী মর্ডান পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলচালক ফয়সাল ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন ফয়সাল। তার বাবা খোরশেদ আলম প্রবাসে থাকলেও কাজ না থাকায় নিয়মিত বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারতেন না। ফলে অল্প বয়সেই পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে হয়েছিল ফয়সালকে। কাপড়ের দোকানে কাজ করে পরিবারের খরচ চালাতে সহযোগিতা করতেন তিনি।

ফয়সালের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। যে তরুণের আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল পরিবার, তার চলে যাওয়া শোকের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, এই দুর্ঘটনার পর ফয়সালের বাড়িতে চলছে মাতম। এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সন্তান হারানোর শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ।

ফয়সালের ছোট ভাই সিয়াম (১৪) জানায়, সকালে খাওয়া-দাওয়া করে বাড়ি থেকে বের হয় তার ভাই। পরে তারা খবর পান, ফয়সাল সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

মিরপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. আনিছুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে আমাদের টিম গিয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। ঘাতক বাসটিও খুঁজে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরকীয়ার অভিযোগ তুলে প্রবাসীর স্ত্রীর চুল কাটার অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬
পরকীয়ার অভিযোগ তুলে প্রবাসীর স্ত্রীর চুল কাটার অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল

পরকীয়ার অভিযোগ তুলে এক গৃহবধূকে আটকে রেখে মারধর, মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে দুই যুবকের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের ঘটনার দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

ঘটনাটি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বেপারীডাঙ্গী গ্রামের। নির্যাতনের শিকার নারী রিক্তা বেগম (২৮)। তিনি ওই গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী রাজিব বেপারীর স্ত্রী।

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দুটি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে পুলিশ।

ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক গৃহবধূকে চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে। কালো টি-শার্ট পরা এক যুবক তার হাত ধরে রেখেছেন। এ সময় চেক টি-শার্ট পরা আরেক যুবক ধারালো কাঁচি দিয়ে তার মাথার চুল কাটছেন। ওই নারী চিৎকার করে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করলেও চুল কাটা বন্ধ করেননি তারা। ভিডিওর শেষ দিকে ওই নারীর মুখে থাপ্পড় মারতেও দেখা যায়।

অন্যদিকে, ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিওতে রাতে ওই নারী ও এক যুবককে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে রাখার দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় ওই নারীকে মারধর করতেও দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে আসেন রিক্তা বেগম। ওই রাতেই তার কক্ষে এক যুবককে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। তারা দুজনকে আটক করেন। এ সময় ওই যুবক পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে রাখেন।

স্থানীয়দের দাবি, এরপর ওই নারী ও যুবককে আটকে রাখা হয়। পরদিন রোববার বিকেলে গৃহবধূর চুল কেটে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আটক যুবককে পরে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও জানান তারা।

স্থানীয় সূত্রে নির্যাতনে জড়িত হিসেবে সুমন হোসেন (২৬) ও জয় হোসেন (২৮) নামে দুই যুবকের নাম এসেছে। সুমন স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ বেপারীর নাতি বলে জানা গেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নির্যাতনের শিকার রিক্তা বেগমের বাবার বাড়ি সদরপুর উপজেলার পাশের ভাষাণচর ইউনিয়নের কারীরহাট গ্রামে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আ. জলিল মোল্যা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে নির্যাতনের শিকার নারী ও তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভিডিও দুটি কে বা কারা ধারণ করেছেন এবং কারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নির্যাতনের ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত এবং এর পেছনে অন্য কারও ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ বলেন, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। কেউ অপরাধ করলে তার বিচারের জন্য আইন রয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনিও সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযানে রয়েছেন।

মালদ্বীপে বাংলাদেশির রহস্যজনক মৃত্যু, পলাতক ৩ রুমমেট

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬
মালদ্বীপে বাংলাদেশির রহস্যজনক মৃত্যু, পলাতক ৩ রুমমেট

মালদ্বীপে মো. সজীব (২৭) নামের এক বাংলাদেশির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তার মরদেহ কক্ষ থেকে উদ্ধারের সময় সেখানে থাকা তিন প্রবাসীকে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে পরিবার।

তাদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশের কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার এবং অন্যজন নেপালের নাগরিক। তাদের অনুপস্থিতি ঘিরে সজীবের মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহ তৈরি হয়েছে স্বজনদের মধ্যে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহত সজীব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহালক্ষ্মীপাড়া উত্তরপাড়া এলাকার পুরাতন মকিমের বাড়ির আবদুল খালেকের ছেলে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে তার মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছায়। পরে পরিবারের সদস্যরা মালদ্বীপ থেকে ফোনে তার মৃত্যুর খবর পান বলে জানা গেছে।

সজীবের চাচাতো ভাই মো. সোহেল তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সজীবকে তার কক্ষে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে মালদ্বীপের পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়।

পরিবারের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় সজীবের সঙ্গে একই কক্ষে থাকা তিন প্রবাসী সেখানে ছিলেন না। তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় সজীবের মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন স্বজনেরা। তাদের আশঙ্কা, তাকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মালদ্বীপের পুলিশের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ফলে সজীবের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সজীব অবিবাহিত ছিলেন। তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে বড় ধরনের কোনো সমস্যা ছিল না বলে দাবি স্বজনদের। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রায় তিন বছর আগে তিনি মালদ্বীপে পাড়ি জমান। সেখানে উপার্জন করে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি।

সজীবের আকস্মিক মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার মহালক্ষ্মীপাড়া উত্তরপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন ও এলাকাবাসী তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে সজীবের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে তার পরিবার। একই সঙ্গে মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটন, ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত করা এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।