২ অক্টোবর ২০২৬

ইসরাইলগামী ফ্লাইট ‘হাইজ্যাকের চেষ্টা’, সৌদিতে জরুরি অবতরণ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০১, ২০২৬
ইসরাইলগামী ফ্লাইট ‘হাইজ্যাকের চেষ্টা’, সৌদিতে জরুরি অবতরণ

দুবাই থেকে ইসরাইলের তেল আবিবগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর একটি যাত্রীবাহী বিমান আকাশে থাকা অবস্থায় বুধবার সকালে হাইজ্যাকিংয়ের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জেরুজালেম পোস্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, পাইলটদের মধ্যকার হাতাহাতির ঘটনার জেরেই এই আতঙ্ক তৈরি হয়। এর ফলে বিমানটি গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়।

‘এফজেড১০৭৩’ (FZ1073) নম্বরের ওই ফ্লাইটে শতাধিক ইসরাইলি যাত্রী ছিলেন। ফ্লাইটটি প্রথমে ‘৭৭০০’ কোড (সাধারণ জরুরি অবস্থা) পাঠায়, যা পরে পরিবর্তন করে অবৈধ হস্তক্ষেপ বা ছিনতাইয়ের সংকেতবাহী ‘৭৫০০’ কোড করা হয়। অবশ্য কিছুক্ষণ পর বিমানটি আবার আগের জরুরি কোডেই ফিরে আসে।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়ালা’র তথ্য অনুযায়ী, ঘটনা চলাকালীন ইসরাইলি বিমান বাহিনী যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখে এবং সতর্কাবস্থা জারি করে। এছাড়া জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি জরুরি নিরাপত্তাবৈঠকও ডেকেছিলেন।

সৌদি আরবে বিমানটি অবতরণের পর ইসরাইলি আকাশসীমা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয় এবং পরবর্তীতে তা আবার খুলে দেওয়া হয়।

ইসরাইলি কর্মকর্তাদের মতে, পরবর্তীতে বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে এটি কোনো বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা ছিল না। মূলত বিমানের ভেতরে পাইলটদের নিজেদের মধ্যকার হাতাহাতির কারণেই এই জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল।

ঘটনার আসল রহস্য উদ্ঘাটনে অবতরণের পর বিমানটির ক্রুদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিমানটি তল্লাশি করার পরিকল্পনা করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মধ্যপ্রাচ্যকে বিপজ্জনক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করল ইরান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০১, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যকে বিপজ্জনক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করল ইরান

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে ইসরাইলি সরকারের উপস্থিতির ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিণতি’ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং এই অঞ্চলে দখলদার ইসরাইলি সরকারের উপস্থিতির অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করছে।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ইসরাইলের ইরানে সামরিক আগ্রাসন এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিন ও লেবাননে দখলদারত্ব ও সংঘাত আরো বাড়ার কারণে পশ্চিম এশিয়া বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে নাজুক ও স্পর্শকাতর সময়গুলোর একটি পার করছে। এমন পরিস্থিতিতে ‘শত শত হাজার নিরপরাধ মানুষের রক্তে হাত রঞ্জিত এবং আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারের মুখোমুখি’ একজন ব্যক্তির এই অঞ্চলে উপস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও উদ্বেগজনক।

ইরান বলেছে, ইসরাইলের সঙ্গে ইরান ও অঞ্চলটির অন্যান্য দেশের দীর্ঘদিনের বৈরিতা এবং ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের বারবার দেওয়া হুমকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের সফরের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে অঞ্চলটির সব দেশের সচেতন থাকা উচিত। এ ধরনের উপস্থিতি পুরো অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা একটি সম্মিলিত ও অবিচ্ছেদ্য বিষয়। এমন কোনো পদক্ষেপ, যা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী শক্তিকে অঞ্চলে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়, শেষ পর্যন্ত সব আঞ্চলিক দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ায় বিভাজন, অনিরাপত্তা ও অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে।

এ কারণে অঞ্চলটির সরকারগুলোর প্রতি নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ‘ইসরাইলি সরকারের ধ্বংসাত্মক উপস্থিতির’ জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার এবং কোনো আঞ্চলিক দেশের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ডের প্ল্যাটফর্মে পরিণত না করার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।

তুরস্কে 'নূহের নৌকা'র খোঁজে পাহাড় খনন, গবেষণায় যা মিলল

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০১, ২০২৬
তুরস্কে 'নূহের নৌকা'র খোঁজে পাহাড় খনন, গবেষণায় যা মিলল

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় আগরি প্রদেশের দোগুবায়াজিত এলাকায় ধর্মীয়ভাবে আলোচিত ‘নূহের নৌকা’র সন্ধানে নতুন করে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। নৌকার আকৃতির মাটির ঢিবি হিসেবে পরিচিত ‘দুরুপিনার ফরমেশন’কে ঘিরে চলছে রাডার স্ক্যান, মাটির নমুনা সংগ্রহ ও কোর ড্রিলিং। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত তিনটি তথ্যচিত্র নির্মাণকারী দলও এই অনুসন্ধানে কাজ করছে।

তুরস্কের ফিল্ম কমিশনের প্রেসিডেন্ট সাইত ইয়ারদিমজি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক তথ্যচিত্র নির্মাণের জন্য দোগুবায়াজিতকে বেছে নেওয়ায় অঞ্চলটির পরিচিতি বাড়তে পারে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদুলু ও ডেইলি সাবাহর প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

১৯৫৯ সাল থেকেই রহস্য

দুরুপিনার ফরমেশনটি তেলচেক গ্রামের কাছে, দোগুবায়াজিত এলাকায় এবং আরারাত পর্বতের কাছাকাছি অবস্থিত। ১৯৫৯ সালে তুরস্কের সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও মানচিত্রবিদ ইলহান দুরুপিনার আকাশ থেকে তোলা ছবি বিশ্লেষণের সময় অস্বাভাবিক এই ভূতাত্ত্বিক গঠনটি শনাক্ত করেন। এরপর থেকেই জায়গাটি নূহের নৌকার সম্ভাব্য অবস্থান হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

তবে কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন গবেষণা হলেও এটি নূহের নৌকার কোনো অংশ কি না, তা এখনো প্রমাণিত হয়নি। বিজ্ঞানীদের একটি অংশ এটিকে প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক কাঠামো বলে মনে করেন।

রাডারে মিলেছে ভূগর্ভস্থ কাঠামো

বর্তমান গবেষণা প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তুরস্কের সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. জানকার আতিলা। তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন মার্কিন গবেষক অ্যান্ড্রু জোন্স।

গবেষকরা প্রথমে এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টের জিপিএস অবস্থান নির্ধারণ করে দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করেন। এরপর ভূগর্ভস্থ কাঠামো শনাক্ত করতে বিশেষ রাডার ব্যবহার করা হয়।

অধ্যাপক আতিলার ভাষ্য, রাডার জরিপে মাটির নিচে কয়েকটি ফাঁকা জায়গার সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলোর কিছু সম্ভাব্য করিডোর বা কক্ষের মতো দেখতে। এসব কাঠামো ঘিরেই এখন ড্রিলিং ও মাটির নমুনা সংগ্রহ চলছে।

গবেষকদের পরবর্তী ধাপে সরু কোর ড্রিলের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ এসব স্থানে ‘গোফার’ নামের একটি বিশেষ রোবট পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। রোবটটি উচ্চ রেজল্যুশনের ভিডিও ধারণের পাশাপাশি মাটির নমুনাও সংগ্রহ করতে পারবে বলে জানানো হয়েছে।

তবে এসব ভূগর্ভস্থ কাঠামোকে এখনো নূহের নৌকার অংশ হিসেবে প্রমাণ করা যায়নি।

মাটির রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যেও পার্থক্য

নতুন অনুসন্ধানে মাটির রাসায়নিক বিশ্লেষণও করা হচ্ছে। গবেষক অ্যান্ড্রু জোন্সের দাবি, মাটির ঢিবির ভেতরের ও বাইরের মাটির মধ্যে জৈব পদার্থ ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যে পার্থক্য পাওয়া গেছে।

তাঁর মতে, ভেতরের মাটিতে বাইরের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি জৈব পদার্থ রয়েছে। পাশাপাশি ভেতরের মাটিতে পটাশিয়ামের পরিমাণ ৩৮ শতাংশ বেশি এবং পিএইচ মাত্রায় প্রায় আটগুণ পার্থক্য পাওয়া গেছে।

গবেষকদের মতে, এসব পরিবর্তন দীর্ঘ সময় ধরে কোনো বদ্ধ পরিবেশে জৈব পদার্থের ক্ষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। তবে এটিকে নূহের নৌকার অস্তিত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দাবি করা হয়নি। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

আরও পড়ুন

৩৪০০০ ফুট উঁচুতে এক পাইলট ছুরিকাঘাত করেন আরেকজনকে, ১৮০ যাত্রীসহ বিমান ক্র্যাশ করার চেষ্টা

আগের গবেষণাতেও ছিল বিতর্ক

দুরুপিনার ফরমেশনকে নূহের নৌকার অংশ বলে দাবি নতুন নয়। বহু বছর ধরেই এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ১৯৯৬ সালের একটি গবেষণায় এটিকে নূহের নৌকার অংশ না বলে প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক কাঠামো হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল।

আধুনিক ভূতাত্ত্বিকদের একটি অংশও মনে করেন, চুনাপাথর ও আগ্নেয় কাদামাটির সমন্বয়ে তৈরি এই কাঠামো ক্ষয়প্রক্রিয়ার কারণে নৌকার মতো আকৃতি পেয়েছে।

এর আগে মার্কিন উদ্ধারকারী বিশেষজ্ঞ ডেভিড ফ্যাসোল্ড গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডার ব্যবহার করে এলাকাটি পরীক্ষা করেছিলেন। একসময় তিনি এটিকে প্রাচীন জাহাজের জীবাশ্মীভূত অবশিষ্টাংশ বলে মনে করেছিলেন। ফরমেশনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬৪ মিটার বলে মাপা হয়েছিল, যা ধর্মীয় বর্ণনায়র্থকদের মধ্যে নানা দাবি রয়েছে। তাদের কেউ এগুলোকে প্রাচীন জাহাজের নোঙর হিসেবে দেখলেও সংশয়বাদীরা এগুলোকে স্মৃতিচিহ্ন বা সমাধিফলক বলে মনে করেন। পরে ফ্যাসোল্ড নিজ নূহের নৌকার উল্লেখিত দৈর্ঘ্যের কাছাকাছি।

ফরমেশনের আশপাশে পাওয়া বড় পাথর নিয়েও নূহের নৌকার সমর্থকদের মধ্যে নানা দাবি রয়েছে। তাদের কেউ এগুলোকে প্রাচীন জাহাজের নোঙর হিসেবে দেখলেও সংশয়বাদীরা এগুলোকে স্মৃতিচিহ্ন বা সমাধিফলক বলে মনে করেন। পরে ফ্যাসোল্ড নিজেও নূহের নৌকার তত্ত্ব থেকে সরে এসেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও দুই বছর চলতে পারে গবেষণা

বর্তমান গবেষণা প্রকল্পে সংগৃহীত মাটির নমুনা আরও বিশ্লেষণ করা হবে। অধ্যাপক আতিলা জানিয়েছেন, শীতকালজুড়ে নমুনাগুলো পরীক্ষা করা হবে এবং কয়েক মাসের মধ্যে প্রাথমিক ফল পাওয়া যেতে পারে।

শীতের কারণে পাহাড়ি এলাকায় গবেষণা কার্যক্রমে বিরতি পড়তে পারে। তাই চলমান কাজের একটি অংশ আগামী বছর পর্যন্ত গড়াতে পারে। গবেষণা দলটি আগামী বছর এবং তার পরের বছরও অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

নূহের নৌকা ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিম ধর্মীয় বিশ্বাসে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দুরুপিনার ফরমেশনটি সত্যিই নূহের নৌকার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হলে স্থানটি ধর্মীয় ও পর্যটন— দুই দিক থেকেই ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত অনুসন্ধানটি গবেষণার পর্যায়েই রয়েছে এবং নূহের নৌকার অস্তিত্বের কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

৩৪০০০ ফুট উঁচুতে এক পাইলট ছুরিকাঘাত করেন আরেকজনকে, ১৮০ যাত্রীসহ বিমান ক্র্যাশ করার চেষ্টা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০১, ২০২৬
৩৪০০০ ফুট উঁচুতে এক পাইলট ছুরিকাঘাত করেন আরেকজনকে, ১৮০ যাত্রীসহ বিমান ক্র্যাশ করার চেষ্টা

আকাশে ৩৪ হাজার ফুট উঁচুতে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বাণিজ্যিক বিমানের ককপিটের ভেতর দুই পাইলটের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় বিমানের ভেতর চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের মধ্য থেকে অন্য পাইলটদের সহায়তায় বিমানটিকে সৌদির তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

‘টাইমস অফ ইসরাইল’ ও ‘চ্যানেল ১২’-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুবাই থেকে ইসরাইলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ‘এফজেড ১০৭৩’ বিমানটিতে প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন। ওড়ার কিছু সময় পরই বিমানের ককপিটের ভেতরে দুই পাইলটের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ওই দুই পাইলটই ওমানের নাগরিক।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে এক পাইলট অপরজনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। ককপিটের ভেতরে ধস্তাধস্তির সেই আওয়াজ ও চিৎকার যাত্রীদের কানে পৌঁছালে এক যাত্রী ককপিটের দরজা খুলে দেখেন, এক পাইলট মেঝেতে পড়ে আছেন এবং চারপাশ রক্তে ভেসে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই পাইলটের এই মারামারির মধ্যেই হামলাকারী পাইলট বিমানটিকে ক্র্যাশ বা ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিলেন এবং আত্মহত্যার হুমকিও দেন। অন্য পাইলট তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এই ধস্তাধস্তির কারণে বিমানটি মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে হুড়মুড় করে ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ককপিটের ভেতর থেকে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) কাছে প্রথমে সাধারণ জরুরি অবস্থার কোড ‘৭৭০০’ এবং এর পরপরই বিমান ছিনতাই বা অবৈধ হস্তক্ষেপের সংকেতবাহী কোড ‘৭৫০০’ পাঠানো হয়। এর ফলে বড় ধরনের হাইজ্যাকিংয়ের আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। ইসরায়েলের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই সময় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে ২০০১ সালের আমেরিকার ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার’ হামলার মতো ভয়াবহ কিছু ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

সৌভাগ্যবশত, বিমানের যাত্রীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পেশাদার পাইলট উপস্থিত ছিলেন। তারা দ্রুত ককপিটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং বিমানটিকে নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান।

বিমানটি নিরাপদে মাটিতে নামার পর যাত্রীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন এবং অনেকে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। এই ঘটনার একটি ভিডিও এরইমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে।

প্রাথমিকভাবে বিমান অপহরণের আশঙ্কা করা হলেও পরবর্তীতে ইসরাইলি ও সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষ জানিয়েছে, এটি কোনো পরিকল্পিত বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা ছিল না, বরং ককপিটের ভেতরে পাইলটদের মধ্যকার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফল।

ইসরাইলগামী ফ্লাইট ‘হাইজ্যাকের চেষ্টা’, সৌদিতে জরুরি অবতরণ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০১, ২০২৬
ইসরাইলগামী ফ্লাইট ‘হাইজ্যাকের চেষ্টা’, সৌদিতে জরুরি অবতরণ

দুবাই থেকে ইসরাইলের তেল আবিবগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর একটি যাত্রীবাহী বিমান আকাশে থাকা অবস্থায় বুধবার সকালে হাইজ্যাকিংয়ের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জেরুজালেম পোস্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, পাইলটদের মধ্যকার হাতাহাতির ঘটনার জেরেই এই আতঙ্ক তৈরি হয়। এর ফলে বিমানটি গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়।

‘এফজেড১০৭৩’ (FZ1073) নম্বরের ওই ফ্লাইটে শতাধিক ইসরাইলি যাত্রী ছিলেন। ফ্লাইটটি প্রথমে ‘৭৭০০’ কোড (সাধারণ জরুরি অবস্থা) পাঠায়, যা পরে পরিবর্তন করে অবৈধ হস্তক্ষেপ বা ছিনতাইয়ের সংকেতবাহী ‘৭৫০০’ কোড করা হয়। অবশ্য কিছুক্ষণ পর বিমানটি আবার আগের জরুরি কোডেই ফিরে আসে।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়ালা’র তথ্য অনুযায়ী, ঘটনা চলাকালীন ইসরাইলি বিমান বাহিনী যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখে এবং সতর্কাবস্থা জারি করে। এছাড়া জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি জরুরি নিরাপত্তাবৈঠকও ডেকেছিলেন।

সৌদি আরবে বিমানটি অবতরণের পর ইসরাইলি আকাশসীমা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয় এবং পরবর্তীতে তা আবার খুলে দেওয়া হয়।

ইসরাইলি কর্মকর্তাদের মতে, পরবর্তীতে বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে এটি কোনো বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনা ছিল না। মূলত বিমানের ভেতরে পাইলটদের নিজেদের মধ্যকার হাতাহাতির কারণেই এই জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল।

ঘটনার আসল রহস্য উদ্ঘাটনে অবতরণের পর বিমানটির ক্রুদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিমানটি তল্লাশি করার পরিকল্পনা করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গাজার ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র: নতুন স্যাটেলাইট ইমেজে উন্মোচিত বাস্তবতা

প্রকাশ: বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
গাজার ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র: নতুন স্যাটেলাইট ইমেজে উন্মোচিত বাস্তবতা

সম্প্রতি গুগল ম্যাপস ও গুগল আর্থের স্যাটেলাইট ইমেজ আপডেট করার পর গাজার ধ্বংসযজ্ঞের এক ভয়াবহ ও পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে চলা অব্যাহত হামলায় পুরো গাজা উপত্যকা কীভাবে এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, তা এই নতুন ছবিগুলোতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টার (UNOSAT) এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এই ধ্বংসযজ্ঞের কিছু মূল দিক নিচে তুলে ধরা হলো:

  • ক্ষতির পরিসংখ্যান: জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৮২ শতাংশ অবকাঠামো (প্রায় ২ লাখেরও বেশি ভবন) ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ ভবনই সম্পূর্ণ মাটির সাথে মিশে গেছে।

  • প্রধান শহর ও এলাকাগুলোর করুণ দশা:

    • দক্ষিণের রাফাহ শহরের তেল আল-সুলতানসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো এখন প্রায় ফাঁকা বালুচরে পরিণত হয়েছে, যেখানে হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র ভবন দাঁড়িয়ে আছে।

    • গাজা সিটি, বেইত হানুন, জাবালিয়া শরণার্থী শিবির এবং খান ইউনিসের আবাসিক এলাকাগুলোর সারি সারি ব্লক বোমা হামলায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

    • আল-শিফা হাসপাতালের মতো প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র এবং গাজার ঐতিহাসিক বন্দর এলাকা ব্যাপক ধ্বংসের শিকার হয়েছে।

  • কৃষি ও অর্থনীতির বিপর্যয়: গাজার কৃষিজমি, গ্রিনহাউস এবং জলপাই বাগানগুলোর বেশিরভাগই বোমা হামলায় ধ্বংস হয়েছে। জাতিসংঘের মতে, সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবে গাজার অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কয়েক দশক পিছিয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকরা এই নতুন ছবিগুলোকে গাজায় চলমান মানবিক সংকটের এক হৃদয়বিদারক ও প্রামাণ্য দলিল হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা বিশ্ববাসীর সামনে সংঘাতের প্রকৃত ভয়াবহতা তুলে ধরেছে।