৮ অক্টোবর ২০২৬

সিআইএ’র প্রতিবেদন, ইসরাইলে গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্র ভেঙে পড়ার ঝুঁকি

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
সিআইএ’র প্রতিবেদন, ইসরাইলে গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্র ভেঙে পড়ার ঝুঁকি

গভীর হতে থাকা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের কারণে ইসরাইল গৃহযুদ্ধ বা এমনকি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ধসের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।

সিআইএ-র বিশেষ শাখা ‘রেড সেল’ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ‘ফ্র্যাকচার ফ্রম উইথিন’ (ভেতর থেকে ফাটল) শীর্ষক এক গোপন মূল্যায়নে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে সোমবার (০৪ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে।

সিআইএ-র সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশটির আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগে বেশ কিছু জটিল সংকট একসঙ্গে পুঞ্জীভূত হয়ে পরিস্থিতিকে চরম অস্থির করে তুলেছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা, আকাশচুম্বী সামরিক ব্যয়, পশ্চিম তীরে দখলদার ইসরাইলিদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এবং অতি-অর্থোডক্স ইহুদিদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়া নিয়ে সাধারণ জনগণের তীব্র ক্ষোভ।

এ ছাড়া দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় টিকে থাকতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক লড়াই ইসরাইলের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

আরও পড়ুন

টানা যুদ্ধ পরিস্থিতি ইসরাইলি সমাজের মধ্যকার পুরোনো বিভাজনগুলোকে আরও গভীর করেছে। গাজা, লেবানন ও ইরানে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানে অংশ নিয়ে বিপুলসংখ্যক সেনা ও রিজার্ভিস্ট মানসিক ট্রমা নিয়ে ফিরে আসছেন।

এর মধ্যে অতি-অর্থোডক্স পুরুষদের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া থেকে ছাড় দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ক্রমবর্দ্ধমান একাকীত্ব এবং খোদ যুক্তরাষ্ট্রেও তাদের জনসমর্থন কমে যাওয়াকে একটি বড় অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিআইএ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাইরের এসব চাপ ও ভেতরের অস্থিতিশীলতা একসঙ্গে মিলে ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় অস্তিত্বকেই এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে ফেলে দিচ্ছে।

সিআইএ’র প্রতিবেদন, ইসরাইলে গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্র ভেঙে পড়ার ঝুঁকি

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
সিআইএ’র প্রতিবেদন, ইসরাইলে গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্র ভেঙে পড়ার ঝুঁকি

গভীর হতে থাকা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের কারণে ইসরাইল গৃহযুদ্ধ বা এমনকি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ধসের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।

সিআইএ-র বিশেষ শাখা ‘রেড সেল’ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ‘ফ্র্যাকচার ফ্রম উইথিন’ (ভেতর থেকে ফাটল) শীর্ষক এক গোপন মূল্যায়নে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে সোমবার (০৪ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে।

সিআইএ-র সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশটির আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগে বেশ কিছু জটিল সংকট একসঙ্গে পুঞ্জীভূত হয়ে পরিস্থিতিকে চরম অস্থির করে তুলেছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা, আকাশচুম্বী সামরিক ব্যয়, পশ্চিম তীরে দখলদার ইসরাইলিদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এবং অতি-অর্থোডক্স ইহুদিদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়া নিয়ে সাধারণ জনগণের তীব্র ক্ষোভ।

এ ছাড়া দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় টিকে থাকতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক লড়াই ইসরাইলের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

আরও পড়ুন

টানা যুদ্ধ পরিস্থিতি ইসরাইলি সমাজের মধ্যকার পুরোনো বিভাজনগুলোকে আরও গভীর করেছে। গাজা, লেবানন ও ইরানে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানে অংশ নিয়ে বিপুলসংখ্যক সেনা ও রিজার্ভিস্ট মানসিক ট্রমা নিয়ে ফিরে আসছেন।

এর মধ্যে অতি-অর্থোডক্স পুরুষদের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া থেকে ছাড় দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ক্রমবর্দ্ধমান একাকীত্ব এবং খোদ যুক্তরাষ্ট্রেও তাদের জনসমর্থন কমে যাওয়াকে একটি বড় অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিআইএ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাইরের এসব চাপ ও ভেতরের অস্থিতিশীলতা একসঙ্গে মিলে ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় অস্তিত্বকেই এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে ফেলে দিচ্ছে।

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দা ও অভিযানসংক্রান্ত নিবিড় সহযোগিতা বজায় রেখে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইসরায়েল হায়োম’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল যেকোনো সম্ভাব্য আগাম হামলা কিংবা ইরানের পক্ষ থেকে আসা আক্রমণের জবাব দিতে নিজেদের প্রস্তুত রাখছে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বড় ধরনের হামলার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।

তবুও তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে এখনও নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে ইসরায়েল।

এদিকে ইসরায়েলি নিউজ ওয়েবসাইট ‘ওয়ালা’ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কায় আগামী কয়েক সপ্তাহে ইসরায়েলে অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধবিমান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে তারা জানায়, বর্তমানে ইসরায়েলজুড়ে প্রায় ৩ হাজার মার্কিন সামরিক সদস্য মোতায়েন রয়েছেন, যারা মূলত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা, পাইলটিং, এবং লজিস্টিকস সহ বিভিন্ন সহায়তামূলক কাজে নিয়োজিত।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে ইসরায়েলি বাহিনী এই আঞ্চলিক উত্তেজনা মোকাবিলার কৌশল তৈরি করছে।

অন্যদিকে কূটনৈতিক অঙ্গনেও তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তেহরান একটি ‘ন্যায্য সমাধান’ অর্জনের লক্ষ্যে কূটনীতির পথ খোলা রাখতে প্রস্তুত। জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছে সাতটি শর্ত পেশ করেছিল ইরান।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরবর্তীতে জানান যে, ওয়াশিংটন ইরানের দেওয়া শর্তগুলো মেনে নেয়নি। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে।

হুথিদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক অভিযানে নামছে ইয়েমেন সরকার

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ০৫, ২০২৬
হুথিদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক অভিযানে নামছে ইয়েমেন সরকার

ইরান-সমর্থিত হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইয়েমেনের সব এলাকা পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি) বলেছে, হুথিদের পরাজিত না করা পর্যন্ত এই অভিযান চলবে।

রোববার (৪ অক্টোবর) টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি বলেন, দেশের ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কবল থেকে মুক্তি’ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি বাহিনী অভিযান চালিয়ে যাবে। পরে দেশটির সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র হুথিদের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানান।

২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে হুথিরা। ওই অঞ্চলে ইয়েমেনের বড় অংশের মানুষ বসবাস করেন। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তাদের পশ্চিমা মিত্রদের একাধিক সামরিক অভিযানের পরও এত বছর ধরে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ ভাঙা সম্ভব হয়নি। ইরানের সহায়তায় তারা নিজেদের অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতাও বাড়িয়েছে।

কৌশলগত প্রণালি দখল

গত মাসে আকস্মিক এক সামরিক অভিযানে হুথিরা গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং লোহিত সাগরের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকা দখল করে নেয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক নৌপথের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশপথের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাব আল-মান্দাব প্রণালি লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার মধ্যে জাহাজ চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বাব আল-মান্দাবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বৃহত্তর সংঘাতের সঙ্গেও আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছে।

সৌদিতে হামলা

ইয়েমেন সরকার সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পর হুতিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও খুরাইস এলাকায় সৌদি আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

হুথিদের দাবি, এসব হামলায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনে গত ১২ ঘণ্টায় সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর প্রায় ৫০টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে তারা এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। তবে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আল-আলিমি বলেছেন, সংঘাত কমানোর সব সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়ার পরই পাল্টা অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি সৌদি আরবের সমর্থনের জন্য দেশটিকে ধন্যবাদ জানান এবং ইয়েমেনের আঞ্চলিক মিত্র ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করার আহ্বান জানান।

বড় সংঘাতের আশঙ্কা

ইয়েমেন সরকারের এই অভিযানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগে রয়টার্সকে আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব ও তাদের ইয়েমেনি মিত্ররা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সৌদি আরব আকাশপথে হামলায় নেতৃত্ব দেবে এবং ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী স্থল অভিযান পরিচালনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রও সৌদি আরবের অভিযানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে বলে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। কয়েকটি ইউরোপীয় ও আঞ্চলিক দেশ সৌদি আরবকে মূলত প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহায়তা দিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ঘিরে উদ্বেগ, তেলের দাম ছাড়াল ১০২ ডলার

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ০৫, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে ঘিরে উদ্বেগ, তেলের দাম ছাড়াল ১০২ ডলার

মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে মুরবান ক্রুডের দামও বেড়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম কিছুটা কমেছে।

ট্রেডিং ইকোনমিকসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার টোকিও সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ৩১ ডলার। আগের দামের তুলনায় এটি ৬ সেন্ট বা দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ বেশি।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহপথ ঘিরে অনিশ্চয়তাই তেলের বাজারে এই অস্থিরতার প্রধান কারণ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন হওয়া তেলের দামে অতিরিক্ত ঝুঁকির প্রভাব পড়ছে।

ব্রেন্ট ক্রুড সমুদ্রপথে সরবরাহ হওয়া তেলের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক। হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কায় এ তেলের দামে বাড়তি ঝুঁকি মূল্য বা ‘রিস্ক প্রিমিয়াম’ যুক্ত হয়েছে।

সাম্প্রতিক বাজার তথ্যে দেখা গেছে, ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দামের ব্যবধান ব্যারেলপ্রতি ১১ ডলারের বেশি হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, আন্তর্জাতিকভাবে পরিবহন করা তেল সমুদ্রপথের বিঘ্নের ঝুঁকিতে বেশি থাকায় এই ব্যবধান বাড়ছে।

গলফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেলের বাজারে ট্যাংকার সংকটও দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। জাহাজ ভাড়া ও বিমা ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে তেল পরিবহনে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

বিশেষ করে বড় আকারের অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ বা ভিএলসিসির (ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার) ভাড়া সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এতে এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে তেল পৌঁছানোর মোট খরচ আরও বাড়ছে।

হুতির অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদির সমর্থনে অস্ত্র পাঠাল পাকিস্তান

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ০৪, ২০২৬
হুতির অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদির সমর্থনে অস্ত্র পাঠাল পাকিস্তান

সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির বড় ধরনের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরবের সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের কাছে সেপ্টেম্বরে চারটি কার্গো বিমানে করে অস্ত্র পাঠিয়েছে পাকিস্তান।

সৌদি আরব যখন হুতির বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন পাকিস্তানের এই অস্ত্র সরবরাহের খবর সামনে এলো।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পাঠানো এসব অস্ত্র ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে ইয়েমেনের চলমান যুদ্ধে পাকিস্তান তাদের সংশ্লিষ্টতা আরও বাড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের এক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এডেনে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন এবং ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা পাঠিয়েছে পাকিস্তান। পাশাপাশি পাকিস্তানের সামরিক উপদেষ্টারাও সৌদি আরবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইয়েমেনে অবস্থান করছেন এবং ইয়েমেনি সেনাদের সহায়তা করছেন।

মিডল ইস্ট আইকে পশ্চিমা ও আরব বিশ্বের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হুতির বড় ধরনের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরব উচ্চমাত্রার সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। হুতি ইতোমধ্যে ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।