৭ নভেম্বর ২০২৬

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘অনেক অগ্রগতি’ হয়েছে: ট্রাম্প

প্রকাশ: শনিবার, নভেম্বর ০৭, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘অনেক অগ্রগতি’ হয়েছে: ট্রাম্প
ফ্লোরিডার পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ার ফোর্স ওয়ানে পৌঁছে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি- এএফপি

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ‘অনেক অগ্রগতি’ অর্জন করেছে এবং তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, সম্প্রতি ইরানের একটি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী।

শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখন তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। তারা চুক্তি করতে চায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমরা অনেক অগ্রগতি করেছি।’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতকে যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করতেও রাজি হননি ট্রাম্প। বরং তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বড় অবরোধ’ আরোপের দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ করছি না।’ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, গত সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সেনা নিহত হননি।

তবে ইরানের সামরিক সরঞ্জামে মার্কিন বাহিনীর সীমিত হামলার কথা স্বীকার করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তারা ছোটখাটো একটি বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তৈরি করেছিল।

আমরা সেটা প্রায় ১৫ মিনিটে, হয়তো পাঁচ মিনিটেই ধ্বংস করে দিয়েছি।’ তবে হামলাটি কখন বা কোথায় চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি।

এ ছাড়া ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘অনেক অগ্রগতি’ হয়েছে: ট্রাম্প

প্রকাশ: শনিবার, নভেম্বর ০৭, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘অনেক অগ্রগতি’ হয়েছে: ট্রাম্প
ফ্লোরিডার পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ার ফোর্স ওয়ানে পৌঁছে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি- এএফপি

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ‘অনেক অগ্রগতি’ অর্জন করেছে এবং তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, সম্প্রতি ইরানের একটি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করেছে মার্কিন বাহিনী।

শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখন তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। তারা চুক্তি করতে চায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমরা অনেক অগ্রগতি করেছি।’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতকে যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করতেও রাজি হননি ট্রাম্প। বরং তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বড় অবরোধ’ আরোপের দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ করছি না।’ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, গত সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সেনা নিহত হননি।

তবে ইরানের সামরিক সরঞ্জামে মার্কিন বাহিনীর সীমিত হামলার কথা স্বীকার করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তারা ছোটখাটো একটি বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তৈরি করেছিল।

আমরা সেটা প্রায় ১৫ মিনিটে, হয়তো পাঁচ মিনিটেই ধ্বংস করে দিয়েছি।’ তবে হামলাটি কখন বা কোথায় চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি।

এ ছাড়া ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৪ বাংলাদেশি-মার্কিনের জয়

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ০৫, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৪ বাংলাদেশি-মার্কিনের জয়

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে চার বাংলাদেশির-মার্কিনের বিজয় অর্জন করেছেন।

স্থানীয় সময় গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর ফলে উচ্ছ্বসিত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

বিজয়ীরা হলেন, আবুল খান, শেখ রহমান, মাসুদুর রহমান ও হাসিব ফাতেমী।

নিউ হ্যাম্পশায়ার, জর্জিয়া, কানেকটিকাট ও নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার রাজনীতিক। তাদের মধ্যে একজন রিপাবলিকান পার্টি এবং অন্য তিনজন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ছিলেন।

রিপাবলিকান পার্টি থেকে নিউ হ্যাম্পশায়ার স্টেটের প্রতিনিধি হিসেবে সপ্তম মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন পিরোজপুরের সন্তান আবুল খান।

জর্জিয়া স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট-৫ থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী শেখ রহমান পঞ্চম মেয়াদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কিশোরগঞ্জের সন্তান।

কানেকটিকাট স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট-৪ থেকে তৃতীয় মেয়াদে জয় পেয়েছেন চাঁদপুরের সন্তান মাসুদুর রহমান। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনি এবারও বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট-১৮ থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন গাজীপুরের সন্তান হাসিব ফাতেমী।

এদিকে ভার্জিনিয়া স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট-৩৭-এর দায়িত্বে রয়েছেন নোয়াখালীর সন্তান সাদ্দাম আজলান সেলিম। ডেমোক্রেটিক পার্টির এ রাজনীতিক ২০২৪ সালে নির্বাচিত হন। আগামী বছর সেখানে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের জয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিকদের সাফল্যকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন প্রবাসীরা।

ব্রঙ্কসে বসবাসরত মূলধারার রাজনীতিক শাহজাহান শেখ বলেন, গত দুই বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অন্যায়-অপকর্মের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন ভোটাররা। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

তিনি বলেন, এবারের ফলাফল রাজনীতিক ও নীতিনির্ধারকদের চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন তিনি। কঠোর পরিশ্রমী আমেরিকানদেরও সেটাই প্রত্যাশা।

আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও রাজনীতি নিয়ে কাজ করা ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের গ্লোবাল ক্যাম্পাসের অধ্যাপক ফাইজুল ইসলাম বলেন, মিথ্যাচার আর ভণ্ডামি বেশিদিন টিকে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের লাগাতার অন্যায়-অবিচার-একনায়কতন্ত্রের কবলে পড়ে আমেরিকানরা ত্যক্ত-বিরক্ত এবং ক্ষুব্ধ। তারই প্রকাশ ঘটল ব্যালট বিপ্লবে।

অধ্যাপক ফাইজুলের মতে, ট্রাম্পের কারণে রিপাবলিকান পার্টির ভিত দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখন দলটির ঘুরে দাঁড়ানোর সময়। এজন্য ট্রাম্পকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়: ডেমোক্র্যাটরা কী ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ০৫, ২০২৬
মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়: ডেমোক্র্যাটরা কী ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে
মার্কিন কংগ্রেস অধিবেশন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পরাজিত করে কংগ্রেসের দুই কক্ষ- প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।

জানুয়ারির শুরুতে বসতে যাওয়া কংগ্রেসের নতুন অধিবেশনটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছর থেকে একেবারেই ভিন্ন হতে যাচ্ছে। এতদিন রিপাবলিকানরা দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছিল।

এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে ট্রাম্পের নীতি ও সিদ্ধান্তগুলো যাচাই-বাছাই করা এবং তাদের অপছন্দের আইন আটকে দেওয়ার ক্ষমতা এলো। তবে সব বাধা সত্ত্বেও, কংগ্রেসের সরাসরি অনুমোদন ছাড়াও একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প অনেক কিছুই করার ক্ষমতা রাখেন। তবে ডেমোক্র্যাটদের এ জয়ে মার্কিন রাজনীতি ও ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে পরিবর্তন আসতে পারে।

ইরানের যুদ্ধ ও এর বাজেট

নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারের পেছনে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের একটি ভূমিকা ছিল বলে স্বীকার করেছেন ট্রাম্প নিজেই। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি মনে করি এর একটি অংশ ছিল ইরান, কিন্তু একই সঙ্গে, ইরানের বিষয়ে আমি যা করেছি তার গুরুত্বও মানুষ বুঝতে পেরেছে।

মূলত মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের চরম ক্ষোভকে কাজে লাগিয়েই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলেও এবার বাজেট নিয়ে নতুন কংগ্রেসের মুখোমুখি হতে পারেন তিনি। ১১ ডিসেম্বর বর্তমান সরকারি অর্থায়ন বিলের মেয়াদ শেষ হলে ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্তের ওপর বাজেট কাটছাঁটের বড় ধরনের চাপ আসতে পারে।

তবে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষক জেমস বয়েসের মতে, সৈন্য মোতায়েন থাকা অবস্থায় যুদ্ধ ফান্ডের অর্থ বন্ধ করা সহজ হবে না। অন্যদিকে ১৯৭৩ সালের যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাব ব্যবহার করে ট্রাম্পকে আটকানোও কঠিন হতে পারে, কারণ এটি বাতিল করতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন- যা ডেমোক্র্যাটদের নেই।

তা সত্ত্বেও কিছু রিপাবলিকান নেতার সহায়তায় কংগ্রেস ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। যেমন রাজনীতির আন্তর্জাতিক বিষয়ের অধ্যাপক স্কট লুকাস জানান, উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন এবং শুরু থেকেই তা করে আসছেন। এমনকি সম্প্রতি ভ্যান্স আলোচনা ফেরাতে ইরানের নিরাপত্তা প্রধানকে চিঠিও পাঠিয়েছেন।

অবশ্য জেমস বয়েসের মতে, সংবিধানে দুই মেয়াদের বেশি থাকার সুযোগ না থাকায় ট্রাম্প হয়তো মেয়াদের শেষভাগে এসে নিজেকে পুরোপুরি স্বাধীন মনে করতে পারেন। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে নিজের আলাদা একটি রাজনৈতিক প্রভাব বা লেগ্যাসি তৈরির জন্য তিনি আগ্রাসী নীতি আরও বাড়াতে পারেন।

শুল্কনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ট্রাম্প প্রায় ৯০টি দেশের পণ্যে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করলেও ট্রাম্প নতুন নির্বাহী আদেশে বিকল্প পথে শুল্ক বহাল রেখেছেন।

ডেমোক্র্যাটদের দাবি, এ শুল্কের চূড়ান্ত বোঝা পড়ছে সাধারণ মার্কিন ক্রেতাদের ওপর এবং এর ফলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। তাই তারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জনগণের পকেট কাটার অভিযোগ তুলছেন। ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস হয়তো ব্যবসায়ীদের কিছু সাময়িক স্বস্তি দেওয়ার জন্য দরকষাকষি করতে পারে, তবে মার্কিন শুল্কনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এর পাশাপাশি, কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দুই দলই একমতে পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে চীনের দূরবর্তী প্রযুক্তি ব্যবহার বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ পাচার রোধে কড়া বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের যৌথ সম্মতি দেখা যেতে পারে।

অভিবাসন নীতি ও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্ত

মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ের ফলে কংগ্রেসের সব গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত কমিটির শীর্ষ পদগুলো এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাবে। এর ফলে ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসা, জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে ট্রাম্পের যোগাযোগ কিংবা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ভূমিকা নিয়ে কড়া তদন্ত শুরু হতে পারে। এমনকি ট্রাম্পকে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসনের প্রচেষ্টাও অস্বাভাবিক নয়।

পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের বহুল আলোচিত অভিবাসী বিতাড়ন অভিযান নিয়েও তল্লাশি চালাবে ডেমোক্র্যাটরা। সম্প্রতি মার্কিন কর সংস্থা ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটির মধ্যে যে তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে, সমন জারি করে সেগুলোর বিস্তারিত খতিয়ে দেখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

নির্বাচনের আগেই ফক্স নিউজের জরিপে উঠে এসেছিল যে ৫৩ শতাংশ ভোটার অভিবাসন বিরোধী এ অভিযানকে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি হিসেবে দেখছেন। প্রশাসন দাবি করেছিল আটক হওয়া অভিবাসীদের ৭০ শতাংশই অপরাধী, তবে সেই পরিসংখ্যানে বড় ধরনের গলদ ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অধ্যাপক স্কট লুকাসের মতে, এ পরিবর্তনের ফলে এখন ডেমোক্র্যাট এবং দায়িত্বশীল রিপাবলিকানরা রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ে সমাজের ক্ষতগুলো সারিয়ে তুলতে এবং আরও ভারসাম্যপূর্ণ নীতি নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী আবের কাওয়াস

প্রকাশ: বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬
নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী আবের কাওয়াস

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস। এর মধ্য দিয়ে তিনি অঙ্গরাজ্যটির আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরা নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন।

নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের ১২ নম্বর আসনে ৭৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন কাওয়াস। ভোট গণনার ৯০ শতাংশ শেষে নিউইয়র্ক টাইমস তার বিজয় ঘোষণা করে।

কাওয়াসের নির্বাচনী স্লোগান ছিল ‘মর্যাদায় বিনিয়োগ, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই’। তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত গণপরিবহন, সাশ্রয়ী আবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং যুদ্ধে অর্থায়ন বন্ধের পক্ষে প্রচার চালান। তার প্রতি সমর্থন জানান নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালাইব।

রাজনীতিতে আসার আগে ১৫ বছরের বেশি সময় শ্রমিক, অভিবাসী ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন কাওয়াস। নিউইয়র্কের অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন বন্ধের উদ্যোগেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

ব্রুকলিনে ফিলিস্তিনি অভিবাসী বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কাওয়াস অভিবাসীদের অধিকার রক্ষার পক্ষে কাজ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর সঙ্গে নিউইয়র্কের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা বন্ধের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সরব কাওয়াস ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ করেছিলেন। ওই কর্মসূচিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সাইয়েদ

প্রকাশ: বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল এল-সাইয়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন চিকিৎসক ও প্রগতিশীল রাজনীতিক আবদুল এল-সাইয়েদ। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বহুল আলোচিত সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে এ ইতিহাস গড়েছেন তিনি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ডেট্রয়েটে মিশিগান ডেমোক্রেটিক পার্টির কার্যালয়ে সমর্থকদের সামনে নিজের বিজয় ঘোষণা করেন এল-সাইয়েদ।

বিজয় ভাষণে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে নিজেদের বাড়িতে, গির্জায় ও সিনাগগে জায়গা দিয়েছেন।’ দীর্ঘ দেড় বছরের নির্বাচনি প্রচারণায় মিশিগানের বড় শহর থেকে ছোট জনপদ পর্যন্ত মানুষের সমর্থন পাওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এল-সাইয়েদ বলেন, কঠিন সময়ে ভোটারদের সমর্থনই তাকে শক্তি জুগিয়েছে। তার ভাষায়, ‘তারা এমন একটি আমেরিকা চায়, যেখানে আমাদের কারও কারও জায়গা নেই। কিন্তু আমরা জানি, আমেরিকা আমাদের সবার জন্য যথেষ্ট বড়।’

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনি প্রচারণায় এল-সাইয়েদের মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে নানা বিতর্ক তৈরি হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ তার বিরোধীরা তাকে উদ্দেশ্য করে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দেন। ট্রাম্প তাকে ‘জিহাদি’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন। তবে এসব আক্রমণের জবাবে এল-সাইয়েদ বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে প্রতিপক্ষ বিভাজনের রাজনীতি করেছে।

মিশিগানের সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক এল-সাইয়েদ ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনেও বড় চমক দেখিয়েছিলেন। দলীয় নেতৃত্বের পছন্দের প্রার্থী হেইলি স্টিভেন্সকে হারিয়ে মনোনয়ন পান তিনি।

নির্বাচনী প্রচারণায় সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার জন্য ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নেন এল-সাইয়েদ। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।

তার প্রচারণা ঠেকাতে ইসরায়েলপন্থি লবি সংগঠন এআইপ্যাকের সুপার পিএসি ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট প্রাথমিক নির্বাচনে প্রায় ৩ কোটি ডলার ব্যয় করে। একটি নির্বাচনি লড়াইয়ে এ ধরনের ব্যয়কে রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজয় ভাষণে এল-সাইয়েদ বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের করের টাকা এখানেই ব্যয় হোক- আমাদের স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামোর জন্য। বর্ণবাদী শাসন, গণহত্যা কিংবা যুদ্ধের পেছনে আমাদের অর্থ ব্যয় হোক, তা আমরা চাই না।’

অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স সাবেক কংগ্রেস সদস্য। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও প্রচারণার শেষ দিকে শুল্কনীতি ও ইরান যুদ্ধের বিষয়ে তার অবস্থানে পরিবর্তন আনেন তিনি।

উল্লেখ্য, মিশিগানের এ আসনটি থেকে বিদায়ী সিনেটর গ্যারি পিটার্স ২০১৫ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার অবসরের কারণে আসনটি শূন্য হয়। মিশিগানের এই নির্বাচনকে একটি সুইং স্টেটে প্রগতিশীল প্রার্থীর জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।