২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতিসংঘে নজিরবিহীন প্রতিবাদ:

নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরুর আগেই বাংলাদেশসহ ৭৭ দেশের ওয়াকআউট!

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরুর আগেই বাংলাদেশসহ ৭৭ দেশের ওয়াকআউট!

জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে ভাষণ দিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গাজায় নজিরবিহীন বর্বরতার পক্ষে সাফাই বক্তব্য শুরুর আগেই অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন বাংলাদেশসহ ৭৭টি দেশের প্রতিনিধি।

বক্তব্য দিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নাম ঘোষণা পরপরই প্রতিবাদী ওয়াকআউটে থমকে যায় বিশাল হলরুম। বেরিয়ে যান সৌদি আরব, ইরান, বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, স্পেনসহ মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা আর ওশেনিয়া অঞ্চলের ৭৭টি দেশের প্রতিনিধিরা।

এসময় ইসরাইলের প্রতিনিধিরা দেশাত্ববোধক শ্লোগান শুরু করলে বারবার শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান। ওয়াকআউটকারীদের কাপুরুষ বলে ভাষণ শুরু করেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী। যেখানে তিনি গাজায় গণহত্যা আর ফিলিস্তিনে ইহুদিদের অবৈধ বসতি স্থাপনের অভিযোগ বেমালুম অস্বীকার করেন।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু "বর্বরদের" বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের "সাহসী নেতৃত্ব" ও অংশীদারত্বের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এছাড়া গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এটিকে "এই শতাব্দীর সেরা মিথ্যা" বলেও অভিহিত করেছেন তিনি।

তার মতে, 'ইসরায়েল হলো "একই ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করা একটি জাতি—তা সে বামপন্থী বা ডানপন্থী, তরুণ বা প্রবীণ, ধর্মীয় কিংবা ধর্মনিরপেক্ষ যে-ই হোক না কেন। সংকটময় মুহূর্তে ইতিহাসের শিক্ষা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং সাহসের জোরে ইসরায়েলিরা একসূত্রে গেঁথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ায়।

এরপর নেতানিয়াহু ইসরায়েলের যুদ্ধের "অষ্টম ফ্রন্ট"-এর প্রসঙ্গে আসেন। ইসরায়েলের প্রতি বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সমালোচনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, 'কাতার—যারা হামাস নেতাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে—তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুল অর্থায়ন করে এবং আল জাজিরার মতো সংবাদমাধ্যমগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে বছরের পর বছর ধরে ইসরায়েল সম্পর্কে "মিথ্যা ছড়াতে" কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে। তিনি বলেন, তারা ইসরায়েল, আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্বকে ঘৃণা করার জন্য তরুণদের মগজধোলাই করছে।'

নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, জোহরান মামদানি নিউইয়র্কের মেয়র হওয়ার পর ইহুদি নগরবাসী নিজেদের নিরাপদ ভাবছেন না। আইসিসির পরোয়ানাভুক্ত নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী উল্লেখ করে নিউইয়র্কে গ্রেফতারের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মামদানি।

এদিকে, নেতানিয়াহুর উপস্থিতির প্রতিবাদে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। নিউইয়র্কে একাধিক বিক্ষোভ কর্মসূচিতে মিডিয়া সেলিব্রেটিরাও অংশ নেন। গ্রেফতার করা হয় বেশ কয়েকজনকে। ইসরাইলি নাগরিকদের একাংশ বিক্ষোভে শামিল হয়ে গাজায় গণহত্যার নিন্দা জানিয়েছেন।

গাজা গণহত্যাকে ‘শতাব্দীর সেরা মিথ্যা’ দাবি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর! কাতার ও তুরস্কের তীব্র সমালোচনা

নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েল গণহত্যা চালায়নি, বরং গণহত্যা প্রতিরোধ করেছে।’
প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
গাজা গণহত্যাকে ‘শতাব্দীর সেরা মিথ্যা’ দাবি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর! কাতার ও তুরস্কের তীব্র সমালোচনা

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু "বর্বরদের" বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের "সাহসী নেতৃত্ব" ও অংশীদারত্বের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এছাড়া গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এটিকে "এই শতাব্দীর সেরা মিথ্যা" বলেও অভিহিত করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে "সভ্যতাকে রক্ষা করার" জন্য কাজ করেছে। তারা গাজা থেকে বন্দিদের ফিরিয়ে আনতে একসঙ্গে কাজ করেছেন।' গত বছর মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া একটি চুক্তির মাধ্যমে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর হাতে বন্দি থাকা জীবিত ও মৃত সকল বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়।

তার মতে, 'ইসরায়েল হলো "একই ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করা একটি জাতি—তা সে বামপন্থী বা ডানপন্থী, তরুণ বা প্রবীণ, ধর্মীয় কিংবা ধর্মনিরপেক্ষ যে-ই হোক না কেন। সংকটময় মুহূর্তে ইতিহাসের শিক্ষা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং সাহসের জোরে ইসরায়েলিরা একসূত্রে গেঁথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ায়।

ইরানের সামরিক সক্ষমতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, 'একটি এক টনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যদি জাতিসংঘ সদরে আঘাত হানে, তবে তার ফল কী হবে?' উত্তরে তিনি নিজেই বলেন—'পুরো কম্পাউন্ড ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।'

তিনি বলেন, 'আমি ইসরায়েলের জনগণের সাহসিকতাকে স্যালুট জানাই। আমি আমাদের বীর সেনাদের সাহসিকতাকে স্যালুট জানাই—তারা ইহুদি, মুসলিম, খ্রিস্টান, দ্রুজ। আইডিএফ হলো বিশ্বের সবচেয়ে নীতিবান ও নৈতিক সেনাবাহিনী।'

এরপর নেতানিয়াহু ইসরায়েলের যুদ্ধের "অষ্টম ফ্রন্ট"-এর প্রসঙ্গে আসেন। ইসরায়েলের প্রতি বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সমালোচনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, 'কাতার—যারা হামাস নেতাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে—তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুল অর্থায়ন করে এবং আল জাজিরার মতো সংবাদমাধ্যমগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে বছরের পর বছর ধরে ইসরায়েল সম্পর্কে "মিথ্যা ছড়াতে" কোটি কোটি ডলার খরচ করেছে। তিনি বলেন, তারা ইসরায়েল, আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্বকে ঘৃণা করার জন্য তরুণদের মগজধোলাই করছে।'

তিনি আরও বলেন, 'তুরস্ক হলো নতুন দেশ যারা হামাসকে আশ্রয় দিচ্ছে এবং মিথ্যা ছড়াচ্ছে। তুরস্কের "স্বৈরাচারী" প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান হাজার হাজার কুর্দিদের হত্যা করেছেন, উত্তর সাইপ্রাস অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন, গ্রিসকে হুমকি দিচ্ছেন এবং সাংবাদিকদের কারাগারে বন্দি করছেন। তিনি প্রতিদিন ইসরায়েল ধ্বংসের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তিনি হবেন জেরুজালেমের শাসক। না মহাশয়, আপনি তা পারবেন না। এটি আমাদের শহর।'

৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে তুরস্ক ও ইসরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অবনতি ঘটেছে এবং অনেক ইসরায়েলি কর্মকর্তা আঙ্কারাকে তাদের অঞ্চলের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখেন।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এটিকে "এই শতাব্দীর সেরা মিথ্যা" বলে অভিহিত করেছেন।

বক্তব্যে তিনি গাজায় পোলিও টিকা প্রদান এবং ইসরায়েলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ খাদ্য সরবরাহ প্রবেশের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, 'বেসামরিক জনগণকে রক্ষা করতে আমরা অগণিত পদক্ষেপ নিয়েছি।'

ইসরায়েল যুদ্ধের অধিকাংশ সময় গাজায় খাদ্য প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল, তবে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে ত্রাণ সরবরাহ আটকে রাখে, যার ফলে ব্যাপক দুর্ভিক্ষের খবর ছড়িয়ে পড়ে। ত্রাণ সংস্থাগুলো এখনও জোর দিয়ে বলছে যে গাজায় আরও সরবরাহ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া উচিত।

যারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তোলে, তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত।' এরপর তিনি নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহারান মামদানির দিকে ঘুরে বলেন, 'বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইহুদি জনসংখ্যার এই শহরে ইহুদিরা এখন আর নিজেদের নিরাপদ মনে করেন না।'

তিনি মামদানিকে হামাসের সমর্থক বলে আখ্যায়িত করেন এবং দাবি করেন যে মেয়র তার বাড়িতে এমন একজন সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন যিনি "হামাস সন্ত্রাসীদের ইসরায়েলি জিম্মিদের প্রহার ও নির্যাতনের" দৃশ্য প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছিলেন। তিনি ইসরায়েলবিরোধী পোস্টে লাইক দেওয়ার জন্য মামদানির স্ত্রীরও সমালোচনা করেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর গ্রেফতারের দাবি জানানো এবং তাকে "যুদ্ধাপরাধী" আখ্যা দেওয়ায় মামদানির উদ্দেশ্যে নেতানিয়াহু বলেন, 'আপনি আমাকে স্তব্ধ করতে পারবেন না। আপনি সত্যকে চেপে রাখতে পারবেন না।' তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

নেতানিয়াহু বলেন, 'ইসরায়েল গণহত্যা চালায়নি, বরং গণহত্যা প্রতিরোধ করেছে।' তিনি আরও বলেন, 'মামদানির "হামাস সহযোগীরা" যদি সুযোগ পেত, তবে তারা শেষ ইহুদি পর্যন্ত সবাইকে হত্যা করত।'

তিনি মামদানিকে "ইহুদিবিদ্বেষী" বলে অভিহিত করেন এবং বলেন তার শহরে কেবল ইহুদি হওয়ার অপরাধেই ইহুদিদের ছুরিকাঘাত করা হয় এবং লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়। তিনি বলেন, 'অসহায় শিকার হিসেবে ইহুদিদের কসাইখানায় নিয়ে যাওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। আজ আমাদের একটি রাষ্ট্র আছে, আজ আমাদের একটি সেনাবাহিনী আছে।'

তিনি ইহুদিদের "মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর" আহ্বান জানান এবং "বর্বরদের" বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাকি সবাইকে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান।

নির্যাতিত মুসলিম সমাজের পাশে থাকার ঘোষণা জানালেন এরদোয়ান

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
নির্যাতিত মুসলিম সমাজের পাশে থাকার ঘোষণা জানালেন এরদোয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক বর্ণাঢ্য সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান প্রবাসে বসবাসরত মুসলিমদের ওপর সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

তিনি বলেছেন, বিশ্বজুড়ে মুসলিম সমাজকে কোনোভাবেই তাদের নিজস্ব ভাষা, মৌলিক সংস্কৃতি এবং শিকড় ভুলতে বাধ্য করা যাবে না। তারা নিজেদের পরিচয় অক্ষুণ্ণ রেখে যে দেশে বসবাস করছেন, সেই দেশের মূলধারার সমাজের সাথে স্বাভাবিকভাবে মিশে যাবেন বা অন্তর্ভুক্ত হবেন (ইন্টিগ্রেশন)। এরদোয়ান ঘোষণা করেন, মুসলিম সম্প্রদায় সামাজিক ও নাগরিক মূলধারায় যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে পুরোপুরি সম্মত হলেও জোরপূর্বক নিজস্ব সংস্কৃতি বিলীন করার অপচেষ্টাকে সম্পূর্ণ নাকচ করে।

নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক গথাম হলে তুর্কি-আমেরিকান ন্যাশনাল স্টিয়ারিং কমিটিসহ (টিএএসসি) একাধিক স্বনামধন্য ব্যবসায়ী ও মুসলিম নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে এই সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোতে মুসলমানদের বিদ্যমান সংকটজনক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধান।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুসলিমদের নিজস্ব সত্তা বজায় রাখার সুযোগ না দিয়ে বরং তাদেরকে স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে জোর করে মিলিয়ে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। নিজ মাতৃভাষায় কথা বলা বা নিজস্ব ঐতিহ্য চর্চা করা যে কোনো সমাজেই নাগরিক হিসেবে মানিয়ে নেওয়ার পথে বাধা হতে পারে না, সে বিষয়টিও অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন তিনি।

বক্তৃতায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট প্রবাসী সমাজকে স্বাগতিক দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলার তাগিদ দেন। ব্যক্তিপর্যায়ের সাফল্যগুলো যেন শুধু ব্যক্তিগত অর্জনে সীমাবদ্ধ না থাকে বরং সেগুলোকে স্থায়ী প্রতিষ্ঠান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সামাজিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায়, সেই লক্ষ্য অর্জনে তিনি একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধিষ্ণু বর্ণবাদ, ইসলামবিদ্বেষ এবং বিদেশাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রবাসী মুসলিম সম্প্রদায়কে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

একই সাথে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। প্রবাসীদের নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলে দলে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের মতামত ও রাজনৈতিক অবস্থান নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।

নিজেদের সামাজিক ও নাগরিক অধিকার সুসংহত করার লক্ষ্যে প্রবাসী সকল নাগরিকের ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক ঐক্য বজায় রাখার ওপর জোর দেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। এরদোয়ান আশ্বাস প্রদান করে বলেন, আঙ্কারা যেকোনো পরিস্থিতিতে বিশ্বমঞ্চে ও প্রবাসে তুর্কি নাগরিকসহ সমস্ত মুসলিম সমাজের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

জাতিসংঘে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠ: জর্ডান, তুরস্ক ও কাতারের কঠোর সমালোচনা!

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
জাতিসংঘে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠ: জর্ডান, তুরস্ক ও কাতারের কঠোর সমালোচনা!

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন জর্ডান, তুরস্ক ও কাতারের নেতারা। জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ ইসরাইল সরকারের সম্প্রসারণবাদী নীতিকে ‘আঞ্চলিক হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো চাপের আহ্বান জানিয়েছেন। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক পর্যায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ বলেন, ইসরাইল সরকারের সম্প্রসারণবাদী আকাঙ্ক্ষা এখন আঞ্চলিক হুমকিতে পরিণত হয়েছে। তিনি বিশেষ করে দক্ষিণ সিরিয়ার পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ইসরাইল বারবার সীমান্ত অতিক্রম করছে, ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে এবং মাটিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে। তার মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রতিবার চোখ ফিরিয়ে নিলে ইসরাইল আরো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

জর্ডানের বাদশাহ বলেন, তার দেশের জন্য উত্তর সীমান্তের নিরাপত্তা এবং পানি নিরাপত্তার ওপর যেকোনো হুমকি জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি। দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরাইলের বর্তমান নীতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তা নিষ্ক্রিয়ভাবে মেনে নেবে কি না—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার, ইউএনআরডব্লিউএ এবং জেরুজালেমের মুসলিম ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর ঐতিহাসিক ও আইনগত মর্যাদা রক্ষায় জর্ডানের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও জাতিসংঘের অধিবেশনের পার্শ্ববর্তী সময়ে কাতারের আমির শেখ তামিমের সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় শান্তির পথে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে ইসরাইলের অনীহা নিয়ে এরদোয়ান উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি ইসরাইলের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো চাপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।

এরদোয়ান ও শেখ তামিমের বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। বিনিয়োগ, বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও তারা আলোচনা করেন। আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে যে সমস্যা তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় জ্বালানি ও পরিবহন করিডর নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক পর্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংকট সমাধান পিছিয়ে দেওয়া এবং অস্থায়ী নীতির কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। তার মতে, বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংলাপ, আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকারের প্রতি সম্মানকে গুরুত্ব দিতে হবে।

কাতারের আমির মধ্যপ্রাচ্যে একটি আঞ্চলিক সম্মিলিত নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। তার মতে, এ ধরনের ব্যবস্থায় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকতে হবে।

গাজা নিয়েও তিন দেশের নেতাদের বক্তব্যে উদ্বেগ উঠে আসে। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে কাতার, জর্ডান, তুরস্কসহ আটটি আরব ও মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করে গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা গাজায় মানবিক সহায়তা দ্রুত ও নিরাপদভাবে পৌঁছানো এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্বাসনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার এবং একটি ন্যায়সংগত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট অন্যতম প্রধান আলোচ্য হয়ে উঠেছে। ইরান যুদ্ধ, গাজা, পশ্চিম তীর, সিরিয়া এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন দেশের নেতারা বক্তব্য দিচ্ছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।

হুথিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদিকে সামরিক সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
হুথিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদিকে সামরিক সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য

হুথিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। সৌদি যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা করবে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ)।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এ ঘোষণা দিয়েছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন।

বার্নহাম বলেন, সৌদি যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা দিতে তিনি ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ)-কে অনুমতি দিয়েছেন। তবে এই সহায়তা কয়েক সপ্তাহের জন্য সাময়িকভাবে দেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।

ব্রিটিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই অভিযান শুরু হবে। একটি আরএএফ ভয়েজার ট্যাংকার বিমান সৌদি যুদ্ধবিমানগুলোকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করবে। এসব যুদ্ধবিমান ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অভিযানে থাকবে।

বার্নহাম বলেন, ‘আমি ব্রিটেন ও বৃহত্তর অঞ্চলের স্বার্থ রক্ষায় পদক্ষেপ নিচ্ছি। কারণ সৌদি আরব হামলার শিকার হচ্ছে, সামনে আরো অস্থিরতার আশঙ্কা রয়েছে। আমাদের তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলো খোলা রাখতে হবে।’

ইয়েমেনে এরই মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র হয়েছে। হুথিরা সৌদি আরবের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। গত শনিবার সৌদি রাজধানী রিয়াদকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তবে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটি ঠেকিয়ে দেয়।

এর মধ্যে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের সমুদ্রপথে চলাচলের ওপর অবরোধ ঘোষণা করেছে হুথিরা। বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এই সমুদ্রপথ দিয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ এই পথে সৌদি আরবের বাণিজ্যিক জাহাজ ও দেশটির জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করছে গোষ্ঠীটি।

চলতি মাসের শুরুতে ইয়েমেনের উপকূলীয় এলাকায় আরো অগ্রসর হয় হুথিরা। তারা কৌশলগত বন্দরনগরী মোকা এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দ্বীপ দখল করে। এতে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের ওপর নজরদারির সক্ষমতা আরো বেড়েছে গোষ্ঠীটির।

হুথিদের এসব হামলার নিন্দা জানিয়েছে লন্ডন। যুক্তরাজ্য বলেছে, ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে অংশীদারদের সঙ্গে কাজ’ করবে তারা।

অতীতে যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি হামলা চালিয়েছে। তবে সর্বশেষ উত্তেজনার মধ্যে ওয়াশিংটন সামরিকভাবে হস্তক্ষেপে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

এ অবস্থায় হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। এর পরই যুক্তরাজ্যের সহায়তার সিদ্ধান্তের কথা জানা গেল। ব্রিটেনের পাশাপাশি ফ্রান্স, মিশর ও পাকিস্তানের কাছেও সৌদি আরব সহায়তা চেয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলি আগ্রাসন নিয়ে বিশ্বনেতাদের কঠোর বার্তা জর্ডানের বাদশাহর

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলি আগ্রাসন নিয়ে বিশ্বনেতাদের কঠোর বার্তা জর্ডানের বাদশাহর

ইসরাইল ভয়ংকর মাত্রার যুদ্ধাপরাধ করছে। দেশটি এখন একটি আঞ্চলিক হুমকি। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত মানবিক সংকটকে আরো গভীর করছে। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এসব মন্তব্য করেছেন জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। ফিলিস্তিন সংকট সামনে রেখে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

রাজা আবদুল্লাহ বলেন, বিশ্ব বর্তমানে ইতিহাসের একটি ‘অনন্য মুহূর্তে’ রয়েছে। প্রতিদিনই নতুন সংকট, ট্র্যাজেডি ও জরুরি পরিস্থিতি দেখা দিচ্ছে। কোন সংঘাত নিয়ে বিশ্ব দীর্ঘ সময় কূটনৈতিক তৎপরতা চালাবে, কোন যুদ্ধবিরতি ক্যামেরা সরে যাওয়ার পরও টিকে থাকবে এবং মানবিক দুর্ভোগ কখন অসহনীয় থেকে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হবে—এসবের ওপর আন্তর্জাতিক মনোযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি লেবানন, ইয়েমেন, সুদান ও ইরানের যুদ্ধের ব্যাপারে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংকট শুধু ওই অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। ইরান যুদ্ধের এই অস্থিতিশীলতা অঞ্চলটির বাইরেও বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও মানুষের জীবনযাত্রায় দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে। মুম্বাই থেকে মাদ্রিদ, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা পর্যন্ত সাধারণ পরিবারের জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের ব্যয়েও এর প্রভাব দেখা যেতে পারে।

গাজা প্রসঙ্গে জর্ডানের রাজা বলেন, কয়েক দশক ধরে তিনি জাতিসংঘের এই মঞ্চে ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংঘাতের সমাধান না হওয়ার বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে আসছেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সংঘাতের মূল কারণ সমাধানের পরিবর্তে সেটিকে শুধু ‘পরিচালনা’ করার পথ বেছে নিয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের দখলদারত্বের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, আন্তর্জাতিক আইন যদি কয়েক দশক ধরে উপেক্ষা করা যায়, তাহলে সেই আইনের মূল্য কী? আর এর লঙ্ঘনকে স্বীকৃতি না দিলে তা কীভাবে কার্যকর করা সম্ভব?

গাজা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘোষিত যুদ্ধবিরতির প্রথম ৩০০ দিনেই অন্তত ৩০০ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে । তিনি ইসরাইলি সরকারের বিরুদ্ধে গাজায় হামলা ও বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস অব্যাহত রাখা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকা থেকে সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতির অভিযোগ করেন।

রাজা আবদুল্লাহ বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে গাজার ফিলিস্তিনি জনগণ উপত্যকার মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ইসরাইলের নীতিকে আর শুধু ‘সাময়িক সামরিক ব্যবস্থা’ কিংবা ‘যুদ্ধের ফলাফল’ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এসব কর্মকাণ্ডকে ফিলিস্তিনি জীবন মুছে ফেলা এবং গাজায় নতুন ভৌগোলিক বাস্তবতা তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা উচিত।

পশ্চিম তীর নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জর্ডানের বাদশাহ। তার মতে, সেখানে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও সম্পত্তি ধ্বংস এবং তাদের বাস্তুচ্যুত করার ঘটনা বেড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইল পশ্চিম তীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে এবং বসতি সম্প্রসারণের পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের সেখান থেকে সরিয়ে দিতে চাইছে।

বাদশাহ আবদুল্লাহ আরো অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে ইসরাইলি সেনারা ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলার সময় দাঁড়িয়ে থাকে, হামলাকারীদের সুরক্ষা দেয় অথবা কখনো নিজেরাও সহিংসতায় অংশ নেয়। আহতদের কাছে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে বাধা দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগও তিনি করেন। বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে সেনারা যখন সহিংসতা প্রত্যক্ষ করে, সহায়তা করে বা তাতে অংশ নেয়, তখন বিষয়টিকে আর ‘কয়েকজন দাঙ্গাকারীর’ কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

পশ্চিম তীরের ইসরাইলি কর্মকাণ্ডকে ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির নীতি’ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে গাজা ও পশ্চিম তীরকে ফিলিস্তিনি জনগণের একটি অভিন্ন ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, গাজা ধ্বংস হয়েছে এবং পশ্চিম তীর কার্যত সংযুক্ত করে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কার্যকর একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নষ্ট হচ্ছে।

ইসরাইলের সঙ্গে শান্তির সুযোগ আরব বিশ্ব প্রত্যাখ্যান করেছে—এমন দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন বাদশাহ আবদুল্লাহ। তিনি ২০০২ সালের সৌদি আরবের নেতৃত্বে প্রস্তাবিত আরব শান্তি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই উদ্যোগে শান্তি ও একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিনিময়ে ৫৭টি আরব ও মুসলিম দেশের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রস্তাব ছিল।

তিনি বলেন, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই প্রস্তাব বহাল রয়েছে। তার মতে, শান্তির অংশীদারের অভাব নয়, বরং তা গ্রহণে ইসরাইলি সরকারের অনিচ্ছাই বড় বাধা।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হাতে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিভিন্ন উপায় রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জর্ডানের রাজা। এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ, বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার কথা বলেন তিনি। তবে ইসরাইলের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রস্তাব বাস্তবায়নের পরিবর্তে কাগজেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইসরাইলকে ‘আঞ্চলিক হুমকি’ উল্লেখ করে বাদশাহ আবদুল্লাহ বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ধরে না নেওয়া যে ইসরাইলের আকাঙ্ক্ষা শুধু ফিলিস্তিন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। সিরিয়ার পরিস্থিতিকে তিনি এ ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, ইসরাইল ধাপে ধাপে পরীক্ষা করছে—আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কতদূর পর্যন্ত তাদের কর্মকাণ্ড মেনে নেবে।

জর্ডানের বাদশাহ বলেন, তার দেশ ন্যায্য শান্তির প্রতি অঙ্গীকার থেকে সরে যাবে না। ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও প্রতিরোধক্ষমতার প্রতি সমর্থন এবং জেরুজালেমের মুসলিম ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর ঐতিহাসিক ও আইনগত মর্যাদা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, গাজা, সুদান, ইউক্রেন কিংবা বিশ্বের যেকোনো যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও ভয়ের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীতিগত অবস্থান পরিস্থিতির প্রতি বিশ্বের মনোযোগের সঙ্গে পরিবর্তিত হওয়া উচিত নয়। তার ভাষায়, ভবিষ্যৎ শুধু আমরা কী করি তার ওপর নির্ভর করে না; আমরা কোন বিষয়গুলো উপেক্ষা করতে বেছে নিই, তার ওপরও ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়।