২০ অক্টোবর ২০২৬

মার্কিন স্থল অভিযানের শঙ্কা, ইরানও প্রস্তুত আক্রমণে

প্রকাশ: বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬
মার্কিন স্থল অভিযানের শঙ্কা, ইরানও প্রস্তুত আক্রমণে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) শেষ হওয়ার পরপরই নতুন বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় ধরনের বদল এনে এখন আরও আক্রমণাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদুল্লাহ জাভানি জানান, দেশ রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে তাদের বাহিনী প্রস্তুত।

মে মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান 'ইসলামাবাদ স্মারক' সই করেন। তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যেই এই চুক্তি হয়েছিল। পরমাণু কর্মসূচির মতো ইস্যুগুলোকে পরে আলোচনার জন্য রেখে চুক্তিতে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।

স্মারকে বলা হয়েছিল, ৬০ দিনের মধ্যে ‘চূড়ান্ত চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হবে। এই চূড়ান্ত চুক্তি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদিত হবে এবং উভয় পক্ষের সম্মতিতে এর মেয়াদ বাড়ানো যাবে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সমঝোতার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে কোনো পক্ষই সমঝোতার মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়নি।

জাভানি বলেন, ‘শত্রুপক্ষ আগে যুদ্ধ শুরু করেছে। এত দিন আমরা আত্মরক্ষা করেছি। এখন আমরা আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে পারি।’

তবে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনার কথা তিনি প্রকাশ করেননি। প্রতিপক্ষের জন্য বড় ধরনের চমক (স্ট্র্যাটেজিক সারপ্রাইজ) অপেক্ষা করছে বলে সতর্ক করেন তিনি।

হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে গত সপ্তাহে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেন মোহেব্বি জানান, ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় আঘাতের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট ব্যবস্থায় আক্রমণ হবে।

ইরানের গণমাধ্যমগুলো বলছে, বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা স্থল হামলা চালানো হতে পারে।

সামরিক বিশ্লেষকরা এমন অভিযানের বাস্তবায়ন ও ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যুক্তরাষ্ট্র এই মুহূর্তে ইরানে কোনো স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি গত সপ্তাহে আইআরজিসির পুরোনো ও বিশ্বস্ত কমান্ডারদের সামরিক ও নিরাপত্তার শীর্ষে বসিয়েছেন। সামরিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের পরই আক্রমণাত্মক প্রতিরোধ ব্যবস্থা (অফেন্সিভ ডিট্যারেন্স) গড়ে তোলার ঘোষণা আসে।

আইআরজিসির নতুন প্রধান মেজর জেনারেল আহমেদ ওয়াহিদিকে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ নেতা। নির্দেশনায় শত্রুর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী আক্রমণাত্মক অভিযানের প্রস্তুতি রাখার কথা বলা হয়েছে।

ওয়াহিদি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সুসজ্জিত সেনাবাহিনীকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে।

শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধে ইরান হেরে গেছে। সাগরে নৌ-অবরোধ দিয়ে ইরানকে চারদিক থেকে ঘিরে রাখা হয়েছে। হরমুজকে খুব দ্রুত আমেরিকার ভূখণ্ড ঘোষণা করা হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। হোয়াইট হাউস পরে দাবি করে এই কথা ট্রাম্প ‘কৌতুক’ করে বলছেন।

জবাবে ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি ঘোষণা করেছেন, তাঁদের ভূখণ্ডে কোনো মার্কিন সেনা নামলে তাকে হত্যা বা বন্দি করলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। কোনো নারী এই কাজ করলে তাকে দ্বিগুণ অর্থ দেওয়া হবে।

হাতামি বলেন, ‘আগ্রাসনকারীদের আঘাত করার সব পথ খোলা রয়েছে।’

সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই ভিন্ন দাবি করেছেন। রেজাইয়ের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে স্থল অভিযানের কথা ভাবছিল। অপরিপক্ব পরিকল্পনার কারণে তারা পিছিয়ে গেছে।

রেজাই জানান, জুলাইয়ে দুই সপ্তাহের উত্তেজনার সময় মার্কিন বাহিনী তেহরান বা উত্তরাঞ্চলে হামলা করেনি। ১৫টি প্রদেশের প্রায় ৫০টি শহরে বোমাবর্ষণ করেছে। দক্ষিণ ইরানের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে এই বিমান হামলা চালানো হয়েছিল। সড়ক, সেতু, সমুদ্র নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার, রাডার ও উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়।

রেজাইয়ের ধারণা, হরমুজ প্রণালি দখল এবং ইসফাহানের পরমাণু কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য স্থল হামলার পথ তৈরিই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য।

রেজাই বলেন, ‘হরমুজে সেনা নামাতে অন্তত এক লাখ সৈন্যের প্রয়োজন। চল্লিশ বা পঞ্চাশ হাজার সৈন্য দিয়ে সম্ভব নয়। জাগ্রোস পর্বতমালা ও ফার্স প্রদেশ পার হওয়া সহজ নয়।’

ইরানের সামরিক বাহিনী দক্ষিণাঞ্চলের উপকূল ও দ্বীপগুলো রক্ষায় বড় প্রস্তুতি নিয়েছে। খার্গ দ্বীপের মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি টার্মিনালে নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে। হরমুজের চারপাশে দ্রুত মোতায়েনযোগ্য বিশেষ সেনা পাঠানো হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেশটির সামরিক মুখপাত্র মোহাম্মদ-রেজা আকরামিনিয়া বলেন, ‘আমাদের মাটিতে বিদেশি সেনাদের নামতে দেওয়া হবে না। মার্কিন বাহিনী আমাদের কোনো দ্বীপে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে আঘাত করা হবে।’

অন্যদিকে ইরাক, তুরস্ক, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্ত দিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ঠেকাতেও প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। ইরাকের কুর্দিস্তানে থাকা সশস্ত্র দলগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে আইআরজিসি।

সোমবার আইআরজিসির রাজনৈতিক প্রধান জাভানি জানান, ইসলামাবাদ সমঝোতার শর্ত যদি যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি মানে তবেই কেবল হরমুজ সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সমঝোতা চুক্তিতে দুই মাসের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়াকে যুদ্ধের জন্য বড় সংকট মনে করছে না তেহরান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাঘাই সাংবাদিকদের জানান, কোনো হুমকি বা আল্টিমেটামে ইরান নীতি পরিবর্তন করে না। জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার হিসাব মাথায় রেখেই সব সিদ্ধান্ত হয়।

হরমুজ প্রণালি আংশিক খুলে দেওয়ার বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। জটিল আইনি প্রক্রিয়া এবং কিছু পক্ষের বাধা সৃষ্টির কারণে সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ইসরায়েলের গণহত্যা

গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭৫ মরদেহ উদ্ধার, একসঙ্গে জানাজা

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭৫ মরদেহ উদ্ধার, একসঙ্গে জানাজা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা ৭৫ ফিলিস্তিনিকে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে রোববার।

দখলদার ইসরায়েলের চালানো হামলায় ভবন ধসে এসব মানুষ নিহত হয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তারা সেগুলোর ভেতর পড়ে ছিলেন।

এখন এই মরদেহগুলো উদ্ধার করে একসঙ্গে সবার জানাজা পড়ে তাদের কবরস্থ করা হবে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজা সিটির দারাজ এলাকা থেকে ৭৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে গাজার সিভিল ডিফেন্সের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনও ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে প্রায় আট হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় গণহত্যা শুরু করে দখলদাররা। তিন বছর ধরে চালানো তাদের হামলায় ফিলিস্তিনের এ উপত্যকায় ৭৪ হাজার ৪৬৯ জন নিহত এবং এক লাখ ৭৫ হাজার ৪৯২ জন আহত হয়েছেন।

ধারণা করা হয়, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই সরকারি হিসাবের তুলনায় আসল নিহত ও আহতের সংখ্যা অনেক বেশি।

এবার সৌদিকে সামরিক সহায়তায় প্রস্তুত মিসর

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
এবার সৌদিকে সামরিক সহায়তায় প্রস্তুত মিসর

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের তিন অঞ্চলে চারটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এদিকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে দেশটিকে সুরক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রিয়াদ, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে চারটি ড্রোন শনাক্ত করে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হুথিদের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার পাশাপাশি তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রে হামলার ভিডিও প্রকাশ করেন।

গত জুলাইয়ে হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা বেড়েছে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর অন্তত ২০ বার হামলার শিকার হয়েছে। গত সপ্তাহে বিমানবন্দরে চালানো একটি হামলায় ১৩ জন নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সদর দপ্তর এডেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন। এ হামলার জন্য হুথিদের দায়ী করে ইয়েমেন সরকার।

শুক্রবার ইয়েমেন সরকার জানায়, হুথিরা এডেন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। একই সময়ে সরকারি বাহিনী রাজধানী সানার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত মারিব প্রদেশে অগ্রসর হওয়ার দাবি করে।

সৌদি আরব ইয়েমেন সরকারের হুথিবিরোধী সামরিক অভিযান ‘ডন অব ইয়েমেন’-এ সমর্থন দিচ্ছে। পাশাপাশি রাজধানী সানার একটি তেল স্থাপনাসহ হুথিদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলাও চালিয়েছে দেশটি।

সৌদিকে সুরক্ষায় প্রস্তুত মিসর

শনিবার মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হলে দেশটিকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে কায়রো।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা মিসরের নেই। তবে সৌদি আরবের ক্ষতি করা হলে মিসর নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না।

আল-সিসি স্পষ্ট করেন, তার বক্তব্য কাউকে আক্রমণ করা বা কারও সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার বিষয়ে নয়; বরং এটি কেবল প্রতিরক্ষার প্রশ্ন।

প্রেসিডেন্টের অনুরোধে রোববার মিসরের পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশন ডাকার কথা রয়েছে।

এদিকে সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, হুথিদের সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধিতে ইরান উৎসাহ জোগাচ্ছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সংঘাত নিরসনে একটি সমন্বিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই একমাত্র বাস্তবসম্মত ও টেকসই পথ।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে সৌদি আরবে অবস্থিত কয়েকটি দেশের দূতাবাস নাগরিকদের ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং বিমানবন্দর ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে।

এ ছাড়া হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে রিয়াদ ও পার্শ্ববর্তী দিরিয়াহ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দূরশিক্ষণ কার্যক্রমের মেয়াদ বাড়িয়েছে সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা সিসির

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা সিসির

মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ঘোষণা করেছেন, আগামী ২০৩০ সালেই শেষ হচ্ছে তার প্রেসিডেন্সির মেয়াদ। এই বিষয়টি নিয়ে কোনো রকম আলোচনার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, দেশের সংবিধানেও আর কোনো পরিবর্তন আনা হবে না।

শনিবার মিসরীয় মিলিটারি একাডেমির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ৭১ বছর বয়সী এই নেতা বলেন, ২০৩০ সালটি তাঁর মেয়াদের চূড়ান্ত সময় হিসেবে নির্ধারিত এবং বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে মীমাংসিত।

রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে সক্ষম নেতৃত্ব তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তিনি দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন উল্লেখ করে সিসি জানান, নতুন প্রজন্মের যোগ্য নেতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে মিসরীয় সামরিক একাডেমি।

২০১৩ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে সিসি ক্ষমতায় আসেন।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে মিসরের বিভিন্ন কারাগারে ৬০ হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১ হাজারের বেশি নারী।

এছাড়া চিকিৎসা অবহেলা ও মানবেতর পরিবেশের কারণে সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসি সহ একাধিক বিরোধী নেতার কারাগারে মৃত্যুর খবর উঠে এসেছে এসব সংস্থার প্রতিবেদনে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

সৌদিতে হুতিদের ‘বেপরোয়া’ হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জাতিসংঘ

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২৬
সৌদিতে হুতিদের ‘বেপরোয়া’ হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জাতিসংঘ

সৌদি আরবের ওপর ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের অব্যাহত ও ক্রমবর্ধমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। এসব হামলার মধ্যে সৌদি রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে চালানো ‘বেপরোয়া হামলাও’ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে নিরাপত্তা পরিষদ এ নিন্দা জানায়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলতি মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২০ বার হামলা চালানো হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে চালানো একটি হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ও গ্রিসের প্রতিনিধি ইভাঞ্জেলোস সেকেরিসের প্রকাশ করা যৌথ বিবৃতিতে ১৫ সদস্যের পরিষদ জানায়, সৌদি আরবের ওপর হুতিদের অব্যাহত ও ক্রমবর্ধমান হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হুতিদের ধারাবাহিক হামলা ও হুমকিরওদ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের নিজস্ব অধিকার রয়েছে বলে নিরাপত্তা পরিষদ নিশ্চিত করেছে।

বিমানবন্দরে হামলার পর বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা মদিনা অঞ্চলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। ইসলামের অন্যতম পবিত্র শহর মদিনায় হামলার এ খবর সামনে এলেও হুতিরা এর দায় অস্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি এর আগে একাধিকবার বলেছে, তারা ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোতে হামলা চালাবে না।

এদিকে, বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের অন্তর্বর্তী রাজধানী এডেনে দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুতিরা। হামলায় প্রাসাদ চত্বরে অবস্থিত কমান্ড সেন্টারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব কেন্দ্র ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী এবং তাদের সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ব্যবহার করত।

ইয়েমেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাসিম বুহাইবেহ জানিয়েছেন, এ হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ওই স্থানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মী এবং বেসামরিক কর্মচারীরা রয়েছেন।

২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর গত সেপ্টেম্বরে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হয়ে ওঠে।

হরমুজে ভাসছে আইফোন ও দামি পারফিউম, কোথা থেকে এলো এসব?

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬
হরমুজে ভাসছে আইফোন ও দামি পারফিউম, কোথা থেকে এলো এসব?
হরমুজ প্রণালিতে সাগরে ভাসতে দেখা গেছে আইফোন ও দামি পারফিউমের বোতল। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মালিকানাধীন একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর সাগরে ভাসতে দেখা গেছে আইফোন ও দামি পারফিউমের বোতল। বুধবার সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেইনারবাহী জাহাজ জিএফএস প্রাইড ডুবে যাওয়ার পর এসব পণ্য সংগ্রহ করতে ছোট নৌকা নিয়ে সাগরে নামতে দেখা যায় কয়েকজনকে।

জাহাজটি একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনও ধরনের প্রজেক্টাইলের আঘাতে ডুবে গেছে বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ। তবে ইরানের দাবি, ‘জাহাজটি নৌমাইনের আঘাতে ডুবেছে’।

ইন্ডিয়া টুডে টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ডুবে যাওয়া জাহাজের আশপাশে সাগরে ছড়িয়ে থাকা পণ্য ছোট নৌকায় সংগ্রহ করতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি।

জাহাজটিতে আগুন ধরে যাওয়ার পর সেটি ডুবে যায়। সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজের ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।

জিএফএস প্রাইডে দুবাই থেকে পরিবহন করা প্রায় ২ হাজার ৫০০ কনটেইনার পণ্য ছিল বলে জানা গেছে। এসব পণ্যের মধ্যে দামি পারফিউম ও আইফোনও ছিল।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দাবি, নৌমাইনের আঘাতে জাহাজটি ডুবে গেছে। তবে সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ বলছে, অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। জাহাজটি কীভাবে ডুবেছে, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

সূত্র: দ্য সিএস জার্নাল