১৮ অক্টোবর ২০২৬

মৌলভীবাজারে প্রথম বিয়ে গোপন রেখে প্রবাসীর দ্বিতীয় বিয়ে, অত:পর...

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
মৌলভীবাজারে প্রথম বিয়ে গোপন রেখে প্রবাসীর দ্বিতীয় বিয়ে, অত:পর...

মৌলভীবাজারের রাজনগরে প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নালিহুরী গ্রামে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হওয়ার কথা ছিল।

এ উপলক্ষে কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজনসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। তবে প্রথম স্ত্রীর অভিযোগের পর বিষয়টি জানাজানি হলে বিয়েতে অসম্মতি জানায় কনেপক্ষ। ফলে শেষ পর্যন্ত বিয়ের আয়োজন ভেস্তে যায়।

অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন- মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ধাইসার গ্রামের সৈয়দ চেরাগ আলীর ছেলে সৈয়দ কাওছার আলী (৪৫)। তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ের চেষ্টা এবং কনেপক্ষকে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

তবে বরপক্ষের দাবি, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।

প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে কাওছার আলীর সঙ্গে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের বরমান গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার মেয়ে আমিনা বেগমের বিয়ে হয়। আমিনা বেগম যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। বিয়ের পর তিনি স্বামীকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান। সেখানে কয়েক বছর আগে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমোদন পাওয়ার পর কাওছার আলী তাঁর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন বলে জানা গেছে।

আমিনা বেগমের ছোট ভাই মো. আইয়ুব আলী বলেন, তাঁর বোনকে কিছু না জানিয়েই কাওছার আলী দেশে চলে আসেন। পরে তিনি দেশে দ্বিতীয় বিয়ে করতে যাচ্ছেন—এমন খবর পেয়ে আমিনা বেগম বাংলাদেশে আসেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজার মডেল থানায় কাওছার আলীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে কাওছার আলীর সঙ্গে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নালিহুরী গ্রামের এক তরুণীর বিয়ে ঠিক হয়। শুক্রবার দুপুরে মৌলভীবাজারের রুমেল কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষে অতিথিদের জন্য খাবার প্রস্তুত, সাজসজ্জাসহ প্রয়োজনীয় আয়োজনও সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু কাওছার আলীর আগের বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কনেপক্ষ বিয়েতে অসম্মতি জানায়।

কনেপক্ষের অভিযোগ, আগের বিয়ের তথ্য গোপন রেখে তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিকভাবে তাঁদের সম্মানহানি হয়েছে এবং মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁরা উদ্বিগ্ন।

কনের বাবা আব্দুল ওয়াহিদ অভিযোগ করেন, গত ১৬ অক্টোবর বিকেলে কাওছার আলী ও তাঁর বড় ভাই সৈয়দ সাহাদাত আলী তাঁদের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং হুমকি-ধমকি দেন। এ ঘটনায় তিনি মৌলভীবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে প্রায় ১০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, “কাওছার আলীর আগে বিয়ে হয়েছিল—এ বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। প্রথম স্ত্রী থানায় অভিযোগ করার পর আমরা বিষয়টি জানতে পারি। কাওছার আলী ও তাঁর স্বজনেরা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এতে আমরা আর্থিক ও সামাজিক—দুই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কাওছার আলীর বড় ভাই সৈয়দ সাহাদাত আলী বলেন, ‘তাঁর ছোট ভাইয়ের সঙ্গে আমিনা বেগমের বিয়ে হলেও যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে।’

বিয়ে বন্ধ করার উদ্দেশ্যে আমিনা বেগম মিথ্যা অভিযোগ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বিবাহ বিচ্ছেদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মৌলভীবাজার মডেল থানার পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন বিয়ের বিষয়ে কনেপক্ষের স্বজনদেরও বিস্তারিত জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

মৌলভীবাজার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিপু কুমার দাস বলেন, আমিনা বেগমের অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি বরপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিয়ে বাংলাদেশে হলেও বরপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রে বিবাহ বিচ্ছেদের কিছু কাগজপত্র তাঁকে দিয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

মৌলভীবাজারে প্রথম বিয়ে গোপন রেখে প্রবাসীর দ্বিতীয় বিয়ে, অত:পর...

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
মৌলভীবাজারে প্রথম বিয়ে গোপন রেখে প্রবাসীর দ্বিতীয় বিয়ে, অত:পর...

মৌলভীবাজারের রাজনগরে প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নালিহুরী গ্রামে তাঁর দ্বিতীয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হওয়ার কথা ছিল।

এ উপলক্ষে কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজনসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। তবে প্রথম স্ত্রীর অভিযোগের পর বিষয়টি জানাজানি হলে বিয়েতে অসম্মতি জানায় কনেপক্ষ। ফলে শেষ পর্যন্ত বিয়ের আয়োজন ভেস্তে যায়।

অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন- মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ধাইসার গ্রামের সৈয়দ চেরাগ আলীর ছেলে সৈয়দ কাওছার আলী (৪৫)। তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ের চেষ্টা এবং কনেপক্ষকে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

তবে বরপক্ষের দাবি, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত কাগজপত্র পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।

প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে কাওছার আলীর সঙ্গে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার একাটুনা ইউনিয়নের বরমান গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার মেয়ে আমিনা বেগমের বিয়ে হয়। আমিনা বেগম যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। বিয়ের পর তিনি স্বামীকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান। সেখানে কয়েক বছর আগে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমোদন পাওয়ার পর কাওছার আলী তাঁর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন বলে জানা গেছে।

আমিনা বেগমের ছোট ভাই মো. আইয়ুব আলী বলেন, তাঁর বোনকে কিছু না জানিয়েই কাওছার আলী দেশে চলে আসেন। পরে তিনি দেশে দ্বিতীয় বিয়ে করতে যাচ্ছেন—এমন খবর পেয়ে আমিনা বেগম বাংলাদেশে আসেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজার মডেল থানায় কাওছার আলীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে কাওছার আলীর সঙ্গে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নালিহুরী গ্রামের এক তরুণীর বিয়ে ঠিক হয়। শুক্রবার দুপুরে মৌলভীবাজারের রুমেল কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষে অতিথিদের জন্য খাবার প্রস্তুত, সাজসজ্জাসহ প্রয়োজনীয় আয়োজনও সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু কাওছার আলীর আগের বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কনেপক্ষ বিয়েতে অসম্মতি জানায়।

কনেপক্ষের অভিযোগ, আগের বিয়ের তথ্য গোপন রেখে তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিকভাবে তাঁদের সম্মানহানি হয়েছে এবং মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁরা উদ্বিগ্ন।

কনের বাবা আব্দুল ওয়াহিদ অভিযোগ করেন, গত ১৬ অক্টোবর বিকেলে কাওছার আলী ও তাঁর বড় ভাই সৈয়দ সাহাদাত আলী তাঁদের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং হুমকি-ধমকি দেন। এ ঘটনায় তিনি মৌলভীবাজার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে প্রায় ১০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, “কাওছার আলীর আগে বিয়ে হয়েছিল—এ বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। প্রথম স্ত্রী থানায় অভিযোগ করার পর আমরা বিষয়টি জানতে পারি। কাওছার আলী ও তাঁর স্বজনেরা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এতে আমরা আর্থিক ও সামাজিক—দুই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কাওছার আলীর বড় ভাই সৈয়দ সাহাদাত আলী বলেন, ‘তাঁর ছোট ভাইয়ের সঙ্গে আমিনা বেগমের বিয়ে হলেও যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে।’

বিয়ে বন্ধ করার উদ্দেশ্যে আমিনা বেগম মিথ্যা অভিযোগ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বিবাহ বিচ্ছেদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র মৌলভীবাজার মডেল থানার পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন বিয়ের বিষয়ে কনেপক্ষের স্বজনদেরও বিস্তারিত জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

মৌলভীবাজার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিপু কুমার দাস বলেন, আমিনা বেগমের অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি বরপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিয়ে বাংলাদেশে হলেও বরপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রে বিবাহ বিচ্ছেদের কিছু কাগজপত্র তাঁকে দিয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

বাসের চাপায় কাতার প্রবাসী নিহত

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
বাসের চাপায় কাতার প্রবাসী নিহত

বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকামুখী হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় অপু মাঝি (৩২) নামে এক কাতার প্রবাসী মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের তাঁরাকুপি গ্রামে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত অপু মাঝি উপজেলার কটকস্থল গ্রামের ছালেক মাঝির ছেলে। এই দুর্ঘটনার পর কিছুক্ষণের জন্য মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৩২৮৩) বরিশালের দিকে যাচ্ছিল।

পথিমধ্যে বাসটি সকাল ১০টার দিকে গৌরনদীর তাঁরাকুপি এলাকা বেপরোয়া গতিতে অতিক্রমকালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলকে (বরিশাল-ল-১১-৯৭২৫) চাপা দেয়।

এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে বাসের নিচে আটকে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক অপু মাঝি মারা যান।

খবর পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে এবং দ্রুত মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তৌহিদুর ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি জব্দ করা হয়েছে।

নিহতের স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ফ্লাইট বাতিল: বিকল্প রুটে সৌদি ফিরছেন প্রবাসীরা

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬
ফ্লাইট বাতিল: বিকল্প রুটে সৌদি ফিরছেন প্রবাসীরা

নোয়াখালী সদরের মামুন। সৌদি আরবের রিয়াদে একটি কোম্পানির লরি চালান। গত দুই মাস আগে ৫ বছরের প্রবাস জীবনে প্রথম দেশে আসেন। গত ১১ অক্টোবর তার রিয়াদে ফিরতি ফ্লাইট ছিল। কিন্তু সেটি বাতিল হয়ে যায়।

তারপর ১২ তারিখও ফ্লাইটের টিকিট করেছিলেন। সেটিও বাতিল হয়ে যায়। মাত্র ৫ দিন ভিসার মেয়াদ থাকায় টেনশনে পড়ে যান মামুন। অবশেষে আজ ১৫ অক্টোবর মদিনার ফ্লাইটের টিকিট পান। যুদ্ধ আতঙ্ক থাকলেও তিনি যে শেষ পর্যন্ত সৌদি আরব যেতে পারছেন তাতেই খুশি তিনি।

মামুনের সঙ্গে কথা হয় বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালে। তিনি বলেন, ভিসার মেয়াদ শেষ। যেতেও পারছি না। অনেক টেনশনে ছিলাম। অবশেষে মদিনা হয়ে যেতে পারছি।

মামুন বলেন, অনেক হয়রানি হতে হলো। এখন মদিনাতে আরেক হয়রানি অপেক্ষা করছে। মদিনা থেকে রিয়াদ যেতে বাসে সময় লাগবে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা। সেখানেও হয়রানির সঙ্গে খরচও আছে। আমাদের করার কিছু নেই। যেতেই হবে। এ কারণে অতিরিক্ত টাকা খরচ, ঝুঁকি সব মেনেই যাচ্ছি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

এ রকম হয়রানির শিকার মানিকগঞ্জের পারভেজ। তিনি বলেন, আমরা অনেক হয়রানি হলাম। একের পর এক ফ্লাইট বাতিল। মনে হচ্ছিল যেতেই পারবে না। কিন্তু মদিনা হয়ে যেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমার ভিসার মেয়াদ ৭ দিনের মতো আছে। কিন্তু এখনই যাচ্ছি, কারণ আবারও যদি সমস্যা হয়। আমরা জানি আতঙ্ক আছে, কিন্তু করার কিছু নাই। যেতেই হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আলামিন বলেন, রিয়াদ, দাম্মাম সব ফ্লাইট বাতিল। কবে চালু হবে কেউ জানে না। ভিসার মেয়াদও শেষ। এখন আমরা কী করবো! বাধ্য হয়ে মদিনা হয়ে যাচ্ছি। মদিনায় যাওয়ার পর সেখান থেকে রিয়াদ যাবো। সেখানেও ১৪ ঘণ্টা লাগবে। সরাসরি হলে এই ঝামেলা থাকতো না। কিন্তু আমরা কি করবো বলেন, আমাদের জীবন বাঁচাতে এটা ছাড়া কোনও নেই।

সরেজমিন বিমানবন্দর ঘুরে দেখা যায়, মদিনা হয়েই প্রবাসীরা রিয়াদ যাচ্ছেন। যাদের ভিসার মেয়াদ শেষের পথে মূলত তারাই টিকিট চেঞ্জ করে নিয়ে যাচ্ছেন। মদিনার বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ৩ টা ৫৫ তে। এ কারণে ১২টার মধ্যেই যাত্রীরা উপস্থিত হন। ফ্লাইট যাওয়ার কথায় তাদের মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ থেকে হাসিমুখ দেখা যায়।

যাত্রীরা জানান, গ্রাম থেকে টিকিট পরিবর্তন করতে বার বার আসা, মদিনা থেকে রিয়াদ যেতে খরচ। সবমিলিয়ে অতিরিক্ত ২০ থেকে ২৫ হাজার লাগছে। তারপরও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় যেতে পারায় তাদের চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ কেটে আনন্দের ঝলক লক্ষ্য করা যায়।

প্রসঙ্গত, গত ১০ অক্টোবর রিয়াদ বিমানবন্দর হুথিদের আক্রমণের শিকার হয়। এরপর দাম্মাম বিমানবন্দরেও আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র। এতে করে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার (১৪ অক্টোবর) পর্যন্ত ১০০ ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। আটকা পড়েন ১৫ হাজারের বেশি প্রবাসী।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সরাসরি মন্ত্রীর ই-মেইলে অভিযোগ জানানোর আহ্বান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৫, ২০২৬
প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সরাসরি মন্ত্রীর ই-মেইলে অভিযোগ জানানোর আহ্বান

বিমানবন্দরে প্রবাসীরা হয়রানির শিকার হলে অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি ই-মেইলে জানাতে বলেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রবাসীদের যে কোনো সমস্যা সমাধানে সরকার সর্বদা আন্তরিক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিমানবন্দরে হয়রানি সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে তা সরাসরি নিষ্পত্তির জন্য আমাদের ইমেইল [email protected]এ পাঠানো জন্য অনুরোধ করছি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের বন্দরে শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় আক্রান্ত বাংলাদেশিদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং শ্রম উইং সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমাদের ২ জন প্রবাসী নাগরিক মৃত্যুবরণ করেছেন এবং অনেকেই আহত হয়ে স্থানীয় কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আমরা সার্বক্ষণিক তাদের চিকিৎসার খোঁজ নিচ্ছি। আমি নিজেও আহতদের একজনের বাবার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে সমবেদনা জানিয়েছি ও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছি।

সৌদি প্রবাসীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এই ক্রান্তিকালীন সময়ে আপনারা সবাই অত্যন্ত সাবধানে ও নিরাপদ আশ্রয়ে থাকবেন। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি বাংলাদেশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

মন্ত্রী আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জের শ্রমজীবী মেয়েরা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে কাজ করতে পারেন, সেজন্য তাদের আবাসন সুবিধার জন্য মহিলা হোস্টেল এবং চিকিৎসা সহায়তার জন্য ৫ শয্যার হাসপাতাল সরজমিনে পরিদর্শন করেছি। এলাকার সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করতে আগামী ৭ নভেম্বর এই শ্রমজীবী মহিলা হোস্টেল এবং পাঁচ শয্যার হাসপাতালের কার্যক্রম পূর্ণ উদ্যোমে পুনরায় উদ্বোধন করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।

প্রবাসী বাবার দুর্দিনে সংসারের হাল ধরেছিলেন ফয়সাল, সড়কেই ঝরলো প্রাণ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৩, ২০২৬
প্রবাসী বাবার দুর্দিনে সংসারের হাল ধরেছিলেন ফয়সাল, সড়কেই ঝরলো প্রাণ

প্রবাসে কাজ না থাকায় দীর্ঘ দিন ধরে বাড়িতে টাকা পারছেন না প্রবাসী বাবা। তাই চারজনের ছোট্ট সংসারটির দায়িত্ব এসে পড়ে ১৮ বছরের তরুণ মো. ফয়সালের কাঁধে। কিন্তু হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় সড়কের ঝরে গেল সেই ফয়সালের প্রাণ।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা। প্রবাসী বাবার সংসারের হাল ধরা ফয়সালের মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের ছগুড়া-হাতিমারা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ফয়সাল কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পারুয়ারা গ্রামের জমশের বাড়ির প্রবাসী খোরশেদ আলমের বড় ছেলে। তিনি দেবিদ্বার জেলা পরিষদ মার্কেটের একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করতেন।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে বের হয়েছিলেন ১৮ বছরের তরুণ। কিন্তু আর ফেরা হলো না ১৮ বছর বয়সী তরুণ মো. ফয়সালের। কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দেবিদ্বারগামী একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে কুমিল্লাগামী মর্ডান পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলচালক ফয়সাল ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন ফয়সাল। তার বাবা খোরশেদ আলম প্রবাসে থাকলেও কাজ না থাকায় নিয়মিত বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারতেন না। ফলে অল্প বয়সেই পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে হয়েছিল ফয়সালকে। কাপড়ের দোকানে কাজ করে পরিবারের খরচ চালাতে সহযোগিতা করতেন তিনি।

ফয়সালের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। যে তরুণের আয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল পরিবার, তার চলে যাওয়া শোকের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, এই দুর্ঘটনার পর ফয়সালের বাড়িতে চলছে মাতম। এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সন্তান হারানোর শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ।

ফয়সালের ছোট ভাই সিয়াম (১৪) জানায়, সকালে খাওয়া-দাওয়া করে বাড়ি থেকে বের হয় তার ভাই। পরে তারা খবর পান, ফয়সাল সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

মিরপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. আনিছুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে আমাদের টিম গিয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। ঘাতক বাসটিও খুঁজে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।