১ নভেম্বর ২০২৬

ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সৈন্যের সংখ্যা জানালো পেন্টাগন

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সৈন্যের সংখ্যা জানালো পেন্টাগন

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে আরও দুইজন মার্কিন সেনাসদস্যের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন। এর ফলে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ২৩ জন সামরিক সদস্য প্রাণ হারালেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদন এ তথ্য উঠে এসেছে।

পেন্টাগনের তালিকায় নতুন যুক্ত হওয়া দুই নিহত সেনা মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্য। তবে তারা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্র বা শত্রুপক্ষের হামলায় মারা যাননি বলে দাবি করেছে পেন্টাগন। বিমানবাহিনীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, নিহত দুই সদস্যের মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। আর অন্যজনের মৃত্যুর মূল কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। ফলে এ দুই মৃত্যুর সঙ্গে সরাসরি কোনো সামরিক সংঘর্ষের যোগসূত্র নেই বলেই উল্লেখ করেছে তারা।

প্রতিবেদনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিহত মোট ২৩ জন মার্কিন সেনার মধ্যে ঠিক কতজন সরাসরি হামলায় এবং কতজন অযুদ্ধজনিত কারণে মারা গেছেন, তার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়নি।

অন্যদিকে, পেন্টাগনের দেওয়া পরিসংখ্যান মানতে নারাজ ইরান। তেহরানের দাবি, বাস্তবে নিহত মার্কিন সেনা সদস্যের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রকাশিত তালিকার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। তবে ইরানের এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

ইরান যুদ্ধ খুব দ্রুত সমাপ্তির পথে: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ইরান যুদ্ধ খুব দ্রুত সমাপ্তির পথে: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধ খুব দ্রুতই সমাপ্তির পথে বলে আবারও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কীভাবে বা কত দিনের মধ্যে এ যুদ্ধের অবসান ঘটবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা রূপরেখা প্রকাশ করেননি তিনি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আল-জাজিরা’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কানসাস সিটির রেডিও স্টেশন ‘কেসিএমও’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এটি খুব শিগগিরই গুটিয়ে ফেলা বা শেষ করা হবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, আমাদের এমন একটি নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি প্রয়োজন যাতে ইরান কোনো দিনই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নেওয়া সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক অবস্থানে অবশ্য বেশ দ্বিমুখী ও পরস্পরবিরোধী বার্তা দেখা যাচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের বিমান বা সামরিক হামলার পরিকল্পনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

অথচ একদিকে যেমন নতুন করে কঠোর সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স একটি নতুন প্রস্তাবিত শান্তি কাঠামোর রূপরেখা নিয়ে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যুদ্ধ ও শান্তি- যুক্তরাষ্ট্রের এ দ্বিমুখী অবস্থানের মধ্যেই ট্রাম্পের এমন মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোচনা তৈরি করেছে।

সূত্র: আল জাজিরা

ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সৈন্যের সংখ্যা জানালো পেন্টাগন

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সৈন্যের সংখ্যা জানালো পেন্টাগন

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে আরও দুইজন মার্কিন সেনাসদস্যের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন। এর ফলে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ২৩ জন সামরিক সদস্য প্রাণ হারালেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদন এ তথ্য উঠে এসেছে।

পেন্টাগনের তালিকায় নতুন যুক্ত হওয়া দুই নিহত সেনা মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্য। তবে তারা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্র বা শত্রুপক্ষের হামলায় মারা যাননি বলে দাবি করেছে পেন্টাগন। বিমানবাহিনীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, নিহত দুই সদস্যের মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। আর অন্যজনের মৃত্যুর মূল কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। ফলে এ দুই মৃত্যুর সঙ্গে সরাসরি কোনো সামরিক সংঘর্ষের যোগসূত্র নেই বলেই উল্লেখ করেছে তারা।

প্রতিবেদনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিহত মোট ২৩ জন মার্কিন সেনার মধ্যে ঠিক কতজন সরাসরি হামলায় এবং কতজন অযুদ্ধজনিত কারণে মারা গেছেন, তার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়নি।

অন্যদিকে, পেন্টাগনের দেওয়া পরিসংখ্যান মানতে নারাজ ইরান। তেহরানের দাবি, বাস্তবে নিহত মার্কিন সেনা সদস্যের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রকাশিত তালিকার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। তবে ইরানের এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

বাইন্যান্স থেকে ৬৩৬ কোটি ডলার চুরির নেপথ্যে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা!

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
বাইন্যান্স থেকে ৬৩৬ কোটি ডলার চুরির নেপথ্যে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা!

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ‘বাইন্যান্স’ (Binance)-এ এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৯ অক্টোবর একটি সুসংগঠিত সাইবার হামলায় প্ল্যাটফর্মটির বিভিন্ন ওয়ালেট থেকে প্রায় ৬৩৬ কোটি মার্কিন ডলারের (৬.৩৬ বিলিয়ন ডলার) বেশি পরিমাণের ডিজিটাল সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা।

ক্রিপ্টো ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই চুরির নেপথ্যে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ হ্যাকিং দল ‘ট্রেডারট্রেটর’ (TraderTraitor) জড়িত বলে জোরালো তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘টিআরএম ল্যাবস’ (TRM Labs) ও ‘চেইনঅ্যালিসিস’।

মাত্র ২০ মিনিটে সাফ ৬ বিলিয়ন ডলার!

আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের তথ্য মতে, সাইবার হামলাটি ছিল অত্যন্ত জটিল ও সুপরিকল্পিত। প্রায় ১০টি আলাদা ব্লকচেইনে ছড়ানো বাইন্যান্সের ওয়ালেটগুলো থেকে মাত্র ২০ মিনিটের মাথায় বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্যত্র স্থানান্তর করে নেয় হ্যাকাররা।

চুরির পরপরই ক্রিপ্টো বাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা যায়। বিটকয়েন (Bitcoin)-এর দাম ৪ থেকে ৫ শতাংশ কমে প্রায় ৭৭,৪৬৫ ডলারে নেমে আসে এবং ইথেরিয়াম (Ethereum) ও অন্যান্য জনপ্রিয় ডিজিটাল মুদ্রার দামও বড় ধাক্কা খায়।

উত্তর কোরিয়ার ‘ট্রেডারট্রেটর’ ও পূর্বের রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ‘ট্রেডারট্রেটর’ হলো উত্তর কোরিয়ার কুখ্যাত ‘লাজারাস গ্রুপ’ (Lazarus Group)-এর একটি বিশেষ শাখা।

  • এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘বাইবিট’ (Bybit) ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ থেকে ১৫০ কোটি ডলার চুরির ঘটনায়ও এই গ্রুপটিকে দায়ী করা হয়েছিল।

  • ২০১৪ সালে সনি পিকচার্সে হামলা চালিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছিল এই হ্যাকার দলটি।

টিআরএম ল্যাবস জানিয়েছে, বাইন্যান্সের ওপর হামলার ধরণ, অন-চেইন এবং অফ-চেইন তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে এটি উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদেরই কাজ।

গ্রাহকদের জন্য বাইন্যান্সের বড় আশ্বাস

সাইবার হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বাইন্যান্স নিরাপত্তা পরীক্ষার সুবিধার্থে প্ল্যাটফর্মটি থেকে সাময়িকভাবে ডিজিটাল মুদ্রা উত্তোলন বা প্রত্যাহার (Withdrawal) সুবিধা বন্ধ করে দেয়।

এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়:

  • সম্পদ ফ্রিজ: বিভিন্ন ক্রিপ্টো পার্টনার, টেক্সাস ও ল ইনফোর্সমেন্ট এজেন্সির সহযোগিতায় চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) ডলার সমপরিমাণের ডিজিটাল অ্যাসেট ফ্রিজ বা লক করতে সক্ষম হয়েছে বাইন্যান্স।

  • সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ: বাইন্যান্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যবহারকারীদের মূল তহবিল বা গচ্ছিত অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জরুরি ফান্ড থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত সব গ্রাহকের শতভাগ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বর্তমানে চুরি যাওয়া অবশিষ্ট ডিজিটাল অর্থ উদ্ধার করতে যৌথভাবে মাঠে নেমেছে।

(তথ্যসূত্র: এএফপি, এপি ও টিআরএম ল্যাবস)

বহুল আলোচিত ডিভি লটারি কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
বহুল আলোচিত ডিভি লটারি কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আপিল আদালত।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সরকারের এক জরুরি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নবম মার্কিন সার্কিট কোর্ট অব অ্যাপিলসের তিন বিচারকের একটি প্যানেল এ সিদ্ধান্ত জানান।

ফলে আপিল আদালতে চলমান আইনি বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ডিভি লটারি সংক্রান্ত যাবতীয় প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার সুযোগ পাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এর আগে দেশটির একটি নিম্ন আদালত স্থগিত থাকা ডিভি লটারি পুনরায় চালু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে সেই নির্দেশনার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যায় সরকার।

এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ডিভি লটারি চালুর দাবিতে আইনি লড়াইয়ে থাকা সংগঠন রেড- এর প্রধান কার্টিস মরিসন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে বলেন, ডিভি প্রোগ্রাম পরিচালনায় পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যর্থতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রেড ইগল দ্রুতই অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

আদালত তাদের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট করেছেন, লটারির নিবন্ধন সময়মতো শুরু করতে না পারার দায় থেকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে তারা অব্যাহতি দিচ্ছেন না।

বিচারকরা জানান, আমরা লটারির নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করতে পররাষ্ট্র দপ্তরের এ ব্যর্থতাকে সমর্থন করছি না। তবে রেড ইগল এ মামলায় তাদের পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি-প্রমাণ তুলে ধরতে পারেনি।

আর যেহেতু তারা এ আইনের সরাসরি সুবিধাভোগী বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ নয়, তাই এ বিষয়ে তাদের মামলা করার আইনি অধিকার নেই।

সাধারণ মানুষের কাছে গ্রিন কার্ড লটারি নামে সুপরিচিত এ ডাইভারসিটি ভিসা প্রোগ্রামটির মূল লক্ষ্য ছিল মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থায় যেসব দেশের পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব নেই, সেসব দেশের নাগরিকদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।

সত্তরের দশকের ভাবনার ধারাবাহিকতায় ১৯৮০-এর দশকে মার্কিন কংগ্রেসে এর সূচনা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালের ২৯ নভেম্বর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডাব্লিউ বুশ ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট অব ১৯৯০- এ স্বাক্ষর করলে এটি স্থায়ী কর্মসূচির রূপ পায়।

এই আইনের আওতায় যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার তুলনামূলক কম, সেসব দেশের যোগ্য নাগরিকদের জন্য প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ভিসা বরাদ্দ রাখা হয়।

‘মানুষ হত্যার জন্য স্টারলিংক নয়!’ কিয়েভকে চরম শিক্ষা দিয়ে কী জানালেন ইলন মাস্ক?

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
‘মানুষ হত্যার জন্য স্টারলিংক নয়!’ কিয়েভকে চরম শিক্ষা দিয়ে কী জানালেন ইলন মাস্ক?

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রাণঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক।

এ কারণে গত সপ্তাহে ইউক্রেনে স্টারলিংক ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক এ কথা বলেন। তার দাবি, স্টারলিংকের ব্যবহারের শর্ত লঙ্ঘন করে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী মানুষ হত্যার উদ্দেশ্যে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল।

তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, স্টারলিংক ও স্টারশিল্ড স্যাটেলাইট সংযোগের গতি আগের অবস্থায় ফিরেছে। এতে সম্মুখসারিতে সামরিক কার্যক্রম, রসদ সরবরাহ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরেছে।

স্টারলিংকের গতি কমানোর কারণ জানালেন মাস্কমাস্ক তার পোস্টে বলেন, বেসামরিক বাণিজ্যিক সেবা হিসেবে স্টারলিংক ব্যবহার করে মানুষ হত্যার উদ্দেশ্যে ড্রোন হামলা চালানোর অনুমতি কখনোই ছিল না। এমন ব্যবহার বন্ধ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাস্কের দাবি, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী স্টারলিংকের ব্যবহারের শর্ত ভেঙেছিল। গত সপ্তাহে সেই সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তবে সামরিক কাজে ব্যবহৃত স্টারশিল্ড স্যাটেলাইট সেবায় পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হাতে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ইউক্রেনের জন্য স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন মাস্ক।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে এ সেবা ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিধিনিষেধে ব্যাহত হয়েছিল ইউক্রেনের সামরিক অভিযানগত সপ্তাহে স্টারশিল্ড সেবায় বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয় ইউক্রেনের সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে। সামরিক কমান্ডারদের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে ড্রোন হারানোর ঘটনা ঘটে এবং বিভিন্ন অভিযান ব্যাহত হয়।

শনিবার জেলেনস্কি জানান, রাত থেকেই স্যাটেলাইট সংযোগের গতি পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়। শনিবার সকাল নাগাদ গতি প্রয়োজনীয় পর্যায়ে পৌঁছায়।তিনি বলেন, এর ফলে সম্মুখসারিতে রসদ সরবরাহ ও রুশ জেটচালিত শাহেদ ড্রোনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়েভহেনি খমারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ও জেলেনস্কির কূটনৈতিক তৎপরতা এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।

তাঁর মতে, সম্মুখসারির সেনা, ড্রোন পরিচালনা, রসদ সরবরাহ ও যোগাযোগব্যবস্থার জন্য এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্টারলিংক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্কে টানাপোড়েনস্টারলিংক সেবা নিয়ে এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

এর আগে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল আমদানি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথিত সমঝোতা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছিল কিয়েভ।

ট্রাম্প বলেছেন, স্টারলিংকের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত তিনি নেননি। একই সঙ্গে, মাস্ককে দায়ী করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যে হোয়াইট হাউজের সঙ্গে মাস্কের সমন্বয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মার্কিন প্রশাসনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সূত্র: এপি