১ নভেম্বর ২০২৬

ইয়েমেন নিয়ে রাসুল সা. কী বলেছিলেন?

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ইয়েমেন নিয়ে রাসুল সা. কী বলেছিলেন?
টপ স্টোরিজ

আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ইয়েমেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর প্রাচীন ইতিহাসের সঙ্গে ইসলামের ইতিহাসেও ইয়েমেনের রয়েছে বিশেষ স্থান। দেশটির মানুষের ঈমান, নরম মন, প্রজ্ঞা আর আমানতদারিতার প্রশংসা করেছেন নবীজি মুহাম্মদ (সা.)।

ইয়েমেনের মানুষের জন্য নবী মুহাম্মদ সা. বরকতের দোয়া করেছেন। এমনকি কিয়ামতের দিন হাউজে কাউসার কূপ থেকে পানি পান করার ক্ষেত্রেও ইয়েমেনবাসীর প্রতি নবীজির বিশেষ অনুগ্রহের কথা বিভিন্ন হাদিসে পাওয়া যায়।

অনেকের মনেই কৌতুহল তৈরি হয়েছে, ইয়েমেনবাসীর প্রতি নবীজি সা. এর এই বিশেষ অনুগ্রহের পেছনের গল্প কী? কারণ কী? চলুন জেনে নেওয়া যাক রাসুল সা. এর জবানি থেকেই। ইয়েমেনবাসীর প্রশংসা করে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইয়েমেনের অধিবাসীরা তোমাদের কাছে এসেছে। তারা মেঘমালার মতো। তারাই মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাদের অন্তর সবচেয়ে নরম এবং হৃদয় সবচেয়ে কোমল।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১৬৭৫৮)

এই বর্ণনায় ইয়েমেনবাসীর ঈমান ও চারিত্রিক সৌন্দর্যের প্রশংসা ফুটে উঠেছে। মানুষের প্রতি হৃদয়ের কোমলতা, বিনয় ও সহমর্মিতা ইসলামের অন্যতম শিক্ষা। হৃদয়ের এই উদারতা ও কোমলতার জন্যই ইয়েমেনবাসীর প্রশংসা করেছেন নবীজি (সা.)।

তাদের কোমল হৃদয়ের পাশাপাশি প্রজ্ঞা ও ধর্মীয় জ্ঞানের কথাও নানা হাদিসে উঠে এসেছে । আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ইয়েমেনবাসীরা তোমাদের কাছে এসেছে। তারা অত্যন্ত নরম হৃদয়ের অধিকারী এবং তাদের অন্তর খুবই কোমল। ফিকহ আর প্রজ্ঞা দুটিই ইয়েমেনিদের।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৩৯০)

এ হাদিসে ইয়েমেনবাসীর দয়া, কোমলতা ও ধর্মীয় জ্ঞানের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেবল জ্ঞান অর্জন নয়, সেই জ্ঞানকে প্রজ্ঞার সঙ্গে মিলিয়ে জীবনে ধারণ করাও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। ইয়েমেনবাসীর প্রশংসায় নবীজির বলা কথা সেই গুণাবলীরই স্বীকৃতি।

ইয়েমেনের প্রতি বিশেষ অনুরাগ প্রকাশ করে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ঈমান ইয়েমেনের। সেই সঙ্গে আমিও ইয়েমেনের।’ (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, হাদিস : ১৬৬২৪)

ইয়েমেনের সঙ্গে নবীজি (সা.)-এর বিশেষ সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া যায় উপরের বর্ণনা থেকে । এর ব্যাখ্যায় আলেমদের মধ্যে নানা মত রয়েছে। কেউ তার বংশীয় সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ কেউ বলেছেন, ইয়েমেনবাসীর ঈমান, স্বভাব ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রশংসা করতেই তিনি এ কথা বলেছেন।

মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলার অন্যতম সুন্দর প্রকাশ মুসাফাহা বা করমর্দন। ইয়েমেনবাসীর সঙ্গে মুসাফাহার প্রসঙ্গেও রয়েছে একটি তাৎপর্যপূর্ণ হাদিস। আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, একবার ইয়েমেনবাসীরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এলে তিনি বলেন, ‘তোমাদের কাছে ইয়েমেনবাসীরা এসেছে। তারাই সর্বপ্রথম মুসাফাহা করেছে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫২১৩)

এই বর্ণনায় ইয়েমেনবাসীর সঙ্গে মুসাফাহার প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পারস্পরিক অভিবাদন ও হৃদ্যতার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় হয়।

ইয়েমেনের প্রতি নবীজি (সা.)-এর অনুরাগের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেশটির জন্য তার বরকতের দোয়া। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করেন, ‘হে আল্লাহ, আমাদের শাম ও ইয়েমেনে বরকত দান করুন।’

উপস্থিত লোকেরা নজদের জন্যও দোয়া করতে বললে তিনি আবার শাম ও ইয়েমেনের জন্য বরকতের দোয়া করেন। বর্ণনাকারীর ভাষ্যমতে, এরপর তিনি নজদে ভূমিকম্প ও ফিতনা-ফ্যাসাদের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, সেখান থেকে শয়তানের শিং উদিত হবে। (বুখারি, হাদিস : ১০৩৭)

এ হাদিসে শাম ও ইয়েমেনের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বরকতের দোয়া স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তার এই দোয়া ইসলামের ইতিহাসে অঞ্চল দুটির বিশেষ গুরুত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়।

আমানতদারিতা। মানুষের অনেক অনেক চারিত্রিক গুণের মধ্যে অন্যতম। বিশ্বস্ততা ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এই গুণের প্রশংসাও এসেছে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীতে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে তিনি বলেন, ‘রাজত্ব কুরাইশদের মধ্যে, বিচারবিধান আনসারদের মধ্যে, আজান হাবশিদের মধ্যে এবং আমানতদারি আজদ গোত্রের মধ্যে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৯৩৬)

এখানে আজদ গোত্রের আমানতদারিতার প্রশংসা করা হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে আজদ গোত্রের বিভিন্ন শাখার সঙ্গে ইয়েমেনের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে এ বর্ণনাও ইয়েমেন অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

কিয়ামতের দিন মুমিন মুসলিমদের জন্য নবীজি (সা.)-এর হাউজে কাউসার কূপ থেকে পানি পান করা হবে পরম সৌভাগ্যের বিষয়। এ প্রসঙ্গেও ইয়েমেনবাসীর প্রতি নবীজির বিশেষ অনুগ্রহের কথা উঠে এসেছে একটি হাদিসে।

সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি আমার হাউজের পাশে থাকব। ইয়েমেনবাসীর জন্য লোকদের সরিয়ে দেব। আমার লাঠি দিয়ে হাউজের পানিতে আঘাত করব, যাতে তা তাদের দিকে প্রবাহিত হয়।’ (মুসলিম, হাদিস : ৫৮৮৪)

এই বর্ণনায় হাউসে কাউসারের পাশে ইয়েমেনবাসীর জন্য জায়গা করে দেওয়ার কথা এসেছে। হাদিসটির ব্যাখ্যায় আলেমরা একে ইয়েমেনবাসীর প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিশেষ অনুগ্রহ ও সম্মানের নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরেছেন।

ইয়েমেনের প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুরাগ কেবল একটি ভূখণ্ডের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ নয়, বরং দেশটির মানুষের ঈমান, হৃদয়ের কোমলতা, প্রজ্ঞা ও বিশ্বস্ততারও স্বীকৃতি। তাদের জন্য নবীজির বরকতের দোয়া এবং হাউজে কাউসারের প্রসঙ্গে বিশেষ মর্যাদার উল্লেখ ইসলামের ইতিহাসে ইয়েমেন ও ইয়েমেনবাসীর স্বতন্ত্র অবস্থানকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

উপযুক্ত পাত্র-পাত্রী বা বিয়েতে সামাজিক বাধা? দুশ্চিন্তা না করে আমল করুন কোরআনের এই দোয়া

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
উপযুক্ত পাত্র-পাত্রী বা বিয়েতে সামাজিক বাধা? দুশ্চিন্তা না করে আমল করুন কোরআনের এই দোয়া
টপ স্টোরিজ

বিয়ে শুধু দুজন মানুষের বন্ধন নয়, বরং ভালোবাসা, প্রশান্তি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের মাধ্যমে একটি সুন্দর পরিবার গড়ে তোলার বৈধ ও পবিত্র মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা মানুষের মধ্যে জোড়ায় জোড়ায় সম্পর্কের ব্যবস্থা করেছেন এবং বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর জীবনে ভালোবাসা ও প্রশান্তি দান করেন।

কিন্তু বর্তমান সময়ে নানা সামাজিক বাধা, অতিরিক্ত প্রত্যাশা, আর্থিক অসচ্ছলতা ও পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের জটিলতার কারণে অনেকের বিয়ে সময়মতো হচ্ছে না। কেউ উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে পাচ্ছেন না, আবার কেউ পারিবারিক ও সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতায় বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেকেই মানসিক কষ্ট ও হতাশায় ভুগছেন।

ইসলাম বিয়েকে সহজ করতে উৎসাহিত করেছে। বিয়ের সামর্থ্য অর্জন করলে তা অযথা বিলম্ব না করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা, তার কাছে দোয়া করা এবং পবিত্র জীবনযাপনের চেষ্টা করাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে মনে রাখতে হবে, নির্দিষ্ট কোনো আমল করলেই দ্রুত বিয়ে হয়ে যাবে এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ নেই। বরং দোয়া, ইবাদত ও বৈধ উপায়ে জীবনসঙ্গী খোঁজার পাশাপাশি আল্লাহর ফয়সালার ওপর আস্থা রাখতে হবে।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘আর তার নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা আর-রুম, আয়াত: ২১)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও সামর্থ্যবান যুবকদের বিয়ের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে। কেননা, বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহর দায়িত্ব, আল্লাহর পথে জিহাদকারী, চুক্তিবদ্ধ দাস যে মুক্তির অর্থ পরিশোধ করতে চায় এবং ওই ব্যক্তি যে পবিত্রতা রক্ষার উদ্দেশ্যে বিয়ে করতে চায়।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৬৫৫)

তাই বিয়ের জন্য অপেক্ষার সময় হতাশ না হয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং বাস্তবসম্মতভাবে বিয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত। কোরআন-হাদিসের আলোকে এমন তিনটি আমল তুলে ধরা হলো, যা বিয়ের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা ও তার সাহায্য কামনায় করা যেতে পারে।

১. বেশি বেশি দোয়া করা

দোয়া মুমিনের অন্যতম শক্তি। জীবনের যেকোনো প্রয়োজন ও সংকটে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া উচিত। বিয়ের জন্যও নিজের ভাষায় আন্তরিকভাবে দোয়া করা যায়। আল্লাহর কাছে একজন নেককার, উত্তম চরিত্রের ও দ্বীনদার জীবনসঙ্গী চাওয়া যায়। পাশাপাশি নিজের চরিত্র সংশোধন, হালাল উপার্জনের ব্যবস্থা এবং বিয়ের পথ সহজ করে দেওয়ার জন্যও প্রার্থনা করা উচিত।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যখন আমার বান্দারা তোমার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তখন (বলে দাও) আমি তো নিকটেই। আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৬)

তবে দোয়া করার পাশাপাশি বৈধ উপায়ে পাত্র-পাত্রী খোঁজা, পরিবারকে সম্পৃক্ত করা এবং অযৌক্তিক সামাজিক বাধা কমানোর উদ্যোগও নিতে হবে।

২. কোরআনের একটি দোয়া পড়া

নেককার জীবনসঙ্গী ও উত্তম পরিবার লাভের জন্য পবিত্র কোরআনে বর্ণিত একটি সুন্দর দোয়া নিয়মিত পড়া যেতে পারে। দোয়াটি হলো,

আরবি: رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

উচ্চারণ: রব্বানা হাব লানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ‘ইউনিন, ওয়াজ‘আলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।

অর্থ: ‘হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের চোখের প্রশান্তি দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ বানিয়ে দিন।’ (সুরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৭৪)

এই দোয়ায় শুধু জীবনসঙ্গী পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং এমন পরিবার গঠনের প্রার্থনাও রয়েছে, যে পরিবার আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং নেক আমলের পথে চলতে সহায়ক হবে। ফরজ নামাজের পর, নফল ইবাদতের সময় কিংবা অন্য যেকোনো সময়ে দোয়াটি পড়া যায়। তবে বিয়ের জন্য এটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় বা নির্দিষ্ট নিয়মে পড়তেই হবে এমন কোনো সহিহ প্রমাণ নেই।

৩. নফল নামাজ আদায় করে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া

জীবনের কঠিন সময়ে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল। বিয়ের বিষয়ে দুশ্চিন্তা, অনিশ্চয়তা কিংবা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও নফল নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজন তুলে ধরা যায়।

হজরত হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে কোনো কঠিন বিষয় উপস্থিত হলে তিনি নামাজ আদায় করতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৩১৯)

এক মাসে ২ কোটি ১৬ লাখ মুসল্লি! মদিনায় মসজিদে নববীতে রেকর্ড

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬
এক মাসে ২ কোটি ১৬ লাখ মুসল্লি! মদিনায় মসজিদে নববীতে রেকর্ড
টপ স্টোরিজ

সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত পবিত্র মসজিদে নববীতে গত সেপ্টেম্বরে মাত্র ৩০ দিনে ২ কোটি ১৬ লাখ ১৫ হাজার ৯৭৭ জন মুসল্লি ও দর্শনার্থী এসেছেন।

সৌদি আরবের দুই পবিত্র মসজিদের সেবা ও তত্ত্বাবধানবিষয়ক জেনারেল অথরিটি এ তথ্য জানিয়েছে। খবর সৌদি গেজেটের।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে ১৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭৯১ জন দর্শনার্থী রওজা শরিফে নামাজ আদায় করেছেন।

এ ছাড়া ৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৩০ জন দর্শনার্থী পথনির্দেশনা সেবা এবং ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৮৬ জন অতিথি সেবাকেন্দ্রের সেবা নিয়েছেন।

দর্শনার্থীদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সময়ে ৮১ হাজার ২৪৩ জন মসজিদে নববীর গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেছেন।

অন্যদিকে, মসজিদটির বিভিন্ন প্রদর্শনী ঘুরে দেখেছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮৬৭ জন অতিথি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব পরিসংখ্যান মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের উন্নত সেবা দেওয়ার চলমান প্রচেষ্টার প্রতিফলন।

এর মাধ্যমে তাঁদের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি মসজিদে নববীতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নামাজ আদায়ের সুযোগ আরও সহজ করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় ৩য় স্থান অর্জন করল কাতার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬
আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় ৩য় স্থান অর্জন করল কাতার
টপ স্টোরিজ

মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠিত ‘ষষ্ঠ মোহাম্মদ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন হিফজ, তিলাওয়াত, তাজবিদ ও তাফসীর প্রতিযোগিতার ২০তম আসরে কাতার তৃতীয় (৩য়) স্থান অর্জন করেছে।

রাবাতের 'মোহাম্মদ ষষ্ঠ ইনস্টিটিউট ফর দ্য ট্রেনিং অব ইমামস মরশিদিন অ্যান্ড মরশিদাত'-এ আয়োজিত এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান কুরআন হাফেজ ও কারীগণ অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিযোগীর পরিচিতি ও সাফল্য
প্রতিযোগিতায় কাতারের প্রতিনিধিত্ব করেন বিশিষ্ট হাফেজ ইউসুফ আহমেদ আশীর। তিনি পূর্ণাঙ্গ পবিত্র কুরআন হিফজ, সুন্দর তিলাওয়াত এবং কুরআন তাফসীর (ব্যাখ্যা) বিভাগে অংশগ্রহণ করে বিশ্বমঞ্চে এই সফলতা অর্জন করেন।

কাতার আওকাফ মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া
কাতারের ধর্মবিষয়ক ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধান বিষয়গুলো তুলে ধরেছে:

আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতা ও ফোরামগুলোতে কাতারের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং প্রতিভাবান হাফেজদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করার ধারাবাহিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন এটি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাতারি প্রতিযোগীদের এই ধরণের সফলতা আওকাফ মন্ত্রণালয় পরিচালিত কুরআন শিক্ষা ও হিফজ কর্মসূচিগুলোর উচ্চমানের প্রমাণ দেয়।

এই ধরনের উদ্যোগ পবিত্র কুরআনের খেদমত এবং এর সাম্য, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে কাতারের ভূমিকা আরও জোরদার করে।