২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসরাইলের নীতি পরিবর্তন করা দরকার: সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
ইসরাইলের নীতি পরিবর্তন করা দরকার: সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট

ইসরাইলের নীতি পরিবর্তন করা দরকার। কারণ এটি নিজের চারপাশে সমস্যা তৈরি করছে। আমি বিশ্বাস করি সমস্যাটি ইসরাইলের সঙ্গেই, সিরিয়ার সঙ্গে নয়। নিউইয়র্ক সিটিতে আটলান্টিক কাউন্সিলে দেওয়া বক্তব্যে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এসব কথা বলেন।

সিরিয়ার সঙ্গে ইসরাইলের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং গোলান মালভূমি ফেরত পাওয়ার পূর্বশর্ত নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইসরাইলকে প্রথমে দক্ষিণ সিরিয়ার দখলকৃত এলাকা থেকে সরে যেতে হবে।

তিনি বলেন, গত এক বছরে সিরিয়া ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হয়েছে। তবে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আগে আসাদ সরকারের পতনের পর ইসরাইল দক্ষিণ সিরিয়ার যেসব এলাকা দখল করেছে, সেখান থেকে তাদের প্রত্যাহার করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এরপর আমরা নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনায় প্রবেশ করব। যদি সেই ব্যবস্থাগুলো সফল হয়, তাহলে আমরা স্থায়ী শান্তির দিকে যেতে পারি। জাতিসংঘের স্বীকৃতি অনুযায়ী গোলান মালভূমি সিরিয়ার ভূখণ্ড, তাই এ নিয়ে কোনো আলোচনার দরকার নেই।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরাইলিদের উদ্বেগের বিষয় এবং ইসরাইলি জনগণের প্রতি তার কোনো বার্তা আছে কি নাÑএমন প্রশ্নের জবাবে আল-শারা বলেন, ৭ অক্টোবর কিছু নিরীহ মানুষের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা তিনি বোঝেন। তবে একই ঘটনার ওপর সমস্ত নীতি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

তিনি আরো বলেন, একই সময়ে আমাদের বুঝতে হবে গাজায় কী ঘটেছে এবং সেখানে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ৭ অক্টোবর যা ঘটেছে, তা সিরিয়ার নীতি নির্ধারণ করবে, এটি উপযুক্ত নয়।

জাতিসংঘে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠ: জর্ডান, তুরস্ক ও কাতারের কঠোর সমালোচনা!

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
জাতিসংঘে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠ: জর্ডান, তুরস্ক ও কাতারের কঠোর সমালোচনা!

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন জর্ডান, তুরস্ক ও কাতারের নেতারা। জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ ইসরাইল সরকারের সম্প্রসারণবাদী নীতিকে ‘আঞ্চলিক হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো চাপের আহ্বান জানিয়েছেন। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক পর্যায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ বলেন, ইসরাইল সরকারের সম্প্রসারণবাদী আকাঙ্ক্ষা এখন আঞ্চলিক হুমকিতে পরিণত হয়েছে। তিনি বিশেষ করে দক্ষিণ সিরিয়ার পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ইসরাইল বারবার সীমান্ত অতিক্রম করছে, ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে এবং মাটিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে। তার মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রতিবার চোখ ফিরিয়ে নিলে ইসরাইল আরো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

জর্ডানের বাদশাহ বলেন, তার দেশের জন্য উত্তর সীমান্তের নিরাপত্তা এবং পানি নিরাপত্তার ওপর যেকোনো হুমকি জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি। দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরাইলের বর্তমান নীতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তা নিষ্ক্রিয়ভাবে মেনে নেবে কি না—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার, ইউএনআরডব্লিউএ এবং জেরুজালেমের মুসলিম ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর ঐতিহাসিক ও আইনগত মর্যাদা রক্ষায় জর্ডানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও জাতিসংঘের অধিবেশনের পার্শ্ববর্তী সময়ে কাতারের আমির শেখ তামিমের সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় শান্তির পথে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে ইসরাইলের অনীহা নিয়ে এরদোয়ান উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি ইসরাইলের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো চাপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।

এরদোয়ান ও শেখ তামিমের বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। বিনিয়োগ, বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও তারা আলোচনা করেন। আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে যে সমস্যা তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় জ্বালানি ও পরিবহন করিডর নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক পর্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংকট সমাধান পিছিয়ে দেওয়া এবং অস্থায়ী নীতির কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। তার মতে, বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংলাপ, আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকারের প্রতি সম্মানকে গুরুত্ব দিতে হবে।

কাতারের আমির মধ্যপ্রাচ্যে একটি আঞ্চলিক সম্মিলিত নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। তার মতে, এ ধরনের ব্যবস্থায় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকতে হবে।

গাজা নিয়েও তিন দেশের নেতাদের বক্তব্যে উদ্বেগ উঠে আসে। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে কাতার, জর্ডান, তুরস্কসহ আটটি আরব ও মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করে গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা গাজায় মানবিক সহায়তা দ্রুত ও নিরাপদভাবে পৌঁছানো এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্বাসনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার এবং একটি ন্যায়সংগত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট অন্যতম প্রধান আলোচ্য হয়ে উঠেছে। ইরান যুদ্ধ, গাজা, পশ্চিম তীর, সিরিয়া এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন দেশের নেতারা বক্তব্য দিচ্ছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।

হুথিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদিকে সামরিক সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
হুথিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদিকে সামরিক সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য

হুথিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। সৌদি যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা করবে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ)।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এ ঘোষণা দিয়েছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন।

বার্নহাম বলেন, সৌদি যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা দিতে তিনি ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ)-কে অনুমতি দিয়েছেন। তবে এই সহায়তা কয়েক সপ্তাহের জন্য সাময়িকভাবে দেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।

ব্রিটিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই অভিযান শুরু হবে। একটি আরএএফ ভয়েজার ট্যাংকার বিমান সৌদি যুদ্ধবিমানগুলোকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করবে। এসব যুদ্ধবিমান ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অভিযানে থাকবে।

বার্নহাম বলেন, ‘আমি ব্রিটেন ও বৃহত্তর অঞ্চলের স্বার্থ রক্ষায় পদক্ষেপ নিচ্ছি। কারণ সৌদি আরব হামলার শিকার হচ্ছে, সামনে আরো অস্থিরতার আশঙ্কা রয়েছে। আমাদের তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলো খোলা রাখতে হবে।’

ইয়েমেনে এরই মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র হয়েছে। হুথিরা সৌদি আরবের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। গত শনিবার সৌদি রাজধানী রিয়াদকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তবে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি ঠেকিয়ে দেয়।

এর মধ্যে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের সমুদ্রপথে চলাচলের ওপর অবরোধ ঘোষণা করেছে হুথিরা। বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এই সমুদ্রপথ দিয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ এই পথে সৌদি আরবের বাণিজ্যিক জাহাজ ও দেশটির জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করছে গোষ্ঠীটি।

চলতি মাসের শুরুতে ইয়েমেনের উপকূলীয় এলাকায় আরো অগ্রসর হয় হুথিরা। তারা কৌশলগত বন্দরনগরী মোকা এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দ্বীপ দখল করে। এতে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের ওপর নজরদারির সক্ষমতা আরো বেড়েছে গোষ্ঠীটির।

হুথিদের এসব হামলার নিন্দা জানিয়েছে লন্ডন। যুক্তরাজ্য বলেছে, ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে অংশীদারদের সঙ্গে কাজ’ করবে তারা।

অতীতে যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি হামলা চালিয়েছে। তবে সর্বশেষ উত্তেজনার মধ্যে ওয়াশিংটন সামরিকভাবে হস্তক্ষেপে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

এ অবস্থায় হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। এর পরই যুক্তরাজ্যের সহায়তার সিদ্ধান্তের কথা জানা গেল। ব্রিটেনের পাশাপাশি ফ্রান্স, মিশর ও পাকিস্তানের কাছেও সৌদি আরব সহায়তা চেয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলি আগ্রাসন নিয়ে বিশ্বনেতাদের কঠোর বার্তা জর্ডানের বাদশাহর

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলি আগ্রাসন নিয়ে বিশ্বনেতাদের কঠোর বার্তা জর্ডানের বাদশাহর

ইসরাইল ভয়ংকর মাত্রার যুদ্ধাপরাধ করছে। দেশটি এখন একটি আঞ্চলিক হুমকি। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত মানবিক সংকটকে আরো গভীর করছে। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এসব মন্তব্য করেছেন জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। ফিলিস্তিন সংকট সামনে রেখে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

রাজা আবদুল্লাহ বলেন, বিশ্ব বর্তমানে ইতিহাসের একটি ‘অনন্য মুহূর্তে’ রয়েছে। প্রতিদিনই নতুন সংকট, ট্র্যাজেডি ও জরুরি পরিস্থিতি দেখা দিচ্ছে। কোন সংঘাত নিয়ে বিশ্ব দীর্ঘ সময় কূটনৈতিক তৎপরতা চালাবে, কোন যুদ্ধবিরতি ক্যামেরা সরে যাওয়ার পরও টিকে থাকবে এবং মানবিক দুর্ভোগ কখন অসহনীয় থেকে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হবে—এসবের ওপর আন্তর্জাতিক মনোযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি লেবানন, ইয়েমেন, সুদান ও ইরানের যুদ্ধের ব্যাপারে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকট শুধু ওই অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। ইরান যুদ্ধের এই অস্থিতিশীলতা অঞ্চলটির বাইরেও বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও মানুষের জীবনযাত্রায় দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে। মুম্বাই থেকে মাদ্রিদ, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা পর্যন্ত সাধারণ পরিবারের জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের ব্যয়েও এর প্রভাব দেখা যেতে পারে।

গাজা প্রসঙ্গে জর্ডানের রাজা বলেন, কয়েক দশক ধরে তিনি জাতিসংঘের এই মঞ্চে ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংঘাতের সমাধান না হওয়ার বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে আসছেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংঘাতের মূল কারণ সমাধানের পরিবর্তে সেটিকে শুধু ‘পরিচালনা’ করার পথ বেছে নিয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের দখলদারত্বের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, আন্তর্জাতিক আইন যদি কয়েক দশক ধরে উপেক্ষা করা যায়, তাহলে সেই আইনের মূল্য কী? আর এর লঙ্ঘনকে স্বীকৃতি না দিলে তা কীভাবে কার্যকর করা সম্ভব?

গাজা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘোষিত যুদ্ধবিরতির প্রথম ৩০০ দিনেই অন্তত ৩০০ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে । তিনি ইসরাইলি সরকারের বিরুদ্ধে গাজায় হামলা ও বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস অব্যাহত রাখা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকা থেকে সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতির অভিযোগ করেন।

রাজা আবদুল্লাহ বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে গাজার ফিলিস্তিনি জনগণ উপত্যকার মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ইসরাইলের নীতিকে আর শুধু ‘সাময়িক সামরিক ব্যবস্থা’ কিংবা ‘যুদ্ধের ফলাফল’ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এসব কর্মকাণ্ডকে ফিলিস্তিনি জীবন মুছে ফেলা এবং গাজায় নতুন ভৌগোলিক বাস্তবতা তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা উচিত।

পশ্চিম তীর নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জর্ডানের বাদশাহ। তার মতে, সেখানে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও সম্পত্তি ধ্বংস এবং তাদের বাস্তুচ্যুত করার ঘটনা বেড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইল পশ্চিম তীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে এবং বসতি সম্প্রসারণের পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের সেখান থেকে সরিয়ে দিতে চাইছে।

বাদশাহ আবদুল্লাহ আরো অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে ইসরাইলি সেনারা ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলার সময় দাঁড়িয়ে থাকে, হামলাকারীদের সুরক্ষা দেয় অথবা কখনো নিজেরাও সহিংসতায় অংশ নেয়। আহতদের কাছে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে বাধা দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগও তিনি করেন। বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে সেনারা যখন সহিংসতা প্রত্যক্ষ করে, সহায়তা করে বা তাতে অংশ নেয়, তখন বিষয়টিকে আর ‘কয়েকজন দাঙ্গাকারীর’ কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

পশ্চিম তীরের ইসরাইলি কর্মকাণ্ডকে ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির নীতি’ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে গাজা ও পশ্চিম তীরকে ফিলিস্তিনি জনগণের একটি অভিন্ন ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, গাজা ধ্বংস হয়েছে এবং পশ্চিম তীর কার্যত সংযুক্ত করে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কার্যকর একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নষ্ট হচ্ছে।

ইসরাইলের সঙ্গে শান্তির সুযোগ আরব বিশ্ব প্রত্যাখ্যান করেছে—এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন বাদশাহ আবদুল্লাহ। তিনি ২০০২ সালের সৌদি আরবের নেতৃত্বে প্রস্তাবিত আরব শান্তি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই উদ্যোগে শান্তি ও একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিনিময়ে ৫৭টি আরব ও মুসলিম দেশের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রস্তাব ছিল।

তিনি বলেন, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই প্রস্তাব বহাল রয়েছে। তার মতে, শান্তির অংশীদারের অভাব নয়, বরং তা গ্রহণে ইসরাইলি সরকারের অনিচ্ছাই বড় বাধা।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হাতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিভিন্ন উপায় রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জর্ডানের রাজা। এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ, বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার কথা বলেন তিনি। তবে ইসরাইলের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রস্তাব বাস্তবায়নের পরিবর্তে কাগজেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইসরাইলকে ‘আঞ্চলিক হুমকি’ উল্লেখ করে বাদশাহ আবদুল্লাহ বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ধরে না নেওয়া যে ইসরাইলের আকাঙ্ক্ষা শুধু ফিলিস্তিন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। সিরিয়ার পরিস্থিতিকে তিনি এ ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, ইসরাইল ধাপে ধাপে পরীক্ষা করছে—আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কতদূর পর্যন্ত তাদের কর্মকাণ্ড মেনে নেবে।

জর্ডানের বাদশাহ বলেন, তার দেশ ন্যায্য শান্তির প্রতি অঙ্গীকার থেকে সরে যাবে না। ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও প্রতিরোধক্ষমতার প্রতি সমর্থন এবং জেরুজালেমের মুসলিম ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর ঐতিহাসিক ও আইনগত মর্যাদা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, গাজা, সুদান, ইউক্রেন কিংবা বিশ্বের যেকোনো যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও ভয়ের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীতিগত অবস্থান পরিস্থিতির প্রতি বিশ্বের মনোযোগের সঙ্গে পরিবর্তিত হওয়া উচিত নয়। তার ভাষায়, ভবিষ্যৎ শুধু আমরা কী করি তার ওপর নির্ভর করে না; আমরা কোন বিষয়গুলো উপেক্ষা করতে বেছে নিই, তার ওপরও ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়।

ইসরাইলের নীতি পরিবর্তন করা দরকার: সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
ইসরাইলের নীতি পরিবর্তন করা দরকার: সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট

ইসরাইলের নীতি পরিবর্তন করা দরকার। কারণ এটি নিজের চারপাশে সমস্যা তৈরি করছে। আমি বিশ্বাস করি সমস্যাটি ইসরাইলের সঙ্গেই, সিরিয়ার সঙ্গে নয়। নিউইয়র্ক সিটিতে আটলান্টিক কাউন্সিলে দেওয়া বক্তব্যে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এসব কথা বলেন।

সিরিয়ার সঙ্গে ইসরাইলের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং গোলান মালভূমি ফেরত পাওয়ার পূর্বশর্ত নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইসরাইলকে প্রথমে দক্ষিণ সিরিয়ার দখলকৃত এলাকা থেকে সরে যেতে হবে।

তিনি বলেন, গত এক বছরে সিরিয়া ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হয়েছে। তবে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আগে আসাদ সরকারের পতনের পর ইসরাইল দক্ষিণ সিরিয়ার যেসব এলাকা দখল করেছে, সেখান থেকে তাদের প্রত্যাহার করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এরপর আমরা নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনায় প্রবেশ করব। যদি সেই ব্যবস্থাগুলো সফল হয়, তাহলে আমরা স্থায়ী শান্তির দিকে যেতে পারি। জাতিসংঘের স্বীকৃতি অনুযায়ী গোলান মালভূমি সিরিয়ার ভূখণ্ড, তাই এ নিয়ে কোনো আলোচনার দরকার নেই।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরাইলিদের উদ্বেগের বিষয় এবং ইসরাইলি জনগণের প্রতি তার কোনো বার্তা আছে কি নাÑএমন প্রশ্নের জবাবে আল-শারা বলেন, ৭ অক্টোবর কিছু নিরীহ মানুষের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা তিনি বোঝেন। তবে একই ঘটনার ওপর সমস্ত নীতি নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

তিনি আরো বলেন, একই সময়ে আমাদের বুঝতে হবে গাজায় কী ঘটেছে এবং সেখানে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ৭ অক্টোবর যা ঘটেছে, তা সিরিয়ার নীতি নির্ধারণ করবে, এটি উপযুক্ত নয়।

ইরানের ২৭ এয়ারলাইনসের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
ইরানের ২৭ এয়ারলাইনসের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ইরানের সবগুলো এয়ারলাইনসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসনেট জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকেই এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

বেসনেট জানান, বৈশ্বিক আকাশসীমা সব ইরানি এয়ারলাইনসের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ২৭টি ইরানি এয়ারলাইনসকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসনেট জানান, ইরানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে চীনের সঙ্গেও কথা হয়েছে।

আগামী দুই দিনের মধ্যে চীনা প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। বিবিসি জানায়, তাঁর এ সফরে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে।

সেপ্টেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করে। এই পরিকল্পনার আওতায় ব্যাংকিং ও বাণিজ্য খাত, প্রযুক্তি, বিমান চলাচল এবং শিপিং খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।