৪ নভেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী আবের কাওয়াস

প্রকাশ: বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬
নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী আবের কাওয়াস

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস। এর মধ্য দিয়ে তিনি অঙ্গরাজ্যটির আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরা নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন।

নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের ১২ নম্বর আসনে ৭৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন কাওয়াস। ভোট গণনার ৯০ শতাংশ শেষে নিউইয়র্ক টাইমস তার বিজয় ঘোষণা করে।

কাওয়াসের নির্বাচনী স্লোগান ছিল ‘মর্যাদায় বিনিয়োগ, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই’। তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত গণপরিবহন, সাশ্রয়ী আবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং যুদ্ধে অর্থায়ন বন্ধের পক্ষে প্রচার চালান। তার প্রতি সমর্থন জানান নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালাইব।

রাজনীতিতে আসার আগে ১৫ বছরের বেশি সময় শ্রমিক, অভিবাসী ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন কাওয়াস। নিউইয়র্কের অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন বন্ধের উদ্যোগেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

ব্রুকলিনে ফিলিস্তিনি অভিবাসী বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কাওয়াস অভিবাসীদের অধিকার রক্ষার পক্ষে কাজ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর সঙ্গে নিউইয়র্কের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা বন্ধের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সরব কাওয়াস ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ করেছিলেন। ওই কর্মসূচিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী আবের কাওয়াস

প্রকাশ: বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬
নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী আবের কাওয়াস

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস। এর মধ্য দিয়ে তিনি অঙ্গরাজ্যটির আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরা নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন।

নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের ১২ নম্বর আসনে ৭৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন কাওয়াস। ভোট গণনার ৯০ শতাংশ শেষে নিউইয়র্ক টাইমস তার বিজয় ঘোষণা করে।

কাওয়াসের নির্বাচনী স্লোগান ছিল ‘মর্যাদায় বিনিয়োগ, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই’। তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত গণপরিবহন, সাশ্রয়ী আবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং যুদ্ধে অর্থায়ন বন্ধের পক্ষে প্রচার চালান। তার প্রতি সমর্থন জানান নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালাইব।

রাজনীতিতে আসার আগে ১৫ বছরের বেশি সময় শ্রমিক, অভিবাসী ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন কাওয়াস। নিউইয়র্কের অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন বন্ধের উদ্যোগেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

ব্রুকলিনে ফিলিস্তিনি অভিবাসী বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কাওয়াস অভিবাসীদের অধিকার রক্ষার পক্ষে কাজ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর সঙ্গে নিউইয়র্কের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা বন্ধের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সরব কাওয়াস ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ করেছিলেন। ওই কর্মসূচিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সাইয়েদ

প্রকাশ: বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সাইয়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন চিকিৎসক ও প্রগতিশীল রাজনীতিক আবদুল এল-সাইয়েদ। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বহুল আলোচিত সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে এ ইতিহাস গড়েছেন তিনি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ডেট্রয়েটে মিশিগান ডেমোক্রেটিক পার্টির কার্যালয়ে সমর্থকদের সামনে নিজের বিজয় ঘোষণা করেন এল-সাইয়েদ।

বিজয় ভাষণে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে নিজেদের বাড়িতে, গির্জায় ও সিনাগগে জায়গা দিয়েছেন।’ দীর্ঘ দেড় বছরের নির্বাচনি প্রচারণায় মিশিগানের বড় শহর থেকে ছোট জনপদ পর্যন্ত মানুষের সমর্থন পাওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এল-সাইয়েদ বলেন, কঠিন সময়ে ভোটারদের সমর্থনই তাকে শক্তি জুগিয়েছে। তার ভাষায়, ‘তারা এমন একটি আমেরিকা চায়, যেখানে আমাদের কারও কারও জায়গা নেই। কিন্তু আমরা জানি, আমেরিকা আমাদের সবার জন্য যথেষ্ট বড়।’

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রচারণায় এল-সাইয়েদের মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে নানা বিতর্ক তৈরি হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ তার বিরোধীরা তাকে উদ্দেশ্য করে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দেন। ট্রাম্প তাকে ‘জিহাদি’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন। তবে এসব আক্রমণের জবাবে এল-সাইয়েদ বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে প্রতিপক্ষ বিভাজনের রাজনীতি করেছে।

মিশিগানের সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক এল-সাইয়েদ ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনেও বড় চমক দেখিয়েছিলেন। দলীয় নেতৃত্বের পছন্দের প্রার্থী হেইলি স্টিভেন্সকে হারিয়ে মনোনয়ন পান তিনি।

নির্বাচনী প্রচারণায় সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার জন্য ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নেন এল-সাইয়েদ। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।

তার প্রচারণা ঠেকাতে ইসরায়েলপন্থি লবি সংগঠন এআইপ্যাকের সুপার পিএসি ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট প্রাথমিক নির্বাচনে প্রায় ৩ কোটি ডলার ব্যয় করে। একটি নির্বাচনি লড়াইয়ে এ ধরনের ব্যয়কে রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজয় ভাষণে এল-সাইয়েদ বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের করের টাকা এখানেই ব্যয় হোক- আমাদের স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামোর জন্য। বর্ণবাদী শাসন, গণহত্যা কিংবা যুদ্ধের পেছনে আমাদের অর্থ ব্যয় হোক, তা আমরা চাই না।’

অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স সাবেক কংগ্রেস সদস্য। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও প্রচারণার শেষ দিকে শুল্কনীতি ও ইরান যুদ্ধের বিষয়ে তার অবস্থানে পরিবর্তন আনেন তিনি।

উল্লেখ্য, মিশিগানের এ আসনটি থেকে বিদায়ী সিনেটর গ্যারি পিটার্স ২০১৫ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার অবসরের কারণে আসনটি শূন্য হয়। মিশিগানের এই নির্বাচনকে একটি সুইং স্টেটে প্রগতিশীল প্রার্থীর জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

রিপাবলিকানদের হারে ইরান যুদ্ধের প্রভাব স্বীকার করলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬
রিপাবলিকানদের হারে ইরান যুদ্ধের প্রভাব স্বীকার করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল নিয়ে ফক্স নিউজ-এর সঙ্গে কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় ইরানের কিছু অংশে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশিত খবর প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের বড় কিছু করতে হবে।’ এর মধ্যে ‘বড় ধরনের আঘাত’ হানার বিষয়টিও থাকতে পারে বলে জানান তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তারা (ইরান) কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না।’

সাক্ষাৎকারে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের খারাপ ফলের পেছনে জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রভাবও স্বীকার করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, জ্বালানির জন্য বেশি দাম দিতে হওয়ায় মানুষ ‘খুশি ছিল না’।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের আভাস মিললেও এই ফলকে নিজের প্রেসিডেন্সির ওপর ‘আঘাত’ হিসেবে দেখছেন না ট্রাম্প। তার মতে, ডেমোক্র্যাটরা বহু বছর ধরে এমন বড় জয় পাওয়ার চেষ্টা করছিল। শেষ পর্যন্ত তারা তা অর্জন করেছে। এ জন্য দলটির প্রশংসাও করেন তিনি।

ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে গত দুই বছরের সরকারের অর্জনের কথাও তুলে ধরেন ট্রাম্প। অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তের নিরাপত্তাকে নিজের সরকারের প্রধান সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

রিপাবলিকানদের হটিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরা

প্রকাশ: বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬
রিপাবলিকানদের হটিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। চারটি আসন পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। গত বছরও দলটির জন্য এমন জয়কে প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছিল।

এই জয়ের ফলে আগামী ২০২৭ সালে সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে আবারও দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারের। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নজরদারি, প্রশাসনিক ও বিচার বিভাগীয় নিয়োগ এবং আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা পেতে যাচ্ছে দলটি।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। নির্বাচনে নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা, টেক্সাস ও ওহাইওতে রিপাবলিকানদের হারিয়ে সেই লক্ষ্য পূরণ করেছে তারা।

রিপাবলিকানদের হারে ইরান যুদ্ধের প্রভাব স্বীকার করলেন ট্রাম্প

নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করেন। সাউথ ক্যারোলাইনায় শিশু চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রুজ হারান রিপাবলিকান ডারলিন গ্রাহামকে। টেক্সাসে অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি জেমস টালারিকো পরাজিত করেন অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে। আর ওহাইওতে সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন জয়ী হন।

রিপাবলিকানদের হটিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরা

নির্বাচনের ফলাফলকে ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। নির্বাচনী প্রচারে অক্টোবরজুড়ে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছিলেন তিনি। তবে তার জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

সৌদির সঙ্গে আলোচনা, বিদেশি সেনামুক্ত মধ্যপ্রাচ্য চায় ইরান

যুদ্ধ বন্ধসহ ৫ শর্ত দিলো ইরান, আলোচনায় আশাবাদী কাতার

প্রকাশ: বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬
যুদ্ধ বন্ধসহ ৫ শর্ত দিলো ইরান, আলোচনায় আশাবাদী কাতার

মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় পাঁচটি শর্ত দিয়েছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি জানিয়েছেন, এসব শর্ত পূরণ হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তার একটি কাঠামো তৈরি করা সম্ভব।

মঙ্গলবার ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পাঁচটি শর্তের মধ্যে রয়েছে—লেবানন ও গাজাসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, দেশটির ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ ফেরত এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি এবং পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা না করার নিশ্চয়তা চেয়েছে তেহরান।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ নতুন করে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। দেশটি জানিয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো রয়েছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি মঙ্গলবার দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সোমবার কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিন ঘণ্টার বেশি সময় বৈঠক করেছে। একই দিন সন্ধ্যায় তারা দোহায় ফিরে আসে।

তিনি জানান, কাতারের দেওয়া প্রস্তাব দুই পক্ষ পর্যালোচনা করছে। মধ্যস্থতাকারীরা দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাব আদান-প্রদান করছেন।

আল-আনসারি বলেন, আশার কোনো আলো না থাকলে আলোচনা চলত না। তবে সমঝোতা হবে, নাকি সামরিক উত্তেজনা বাড়বে—এ বিষয়ে আগাম কিছু বলতে চাননি তিনি।

তিনি আরও বলেন, ইরানের ভূখণ্ডে হামলা কিংবা জাহাজে আক্রমণ—যেকোনো ধরনের উত্তেজনা আলোচনাকে প্রভাবিত করবে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা অব্যাহত রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়েও কোনো আপস করা হবে না বলে জানান তিনি।

তেহরান থেকে আলজাজিরার সাংবাদিক রেসুল সারদার আতাস জানান, নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়া ঠেকাতে কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠির পর কাতারের প্রতিনিধিদল ইরান সফর করে। পরদিন ইরানের একটি প্রতিনিধিদল কাতারে যায়।

আতাসের মতে, কাতার এখনই কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি করার চেষ্টা করছে না। বরং দুই দেশের মধ্যে আলোচনা আবার শুরু করার জন্য একটি কাঠামো তৈরিতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রধান বাধা পারস্পরিক অবিশ্বাস। ইরানের অভিযোগ, এর আগে দুইবার কূটনৈতিক আলোচনা চলার সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ কারণে তেহরান আলোচনার আগে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, আটকে থাকা সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রির সুযোগ নিশ্চিত করার মতো বাস্তব পদক্ষেপ চায়।

এদিকে সোমবার ইরানের কেশম দ্বীপে সীমিত আকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান একটি মার্কিন উড়োজাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করেছিল। সেই হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ধ্বংস করতে পাল্টা হামলা চালানো হয়। তবে এটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ইঙ্গিত নয় বলে জানিয়েছেন তারা।

এক মার্কিন কর্মকর্তা হামলাটিকে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থেকে মার্কিন সামরিক সম্পদের ওপর আসা হুমকির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পাশের বন্দর লেঙ্গেহ শহরেও আরও কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

এর আগে ৮ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাবে না।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা কেশম দ্বীপের দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির পূর্ব দিকে একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস করার দাবিও করেছে বাহিনীটি।