১ অক্টোবর ২০২৬

গাজার ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র: নতুন স্যাটেলাইট ইমেজে উন্মোচিত বাস্তবতা

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
গাজার ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র: নতুন স্যাটেলাইট ইমেজে উন্মোচিত বাস্তবতা

সম্প্রতি গুগল ম্যাপস ও গুগল আর্থের স্যাটেলাইট ইমেজ আপডেট করার পর গাজার ধ্বংসযজ্ঞের এক ভয়াবহ ও পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে চলা অব্যাহত হামলায় পুরো গাজা উপত্যকা কীভাবে এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, তা এই নতুন ছবিগুলোতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টার (UNOSAT) এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এই ধ্বংসযজ্ঞের কিছু মূল দিক নিচে তুলে ধরা হলো:

  • ক্ষতির পরিসংখ্যান: জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ অবকাঠামো (প্রায় ২ লাখেরও বেশি ভবন) ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ ভবনই সম্পূর্ণ মাটির সাথে মিশে গেছে।

  • প্রধান শহর ও এলাকাগুলোর করুণ দশা:

    • দক্ষিণের রাফাহ শহরের তেল আল-সুলতানসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো এখন প্রায় ফাঁকা বালুচরে পরিণত হয়েছে, যেখানে হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র ভবন দাঁড়িয়ে আছে।

    • গাজা সিটি, বেইত হানুন, জাবালিয়া শরণার্থী শিবির এবং খান ইউনিসের আবাসিক এলাকাগুলোর সারি সারি ব্লক বোমা হামলায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

    • আল-শিফা হাসপাতালের মতো প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র এবং গাজার ঐতিহাসিক বন্দর এলাকা ব্যাপক ধ্বংসের শিকার হয়েছে।

  • কৃষি ও অর্থনীতির বিপর্যয়: গাজার কৃষিজমি, গ্রিনহাউস এবং জলপাই বাগানগুলোর বেশিরভাগই বোমা হামলায় ধ্বংস হয়েছে। জাতিসংঘের মতে, সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবে গাজার অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কয়েক দশক পিছিয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকরা এই নতুন ছবিগুলোকে গাজায় চলমান মানবিক সংকটের এক হৃদয়বিদারক ও প্রামাণ্য দলিল হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা বিশ্ববাসীর সামনে সংঘাতের প্রকৃত ভয়াবহতা তুলে ধরেছে।

সাড়ে ৪ হাজার সেনা হারিয়ে দুই দশক পর মার্কিন সেনা প্রত্যাহার

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
সাড়ে ৪ হাজার সেনা হারিয়ে দুই দশক পর মার্কিন সেনা প্রত্যাহার

অবশেষে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ সেনা হারানোর পর দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তি ঘটাবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, বুধবারের মধ্যে এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর পর এটি দেশটিতে তাদের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তি ঘটাবে। ইরান ও তাদের মিত্ররা এটিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে ইরাকে প্রাণ গেছে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনার।

ইরাকের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়ে ২০২৪ সালে সম্মত হওয়া এই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে ইরান ও তার শক্তিশালী মিত্ররা ইরাকে আরো বেশি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেতে পারে। একই সঙ্গে ইসলামিক স্টেটসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শত্রু গোষ্ঠীও আবার সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র শিয়া গোষ্ঠীগুলো নিয়ে কাজ করা ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি বলেন, ‘জোটের সেনা প্রত্যাহার থেকে ইরান কৌশলগতভাবে লাভবান হতে পারে। কারণ এতে এমন একটি সামরিক উপস্থিতি সরে যাচ্ছে, যা বহু বছর ধরে ইরাকের ওপর তেহরানের প্রভাবের ভারসাম্য হিসেবে কাজ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘ইরানপন্থী মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো শুধু এই প্রত্যাহারকে নিজেদের আন্দোলনের বিজয় হিসেবে তুলে ধরবে না, বরং নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরো বেশি প্রভাব বিস্তারে এই গতি কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে।’

ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’-এর কমান্ডার আবু মুজতবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ইরাকি ইসলামিক প্রতিরোধ গোষ্ঠী ও ইরাকিদের জন্য ঐতিহাসিক বিজয় এবং ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চূড়ান্ত পরাজয়’ বলে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘৩০ সেপ্টেম্বর আমরা ইরাকের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং আমাদের দেশের ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার দখলদারির ব্যর্থতা উদ্‌যাপন করব।

ইরাক প্রমাণ করেছে, বিদেশি বাহিনী দিয়ে তার সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা যায় না; বরং প্রতিরোধ ও জনগণের ইচ্ছাই তা নিশ্চিত করতে পারে।’

আবার কী সক্রিয় হবে?

ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকার ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত উত্তরাঞ্চলীয় কুর্দি অঞ্চলের কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ফলে ইসলামিক স্টেট আবার সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

প্রায় এক দশক আগে ইসলামিক স্টেটের স্বঘোষিত খেলাফতের পতন ঘটলেও তাদের এখনও সক্রিয় গোপন নেটওয়ার্ক বা ‘স্লিপার সেল’ এখনো সক্রিয় আছে। এক সময় গোষ্ঠীটি ইরাকের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা দখল করে নিয়েছিল এবং হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছিল। এর মধ্যে শত শত মানুষকে হত্যার দৃশ্য তারা নিজেরাই ভিডিও করেছিল।

কুর্দি কমান্ডার সিরওয়ান বারজানি বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য, লজিস্টিক সহায়তা এবং ড্রোনের অনুপস্থিতি ইসলামিক স্টেটকে আবারও ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠতে নতুন সুযোগ করে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আল-আকসা রক্ষায় ৪ দফা ঘোষণা হামাসের

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
আল-আকসা রক্ষায় ৪ দফা ঘোষণা হামাসের

আল-আকসা মসজিদকে ঘিরে ইসরায়েলের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড ও পরিকল্পনাগুলো এই পবিত্র স্থানটির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারের পথ প্রশস্ত করছে বলে কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির প্রবাস শাখার প্রধান খালেদ মিশোল এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ করেন।

আল-আকসা মসজিদকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের চক্রান্তের প্রমাণ হিসেবে তিনি বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—মসজিদটি টানা ৪০ দিন বন্ধ রাখা, উগ্র ইহুদি গোষ্ঠীগুলোর প্রবেশ নিশ্চিত করতে সময়ের বিভাজন আরোপ করা এবং আল-আকসা চত্বরের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ফাঁকা করে স্থানগত বিভাজন অর্জনের বহুমুখী প্রচেষ্টা।

ইসরায়েলের এই অপতৎপরতা মোকাবিলা করার জন্য চারটি সুনির্দিষ্ট কৌশল বা কর্মপন্থা ঘোষণা করেছেন খালেদ মেশাল।

কৌশলগুলো হলো

প্রতিরোধ ও সশস্ত্র সংগ্রাম: ফিলিস্তিনি জনগণ ও সম্মুখসারির দেশগুলোর নেতৃত্বে জেরুজালেমকে রক্ষা করার জন্য সার্বিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

জনগণভিত্তিক প্রতিরোধ: ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরে আল-আকসায় অবস্থান নেওয়া এবং নিয়মিত সেখানে যাতায়াত করার মাধ্যমে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা।

মুসলিম উম্মাহর জাগরণ: আরব ও মুসলিম বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে রাজপথে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে বিশ্বজনমত ও আন্দোলনকে সক্রিয় করে তোলা।

রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বগুলোর বিশেষ পদক্ষেপ: বিভিন্ন রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থার শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে কার্যকর ও ব্যতিক্রমী কূটনৈতিক বা নীতিনির্ধারণী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

গাজায় ধ্বংসস্তূপের পাহাড়, নিচে চাপা পড়ে আছে ৮ থেকে ১০ হাজার মরদেহ

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
গাজায় ধ্বংসস্তূপের পাহাড়, নিচে চাপা পড়ে আছে ৮ থেকে ১০ হাজার মরদেহ

গাজা উপত্যকাজুড়ে জমে থাকা ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টনে। জাতিসংঘের হিসাবে, এসব ধ্বংসাবশেষ সরাতে অন্তত সাত থেকে ১০ বছর সময় লাগতে পারে এবং ব্যয় হতে পারে শত শত কোটি ডলার। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

গাজা সিটির তেল আল-হাওয়া এলাকার বৈরুত স্ট্রিট এরই একটি উদাহরণ। একসময় দোকানপাট, অফিস ও মানুষের ব্যস্ততায় সরগরম থাকা সড়কটি এখন প্রায় জনশূন্য। রাস্তার পাশে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বহুতল ভবন কাত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ভবনটির ভেতরেই ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন কয়েকটি বাস্তুচ্যুত পরিবার। ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে কোথাও কোথাও রাস্তার ওপর দিয়ে নোংরা পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

তীব্র গরমের মধ্যে সারাদিন কাজ করে বৈরুত স্ট্রিটের একটি অংশ পরিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রকৌশলী আহমেদ আলিয়ান। দিনের কাজ শেষে চারপাশের ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমরা হাতে একটা চামচ নিয়ে পুরো সমুদ্র সেঁচে ফেলার চেষ্টা করছি।’

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির ফিলিস্তিন বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি জ্যাকো সিলিয়ার্স জানিয়েছেন, গাজায় জমে থাকা ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৮ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধে যে পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয়েছে, গাজার পরিমাণ তার প্রায় ২০ গুণ। এই বিপুল ধ্বংসাবশেষ অপসারণ আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার অভিযান হয়ে উঠেছে।

গত দুই বছরের বেশি সময়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গাজার প্রায় ৫৮০ কিলোমিটার সড়ক পরিষ্কার করেছে। এর ফলে ত্রাণবাহী ট্রাক, উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় মানুষের চলাচলের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৯ লাখ ৭ হাজার টন ধ্বংসস্তূপ সরানো হয়েছে এবং ৩ লাখ টনের বেশি পুনর্ব্যবহার বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে। কিন্তু এই পরিমাণ গাজার মোট ধ্বংসস্তূপের মাত্র প্রায় দেড় শতাংশ।

ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাদ্য ও ওষুধের বাইরে অনেক সরঞ্জামকে ‘দ্বৈত ব্যবহারের’ সামগ্রী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী গাজায় প্রবেশে বিধিনিষেধ রয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামলা ও নতুন করে ধ্বংসের ঘটনা ঘটায় কিছু সড়ক একাধিকবার পরিষ্কার করতে হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সময় নির্ধারিত ‘ইয়েলো লাইন’ ঘিরে প্রবেশাধিকারও সীমিত রয়েছে। গাজার মাত্র প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকায় মানুষ ও ত্রাণকর্মীদের প্রবেশ সম্ভব হচ্ছে বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

নতুন যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী না পাওয়ায় ধ্বংসস্তূপ পুনর্ব্যবহারের দিকে ঝুঁকেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি। গাজাজুড়ে পাঁচটি ধ্বংসস্তূপ ভাঙার কেন্দ্র পরিচালনা করছে সংস্থাটি। সেখানে যুদ্ধের আগেই গাজায় থাকা সাতটি পুরোনো যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে দুটি স্থানীয় প্রকৌশলীরা মেরামত করে আবার সচল করেছেন। প্রথমে ধ্বংসস্তূপ থেকে লোহা ও রড আলাদা করা হয়। পরে কংক্রিট ভেঙে ছোট টুকরোয় পরিণত করা হয়।

তবে পুরোনো যন্ত্রপাতি সচল রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ। খুচরা যন্ত্রাংশ, ইঞ্জিনের তেলসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটে মেশিনগুলো প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে। ফলে সীমিত সক্ষমতা নিয়েই চলছে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের কাজ।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রকৌশলী নেহাল আবু হাসান জানান, প্রাকৃতিক নির্মাণসামগ্রীর তুলনায় পুনর্ব্যবহৃত ভাঙা কংক্রিটের মান কম এবং এগুলো দিয়ে কাজ করাও কঠিন। তবে পরিস্থিতির কারণে তাদের সামনে অন্য কোনো বিকল্প নেই। এসব কংক্রিটের টুকরো দিয়ে রাস্তা মেরামত ও গর্ত ভরাট করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়ের নিচে এগুলো বিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে বৃষ্টির পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের বর্জ্য থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যায়।

ধ্বংসস্তূপ সরানোর সুফলও কিছুটা পাচ্ছেন স্থানীয়রা। জাবালিয়া থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে তেল আল-হাওয়ায় আশ্রয় নেওয়া ইব্রাহিম দারাদোনা জানান, ধ্বংসাবশেষ সরানোর পর পোকামাকড় ও ইঁদুরের উপদ্রব কমেছে, গাড়ি চলাচল সহজ হয়েছে এবং শিশুদের খেলার জায়গাও কিছুটা নিরাপদ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের সামনের ধ্বংসস্তূপ সরানোর পর প্রায় ২০ দিনের মধ্যেই কিছু ছোট ব্যবসায়ী আবার দোকান খুলতে শুরু করেছেন।

তবে গাজার মানুষের কাছে এসব ধ্বংসস্তূপ শুধু ইট-পাথর বা কংক্রিটের স্তূপ নয়। এর নিচে চাপা পড়ে আছে তাদের ঘরবাড়ি, স্মৃতি এবং প্রিয়জনের মরদেহ। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির হিসাবে, এখনো ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকতে পারে। ফলে ধ্বংসস্তূপ অপসারণের বিষয়টি পরিবারগুলোর জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল।

মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি পরিচয় শনাক্তকরণ ও ধর্মীয় মর্যাদায় দাফনের কাজেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে মানবদেহের অবস্থান শনাক্ত, ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত এবং পরিবারগুলোর প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়ায় কাজ করছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা অবিস্ফোরিত বোমাও উদ্ধারকাজের জন্য বড় ঝুঁকি। এর পাশাপাশি অ্যাসবেস্টসসহ ক্ষতিকর উপাদান এবং আংশিকভাবে দাঁড়িয়ে থাকা দুর্বল ভবনও বিপদের কারণ হয়ে আছে। জাতিসংঘের মাইন অ্যাকশন সার্ভিস, ব্রিটিশ সংস্থা হ্যালো ট্রাস্ট এবং অন্যান্য অংশীদার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত ও চিহ্নিত করার কাজে সহায়তা করছে। তবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

জাতিসংঘের হিসাবে, গাজার এই বিপুল ধ্বংসস্তূপ সরানো শুধু পুনর্গঠনের পূর্বশর্ত নয়; একই সঙ্গে এর নিচে থাকা মরদেহ উদ্ধার, অবিস্ফোরিত অস্ত্রের ঝুঁকি কমানো এবং মানুষের চলাচল ও মৌলিক সেবা পুনরায় চালুর সঙ্গেও বিষয়টি সরাসরি যুক্ত।

জেনারেল সোলাইমানির ছবি দিয়ে জাতিসংঘে ইরানের ‘কূটনৈতিক প্রতিবাদ’

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
জেনারেল সোলাইমানির ছবি দিয়ে জাতিসংঘে ইরানের ‘কূটনৈতিক প্রতিবাদ’

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বক্তব্য দিতে মঞ্চে ওঠার পরপরই ইরানি প্রতিনিধিদল কক্ষ ত্যাগ করে। তবে ইরানি প্রতিনিধিদের জন্য নির্ধারিত আসনে রেখে যায় দেশটির সাবেক সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানির ছবি।

জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ডানন ইরানি প্রতিনিধিদলের কাছে থাকা সোলাইমানির ছবির উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ছবিটি সেখানে কেন রাখা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্নও তোলেন তিনি। পরে নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে ডানন ইরানি প্রতিনিধিদলের টেবিলের কাছে গিয়ে সঙ্গে থাকা এক ব্যক্তিকে দৃশ্যটি ধারণ করতে বলেন এবং দাবি করেন, তিনি ইরানকে একটি উপহার দিতে চান।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলছে, নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় ইরানি প্রতিনিধিদল কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সোলাইমানির ছবিটি ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের আসনে রেখে যায়।

পরবর্তীতে এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘটনাকে সোলাইমানির উত্তরাধিকার ও ইরানের অবস্থানের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘একজন কমান্ডারের মৃত্যু তার অনুসৃত নীতি, স্বার্থ ও অবস্থান পরিত্যাগের অর্থ নয়।’

বাঘায়ি তার পোস্টের শুরুতে পারস্যের মহাকাব্য ‘শাহনামা’র কয়েকটি পঙ্‌ক্তি উদ্ধৃত করেন। ফেরদৌসী রচিত এই মহাকাব্যে কিংবদন্তি ইরানি রাজপুত্র সিয়াভাশের মৃত্যুর প্রসঙ্গ রয়েছে।

দুই দফা হামলা থেকে অল্পের জন্য বাঁচেন মোজতবা খামেনি, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
দুই দফা হামলা থেকে অল্পের জন্য বাঁচেন মোজতবা খামেনি, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় মারা যান ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। একই হামলায় অল্পের জন্য বেঁচে যান তার ছেলে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি।

পরে আহত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবারও হামলার শিকার হয়েছিলেন বর্তমান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। এমন দাবি করেছেন ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহসেন হেইদারি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

কাতারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘আল আরাবি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেইদারি বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির তেহরানের কার্যালয়ে হামলার সময় মোজতবা খামেনিও আহত হন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হেইদারির দাবি, এরপর তেহরানের তিনটি হাসপাতালে বোমা হামলা চালানো হয়। মোজতবা খামেনি তৃতীয় হাসপাতালটিতে ছিলেন এবং হামলার পর তাকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

পরে মোজতবা খামেনিকে অজ্ঞাত একটি স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন হেইদারি। এরপর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বা তার কোনো বক্তব্যও শোনা যায়নি। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য রয়েছে। হেইদারি তাকে সুস্থ ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাসম্পন্ন বলে দাবি করলেও, এ বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

এর মধ্যেই ৮ মার্চ অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে।

হেইদারি জানান, অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের কুম শহরের সচিবালয়েও হামলা হয়েছিল। এতে কয়েকজন কর্মী নিহত হন এবং নেতৃত্ব নির্বাচনসংক্রান্ত কিছু নথি ধ্বংস হয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন। এরপর নিরাপত্তার কারণে সদস্যদের একটি গোপন বৈঠকে ডেকে কাগজে ভোট নেওয়া হয়।

হেইদারির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকে তিনিই প্রথম মোজতবা খামেনির নাম প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, সদস্যরা এমন তথ্য পেয়েছিলেন যে মোজতবা খামেনি সুস্থ এবং দেশ পরিচালনার সক্ষমতা রাখেন। ধর্মীয় যোগ্যতা, ন্যায়পরায়ণতা ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাও তার রয়েছে বলে তারা মনে করেছিলেন।

হেইদারি আরও জানান, ৫৯টি ভোটের মধ্যে মোজতবা খামেনি ৫০টি ভোট পান। আটজন সদস্য আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফির পক্ষে ভোট দেন এবং একজন ভোটদানে বিরত থাকেন। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভোটের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্যও পাওয়া যায়।

এদিকে মোজতবা খামেনির স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা জল্পনা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে দাবি করেছিলেন, তিনি গুরুতর আহত হলেও বেঁচে আছেন। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি দাবি করেছেন, মোজতবা খামেনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তাঁর বর্তমান অবস্থান বা শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।