ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের তিন অঞ্চলে চারটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এদিকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে দেশটিকে সুরক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রিয়াদ, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে চারটি ড্রোন শনাক্ত করে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হুথিদের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার পাশাপাশি তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকেন্দ্রে হামলার ভিডিও প্রকাশ করেন।
গত জুলাইয়ে হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা বেড়েছে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর অন্তত ২০ বার হামলার শিকার হয়েছে। গত সপ্তাহে বিমানবন্দরে চালানো একটি হামলায় ১৩ জন নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সদর দপ্তর এডেনের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন। এ হামলার জন্য হুথিদের দায়ী করে ইয়েমেন সরকার।
শুক্রবার ইয়েমেন সরকার জানায়, হুথিরা এডেন বিমানবন্দর লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। একই সময়ে সরকারি বাহিনী রাজধানী সানার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত মারিব প্রদেশে অগ্রসর হওয়ার দাবি করে।
সৌদি আরব ইয়েমেন সরকারের হুথিবিরোধী সামরিক অভিযান ‘ডন অব ইয়েমেন’-এ সমর্থন দিচ্ছে। পাশাপাশি রাজধানী সানার একটি তেল স্থাপনাসহ হুথিদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলাও চালিয়েছে দেশটি।
সৌদিকে সুরক্ষায় প্রস্তুত মিসর
শনিবার মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেন, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হলে দেশটিকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে কায়রো।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়ানোর কোনো ইচ্ছা মিসরের নেই। তবে সৌদি আরবের ক্ষতি করা হলে মিসর নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না।
আল-সিসি স্পষ্ট করেন, তার বক্তব্য কাউকে আক্রমণ করা বা কারও সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার বিষয়ে নয়; বরং এটি কেবল প্রতিরক্ষার প্রশ্ন।
প্রেসিডেন্টের অনুরোধে রোববার মিসরের পার্লামেন্টে জরুরি অধিবেশন ডাকার কথা রয়েছে।
এদিকে সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, হুথিদের সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধিতে ইরান উৎসাহ জোগাচ্ছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, সংঘাত নিরসনে একটি সমন্বিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই একমাত্র বাস্তবসম্মত ও টেকসই পথ।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে সৌদি আরবে অবস্থিত কয়েকটি দেশের দূতাবাস নাগরিকদের ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং বিমানবন্দর ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে।
এ ছাড়া হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে রিয়াদ ও পার্শ্ববর্তী দিরিয়াহ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দূরশিক্ষণ কার্যক্রমের মেয়াদ বাড়িয়েছে সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয়।