বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ‘বাইন্যান্স’ (Binance)-এ এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৯ অক্টোবর একটি সুসংগঠিত সাইবার হামলায় প্ল্যাটফর্মটির বিভিন্ন ওয়ালেট থেকে প্রায় ৬৩৬ কোটি মার্কিন ডলারের (৬.৩৬ বিলিয়ন ডলার) বেশি পরিমাণের ডিজিটাল সম্পদ হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা।
ক্রিপ্টো ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই চুরির নেপথ্যে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ হ্যাকিং দল ‘ট্রেডারট্রেটর’ (TraderTraitor) জড়িত বলে জোরালো তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘টিআরএম ল্যাবস’ (TRM Labs) ও ‘চেইনঅ্যালিসিস’।
মাত্র ২০ মিনিটে সাফ ৬ বিলিয়ন ডলার!
আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের তথ্য মতে, সাইবার হামলাটি ছিল অত্যন্ত জটিল ও সুপরিকল্পিত। প্রায় ১০টি আলাদা ব্লকচেইনে ছড়ানো বাইন্যান্সের ওয়ালেটগুলো থেকে মাত্র ২০ মিনিটের মাথায় বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্যত্র স্থানান্তর করে নেয় হ্যাকাররা।
চুরির পরপরই ক্রিপ্টো বাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা যায়। বিটকয়েন (Bitcoin)-এর দাম ৪ থেকে ৫ শতাংশ কমে প্রায় ৭৭,৪৬৫ ডলারে নেমে আসে এবং ইথেরিয়াম (Ethereum) ও অন্যান্য জনপ্রিয় ডিজিটাল মুদ্রার দামও বড় ধাক্কা খায়।
উত্তর কোরিয়ার ‘ট্রেডারট্রেটর’ ও পূর্বের রেকর্ড
যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ‘ট্রেডারট্রেটর’ হলো উত্তর কোরিয়ার কুখ্যাত ‘লাজারাস গ্রুপ’ (Lazarus Group)-এর একটি বিশেষ শাখা।
-
এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘বাইবিট’ (Bybit) ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ থেকে ১৫০ কোটি ডলার চুরির ঘটনায়ও এই গ্রুপটিকে দায়ী করা হয়েছিল।
-
২০১৪ সালে সনি পিকচার্সে হামলা চালিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছিল এই হ্যাকার দলটি।
টিআরএম ল্যাবস জানিয়েছে, বাইন্যান্সের ওপর হামলার ধরণ, অন-চেইন এবং অফ-চেইন তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে এটি উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদেরই কাজ।
গ্রাহকদের জন্য বাইন্যান্সের বড় আশ্বাস
সাইবার হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বাইন্যান্স নিরাপত্তা পরীক্ষার সুবিধার্থে প্ল্যাটফর্মটি থেকে সাময়িকভাবে ডিজিটাল মুদ্রা উত্তোলন বা প্রত্যাহার (Withdrawal) সুবিধা বন্ধ করে দেয়।
এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়:
-
সম্পদ ফ্রিজ: বিভিন্ন ক্রিপ্টো পার্টনার, টেক্সাস ও ল ইনফোর্সমেন্ট এজেন্সির সহযোগিতায় চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) ডলার সমপরিমাণের ডিজিটাল অ্যাসেট ফ্রিজ বা লক করতে সক্ষম হয়েছে বাইন্যান্স।
-
সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ: বাইন্যান্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যবহারকারীদের মূল তহবিল বা গচ্ছিত অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জরুরি ফান্ড থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত সব গ্রাহকের শতভাগ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বর্তমানে চুরি যাওয়া অবশিষ্ট ডিজিটাল অর্থ উদ্ধার করতে যৌথভাবে মাঠে নেমেছে।
(তথ্যসূত্র: এএফপি, এপি ও টিআরএম ল্যাবস)