২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ উল্লেখ করে মানচিত্রের ছবি পোস্ট করলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
হরমুজকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ উল্লেখ করে মানচিত্রের ছবি পোস্ট করলেন ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ নামে উল্লেখ করে একটি মানচিত্রের ছবি প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কৌশলগত এ জলপথ পুনরায় খুলে দেয়ার জন্য ইরান সাত দিনের পরিকল্পনা প্রস্তাব করার কয়েক ঘণ্টা পরই শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ছবিটি পোস্ট করেন ট্রাম্প।

এর আগে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার বিনিময়ে যুদ্ধ বন্ধসহ একটি নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। শুক্রবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ পর্যায়ে রয়েছে। তবে আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে সাতদিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি পুনরায় চালু করা সম্ভব। দেশটি আরো ইঙ্গিত দিয়েছে, এমন একটি সমঝোতা মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্য সহায়ক হতে পারে।

তারা আরো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্তগুলো মেনে নেয়ার পর দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তারা। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার বা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর মতো বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না ইরান। অন্যদিকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেয়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবি।

ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার অভিযোগ করে আসছে। এর মধ্যে ইরানের ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করার বিষয়টিও তারা উল্লেখ করে। বেসামরিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার তুলনায় এ হার অনেক বেশি এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি। তবে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালানোর সময় দেশটির কাছে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। এর কতটা এখনো অবশিষ্ট আছে, তা স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্প, জেডি ভ্যান্স, ইলন মাস্ক ও নেতানিয়াহুকে হত্যার পরিকল্পনা নস্যাৎ

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
ট্রাম্প, জেডি ভ্যান্স, ইলন মাস্ক ও নেতানিয়াহুকে হত্যার পরিকল্পনা নস্যাৎ

রোমহর্ষক ষড়যন্ত্রের পর্দা ফাঁস করার দাবি করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। তাদের মতে, হোয়াইট হাউসের চত্বরে ঐতিহাসিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালীন সময়ে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়ার ভয়ংকর পরিকল্পনা করেছিল একদল উগ্রপন্থী।

গত ১৪ জুন হোয়াইট হাউসের সাউথ লহ্নে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মবার্ষিকী এবং দেশটির আড়াইশতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ শীর্ষক বিশেষ মিশ্র মার্শাল আর্ট ইভেন্ট। আর ঠিক এই জমজমাট আন্তর্জাতিক আয়োজনের দিনেই ঘটে যেতে পারত আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী এক ট্র্যাজেডি।

এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই নাশকতার ছক ভেস্তে দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দাদের সময়োপযোগী তৎপরতায় বিস্ফোরকভর্তি ড্রোন হামলা, স্নাইপার টিম এবং হোয়াইট হাউসের গেট জোর করে দখলের পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে নস্যাৎ করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারীরা পরিকল্পনা করেছিল যে বিস্ফোরণ ঘটানো ড্রোন দিয়ে লড়াইয়ের ভেন্যুর আশপাশের ভবনগুলোকে টার্গেট করা হবে এবং আতঙ্কে মানুষ যখন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে, তখন স্নাইপার টিম দিয়ে সাধারণ ভিড়ের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হবে। ঠিক কতটা নৃশংস ও বর্বরোচিত ছিল সেই পরিকল্পনা, তা তাদের একটি গোপনীয় চ্যাট গ্রুপের মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট। যেখানে অত্যন্ত ঔদ্ধত্যের সঙ্গে লেখা হয়েছিল যে পরিস্থিতি হতে চলেছে এক রক্তক্ষয়ী উন্মত্ততা।

কীভাবে উন্মোচিত হলো এই ভয়ংকর ষড়যন্ত্র? মার্কিন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ওহাইওর এক তরুণের পরিবারের এক সদস্যের সর্তকতার কারণে বিষয়টি প্রথম পুলিশের নজরে আসে। ওই তরুণ ওয়াশিংটন ডিসিতে কোনো এক বড় ধরনের ক্ষতিকর ঘটনা ঘটানোর কথা বলাবলি করছিলেন, যা নিয়ে তার পরিবার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

এরপরই এফবিআই এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে তদন্তে নামে এবং ১৯ বছর বয়সী টাইসেন প্রপার নামের ওই তরুণসহ চক্রের অন্যান্যদের গ্রেপ্তার করে। পুলিশ যখন ওহাইওর ওই তরুণের বাড়িতে পৌঁছায়, তখন দেখা যায় তিনি ও তার সহযোগীরা আগে থেকেই অস্ত্র, গুলি এবং বর্ম বা বডি আর্মারে সজ্জিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ওই তরুণ জানান যে অনলাইনে এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকা লোকজনকে তিনি বাস্তবে কখনো দেখেননি, এমনকি তাদের আসল নামও তার জানা ছিল না।

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে আরও লোমহর্ষক সব তথ্য। এফবিআইয়ের মতে, টাইসেন প্রপারের ফোন তল্লাশি করে ‘হান্টার্স’ নামে একটি সিগন্যাল গ্রুপের সন্ধান মেলে, যেখানে প্রায় ১৯ জন সদস্য যুক্ত ছিল। টিকটক, টেলিগ্রাম এবং সিমপ্লেক্সের মতো বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপে ফেক বা ভুয়া নাম ব্যবহার করে দিনরাত এই নাশকতার ছক কষতো তারা।

দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ ছিল এই উগ্রপন্থীরা। ফেডারেল প্রসিকিউটররা ইতোমধ্যে ছয়টি রাজ্য থেকে আটজন পুরুষকে সন্ত্রাসবাদীদের বস্তুগত সহায়তা প্রদান এবং হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। এদের মধ্যে টাইসেন প্রপার হলো মামলার সবচেয়ে কমবয়সী আসামি। তবে অভিযুক্ত প্রত্যেকেই আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

এই ষড়যন্ত্রের লক্ষ্যবস্তু কারা ছিলেন, তা শুনলে যে কারোরই পিলে চমকে উঠবে। এফবিআইয়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছাড়াও এই উগ্রপন্থীদের প্রধান টার্গেটে ছিলেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

চক্রের ৩০ বছর বয়সী সদস্য ড্যানিয়েল এস্করিজ এবং ৩১ বছর বয়সী আব্রাহাম আলভারেজের মতো উগ্রপন্থীরা চ্যাট গ্রুপে অস্ত্র ও বিস্ফোরক জোগাড় করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। তাদের লক্ষ্য ছিল এমন এক রক্তক্ষয়ী বিপ্লব ঘটানো, যা কাঁপিয়ে দেবে গোটা যুক্তরাষ্ট্রকে। এমনকি গ্রেপ্তার হওয়ার পরেও অপর এক সদস্য চ্যাট গ্রুপে লিখেছিলেন যে পিছু হটার আর কোনো উপায় নেই, কারণ ব্রেক আগেই ফেল করা হয়েছে এবং ব্যর্থতা তাদের কাছে কোনো বিকল্প নয়।

তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন যে চক্রের সদস্যরা মাত্র দুইবার বাস্তবে মুখোমুখি বৈঠক করেছিল, বাকি সময়টা পুরোটাই ডিজিটাল মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখতো। ওহাইওর তরুণ টাইসেন প্রপার ল্যান্ডস্কেপিংয়ের চাকরি ছেড়ে নিজের উচ্চ বিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েশনের জমানো প্রায় তিন হাজার ডলার খরচ করে আমেরিকান পতাকার নকশা করা একটি সেমি-অটোমেটিক শটগান কিনেছিলেন।

তার বেডরুম থেকে পুলিশ অসংখ্য রাজনীতিবিদ ও সেলিব্রিটির নাম সংবলিত একটি ডায়েরি উদ্ধার করেছে, যেখানে সরকারের বিরুদ্ধে চরম ষড়যন্ত্রের কাল্পনিক তত্ত্ব লেখা ছিল। এছাড়া স্নাইপার হিসেবে নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে নিশানা করার দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ২১ বছর বয়সী চ্যান্ডলার স্ক্যাগসের ওপর।

হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটার ঘটনার পর এই বড় মাপের নাশকতার ছক ফাঁস হওয়া মার্কিন প্রশাসনকে আরও বেশি সতর্ক করে তুলেছে। বর্তমানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং ফেডারেল আদালত পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।

হরমুজকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ উল্লেখ করে মানচিত্রের ছবি পোস্ট করলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
হরমুজকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ উল্লেখ করে মানচিত্রের ছবি পোস্ট করলেন ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ নামে উল্লেখ করে একটি মানচিত্রের ছবি প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কৌশলগত এ জলপথ পুনরায় খুলে দেয়ার জন্য ইরান সাত দিনের পরিকল্পনা প্রস্তাব করার কয়েক ঘণ্টা পরই শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ছবিটি পোস্ট করেন ট্রাম্প।

এর আগে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার বিনিময়ে যুদ্ধ বন্ধসহ একটি নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। শুক্রবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ পর্যায়ে রয়েছে। তবে আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে সাতদিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি পুনরায় চালু করা সম্ভব। দেশটি আরো ইঙ্গিত দিয়েছে, এমন একটি সমঝোতা মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জন্য সহায়ক হতে পারে।

তারা আরো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্তগুলো মেনে নেয়ার পর দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তারা। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার বা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর মতো বিষয়ে কোনো ছাড় দেবে না ইরান। অন্যদিকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেয়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবি।

ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টার অভিযোগ করে আসছে। এর মধ্যে ইরানের ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করার বিষয়টিও তারা উল্লেখ করে। বেসামরিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার তুলনায় এ হার অনেক বেশি এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি। তবে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালানোর সময় দেশটির কাছে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। এর কতটা এখনো অবশিষ্ট আছে, তা স্পষ্ট নয়।

জাতিসংঘে ট্রাম্পের ঔদ্ধত্য আচরণ

প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
জাতিসংঘে ট্রাম্পের ঔদ্ধত্য আচরণ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে সিএনএনের সাংবাদিক কেইটলান কলিন্সকে দেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আপনার এখানে থাকা উচিত নয়।’ মঙ্গলবার জাতিসংঘে প্রবেশের সময় কলিন্সকে উদ্দেশ করে এ মন্তব্য করেন তিনি। হোয়াইট হাউস থেকে সম্প্রতি সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এলো।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার আগে জাতিসংঘ প্রাঙ্গণে প্রবেশের সময় সিএনএনের সাংবাদিক কেইটলান কলিন্সের সঙ্গে কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় সিএনএন সেখানে তাঁর সংবাদ সংগ্রহ করতে আসায় বিস্ময় প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অবাক হচ্ছি যে সিএনএন এখানে আমার সংবাদ সংগ্রহ করতে এসেছে। আপনাদের এখানে আমার সংবাদ সংগ্রহ করার কথা না। আপনারাই তো বলেছিলেন যে আমার সংবাদ সংগ্রহ করবেন না।’

তবে সম্প্রচারে ফিরে ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি নাকচ করেন কেইটলান কলিন্স। তিনি জানান, সিএনএন প্রতিদিনই প্রেসিডেন্টের সংবাদ সংগ্রহের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

সম্প্রতি হোয়াইট হাউস থেকে সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে এসব গণমাধ্যমের কর্মীরা কার্যত হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে পারছেন না।

তবে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে সিএনএনকে নিষিদ্ধ করে সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও জাতিসংঘে নিয়মিত স্বীকৃত গণমাধ্যম হিসেবে তাদের প্রবেশের অনুমতি রয়েছে।

এদিকে হোয়াইট হাউসের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞাকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে সোমবার আদালতে যৌথ মামলা করেছে তিনটি সংবাদমাধ্যম। আগামী বুধবার বিকেলে এ মামলার শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

ট্রাম্প অবশ্য তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। নেতিবাচক সংবাদ প্রচারকে তিনি ‘দেশের জন্য বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। আদালত হোয়াইট হাউসের বিপক্ষে রায় দিলে সংবাদমাধ্যমগুলোকে আবারও প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন জেলা বিচারক টিমোথি কেলিকে ‘অপেক্ষাকৃত কম নিরপেক্ষ’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘সুতরাং আপনি কখনোই বলতে পারবেন না (ভুয়া তথ্য)। আমি মনে করি ভুয়া খবর মুছে ফেলার অধিকার আমাদের আছে।’

হোয়াইট হাউসের এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোও সংহতি প্রকাশ করেছে। সিএনএনের পরিবর্তে অন্য কোনো নেটওয়ার্ককে দায়িত্ব না দিয়ে সব ধরনের ‘পুল’ সংবাদ সংগ্রহ স্থগিত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে অন্যান্য নেটওয়ার্কগুলো।

এর পাশাপাশি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসসহ কয়েকটি সংবাদ সংস্থা প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছবি প্রকাশ না করার বিষয়ে সম্মিলিতভাবে একমত হয়েছে।

সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটির ব্লেয়ার সেন্টার ফর টেলিভিশন অ্যান্ড পপুলার কালচারের পরিচালক রবার্ট থম্পসন মনে করেন, সবসময় প্রচারের আলোয় থাকতে পছন্দ করা প্রেসিডেন্টের জন্য সংবাদ সংগ্রহবিহীন এই পরিস্থিতি ক্ষতিকর হতে পারে। সে কারণে নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তবে সংবাদমাধ্যমের মৌলিক স্বাধীনতা নিয়ে প্রেসিডেন্টের এ ধরনের মন্তব্যকে অত্যন্ত গুরুতর ও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন এই বিশ্লেষক।

নেতানিয়াহুর ভাষনের আগে নিউইয়র্কে তীব্র বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
নেতানিয়াহুর ভাষনের আগে নিউইয়র্কে তীব্র বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে নিউইয়র্কে তীব্র বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভ চলাকালে নিউইয়র্কের বাসিন্দা ডেভিড ফেল্ডম্যান নেতানিয়াহুর কড়া সমালোচনা করে বলেন, ‘নেতানিয়াহু কোনোভাবেই বিশ্বজুড়ে ইহুদিদের বা ইহুদি ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করেন না।’

এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফেল্ডম্যান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নিজের রাজনৈতিক ও সামরিক অপকর্মের বৈধতা দিতে নেতানিয়াহু ধর্মকে অপব্যবহার করছেন। এটি পুরো ইহুদি সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং পবিত্র তোরাহ ও ইহুদি ধর্মের শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

ফেল্ডম্যানের মতে, এই বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য ছিল চলমান সংঘাতে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সরব হওয়া এবং বিশ্ববাসীর কাছে আসল সত্যটা তুলে ধরা।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ অধিবেশনস্থলের বাইরে ইসরায়েলপন্থী ও ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ সময় পাল্টাপাল্টি স্লোগানও দেওয়া হয়। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চ পর্যায়ের অধিবেশনে বিশ্বনেতারা যখন নানা বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করছেন, তখনই অধিবেশনস্থলের ঠিক বাইরে নেতানিয়াহুর উপস্থিতির বিরুদ্ধে এই ইহুদি বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

নেতানিয়াহুর ভাষণকে ঘিরে জাতিসংঘের ভেতরের ওয়াকআউট ও বাইরের বিক্ষোভ গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের তীব্র মতবিরোধকে আবারও সামনে এনেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হুমকি, জাতিসংঘে আসলে কী হয়েছিলো?

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হুমকি, জাতিসংঘে আসলে কী হয়েছিলো?

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হলেও তা স্বস্তির বদলে তৈরি করেছে নতুন অনিশ্চয়তা। একদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরকে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।ফলে যুদ্ধ অবসানের সম্ভাব্য কূটনৈতিক পথটি একই সঙ্গে সামরিক উত্তেজনার চাপের মধ্যেও এগোচ্ছে।

২৩ সেপ্টেম্বর ইরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে তার জবাব আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হবে। একই সময়ে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধ, অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে তেহরানের কয়েকটি শর্ত রয়েছে।

এর আগের দিন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, শান্তি চুক্তি না হলে তিনি ইসলামিক রিপাবলিককে ‘অ্যানিহিলেট’ বা ধ্বংস করে দিতে পারেন। একই ভাষণে তিনি অবশ্য একটি চুক্তির সম্ভাবনাও উন্মুক্ত রেখেছিলেন।

নতুন কূটনৈতিক তৎপরতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও নৌপথটি যুদ্ধের কারণে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এর নিরাপদ ও স্বাভাবিক চলাচল পুনঃস্থাপন আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে তেহরানের নির্ধারিত শর্ত মেনে নিতে হবে। এরপরই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছেন, আগের ধরনের কূটনৈতিক কাঠামোয় ইরান আর ফিরবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে এবং এরপরই হরমুজ খোলা ও আলোচনা নিয়ে অগ্রগতি সম্ভব।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, মার্কিন সামরিক অভিযান থামানো, নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক যুদ্ধের অবসান এবং ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করা।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে যোগাযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা আলোচনা করেন। উইটকফ পরে জানান, মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের মধ্যে যাতায়াত করে দীর্ঘ আলোচনা চালিয়েছেন এবং আলোচনার একটি পর্ব শেষ হয়েছে।

তবে ইরানের বক্তব্যে বিষয়টিকে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। তেহরান বলেছে, কাতারের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে এবং মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের শর্তগুলো ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আলোচনার অস্তিত্ব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে অস্বীকার নেই, কিন্তু সেটি সরাসরি বৈঠক নাকি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ—তা নিয়ে বয়ানে পার্থক্য রয়েছে।

নিউইয়র্কের যোগাযোগ ইরানের অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, মার্কিন পক্ষের অনুরোধে আরাগচি উইটকফের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে ইরানের শর্ত তুলে ধরেন।

কিন্তু ইরানের কট্টরপন্থী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম এই ব্যাখ্যার সমালোচনা করেছে। তাসনিম নিউজ আরাগচির ব্যাখ্যাকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করে প্রশ্ন তুলেছে—মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যদি ইরানের শর্ত আগেই জানানো হয়ে থাকে, তাহলে সরাসরি বৈঠকের প্রয়োজন কেন হলো?

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাইও আরাগচির কাছে জানতে চেয়েছেন, তিনি কী ধরনের অনুমোদন নিয়ে এ যোগাযোগ করেছেন।

অন্যদিকে পার্লামেন্ট সদস্য মোজতবা জারেই আরাগচির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, তাঁর পর্যালোচনা অনুযায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ যোগাযোগের অনুমোদন ছিল। তিনি একই সঙ্গে দাবি করেছেন, কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি; বরং ইরানের সাতটি শর্ত মার্কিন প্রতিনিধির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ, কূটনৈতিক উদ্যোগটি শুধু ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার মতপার্থক্যের মধ্যেই আটকে নেই; ইরানের অভ্যন্তরেও আলোচনার ধরন ও সীমা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের জাতিসংঘের ভাষণেও এই দ্বৈত অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।

পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ট্রাম্পের বক্তব্য শোনার পর তিনি নিজের প্রস্তুত করা ভাষণ পরিবর্তন করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন এবং যুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধের কথা তুলে ধরেন।

তবে একই সঙ্গে তিনি শান্তির জন্য আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি। তাঁর বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—ইরান আলোচনায় যেতে পারে, কিন্তু চাপ বা জবরদস্তির ভাষার ভিত্তিতে নয়।

এটি ইরানের বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তেহরান একদিকে সামরিক প্রতিরোধের সক্ষমতা প্রদর্শন করছে, অন্যদিকে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনার সম্ভাবনাও ধরে রাখছে। ওয়াশিংটনের অবস্থানও পুরোপুরি একমাত্রিক নয়।

জাতিসংঘে ট্রাম্প ইরানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করলেও একই সময়ে তিনি একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। নিউইয়র্কে আরব দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পরও তিনি ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনার কথা বলেছেন।

তবে ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হুমকিও দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান কোলাং ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় কার্যক্রম চালালে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে হামলা চালাতে পারে।

অন্যদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ ও খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার জানায়, নতুন হামলা হলে ইরান আরও শক্তিশালী ও অনির্দেশ্য পাল্টা আঘাতের জন্য প্রস্তুত।

ফলে দুই পক্ষের বক্তব্যে একই সঙ্গে দুটি ধারা দেখা যাচ্ছে—আলোচনার দরজা খোলা রাখা এবং সামরিক বিকল্পের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—দুই পক্ষের শর্তগুলো কি এমন কোনো জায়গায় এসে মিলতে পারে, যেখানে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার একটি স্থায়ী কাঠামো তৈরি হবে?

ইরান চাইছে যুদ্ধ বন্ধ, সামরিক চাপ ও নৌ অবরোধের অবসান এবং জব্দ সম্পদ মুক্ত করার মতো বিষয়গুলোকে আলোচনার ভিত্তি করতে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা নিয়ে নিরাপত্তাগত নিশ্চয়তা চায়।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরমুজ প্রণালির প্রশ্ন। তেহরান এটিকে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করছে। ওয়াশিংটনের জন্য আবার হরমুজের অবাধ চলাচল শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

আরেকটি সমস্যা হলো—কে ইরানের হয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। নিউইয়র্কে আরাগচির যোগাযোগ নিয়ে তেহরানের ভেতরে যে বিতর্ক দেখা দিয়েছে, তা দেখাচ্ছে যে আলোচনার কূটনৈতিক অংশের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অনুমোদনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিকে সরলভাবে ‘শান্তির আলোচনা’ কিংবা ‘নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি’—কোনো একটিতে সীমাবদ্ধ করা কঠিন। বরং ওয়াশিংটন ও তেহরান একই সময়ে দুটি পথ অনুসরণ করছে।

একদিকে নিউইয়র্কে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ হচ্ছে, ইরানের শর্ত নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এবং মার্কিন প্রশাসনও সম্ভাব্য সমঝোতার কথা বলছে। অন্যদিকে দুই দেশের নেতারা প্রকাশ্যে সামরিক হুমকি দিচ্ছেন এবং নতুন হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

এ অবস্থায় কূটনীতির সাফল্য নির্ভর করবে শুধু আলোচনার টেবিলে কী বলা হচ্ছে তার ওপর নয়; বরং দুই পক্ষ কতটা সামরিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ সামলাতে পারে এবং হরমুজসহ যুদ্ধ-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে বাস্তবসম্মত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে—তার ওপর।

অর্থাৎ, নিউইয়র্কে আলোচনার দরজা খুলেছে ঠিকই, কিন্তু সেই দরজা দিয়ে শান্তির পথে হাঁটার আগে ওয়াশিংটন ও তেহরানকে এখনো অনেক কঠিন রাজনৈতিক ও সামরিক বাধা অতিক্রম করতে হবে।