৪ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে সেনা-রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান যুদ্ধ কি আরও তীব্র হচ্ছে

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ০৩, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে সেনা-রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান যুদ্ধ কি আরও তীব্র হচ্ছে

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধের অষ্টম মাস চলছে। উভয়পক্ষই যখন যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ানো ও কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে ভাবছে, তখন মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র।

নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক এক মাস আগে মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজার হাজার সেনা পাঠানো হচ্ছে। যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি নির্বাচনে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সেনা মোতায়েনের অর্থ কী এবং এটি কি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের তীব্রতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

কেমন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে

এক মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ গত রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো ঘাঁটি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এর এক দিন পর মার্কিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটও (এমইইউ) রওনা হয়েছে, যাতে ২ হাজারের বেশি মেরিন সেনা রয়েছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই স্ট্রাইক গ্রুপ ও নৌ বহর মোতায়েনের ফলে অতিরিক্ত ৯ থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনা যুক্ত হতে পারে, যার মধ্যে স্ট্রাইক গ্রুপ ও অন্যান্য জাহাজে থাকা নাবিক ও মেরিনা সেনা রয়েছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের কাছাকাছি এলাকায় তিনটি বিমানবাহী রণতরী এবং দুইটি উভচর অবতরণকারী দল অবস্থান নেবে।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি কোনো ব্যবস্থা নিতে চান, তাহলে সামরিক শক্তির এই বিপুল সমাবেশ তাকে আরও বিস্তৃত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ করে দেবে।

ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার তানিয়া নুরি জানিয়েছেন, নতুন এই প্রক্রিয়ায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে ওই অঞ্চলে আগে থেকেই মোতায়েন প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সঙ্গে আরও নতুন সেনা যুক্ত হবে।

পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে নুরি জানান, এর লক্ষ্য হলো কূটনীতির গতিপথ যা-ই হোক না কেন, ট্রাম্পের জন্য সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটি যেন সব সময় খোলা থাকে। এমনকি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সেখান থেকে কোনো সেনা বা সামরিক সরঞ্জাম প্রত্যাহারের পরিকল্পনা নেই পেন্টাগনের।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ট্রাম্প যদি নতুন কোনো হামলার নির্দেশ দেন, তবে সেই নির্দেশ বাস্তবায়নে বাহিনীগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর সংখ্যা কত

যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করে রেখেছে।

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে অন্তত ১৯টি স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী সামরিক স্থাপনার এক বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে।

এর মধ্যে আটটি স্থায়ী ঘাঁটি, যেগুলো বাহরাইন, মিসর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা পাঠানোর প্রথম ঘটনাটি ঘটে ১৯৫৮ সালের জুলাইয়ে। মূলত লেবানন সংকটের সময় বৈরুতে সেনা পাঠিয়েছিল ওয়াশিংটন। ওই সময় লেবাননে সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। তারা মধ্যপ্রাচ্যের বড় ও স্থায়ী ঘাঁটির পাশাপাশি ছোট ছোট ঘাঁটিতে মোতায়েন ছিল।

ট্রাম্প চলতি বছরের শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছেন। শুরুতে তিনি আরব সাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে ছিলেন, যার মধ্যে বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ছিল।

পাত্রীদের নিকাব পরার শর্ত দিয়েছিলাম, কেউ রাজি হয়নি, পাইলট শুনে সবাই রাজি

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ০৪, ২০২৬
পাত্রীদের নিকাব পরার শর্ত দিয়েছিলাম, কেউ রাজি হয়নি, পাইলট শুনে সবাই রাজি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে হামলার অভিযোগ ওঠা কো-পাইলটের পরিচয় প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন। তার নাম হামাম আল-হামানি। ২৯ বছর বয়সী এই পাইলট ওমানের নাগরিক।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাম অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার করা পুরোনো বিভিন্ন পোস্টেও এর প্রতিফলন দেখা যায়।

২০২২ সালে এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে বিয়ের জন্য পাত্রী খোঁজার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন হামাম। পোস্টে তিনি জানান, তার শর্ত ছিল—বিয়ের পর স্ত্রীকে নিকাব পরতে হবে এবং চাকরি করা যাবে না। তবে এসব শর্তে কোনো পাত্রী রাজি হচ্ছিলেন না। পরে তার মা যখন পাত্রীদের জানান যে ছেলে একজন পাইলট, তখন পরিস্থিতি বদলে যায় বলে দাবি করেন তিনি।

হামাম লিখেছিলেন, ‘তার শর্ত মেনে চলবে এমন পাত্রী খুঁজতে তার মা হিমশিম খাচ্ছিলেন। নিকাব পরা এবং বিয়ের পর চাকরি ছেড়ে দেওয়ার শর্তে পাত্রীদের কেউ রাজি হচ্ছিলেন না। কিন্তু তার মা যখন তাদের বলেন, ‘আমার ছেলে পাইলট’, তখন তারা সবাই হঠাৎ বিয়েতে রাজি হয়ে যান।

এছাড়া নারী ও পুরুষদের একসঙ্গে কাজ করা নিয়েও দ্বিমত ছিল হামামের। তার মতে, এটি নারীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

২০২২ সালেই করা পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কতজন সম্মানীয়, ধার্মিক মেয়ে ছেলেদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাদের কৌশলে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে?’

গত বুধবার তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানটি ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছাড় ও ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হামানি পরিচালনা করছিলেন। মাঝআকাশে হামাম ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে ভারতীয় পাইলটকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপর তিনি বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে সেনা-রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান যুদ্ধ কি আরও তীব্র হচ্ছে

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ০৩, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে সেনা-রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান যুদ্ধ কি আরও তীব্র হচ্ছে

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধের অষ্টম মাস চলছে। উভয়পক্ষই যখন যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ানো ও কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে ভাবছে, তখন মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র।

নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক এক মাস আগে মধ্যপ্রাচ্যে আরও হাজার হাজার সেনা পাঠানো হচ্ছে। যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি নির্বাচনে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সেনা মোতায়েনের অর্থ কী এবং এটি কি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের তীব্রতার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

কেমন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে

এক মার্কিন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ গত রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো ঘাঁটি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এর এক দিন পর মার্কিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটও (এমইইউ) রওনা হয়েছে, যাতে ২ হাজারের বেশি মেরিন সেনা রয়েছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই স্ট্রাইক গ্রুপ ও নৌ বহর মোতায়েনের ফলে অতিরিক্ত ৯ থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনা যুক্ত হতে পারে, যার মধ্যে স্ট্রাইক গ্রুপ ও অন্যান্য জাহাজে থাকা নাবিক ও মেরিনা সেনা রয়েছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের কাছাকাছি এলাকায় তিনটি বিমানবাহী রণতরী এবং দুইটি উভচর অবতরণকারী দল অবস্থান নেবে।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি কোনো ব্যবস্থা নিতে চান, তাহলে সামরিক শক্তির এই বিপুল সমাবেশ তাকে আরও বিস্তৃত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ করে দেবে।

ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার তানিয়া নুরি জানিয়েছেন, নতুন এই প্রক্রিয়ায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে ওই অঞ্চলে আগে থেকেই মোতায়েন প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সঙ্গে আরও নতুন সেনা যুক্ত হবে।

পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে নুরি জানান, এর লক্ষ্য হলো কূটনীতির গতিপথ যা-ই হোক না কেন, ট্রাম্পের জন্য সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটি যেন সব সময় খোলা থাকে। এমনকি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সেখান থেকে কোনো সেনা বা সামরিক সরঞ্জাম প্রত্যাহারের পরিকল্পনা নেই পেন্টাগনের।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ট্রাম্প যদি নতুন কোনো হামলার নির্দেশ দেন, তবে সেই নির্দেশ বাস্তবায়নে বাহিনীগুলো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর সংখ্যা কত

যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করে রেখেছে।

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে অন্তত ১৯টি স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী সামরিক স্থাপনার এক বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে।

এর মধ্যে আটটি স্থায়ী ঘাঁটি, যেগুলো বাহরাইন, মিসর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা পাঠানোর প্রথম ঘটনাটি ঘটে ১৯৫৮ সালের জুলাইয়ে। মূলত লেবানন সংকটের সময় বৈরুতে সেনা পাঠিয়েছিল ওয়াশিংটন। ওই সময় লেবাননে সর্বোচ্চ প্রায় ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। তারা মধ্যপ্রাচ্যের বড় ও স্থায়ী ঘাঁটির পাশাপাশি ছোট ছোট ঘাঁটিতে মোতায়েন ছিল।

ট্রাম্প চলতি বছরের শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছেন। শুরুতে তিনি আরব সাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে ছিলেন, যার মধ্যে বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ছিল।

ইরান ঘিরে ৩ বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০২, ২০২৬
ইরান ঘিরে ৩ বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানকে সমঝোতায় আনতে সামরিক চাপ বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই অংশ হিসেবে বিশাল স্ট্রাইক গ্রুপসহ মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা করেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ডিয়েগো নৌঘাঁটি থেকে যাত্রা করা রণতরীটি ইরানের আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও দুটি ল্যান্ডিং গ্রুপ মোতায়েন থাকবে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা শুক্রবার (২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএসএস থিওডর রুজভেল্টের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাকিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্স-এর সদস্যরাও স্যান ডিয়েগো থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এ বাহিনীতে দুই হাজারের বেশি মার্কিন মেরিন সেনা রয়েছেন।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সঙ্গে বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের হাতে বিভিন্ন ধরনের বিকল্প রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যকে বিপজ্জনক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করল ইরান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০১, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যকে বিপজ্জনক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করল ইরান

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে ইসরাইলি সরকারের উপস্থিতির ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিণতি’ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং এই অঞ্চলে দখলদার ইসরাইলি সরকারের উপস্থিতির অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করছে।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ইসরাইলের ইরানে সামরিক আগ্রাসন এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিন ও লেবাননে দখলদারত্ব ও সংঘাত আরো বাড়ার কারণে পশ্চিম এশিয়া বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে নাজুক ও স্পর্শকাতর সময়গুলোর একটি পার করছে। এমন পরিস্থিতিতে ‘শত শত হাজার নিরপরাধ মানুষের রক্তে হাত রঞ্জিত এবং আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারের মুখোমুখি’ একজন ব্যক্তির এই অঞ্চলে উপস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও উদ্বেগজনক।

ইরান বলেছে, ইসরাইলের সঙ্গে ইরান ও অঞ্চলটির অন্যান্য দেশের দীর্ঘদিনের বৈরিতা এবং ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের বারবার দেওয়া হুমকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের সফরের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে অঞ্চলটির সব দেশের সচেতন থাকা উচিত। এ ধরনের উপস্থিতি পুরো অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা একটি সম্মিলিত ও অবিচ্ছেদ্য বিষয়। এমন কোনো পদক্ষেপ, যা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী শক্তিকে অঞ্চলে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়, শেষ পর্যন্ত সব আঞ্চলিক দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে। এর ফলে পশ্চিম এশিয়ায় বিভাজন, অনিরাপত্তা ও অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে।

এ কারণে অঞ্চলটির সরকারগুলোর প্রতি নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ‘ইসরাইলি সরকারের ধ্বংসাত্মক উপস্থিতির’ জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার এবং কোনো আঞ্চলিক দেশের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ডের প্ল্যাটফর্মে পরিণত না করার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।

তুরস্কে 'নূহের নৌকা'র খোঁজে পাহাড় খনন, গবেষণায় যা মিলল

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ০১, ২০২৬
তুরস্কে 'নূহের নৌকা'র খোঁজে পাহাড় খনন, গবেষণায় যা মিলল

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় আগরি প্রদেশের দোগুবায়াজিত এলাকায় ধর্মীয়ভাবে আলোচিত ‘নূহের নৌকা’র সন্ধানে নতুন করে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। নৌকার আকৃতির মাটির ঢিবি হিসেবে পরিচিত ‘দুরুপিনার ফরমেশন’কে ঘিরে চলছে রাডার স্ক্যান, মাটির নমুনা সংগ্রহ ও কোর ড্রিলিং। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত তিনটি তথ্যচিত্র নির্মাণকারী দলও এই অনুসন্ধানে কাজ করছে।

তুরস্কের ফিল্ম কমিশনের প্রেসিডেন্ট সাইত ইয়ারদিমজি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক তথ্যচিত্র নির্মাণের জন্য দোগুবায়াজিতকে বেছে নেওয়ায় অঞ্চলটির পরিচিতি বাড়তে পারে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদুলু ও ডেইলি সাবাহর প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

১৯৫৯ সাল থেকেই রহস্য

দুরুপিনার ফরমেশনটি তেলচেক গ্রামের কাছে, দোগুবায়াজিত এলাকায় এবং আরারাত পর্বতের কাছাকাছি অবস্থিত। ১৯৫৯ সালে তুরস্কের সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও মানচিত্রবিদ ইলহান দুরুপিনার আকাশ থেকে তোলা ছবি বিশ্লেষণের সময় অস্বাভাবিক এই ভূতাত্ত্বিক গঠনটি শনাক্ত করেন। এরপর থেকেই জায়গাটি নূহের নৌকার সম্ভাব্য অবস্থান হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

তবে কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন গবেষণা হলেও এটি নূহের নৌকার কোনো অংশ কি না, তা এখনো প্রমাণিত হয়নি। বিজ্ঞানীদের একটি অংশ এটিকে প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক কাঠামো বলে মনে করেন।

রাডারে মিলেছে ভূগর্ভস্থ কাঠামো

বর্তমান গবেষণা প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তুরস্কের সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. জানকার আতিলা। তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন মার্কিন গবেষক অ্যান্ড্রু জোন্স।

গবেষকরা প্রথমে এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টের জিপিএস অবস্থান নির্ধারণ করে দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করেন। এরপর ভূগর্ভস্থ কাঠামো শনাক্ত করতে বিশেষ রাডার ব্যবহার করা হয়।

অধ্যাপক আতিলার ভাষ্য, রাডার জরিপে মাটির নিচে কয়েকটি ফাঁকা জায়গার সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলোর কিছু সম্ভাব্য করিডোর বা কক্ষের মতো দেখতে। এসব কাঠামো ঘিরেই এখন ড্রিলিং ও মাটির নমুনা সংগ্রহ চলছে।

গবেষকদের পরবর্তী ধাপে সরু কোর ড্রিলের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ এসব স্থানে ‘গোফার’ নামের একটি বিশেষ রোবট পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। রোবটটি উচ্চ রেজল্যুশনের ভিডিও ধারণের পাশাপাশি মাটির নমুনাও সংগ্রহ করতে পারবে বলে জানানো হয়েছে।

তবে এসব ভূগর্ভস্থ কাঠামোকে এখনো নূহের নৌকার অংশ হিসেবে প্রমাণ করা যায়নি।

মাটির রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যেও পার্থক্য

নতুন অনুসন্ধানে মাটির রাসায়নিক বিশ্লেষণও করা হচ্ছে। গবেষক অ্যান্ড্রু জোন্সের দাবি, মাটির ঢিবির ভেতরের ও বাইরের মাটির মধ্যে জৈব পদার্থ ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যে পার্থক্য পাওয়া গেছে।

তাঁর মতে, ভেতরের মাটিতে বাইরের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি জৈব পদার্থ রয়েছে। পাশাপাশি ভেতরের মাটিতে পটাশিয়ামের পরিমাণ ৩৮ শতাংশ বেশি এবং পিএইচ মাত্রায় প্রায় আটগুণ পার্থক্য পাওয়া গেছে।

গবেষকদের মতে, এসব পরিবর্তন দীর্ঘ সময় ধরে কোনো বদ্ধ পরিবেশে জৈব পদার্থের ক্ষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। তবে এটিকে নূহের নৌকার অস্তিত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দাবি করা হয়নি। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

আরও পড়ুন

৩৪০০০ ফুট উঁচুতে এক পাইলট ছুরিকাঘাত করেন আরেকজনকে, ১৮০ যাত্রীসহ বিমান ক্র্যাশ করার চেষ্টা

আগের গবেষণাতেও ছিল বিতর্ক

দুরুপিনার ফরমেশনকে নূহের নৌকার অংশ বলে দাবি নতুন নয়। বহু বছর ধরেই এ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ১৯৯৬ সালের একটি গবেষণায় এটিকে নূহের নৌকার অংশ না বলে প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক কাঠামো হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল।

আধুনিক ভূতাত্ত্বিকদের একটি অংশও মনে করেন, চুনাপাথর ও আগ্নেয় কাদামাটির সমন্বয়ে তৈরি এই কাঠামো ক্ষয়প্রক্রিয়ার কারণে নৌকার মতো আকৃতি পেয়েছে।

এর আগে মার্কিন উদ্ধারকারী বিশেষজ্ঞ ডেভিড ফ্যাসোল্ড গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডার ব্যবহার করে এলাকাটি পরীক্ষা করেছিলেন। একসময় তিনি এটিকে প্রাচীন জাহাজের জীবাশ্মীভূত অবশিষ্টাংশ বলে মনে করেছিলেন। ফরমেশনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬৪ মিটার বলে মাপা হয়েছিল, যা ধর্মীয় বর্ণনায়র্থকদের মধ্যে নানা দাবি রয়েছে। তাদের কেউ এগুলোকে প্রাচীন জাহাজের নোঙর হিসেবে দেখলেও সংশয়বাদীরা এগুলোকে স্মৃতিচিহ্ন বা সমাধিফলক বলে মনে করেন। পরে ফ্যাসোল্ড নিজ নূহের নৌকার উল্লেখিত দৈর্ঘ্যের কাছাকাছি।

ফরমেশনের আশপাশে পাওয়া বড় পাথর নিয়েও নূহের নৌকার সমর্থকদের মধ্যে নানা দাবি রয়েছে। তাদের কেউ এগুলোকে প্রাচীন জাহাজের নোঙর হিসেবে দেখলেও সংশয়বাদীরা এগুলোকে স্মৃতিচিহ্ন বা সমাধিফলক বলে মনে করেন। পরে ফ্যাসোল্ড নিজেও নূহের নৌকার তত্ত্ব থেকে সরে এসেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও দুই বছর চলতে পারে গবেষণা

বর্তমান গবেষণা প্রকল্পে সংগৃহীত মাটির নমুনা আরও বিশ্লেষণ করা হবে। অধ্যাপক আতিলা জানিয়েছেন, শীতকালজুড়ে নমুনাগুলো পরীক্ষা করা হবে এবং কয়েক মাসের মধ্যে প্রাথমিক ফল পাওয়া যেতে পারে।

শীতের কারণে পাহাড়ি এলাকায় গবেষণা কার্যক্রমে বিরতি পড়তে পারে। তাই চলমান কাজের একটি অংশ আগামী বছর পর্যন্ত গড়াতে পারে। গবেষণা দলটি আগামী বছর এবং তার পরের বছরও অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

নূহের নৌকা ইহুদি, খ্রিস্টান ও মুসলিম ধর্মীয় বিশ্বাসে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দুরুপিনার ফরমেশনটি সত্যিই নূহের নৌকার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হলে স্থানটি ধর্মীয় ও পর্যটন— দুই দিক থেকেই ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত অনুসন্ধানটি গবেষণার পর্যায়েই রয়েছে এবং নূহের নৌকার অস্তিত্বের কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।