২০ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্স-স্পেনের মতো ইতালি-পর্তুগালেও ছড়িয়েছে বিক্ষোভের উত্তাপ

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ফ্রান্স-স্পেনের মতো ইতালি-পর্তুগালেও ছড়িয়েছে বিক্ষোভের উত্তাপ

ফ্রান্স ও স্পেনে উত্তাপ ছড়ানো বিক্ষোভ ইতালি ও পর্তুগালেও ছড়িয়ে পড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে মিলানে পুলিশের সঙ্গে দাঙ্গাকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। একই কারণে লিসবনে তাঁবু শিবির গড়ে তুলে প্রতিবাদ জানান বিক্ষোভকারীরা।

মিলানে স্থানীয় সময় শনিবার বিক্ষোভকারীরা প্রথমে একটি শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুখোশধারী দাঙ্গাকারীরা পুলিশের দিকে পাথরসহ অন্যান্য বস্তু নিক্ষেপ করে। বারের টেবিল দিয়ে তৈরি একটি ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে। পরবর্তী সময়ে তোলা একটি ছবিতে পুলিশের ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি দেখা গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম লাপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘর্ষে অন্তত দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে অপ্রাপ্তবয়স্কসহ প্রায় ৫০ বিক্ষোভকারীকে।

প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, ‘বিক্ষোভ প্রদর্শনের অধিকার সবার আছে। কিন্তু শহরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কোনো অধিকার নেই।’ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মেলোনি লিখেন, শহরে বিশৃঙ্খলা ছড়ানো ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা করতে একটি পক্ষ বিক্ষোভকে ব্যবহার করেছে।

এদিকে আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে লিসবনে বিক্ষোভকারীরা একটি তাঁবু শিবির স্থাপন করেছেন। কয়েক সপ্তাহ আগে স্পেনের বিক্ষোভে একই ধরনের শিবির গড়ে তোলা হয়েছিল।

লিসবনের দর্শনীয় স্থান রসিও স্কোয়ারে শনিবার রাতে কয়েক হাজার মানুষ পদযাত্রা করেন। অনেকে সারা রাত সেখানে অবস্থানের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ৪৬ বছর বয়সী সমাজকর্মী এলেনা কস্তা বলেন, সমাজের যে শ্রেণির মানুষ কর দিয়ে অর্থনীতি সচল রাখে তারা আক্রমণের শিকার ও অধিকার হারাচ্ছে। বিশেষ করে আবাসনের অধিকার সংকটের মুখে পড়েছে।

বাসা ভাড়ার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের নেওয়া নীতির সমালোচনা করেন ৫২ বছর বয়সী প্রকৌশলী আন্তোনিও মারগাদো। তিনি বলেন, সরকার ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেনি। মালিকদের স্বার্থকে রক্ষা করেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পর্তুগালে আবাসনে ব্যয় বেড়েছে ১২৪ শতাংশ। যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। সবেচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে তরুণ ও লিসবনের বাসিন্দাদের ওপর। দেশটির ১ কোটি ১০ লাখের বেশি জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ রাজধানীর মহানগর এলাকায় বসবাস করে।

পর্তুগিজ প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রো জানিয়েছেন, তিনি জনগণের ক্ষোভের দিকটি বুঝতে পারছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সতর্ক করে বলেন, ‘এটিকে কেন্দ্র করে বাইরে থেকে অস্থিতিশীলতা ডেকে আনার সুযোগ নেই।’ মূলত ফ্রান্সের বিক্ষোভের দিকে ইঙ্গিত করে এমন মন্তব্য করেন মন্টিনিগ্রো।

ইসরায়েল থেকে আসা বিমানে বোমা আতঙ্ক, বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ইসরায়েল থেকে আসা বিমানে বোমা আতঙ্ক, বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ

ইসরায়েলের তেল আবিব থেকে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনাগামী অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের একটি যাত্রীবাহী বিমান বোমা হামলার হুমকির পর বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় জরুরি অবতরণ করেছে। উড়োজাহাজটিতে থাকা ৫১ জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রুকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রোমানিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর ফ্লাইট ওএস৮২-এর ক্রুরা বোমা হামলার হুমকি পান। পরে বুলগেরিয়ার বিমানবাহিনীর একটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানের পাহারায় উড়োজাহাজটি সোফিয়া বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাত্রীদের নামানোর পর উড়োজাহাজটিতে নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়।

অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনস জানিয়েছে, তল্লাশি শেষ হলে যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটে গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।

ঘটনাটি তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে। তবে এই হুমকির সঙ্গে এর আগে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে পাইলটকে কুঠার দিয়ে হামলার অভিযোগের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটে তেল আবিব থেকে যাত্রা শুরু করে এবং রাত ৯টা ৪৩ মিনিটে সোফিয়ায় অবতরণ করে।

ফ্রান্স-স্পেনের মতো ইতালি-পর্তুগালেও ছড়িয়েছে বিক্ষোভের উত্তাপ

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ফ্রান্স-স্পেনের মতো ইতালি-পর্তুগালেও ছড়িয়েছে বিক্ষোভের উত্তাপ

ফ্রান্স ও স্পেনে উত্তাপ ছড়ানো বিক্ষোভ ইতালি ও পর্তুগালেও ছড়িয়ে পড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে মিলানে পুলিশের সঙ্গে দাঙ্গাকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। একই কারণে লিসবনে তাঁবু শিবির গড়ে তুলে প্রতিবাদ জানান বিক্ষোভকারীরা।

মিলানে স্থানীয় সময় শনিবার বিক্ষোভকারীরা প্রথমে একটি শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুখোশধারী দাঙ্গাকারীরা পুলিশের দিকে পাথরসহ অন্যান্য বস্তু নিক্ষেপ করে। বারের টেবিল দিয়ে তৈরি একটি ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে। পরবর্তী সময়ে তোলা একটি ছবিতে পুলিশের ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি দেখা গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম লাপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘর্ষে অন্তত দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে অপ্রাপ্তবয়স্কসহ প্রায় ৫০ বিক্ষোভকারীকে।

প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, ‘বিক্ষোভ প্রদর্শনের অধিকার সবার আছে। কিন্তু শহরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কোনো অধিকার নেই।’ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মেলোনি লিখেন, শহরে বিশৃঙ্খলা ছড়ানো ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা করতে একটি পক্ষ বিক্ষোভকে ব্যবহার করেছে।

এদিকে আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে লিসবনে বিক্ষোভকারীরা একটি তাঁবু শিবির স্থাপন করেছেন। কয়েক সপ্তাহ আগে স্পেনের বিক্ষোভে একই ধরনের শিবির গড়ে তোলা হয়েছিল।

লিসবনের দর্শনীয় স্থান রসিও স্কোয়ারে শনিবার রাতে কয়েক হাজার মানুষ পদযাত্রা করেন। অনেকে সারা রাত সেখানে অবস্থানের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ৪৬ বছর বয়সী সমাজকর্মী এলেনা কস্তা বলেন, সমাজের যে শ্রেণির মানুষ কর দিয়ে অর্থনীতি সচল রাখে তারা আক্রমণের শিকার ও অধিকার হারাচ্ছে। বিশেষ করে আবাসনের অধিকার সংকটের মুখে পড়েছে।

বাসা ভাড়ার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের নেওয়া নীতির সমালোচনা করেন ৫২ বছর বয়সী প্রকৌশলী আন্তোনিও মারগাদো। তিনি বলেন, সরকার ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেনি। মালিকদের স্বার্থকে রক্ষা করেছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পর্তুগালে আবাসনে ব্যয় বেড়েছে ১২৪ শতাংশ। যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। সবেচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে তরুণ ও লিসবনের বাসিন্দাদের ওপর। দেশটির ১ কোটি ১০ লাখের বেশি জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ রাজধানীর মহানগর এলাকায় বসবাস করে।

পর্তুগিজ প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রো জানিয়েছেন, তিনি জনগণের ক্ষোভের দিকটি বুঝতে পারছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সতর্ক করে বলেন, ‘এটিকে কেন্দ্র করে বাইরে থেকে অস্থিতিশীলতা ডেকে আনার সুযোগ নেই।’ মূলত ফ্রান্সের বিক্ষোভের দিকে ইঙ্গিত করে এমন মন্তব্য করেন মন্টিনিগ্রো।

ফ্রান্সে নজিরবিহীন সহিংসতায় সংকটে সরকার

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ফ্রান্সে নজিরবিহীন সহিংসতায় সংকটে সরকার

ফ্রান্সে স্কুলে বিদ্যমান সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশজুড়ে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৫০ পুলিশ সদস্য।

ফ্রান্সে কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনায় গভীর সংকটে পড়েছে দেশটির সরকার।

বেলজিয়ামে বিক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ১৯৫

শনিবারের বিক্ষোভে সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ, শত শত দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন শহর থেকে দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রোববার জরুরি বৈঠকে বসেছে সরকার।

সহিংসতা মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের পদত্যাগ দাবি করেছেন বামপন্থি ও কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিকেরা।

বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সরকারি ভবনে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। বাসস্টপ ভাঙচুর, সড়কে ব্যারিকেড স্থাপন এবং দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

রোববার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। আগামী বসন্তে তার ক্ষমতা ছাড়ার কথা রয়েছে।

এবার সৌদিকে সামরিক সহায়তায় প্রস্তুত মিসর

এদিকে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি নেতা মেরিন লে পেন জনমত জরিপে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইমানুয়েল ম্যাক্রো বলেন, ফ্রান্সে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবারের বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশ ও প্রশাসনকে কয়েক ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে।

প্রথমত, প্যারিসসহ দেশটির বড় শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের জরাজীর্ণ স্কুল সংস্কার এবং আরো শিক্ষক নিয়োগের দাবির প্রতি সংহতি জানাতে এসব কর্মসূচিতে অভিভাবক, শিক্ষক, প্রবীণ ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষ অংশ নেন।

জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদও ছিল তাদের দাবির মধ্যে। বিক্ষোভকারীরা ব্যানার হাতে সরকারি সেবায় বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান এবং অভিযোগ করেন, সরকার তাদের কথা শুনছে না।

চার সপ্তাহ ধরে চলা মিছিল ও স্কুলে ব্যারিকেড কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় এসব শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা সিসির

তবে এর বাইরে বিভিন্ন গোষ্ঠী বিচ্ছিন্নভাবে জড়ো হয়ে রাস্তায় অগ্নিসংযোগ, ব্যারিকেড স্থাপন ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও দাঙ্গায় জড়ায়। প্যারিস, বোর্দো, নিস ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে এসব ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ ও প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া মুখোশধারী লুটেরারাও রাস্তায় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে দোকানের সামনের কাচ ভেঙে পণ্য লুট করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের সরকারকে একদিকে শিক্ষার্থীদের দাবি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জনঅসন্তোষ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জও সামলাতে হচ্ছে।

মাঝ আকাশে খুলে গেল দরজা: ঢাকায় জরুরি অবতরণ করল ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স

বেলজিয়ামে বিক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ১৯৫

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬
বেলজিয়ামে বিক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ১৯৫

শিক্ষানীতি ও বাজেট কাটছাঁটের প্রতিবাদে বেলজিয়ামের ব্রাসেলস ও লিয়েজ শহরে বিক্ষোভ চলাকালে ১৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবারের এসব বিক্ষোভের ঘটনায় রোববার পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

ব্রাসেলস পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে ১৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১৮ জনকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটক এবং ৩২ জনকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

পুলিশের ভাষ্য, কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে বস্তু নিক্ষেপ, গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অগ্নিসংযোগের মতো অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ফলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

ফ্রান্সে নজিরবিহীন সহিংসতায় সংকটে সরকার

বিক্ষোভে পাঁচ পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ব্রাসেলসের কেন্দ্রীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুলিশ জানায়, বিক্ষোভকারীরা বৈদ্যুতিক স্কুটার ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ একাধিকবার কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

বেলজীয় সংবাদ সংস্থা বেলগার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লিয়েজে ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৪০ জনকে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় আটক এবং পাঁচজনকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়।

ইসরাইলি দখলদারিত্ব বন্ধে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ

শনিবার সন্ধ্যায় শহরটির বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্লাস সাঁ-ল্যামবার চত্বরে জড়ো হওয়া প্রায় ৫০ জন বিক্ষোভকারী প্রিন্স-বিশপস প্যালেস লক্ষ্য করে আতশবাজির মর্টার নিক্ষেপ করেন। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

এ সময় আশপাশে জড়ো হওয়া লোকজন তাদের বন্ধুদের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন। সন্ধ্যার মধ্যে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মুসলিমদের মধ্যে ‘মোহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ১৮, ২০২৬
মুসলিমদের মধ্যে ‘মোহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস

জর্জিয়ার ডালটনে সমবেত জনতার উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যের কারও নাম নিয়ে সন্দেহ হলে শুধু 'মোহাম্মদ' বলে ডাকবেন। ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ। "হ্যালো, মোহাম্মদ।" আমি বছরের পর বছর ধরে এটা করে আসছি। কখনো ভুল হয়নি।'

মুসলিম বিশ্বে বহুল প্রচলিত পুরুষের নামগুলোর একটি মোহাম্মদ। ইসলামের নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর নাম অনুসরণ করে অনেক মুসলিম পরিবারে ছেলেসন্তানের এই নাম রাখা হয়।

গত শুক্রবার জর্জিয়ার ডালটন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের একটি হ্যাঙ্গারে নির্বাচনী সমাবেশে ইরান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এ নাম নিয়ে রসিকতা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাতে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ইরানই একমাত্র দেশ, যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চান না। এরপর কয়েকজন মোহাম্মদ নামের ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট হতে আগ্রহী কি না, তা জিজ্ঞাসা করার ভান করে উপস্থিত জনতার সামনে রসিকতা করেন তিনি।

তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যে উপস্থিত জনতার কাছ থেকে খুব একটা সাড়া মেলেনি।

মানবাধিকারকর্মী এবং মুসলিম অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলো ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মুসলিম, অভিবাসী এবং জাতিগত সংখ্যালঘুদের হেয় ও অবমাননা করছেন।

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারণাকালে সোমালি ও মুসলিম আমেরিকানদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প তার বক্তব্য আরও আক্রমণাত্মক করেছেন; বিশেষ করে মুসলিম ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ এবং সোমালি শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে তিনি কথা বলছেন।

সমাবেশে ট্রাম্প আবারও জোর দিয়ে বলেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর)-এর এক বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অবস্থান এবং ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভের ওপর কড়াকড়ির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।