২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানি এয়ারলাইন নিষিদ্ধ করল আমিরাত

প্রকাশ: শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানি এয়ারলাইন নিষিদ্ধ করল আমিরাত
টপ স্টোরিজ

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানের বিমান চলাচল খাত আরও বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশ ও আমিরাত থেকে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করেছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএম জানায়, দেশটির জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সব ফ্লাইট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানি এয়ারলাইনগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগে নতুন সংকট তৈরি করেছে। দুবাই ইরানি এয়ারলাইনগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি গন্তব্য। সেখানে ইরানের বড় প্রবাসী জনগোষ্ঠী রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ও ভ্রমণ যোগাযোগও রয়েছে। বৃহস্পতিবার তেহরান থেকে দুবাইগামী ইরান এয়ারট্যুরের একটি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের কিছু আগে বাতিল করা হয়। যাত্রীদের টিকিট ইতোমধ্যে ইস্যু করা হয়েছিল বলে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার মুখপাত্র মাজিদ আখাভান জানিয়েছেন, আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বিমান চলাচল–সংক্রান্ত আলোচনা চলছে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে আবার ফ্লাইট চালুর বিষয়ে সমাধান খোঁজা হচ্ছে। একই সময়ে তুর্কমেনিস্তানও তেহরান থেকে দুশানবেগামী একটি ইরানি ফ্লাইটকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। ফলে বিমানটি তেহরানে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

একের পর এক দেশের নিষেধাজ্ঞা

আমিরাতের আগে ওমান, ইরাক, আজারবাইজান, জর্জিয়া ও তুর্কমেনিস্তানও ইরানি বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বা ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ইরাকের বাগদাদ ও নাজাফের পর শুক্রবার এরবিল ও সুলাইমানিয়াহ বিমানবন্দরও ইরানি ফ্লাইট স্থগিত করে। ফলে ইরানের সঙ্গে যেসব চারটি ইরাকি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলত, সবগুলোতেই এখন তা বন্ধ রয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা নীতি। চলতি মাসের শুরুতে ওয়াশিংটন ইরানের বিমান চলাচল খাতের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের ২৭টি এয়ারলাইন এবং তাদের সহায়তাকারী বিভিন্ন কোম্পানিকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি ছিল, ইরানি নিষেধাজ্ঞাভুক্ত এয়ারলাইনকে বিমানবন্দর, জ্বালানি, স্থলসেবা বা অন্যান্য সহায়তা দেওয়া প্রতিষ্ঠানও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এর ফলে ইরানের সঙ্গে সরাসরি ব্যবসা না করা তৃতীয় দেশের কোম্পানিগুলোর ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।

ইরানের বিমান চলাচল খাতে এর প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। আলজাজিরার এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে ইরান থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সক্ষমতা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৯ শতাংশ কমে যায়। নতুন বিধিনিষেধের কারণে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের একটি অংশকে তুরস্ক ও আর্মেনিয়ার মতো দেশের স্থল সীমান্ত ব্যবহার করতে হচ্ছে।

পাল্টা হুমকি তেহরানের

ইরানি কর্মকর্তারা এরই মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছেন, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে, তাদের বিমানবন্দরও ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচল থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

শুক্রবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবেরও সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি উড়তে এবং বিমানবন্দরসেবা পেতে না পারে, তাহলে অঞ্চলটির অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চীন ও আর্মেনিয়ার কিছু বিমান যোগাযোগ এখনো চালু রয়েছে। তুরস্কের সঙ্গেও কিছু রুট সচল আছে। তবে এসব রুটেও ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিমান যোগাযোগে এই চাপ দেশটির অর্থনীতির পাশাপাশি পর্যটন ও সংশ্লিষ্ট খাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচল ও ভ্রমণ খাতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অতীতের বিরোধ ভুলে সম্পর্কের ‘নতুন অধ্যায়’ শুরু করতে চায় ইরান ও আমিরাত

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
অতীতের বিরোধ ভুলে সম্পর্কের ‘নতুন অধ্যায়’ শুরু করতে চায় ইরান ও আমিরাত
টপ স্টোরিজ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মাঝে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের বড় ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশ দুটি অতীতের বিরোধ ভুলে এখন সম্পর্কের ‘নতুন অধ্যায়’ শুরু করতে চায়।

ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে গত শনিবার আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার তিনি জানান, বৈঠকে তারা অতীত ভুলে একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসন এবং এর জেরে আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলার পর এটিই দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। উল্লেখ্য, গত মাসেই ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক লেনদেন স্থগিত করেছিল আমিরাত।

পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় জানান, আমিরাত বা এ অঞ্চলের অন্য কোনো দেশের সঙ্গে ইরানের কোনো সমস্যা নেই, তারা সবাই ভাই। তবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নিয়ে তেহরানের তীব্র আপত্তি রয়েছে। কারণ এসব ঘাঁটি ব্যবহার করেই ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মাটি ব্যবহার করে শত্রুদের হামলার সুযোগ দেওয়া মোটেও উচিত নয়।

এদিকে, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়ে সোমবার ওমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তারা আলোচনা করলে তাতে তিনি কোনো ‘পরোয়া করেন না’। জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব।

সম্পর্কচ্ছেদ ও বিমান চলাচল চুক্তি বাতিল:

আমিরাতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিল আলজেরিয়া

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
আমিরাতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিল আলজেরিয়া
টপ স্টোরিজ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে আলজেরিয়া।

‘ফ্রান্স ২৪’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রক্ষার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য দেশটিতে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণ হিসেবে আমিরাতের ‘উসকানিমূলক ও বৈরী কর্মকাণ্ড’-এর কথা উল্লেখ করেছে।

তবে ‘ফ্রান্স ২৪’-এর মন্তব্যের অনুরোধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। এর আগেও আলজেরিয়ার গণমাধ্যম সংযুক্ত আরব আমিরাতের তীব্র সমালোচনা করেছে এবং অঞ্চলটিতে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে।

গত বছর দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেব্বুনে বলেছিলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি দেশ ছাড়া বাকি সব দেশের সাথেই তার দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ। ‘ফ্রান্স ২৪’-এর মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কথাই বুঝিয়েছিলেন।

তেব্বুনে সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও কাতারের সাথে আলজেরিয়ার সম্পর্ককে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। একই সাথে তিনি নাম উল্লেখ না করে একটি দেশের বিরুদ্ধে আলজেরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগ এনেছিলেন।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে আলজেরিয়া ২০১৩ সালের মে মাসে আবুধাবিতে স্বাক্ষরিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে একটি বিমান পরিবহন চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করে।

জুলাই মাসে টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেব্বুনে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং তিনি স্পষ্ট করেন, আলজেরিয়া চায় দেশটি যেন তাদের থেকে দূরে থাকে।

জর্ডানের পর আমিরাতের আল মিনহাদ ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের ড্রোন হামলা

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
জর্ডানের পর আমিরাতের আল মিনহাদ ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের ড্রোন হামলা
টপ স্টোরিজ

দক্ষিণ ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন সামরিক হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।

ইরানি সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, সোমবার ‘ভোর থেকেই’ ওই ঘাঁটির দিকে কয়েক ডজন ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল আল মিনহাদ ঘাঁটির সেই নির্দিষ্ট এলাকাগুলো, যেখানে মার্কিন বাহিনী এবং তাদের সামরিক হেলিকপ্টারগুলো মোতায়েন রয়েছে।
সম্প্রতি ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন বিমান হামলায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সদস্য এবং বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক নিহত হন। মূলত সেই হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই ড্রোন অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
এর আগে জর্ডানের কিং হুসেন এবং আল আজরাক ঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরান। পরপর কয়েকটি দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে এই ধরনের পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল ও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই চলমান সংঘাত এখন আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিচ্ছে, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের শৃঙ্খলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

২০২৭ সালে কবে রোজা ও ঈদ? জানাল সংযুক্ত আরব আমিরাত

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬
২০২৭ সালে কবে রোজা ও ঈদ? জানাল সংযুক্ত আরব আমিরাত
টপ স্টোরিজ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালে পবিত্র রমজান মাস ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে। ঈদুল ফিতর পালিত হতে পারে ৯ অথবা ১০ মার্চ, আর ঈদুল আজহা ১৬ বা ১৭ মে। তবে এসব ধর্মীয় দিবসের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হবে চাঁদ দেখার ওপর। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবের সঙ্গে বাস্তব তারিখে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে।

হিজরি বর্ষপঞ্জির প্রতিটি মাস ২৯ অথবা ৩০ দিনের হয়। নতুন চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই মাসের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতি মাসে চাঁদ দেখার কার্যক্রম পরিচালনা করে দেশটির চাঁদ দেখা কমিটি। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী রমজান, ঈদসহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিবসের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হয়।

জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার অথবা ৭ ফেব্রুয়ারি রোববার রমজান মাসের নতুন চাঁদ দেখা যেতে পারে। তবে ৬ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ ২৯ শাবান সন্ধ্যায় সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাঁদ দেখা সম্ভব হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ ওই সময় চাঁদ সূর্যের আগে অস্ত যেতে পারে অথবা সূর্যাস্তের পর চাঁদ ও সূর্যের সংযোগ ঘটতে পারে।

এ কারণে শাবান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সে ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে।

হিজরি শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদুল ফিতর পালিত হয়। তাই রমজান মাস ২৯ নাকি ৩০ দিনে শেষ হবে, তার ওপর ঈদের তারিখ নির্ভর করবে।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবে, ২০২৭ সালের ৮ মার্চ সোমবার সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যেতে পারে। সেদিন চাঁদ দেখা গেলে ৯ মার্চ মঙ্গলবার ঈদুল ফিতর পালিত হবে। আর ৮ মার্চ চাঁদ দেখা না গেলে রমজান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হবে। সে ক্ষেত্রে ১০ মার্চ বুধবার ঈদুল ফিতর হতে পারে।

অর্থাৎ, ২০২৭ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঈদুল ফিতর ৯ অথবা ১০ মার্চ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

হিজরি জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা পালিত হয়। এর আগের দিন ৯ জিলহজ পবিত্র আরাফার দিন।

জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের হিসাবে, ২০২৭ সালের ৬ মে বৃহস্পতিবার অথবা ৭ মে শুক্রবার জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ দেখা যেতে পারে। সে অনুযায়ী ঈদুল আজহা ১৬ মে রোববার অথবা ১৭ মে সোমবার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চাঁদ দেখার বাস্তব ফলাফলের ওপর নির্ভর করে ঈদুল আজহার চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হবে।

নতুন ইসলামি বছর শুরু হতে পারে ৫ থেকে ৭ জুন। হিজরি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মুহররম। এ মাসের প্রথম দিন থেকেই নতুন ইসলামি বছরের সূচনা হয়।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, জিলহজ মাস ৭ মে শুরু হলে এবং ২৯ দিনে শেষ হলে ৫ জুন শনিবার থেকে মুহররম মাস শুরু হতে পারে। আর জিলহজ ৩০ দিনে পূর্ণ হলে মুহররম শুরু হতে পারে ৬ জুন রোববার।

অন্যদিকে, জিলহজ মাস ৮ মে শুরু হলে এবং ২৯ দিনে শেষ হলে ৬ জুন শনিবার মুহররমের প্রথম দিন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে জিলহজ ৩০ দিনে পূর্ণ হলে নতুন ইসলামি বছর শুরু হবে ৭ জুন।

তবে রমজান, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা ও মুহররমের চূড়ান্ত তারিখ চাঁদ দেখার ওপরই নির্ভর করবে।

ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্য-আর্থিক লেনদেন স্থগিত আমিরাতের

প্রকাশ: বুধবার, আগস্ট ১৯, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে সব বাণিজ্য-আর্থিক লেনদেন স্থগিত আমিরাতের
টপ স্টোরিজ

পারস্য উপসাগরে নৌ চলাচলের পথ লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার বিষয় পর্যবেক্ষণ করেছে।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনাক্ত করা ক্ষেপণাস্ত্র দুটির একটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আঞ্চলিক পানিসীমার বাইরে এবং অন্যটি পানিসীমার অভ্যন্তরে গিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পরিচালিত এক মূল্যায়নে তারা জানায়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দুটি মূলত সমুদ্র নৌ চলাচলকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সেগুলো সাগরে গিয়ে আছড়ে পড়ে।

ঘটনার প্রাথমিক ঘোষণার কিছু আগে আমিরাত কর্তৃপক্ষ মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়ে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে নাগরিকদের সতর্কবার্তা দেয়। তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর দ্রুতই সেই সতর্কবার্তা তুলে নেওয়া হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আমিরাতের দিকে কোনও ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথা নিশ্চিতভাবে অস্বীকার করেন।

ইসমাইল বাঘাই বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমন অভিযোগ প্রতিবেশীসুলভ আচরণের মূলনীতির পরিপন্থী। এটি আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বাস সুদৃঢ় করা এবং অস্থিতিশীলতা রোধে চলমান প্রচেষ্টাকে বিঘ্নিত করবে। একই সঙ্গে ইরানকে কেন্দ্র করে এই ধরনের ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ আনা থেকে বিরত থাকতে আঞ্চলিক সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।