১৪ আগস্ট ২০২৬

১ জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে সর্বজনীন ‘বাংলা কিউআর’

প্রকাশ: শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬
১ জুলাই থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে সর্বজনীন ‘বাংলা কিউআর’

দেশে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করতে আগামী ১ জুলাই থেকে সারা দেশে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হচ্ছে সর্বজনীন আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, একক এই কিউআর ব্যবস্থার মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়বে, কমবে নগদ টাকার ব্যবহার ও প্রতারণার ঝুঁকি।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলা কিউআর ক্যাম্পেইন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান।

কর্মকর্তারা জানান, নতুন এই নিয়মের ফলে ছোট থেকে বড় সব ধরনের ক্যাশলেস লেনদেন সহজ হবে। এখন থেকে একজন বিক্রেতার দোকানে নগদ, বিকাশ, রকেট বা বিভিন্ন ব্যাংকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কিউআর কোড ঝুলিয়ে রাখতে হবে না। একটিমাত্র সর্বজনীন ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার করেই যেকোনো গ্রাহক সহজে তার পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন।

ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার বলেন, ক্যাশলেস লেনদেনকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে। ডিজিটাল এই পদ্ধতিতে লেনদেন বাড়লে টাকা ছাপানোর খরচ যেমন কমবে, তেমনি আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে আরেক ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান জানান, ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় বড় শপিংমল- সবখানেই নগদ টাকার লেনদেনের ঝুঁকি কমাবে এই বাংলা কিউআর। এর মাধ্যমে দেশের রাজস্ব আয়ও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২৫ সালে ডিজিটাল লেনদেনে মোট প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে ৮১ হাজার ৪২৩টি। এসব জালিয়াতির মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। বাধ্যতামূলকভাবে সর্বজনীন বাংলা কিউআর চালু হলে এই ধরনের প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এবার গুগলের জেমিনির বিজ্ঞাপনে শাহরুখ খান!

প্রচারণার বিজ্ঞাপনচিত্রগুলোতে জেমিনিকে এমন এক কণ্ঠ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যে ব্যবহারকারীর কথা শোনে, বোঝে এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬
এবার গুগলের জেমিনির বিজ্ঞাপনে শাহরুখ খান!

ভারতে জেমিনিকে নিয়ে নতুন একটি প্রচারণা শুরু করেছে গুগল ইন্ডিয়া। এতে অভিনয় করেছেন শাহরুখ খান। প্রচারণাটির থিম ও চিত্রনাট্য লিখেছেন প্রসূন যোশি। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবহারকারীদের জন্য জেমিনির বহুভাষিক সক্ষমতা তুলে ধরাই এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য। গুগল, ম্যাকক্যান ইন্ডিয়া ও নির্ভানা ফিল্মস যৌথভাবে প্রচারণাটি তৈরি করেছে।

প্রচারণার বিজ্ঞাপনচিত্রগুলোয় জেমিনিকে এমন এক কণ্ঠ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যে ব্যবহারকারীর কথা শোনে, বোঝে এবং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। জেমিনি টেক্সট, ভিডিও, কণ্ঠস্বর ও ছবি—বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করলেও প্রচারণার সৃজনশীল কাজটিতে ব্যক্তিগত যোগাযোগের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য, এআইকে মানুষের কাছে কম ভীতিকর ও আরো স্বাভাবিক করে তোলা।

গুগল ইন্ডিয়ার মার্কেটিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখর খোসলা বলেন, প্রযুক্তি তখনই সত্যিকার অর্থে তার জাদু ছড়ায়, যখন এটি শুধু একটি হাতিয়ার হিসেবে না থেকে জীবনের প্রতিদিনের মুহূর্তগুলোর সঙ্গী হয়ে ওঠে।

তিনি আরো বলেন, গুগল জেমিনির মাধ্যমে আমরা শুধু আকাঙ্ক্ষা ও অর্জনের মধ্যকার দূরত্ব কমাচ্ছি না; আমরা ভারতের হৃদয়ের সঙ্গে কথা বলছি—আমাদের নিজেদের ভাষায়, নিজেদের আবেগে এবং নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্যের পরিসরে। শাহরুখ খান ও প্রসূনের সঙ্গে কাজ করে এই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা আশা করি, এটি আপনাদের প্রতিদিনের সাফল্যের প্রেরণা হয়ে উঠবে এবং প্রতিটি মুহূর্তে নতুন ভাবনা ও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।’

প্রসূন যোশি বলেন, ‘এগুলো শুধু দৈনন্দিন জীবনের গল্প নয়। এগুলো এমন কিছু মুহূর্ত থেকে এসেছে, যেগুলো আমার মনে থেকে গেছে। আশা করি, দর্শকরাও এগুলোর সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পাবেন।’

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সুখবর, ফেসবুকে যুক্ত হচ্ছে বিকাশ

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২৬
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সুখবর, ফেসবুকে যুক্ত হচ্ছে বিকাশ

বাংলাদেশের হাজারো কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং ডিজিটাল মার্কেটারদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে আসছে মেটা। খুব শিগগিরই ফেসবুকে বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধে জনপ্রিয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিকাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। এরই মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে এই সুবিধা দেখা গেছে এবং তারা সফলভাবে বিকাশের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধও করেছেন।

যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সব ব্যবহারকারীর জন্য ফিচারটি চালু হয়নি, তবুও এটি বাংলাদেশের ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এতদিন বাংলাদেশ থেকে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিতে হলে আন্তর্জাতিক ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের প্রয়োজন হতো। অনেকের ক্ষেত্রে ডুয়াল কারেন্সি চালু করা, ব্যাংকের অনুমোদন নেওয়া কিংবা কার্ড ব্যবহারের নানা জটিলতার কারণে বিজ্ঞাপন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ত। বিশেষ করে নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ছোট ব্যবসায়ী এবং এফ-কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্য এটি ছিল বড় একটি বাধা। বিকাশ যুক্ত হলে সেই ঝামেলা অনেকটাই কমে আসতে পারে।

সম্প্রতি কয়েকজন ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুক অ্যাডস ম্যানেজারের স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন। সেখানে ‘অ্যাড পেমেন্ট মেথড’ অপশনে প্রচলিত ব্যাংক কার্ডের পাশাপাশি বিকাশ-এর নামও দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকজন ব্যবহারকারী বিকাশ ব্যবহার করে বিজ্ঞাপনের বিল সফলভাবে পরিশোধ করেছেন বলেও জানিয়েছেন।

এই সুবিধা চালু হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারেন-
*ইউটিউব ও ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটর
*ছোট ব্যবসার মালিক
*এফ-কমার্স উদ্যোক্তা
*ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি
*ফ্রিল্যান্সার
*স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান

অনেকেই অল্প বাজেটের বিজ্ঞাপন চালাতে চান। কিন্তু আন্তর্জাতিক কার্ড না থাকায় তা সম্ভব হতো না। বিকাশ যুক্ত হলে স্থানীয়ভাবেই দ্রুত পেমেন্ট করা সহজ হবে। তবে এখনই সবাই ব্যবহার করতে পারবেন না। বর্তমানে এটি সীমিত সংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু রয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, নতুন পেমেন্ট পদ্ধতি চালুর আগে মেটা সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু অ্যাকাউন্টে পরীক্ষা চালায়। ফলাফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে এটি আরও বেশি ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

এখন পর্যন্ত মেটা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। ফলে কবে নাগাদ বিকাশভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সবার জন্য চালু হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ফিচারটির উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশি ব্যবহারকারীরা আন্তর্জাতিক কার্ডের বিকল্প হিসেবে বিকাশ ব্যবহার করে সহজেই ফেসবুক বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করতে পারবেন।

বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যবসা, অনলাইন শপ, কনটেন্ট ক্রিয়েশন এবং ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এই খাতে সহজ পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু হলে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া আরও সহজ হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কার্ডের ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে। ফলে স্থানীয় ডিজিটাল অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও সহজে অনলাইন প্রচারণা চালাতে পারবেন।

রোবোট্যাক্সির বৈশ্বিক হাব হতে যাচ্ছে কাতার!

প্রযুক্তি ডেক্স
প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ০৯, ২০২৬

কেবল প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে স্বচালিত (অটোনোমাস) ও বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পে আঞ্চলিক উৎপাদন এবং রপ্তানি কেন্দ্রে রূপান্তরের পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে কাতার। উন্নত গণপরিবহন প্রযুক্তিতে বিশ্বমঞ্চে অন্যতম প্রধান গন্তব্য হয়ে ওঠার লক্ষ্যে 'কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০'-এর অধীনে এই সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় (MoT)।

মন্ত্রণালয়ের পাঁচ বছর মেয়াদী ‘স্বচালিত যানবাহন কৌশল’-এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে রোবোট্যাক্সি পরিচালনা করা হয়, যা প্রাথমিক বাণিজ্যিক পর্যালোচনায় ৯৪ শতাংশ সাফল্যের মুখ দেখেছে

এআই প্রযুক্তি ও উন্নত সেন্সরের দ্বিতীয় পর্যায়

কাতার টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও সড়ক নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ জসিম আল-শাইবানি জানান, স্বচালিত এসব যানবাহনে অত্যন্ত উন্নত সেন্সর এবং ‘লাইডার’ (LiDAR) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা কোনো ধরনের মানব স্পর্শ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপদে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।

তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, প্রকল্পটি বর্তমানে তার দ্বিতীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে—যেখানে গাড়িতে পূর্বে উপস্থিত থাকা মানব নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে (Safety Officer) সরিয়ে দিয়ে পুরো নজরদারি ব্যবস্থা দূর থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

কাতার ফ্রি জোনে বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও ২০০ কোটির বাজার

আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের উৎপাদন, পরীক্ষা এবং তা বাস্তবায়নের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে কাজ করছে কাতার ফ্রি জোনস অথরিটি (QFZA)। ইতোমধ্যে ফ্রান্সের ‘গাউসিন’ (Gausin) এবং চীনের ‘ইউটং’ (Yutong)-এর মতো বিশ্বখ্যাত সংস্থাগুলো কাতারের ফ্রি জোনগুলোতে তাদের বৈদ্যুতিক ও স্বচালিত যানবাহন সংযোজন কারখানা গড়ে তুলেছে।

  • উৎপাদন ও রপ্তানি লক্ষ্য: কাতার থেকে উৎপাদিত এসব যানবাহন তুরস্ক, ভারত এবং আফ্রিকাসহ একটি বিশাল আঞ্চলিক বাজারে সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা প্রায় ২০০ কোটিরও বেশি মানুষের চাহিদাকে কাভার করবে।

  • বিশেষ টেস্ট ট্র্যাক: যানবাহনগুলোর মান যাচাইয়ে নিখুঁত বাস্তব পরিবেশ ফুটিয়ে তুলতে ফ্রি জোনে গড়ে তোলা হয়েছে ১.২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বিশেষ আউটডোর টেস্টিং ট্র্যাক।

স্থানীয় আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ ও ৫জি অবকাঠামো

কাতারের চরম গ্রীষ্মকালীন তীব্র গরমের মধ্যে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যাটারি যেন মসৃণ ও নিরাপদ থাকে, তা নিয়ে কাজ করছে কাতার এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড এনার্জি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (QEERI)। ব্যাটারির গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২০২২ সাল থেকেই দেশটির রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন সংস্থা ‘মোওয়াসালাত’ (Karwa)-এর সাথে যৌথভাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রযুক্তিটি নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সাহায্য করছে কাতারের শক্ত অবকাঠামো এবং দেশের ৭০ শতাংশ অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত আধুনিক ৫জি (5G) নেটওয়ার্ক।

আগামী দিনের পরিকল্পনা ও ই-মোবিলিটি ফোরাম

আগামী ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দোহায় আয়োজিত হতে যাচ্ছে 'অটোনোমাস ই-মোবিলিটি ফোরাম ২০২৬', যেখানে এসব নতুন প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা নিয়ে বৈশ্বিক বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় বসবেন।

পরিবহন মন্ত্রণালয় মনে করে, এই উদ্যোগগুলো 'কাতার-২০৫০ পরিবহন মহাপরিকল্পনা'র অন্যতম মূল ভিত্তি। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশের কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে, অন্যদিকে ভ্রমণের সময় এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমে গিয়ে সার্বিক অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এক বিরাট ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উদ্ভাবন ‘গ্লুকোওয়াচ’: এআই দিয়ে মাপা যাবে ডায়াবেটিস

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উদ্ভাবন ‘গ্লুকোওয়াচ’:  এআই দিয়ে মাপা যাবে ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস রোগীদের বারবার আঙুল ফোটানোর কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে 'গ্লুকোওয়াচ' নামের এক নতুন স্মার্টওয়াচ উদ্ভাবন করেছেন কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। রক্ত না তুলে বা কোনো ধরনের ব্যথা ছাড়াই ডিভাইসটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে রক্তে গ্লুকোজের সঠিক মাত্রা মেপে দিতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. খালিদ আবু আল সৌদ-এর নেতৃত্বে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একদল ছাত্রী—নোরা আল বার্দিনি, মাজুন আল শাহওয়ানি, ফাতিমা আল কাবী ও সারা আল মুহান্নাদি এই সাফল্য অর্জন করেছেন। উদ্ভাবনটি ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে পেটেন্টের জন্য নিবন্ধিত হয়েছে।

কীভাবে কাজ করে এই 'গ্লুকোওয়াচ'?

গ্লুকোওয়াচ মূলত হৃদস্পন্দনের গতি, রক্তচাপের রিডিং ও আনুষঙ্গিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্লুকোজের পরিমাণ হিসাব করে।

এর মূল সুবিধাগুলো হলো:

  • ব্যথামুক্ত পর্যবেক্ষণ: কোনো সূঁচ না ফুটিয়ে বা রক্ত না তুলে স্বাভাবিক উপায়ে গ্লুকোজ মাপা যায়।

  • মোবাইল অ্যাপ: একটি স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারী নিজেই নিজের স্বাস্থ্যের আপডেট দেখতে পারবেন।

  • জরুরি সংকেত: গ্লুকোজের মাত্রা বেশি বা কম হলে সাথে সাথে অ্যাপের মাধ্যমে সতর্কবার্তা চলে আসবে, যা চাইলে চিকিৎসক বা স্বজনদের কাছেও পাঠানো যাবে।

প্রজেক্ট থেকে আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি সাধারণ গ্র্যাজুয়েশন প্রজেক্ট হিসেবে কাজটির যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা পরে পূর্ণাঙ্গ গবেষণায় রূপ নেয়। ২০২৩ সালে কুয়েতে অনুষ্ঠিত ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনভেনশন ফেয়ার অফ দ্য মিডল ইস্ট’-এ এই উদ্ভাবনটি স্বর্ণপদক জয় করে।

সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য

গবেষক দলটি এখন এর এআই মডেলকে আরও নিখুঁত করার কাজ চালাচ্ছে, যাতে ডিভাইসটির হিসাব একদম নিখুঁত হয়। সব ধরনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর এটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ড. আবু আল সৌদ জানান, 'কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০'-এর অংশ হিসেবেই এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। অনুমোদন পেলেই সাশ্রয়ী মূল্যে কাতারসহ বিশ্বের ডায়াবেটিস রোগীদের হাতে এটি তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

২০৪০ সালের মধ্যে ১ কোটি রোবট নামাচ্ছে জাপান

প্রকাশ: রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬
২০৪০ সালের মধ্যে ১ কোটি রোবট নামাচ্ছে জাপান

২০৪০ সালের মধ্যে ১৮টি ভিন্ন খাতে ১ কোটি এআই-চালিত রোবট মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে জাপান। এই ঐতিহাসিক রোবোটিকস অভিযানের জন্য দেশটির সরকার আগামী পাঁচ বছরে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার তহবিল বরাদ্দ করেছে।

জাপানের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় রোবোটিকস চালুর উদ্যোগ। ২০৪০ সালের মধ্যে ১ কোটি রোবটের এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা জাপানের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। তবে দেশটির চরম শ্রমিকসংকট মেটাতে ফিজিক্যাল এআই-ভিত্তিক এই রোবট প্রযুক্তিই হতে চলেছে তাদের টিকে থাকার মূল কৌশল।

নোয়েত্রা কী এবং কারা এটি তৈরি করছে
জাপানের ‘অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়’ এবং উদ্ভাবনী সংস্থা ‘এনইডিও’-এর অধীনে গঠিত হয়েছে একটি নতুন কনসোর্টিয়াম। এর নাম দেওয়া হয়েছে নোয়েত্রা। সফট ব্যাংক, এনইসি, সোনি এবং হোন্ডার যৌথ মালিকানাধীন এই কনসোর্টিয়ামের মূল লক্ষ্য হলো একটি ফিজিক্যাল এআই ফাউন্ডেশন মডেল তৈরি করা। এটি এমন একটি মাল্টিমোডাল এআই সিস্টেম, যা ভাষা, ছবি, ভিডিও এবং সেন্সর ডেটা একসঙ্গে প্রসেস করবে এবং রোবটকে বাস্তব পরিবেশে সিদ্ধান্ত নিতে ও নির্ভুলভাবে কাজ করতে সাহায্য করবে। ফুজিতসু ও রাকুটেনও এই কনসোর্টিয়ামে যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। ২০২৬ অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই নোয়েত্রার প্রথম ব্যবহারিক মডেল উন্মোচন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

কেন এই রোবট সেনা
১৯৯৫ সালে জাপানের কর্মক্ষম জনসংখ্যা সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছানোর পর থেকে তা ক্রমাগত কমছে। ২০২৪ সালে তা নেমে এসেছে ৭৩ দশমিক ৭ মিলিয়নে। বর্তমানে দেশটির প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষের বয়স ৬৫ বা তার বেশি। রিক্রুট ওয়ার্কস ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২২ সালের তুলনায় ২০৪০ সালের মধ্যে জাপানে শ্রমিকের ঘাটতি দাঁড়াবে ১১ মিলিয়ন বা ১ কোটি ১০ লাখে।

অন্যদিকে ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে জাপানের ৬৫ লাখ বা ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন বিদেশি কর্মী প্রয়োজন। কিন্তু দেশটির অত্যন্ত কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে এটি পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই জাপানের এই বিশাল রোবট বাহিনী গড়ার সিদ্ধান্ত কেবল প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা নয়, অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।

১৮টি অগ্রাধিকার খাতের রোবট বাহিনী
এই পরিকল্পনার অধীনে মূলত ১৮টি শিল্প ও সেবা খাতকে রোবট দিয়ে সচল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হলো খাবার তৈরি ও রেস্তোরাঁয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে খাবার তৈরি, প্যাকেজিং ও পরিবেশন করা।

হাসপাতাল ও নার্সিং হোমে রোগীদের সেবা দেওয়া, তাদের গতিশীলতায় সহায়তা করা এবং নিয়মিত কাজের তদারকি।

ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুল্লি নিষ্ক্রিয় করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সংগৃহীত ডেটা ব্যবহার করে দুর্যোগকালীন উদ্ধার কাজ পরিচালনা।

এশিয়ার রোবট যুদ্ধ
জাপানের এই ঘোষণার পরপরই দক্ষিণ কোরিয়া ৮৮০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল প্রযুক্তিগত পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তারা ২০২৮ সালের মধ্যে ১০টি প্রধান শিল্পে হিউম্যানয়েড অর্থাৎ মানুষের মতো রোবট বাণিজ্যিকভাবে নামাতে চায়। বর্তমানে প্রতি ১০ হাজার কর্মীর বিপরীতে ১ হাজার ১২টি রোবট নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বেশি রোবট ব্যবহারকারী দেশ। এ ছাড়া হুন্দাই তাদের বোস্টন ডায়নামিকস সাবসিডিয়ারির মাধ্যমে প্রতিবছর ৩০ হাজার অ্যাটলাস রোবট তৈরির পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি চীনও এজিবোট ও ইউনিট্রির মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতায় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।