১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরান-সৌদি সম্পর্ক: আস্থার সংকট কাটাতে যৌথ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব ইরাকের

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬
ইরান-সৌদি সম্পর্ক: আস্থার সংকট কাটাতে যৌথ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব ইরাকের

ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে আস্থার সংকট কাটিয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে দুই দেশের জন্য একটি যৌথ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ইরাক।

দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রবিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি বলেন, বাগদাদ ইতোমধ্যে তেহরান ও রিয়াদের কাছে এ প্রস্তাব তুলে ধরেছে। তবে প্রস্তাবিত পরিষদের কাঠামো, দায়িত্ব ও কার্যপ্রণালি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। ইরান বা সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইরাকিয়া টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আল-আরাজি বলেন, “দুই দেশের মধ্যকার সমস্যা মূলত আস্থার সংকট।”

তার মতে, এই আস্থার ঘাটতি দূর করতে সরাসরি নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই প্রস্তাব
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইরাকের এই উদ্যোগ সামনে এলো। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, সৌদি আরব ও তাদের মিত্রদের ঘিরে বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সামরিক ইস্যুতে উদ্বেগ বেড়েছে।

এরই মধ্যে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারা উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এবং বিরোধগুলো শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতির বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিরাপত্তা, আঞ্চলিক প্রভাব এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঘিরে পারস্পরিক অবিশ্বাস এখনও পুরোপুরি কাটেনি।

ইরাকের ভূখণ্ড থেকে ড্রোন হামলার অভিযোগ
বাগদাদের নতুন প্রস্তাবের পেছনে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গত ২৭ জুলাই সৌদি আরব জানিয়েছিল, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপিত বেশ কয়েকটি ড্রোন তারা শনাক্ত ও ধ্বংস করেছে। এসব ড্রোন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং রাজধানী রিয়াদে তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল বলে রিয়াদ দাবি করে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ এসব হামলার জন্য ‘ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া’ গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে এবং প্রয়োজন হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণের কথা জানায়।

অন্যদিকে, ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি একই দিন দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে তদন্তের নির্দেশ দেন। সৌদি আরবের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ড্রোনগুলো ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়।

ইরাকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণেও জোর
ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি একই সঙ্গে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি বলেন, দেশের সব অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা ‘সম্পূর্ণভাবে ইরাকের নিজস্ব কৌশলগত সিদ্ধান্ত’।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুদ্ধ ও শান্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার ইরাকি রাষ্ট্রের।

ইরাকে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির নিরাপত্তা ও রাজনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এসব গোষ্ঠীর কিছু অংশ পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) কাঠামোর ভেতরে থাকলেও অন্য কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী এর বাইরে সক্রিয় রয়েছে।

গত ৩ জুন ইরাকি সেনাবাহিনী অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে নেওয়ার লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কমিটিটিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইরাকের মধ্যস্থতার নতুন উদ্যোগ
ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে এর আগেও ইরাক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। এবার দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব সেই মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাগদাদের প্রস্তাব বাস্তবে রূপ নিলে তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সরাসরি যোগাযোগের একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে ইরান ও সৌদি আরব এখনও প্রস্তাবটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া না জানানোয় উদ্যোগটি কতটা এগোবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

বাব আল-মান্দেব পুরোপুরি বন্ধের হুমকি হুথিদের

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
বাব আল-মান্দেব পুরোপুরি বন্ধের হুমকি হুথিদের

ইয়েমেনের হুথিরা যেকোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ার দিয়েছে। সামরিক অভিযান চালানো হলে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালি তারা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। শনিবার আল-জাজিরা অনলাইন এ তথ্য জানিয়েছে।

ইয়েমেনের শক্তিশালী হুথি বাহিনী বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অবস্থিত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপটি শুক্রবার দখল করে নিয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌ-চলাচলের পথে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরো বিস্তৃত হলো।

হুথিরা জানিয়েছে, শুধুমাত্র সৌদি জাহাজগুলোকেই লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব অতিক্রম করা থেকে বিরত রাখা হবে। আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো যদি তাদের ওপর আক্রমণের জন্য কোনো সমন্বিত উদ্যোগ নেয়, তবে বাব আল-মান্দেবকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিতেও তাদের কোনো আপত্তি নেই।

অতীতে, আনসারুল্লাহ হুথিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে সফলভাবে অবরোধ কার্যকর করতে সক্ষম হয়েছিল, যার ফলে সৌদি জাহাজ এবং ইসরায়েলের সাথে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর লোহিত সাগর দিয়ে চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

ওই সময় স্থলভাগের ৩০০ কিলোমিটার (১৮৬ মাইল) ভেতর থেকে পাহাড়ের চূড়া ব্যবহার করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল, যা লোহিত সাগরে থাকা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছিল। অর্থাৎ, সফল অবরোধ কার্যকর করার জন্য হুথিদের ওই এলাকায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা সার্বক্ষণিক উপস্থিতির প্রয়োজন ছিল না।

হুথিরা এখন বাব আল-মান্দেব থেকে ২০০ কিলোমিটার দূর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ার পরিবর্তে, উপকূল থেকেই স্বল্প-পাল্লার জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বা ‘ড্রোন বোট’ ব্যবহার করে সৌদি জাহাজ ও ট্যাঙ্কারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম।

এছাড়া বাব আল-মান্দেবের উত্তরে অবস্থিত হানিশ দ্বীপপুঞ্জের ওপরও গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এই দ্বীপগুলো একটি জলপথের চেকপয়েন্ট হিসেবে কাজ করে এবং লোহিত সাগরে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি ও রাডারভিত্তিক পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে হুথিদের বাড়তি সক্ষমতা প্রদান করে।

পাশাপাশি, তারা পূর্ব এশিয়া, ভারত মহাসাগর, আরব সাগর এবং এডেন উপসাগর থেকে আসা জাহাজগুলোর ওপরও নজর রাখতে পারে—যা এই কৌশলগত অবস্থানটি দখলের আগে তাদের পক্ষে করা কঠিন ছিল।

৩ দেশে ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের ঘোষণা, ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করল ইসরায়েল

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
৩ দেশে ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের ঘোষণা, ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করল ইসরায়েল

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনার জবাবে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার এ ঘোষণা দেন।

গিডিয়ন সার বলেন, গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় মিশনেও যুক্তরাজ্যকে আর অংশ নিতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সাবেক লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনসহ কয়েকজন ব্রিটিশ নেতা এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ইসরায়েলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটিশ সরকারের পদক্ষেপকে ‘নৈতিকভাবে বিকৃত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নির্মূলের অভিযোগ নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যকেও তিনি ‘আপত্তিকর মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন।

পূর্ব জেরুজালেমের ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইসরায়েলের অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনে যুক্তরাজ্য হস্তক্ষেপ করছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সমন্বয় করে এ পালটা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান গিডিয়ন সার।

এর আগে পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা। ৩ দেশের নেতারা বলেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান রক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এ উদ্যোগের পক্ষে তারা প্রচার চালাবেন।

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই সবচেয়ে কার্যকর পথ। তার মতে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এ লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে।

জাতিসংঘ, ফিলিস্তিন এবং বিশ্বের অধিকাংশ দেশ পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ মনে করে। তবে ইসরায়েল এ অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে।

এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল সরকার পশ্চিম তীরের কট্টরপন্থী কিছু বসতি স্থাপনকারীকে অর্থায়ন করছে। এসব বসতি স্থাপনকারী অবৈধ আউটপোস্ট ও খামার ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন

ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে তাড়ানোর কাজ চলছে, স্বীকার করল ইসরায়েল
ইরানে নাকাল যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ঘাঁটি কমানোর বড় পরিকল্পনা

ইসরাইলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান

ইসরায়েলে নেসেট নির্বাচনের প্রচারণায় কাতারকে ‘শত্রু’ রাষ্ট্র ঘোষণা নেতানিয়াহুর

ইরানে নাকাল যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ঘাঁটি কমানোর বড় পরিকল্পনা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ইরানে নাকাল যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ঘাঁটি কমানোর বড় পরিকল্পনা
কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ হলে মধ্যপ্রাচ্যে সেনা ও সামরিক স্থাপনার সংখ্যা কমানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী বছর থেকে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এ বিষয়ে সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন বলে ছয়টি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে।

এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে এটি হবে বড় পরিবর্তন। গত ২৫ বছরে অঞ্চলটি থেকে সরে আসার নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের কারণে বারবার সেখানে ফিরে এসেছে ওয়াশিংটন।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। এ ছাড়া দুটি বিমানবাহী রণতরি, ডজনের বেশি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ বিপুল সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন আছে। তবে ইরানের সঙ্গে কয়েক মাসের সংঘাতে এসব ঘাঁটির দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একাধিক মার্কিন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

আলোচনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতি কতটা রাখা হবে, তা নিয়ে কয়েকটি বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু স্থাপনা পুনর্নির্মাণ না করা এবং স্থায়ী ঘাঁটি ছাড়াই কিছু স্পর্শকাতর অভিযান পরিচালনার বিষয় রয়েছে।

কিছু ঘাঁটি ভূগর্ভে নেওয়ার পরিকল্পনা
মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা বাড়াতে কিছু সামরিক স্থাপনা ভূগর্ভে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ও বিবেচনা করা হচ্ছে। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ঘাঁটিগুলোর দুর্বলতা প্রকাশ পাওয়ার পর এই পরিকল্পনা নতুন গুরুত্ব পেয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এসব দুর্বলতা আগে থেকেই জানা ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট জরুরি পদক্ষেপ নেয়নি।

দুটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী বছর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েনের কাঠামো পরিবর্তনের জন্য কয়েকটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে সামরিক বাহিনী। তবে সংঘাত চলমান থাকায় বিমান হামলা পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানগুলো এখনই ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা কম।

৯/১১-এর পর বেড়েছিল উপস্থিতি
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়। আফগানিস্তান ও ইরাকের যুদ্ধ এবং পরে বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের জন্য সেখানে বড় ধরনের সামরিক ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরাকে আগ্রাসনের সময় ২০০৩ সালে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন সেনা ছিল। ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এ সংখ্যা কখনো এক লাখের নিচে নামেনি।

২০১১ সালে বারাক ওবামা আফগানিস্তান ও ইরাক থেকে সেনা কমানোর উদ্যোগ নেন। কিন্তু ইরাকে আইএসের উত্থানের পর আবার মার্কিন সেনা পাঠাতে হয়। এরপরও মধ্যপ্রাচ্যে ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করেছে।

পুনর্নির্মাণ নিয়েও অনিশ্চয়তা
ইরানের হামলায় বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতের মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়াদে সিআইএর একটি ঘাঁটি কার্যত ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা ও সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

ক্ষতিগ্রস্ত কিছু স্থাপনা আর পুনর্নির্মাণ করা হবে না— এমন সম্ভাবনাও রয়েছে। এর পেছনে বিপুল ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। পেন্টাগনের কর্মকর্তারা বলেছেন, এসব স্থাপনা কীভাবে বা আদৌ পুনর্নির্মাণ করা হবে কি না, তা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সামরিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করবে।

পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে মার্কিন সেনা কমিয়ে আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর প্রতিরক্ষার আরও বেশি দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষপাতী বলেও সূত্রগুলো জানিয়েছে।

তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ‘ফোর্স পোস্টার রিভিউ’ শুরু হয়নি। কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনের প্রবণতা বিবেচনায় রেখে সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে সংঘাত কত দিনে শেষ হবে, তারও কোনো স্পষ্ট সময়সীমা নেই। বিশ্লেষকের ধারণা, ইরানের নেতৃত্ব কয়েক মাসের অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করতে প্রস্তুত এবং নিকট ভবিষ্যতে তাদের নতি স্বীকার করার সম্ভাবনা কম।

স্বল্প মেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও সেনারা ইরানের হামলার ঝুঁকিতে থাকবে। মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা সম্প্রতি বলেছেন, বাহরাইনে পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা ‘শিগগিরই’ ফিরছেন না।

ইসরাইলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ইসরাইলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান
প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান

তুরস্ককে ঘিরে শত্রুতামূলক কোনো তৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না বলে দখলদার ইসরাইলকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আঙ্কারায় মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এরদোগান বলেন, আঞ্চলিকভাবে তুরস্ককে ঘিরে ফেলার যে কোনো প্রচেষ্টা আঙ্কারা নীরবে দেখবে না। তবে কোনো দেশ, সমাজ, ধর্ম বা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তুরস্কের শত্রুতা নেই বলেও জানান তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের জন্য ইসরাইলকে দায়ী করে এরদোয়ান বলেন, ইসরাইলের উসকানি ও কর্মকাণ্ডের প্রভাব শুধু ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলো নয়, পুরো অঞ্চলকেই ভোগ করতে হচ্ছে। ইসরাইলের ‘মিথ্যাচার ও নাশকতার’ কারণে ইসলামাবাদ সমঝোতাও কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্ক আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন এরদোগান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ঐক্য ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

অন্যদিকে উত্তর সাইপ্রাসের উপকূলে জাহাজডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের উদ্ধারে তুরস্ক ৯টি জাহাজ ও ১১টি বিমান দিয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রমে সহায়তা করছে বলে জানান এরদোগান।

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও তুরস্কের অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধির পথে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী, প্রতিযোগিতামূলক ও স্থিতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

ইসরায়েলে নেসেট নির্বাচনের প্রচারণায় কাতারকে ‘শত্রু’ রাষ্ট্র ঘোষণা নেতানিয়াহুর

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
ইসরায়েলে নেসেট নির্বাচনের প্রচারণায় কাতারকে ‘শত্রু’ রাষ্ট্র ঘোষণা নেতানিয়াহুর

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৩ সালে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর এটি ইসরায়েলের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে গাজা যুদ্ধ , অর্থনীতি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর চাপ ততই বাড়ছে। নির্বাচনের আগে এসব বিষয় প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে । তাই ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে কাতার ও গাজায় মানবিক সহায়তার নামে হামাসের অর্থায়ন নিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

আই২৪নিউজ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, কাতারে বোমা হামলা চালানোর কথা স্বীকার করার পাশাপাশি তা সঠিক ছিল বলে অহংকার করেছেন নেতানিয়াহু। তবে, সাহায্যের নামে গাজায় পাঠানো কোটি কোটি ডলার অন্যত্র ব্যববহৃত হওয়ার অভিযোগ নাকচ করেছেন।

ওই সাক্ষাৎকারে কাতারকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র আখ্যা দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, আমি কাতারে হামলা চালিয়েছি এবং বোমা মেরেছি। গাজায় চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের নীতি নির্ধারণে কাতারের কোনো ক্ষমতা নেই।

সাক্ষাৎকারে গাজায় মানবিক সহায়তার জন্য কোটি কোটি ডলার পাঠানোর বিষয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তিনি জানান, এসব অর্থ মানবিক সহায়তার জন্য দেওয়া হয়েছিল। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের তত্তবাধায়নে তা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।

তবে, নেতানিয়াহুর সমালোচকদের দাবি, কাতারের পাঠানো অর্থ হামাসকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার প্রস্তুতিতে সহায়তা করেছে।

এদিকে, হামাসকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে কাতার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ গত বছর দোহা ফোরামে বলেছিলেন, কাতারের অর্থ দিয়ে হামাসকে অর্থায়নের দাবি ভিত্তিহীন। কাতারের সব সহায়তা গাজার মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং তা একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়া সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি অবগত ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রায় এক বছর আগেই, ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে হামাসের পাঁচ সদস্য এবং কাতারের এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। সে সময় হামাসের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন দোহায় ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল কাতার।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি ওই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি এটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলেও দাবি করেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস হামলাটিকে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানান।

পরে ইরান ও পাকিস্তানসহ অঞ্চলটির কয়েকটি দেশও ওই হামলার নিন্দা জানায়। কাতারের প্রতি সংহতি জানাতে জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের নেতারা দেশটিতে সফর করেছিলেন।

বিশ্লেষক ও সমালোচকদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী সমর্থন জোরদার করতে নেতানিয়াহু বারবার অন্যান্য দেশের সঙ্গে উত্তেজনা উসকে দিয়েছেন।