৭ নভেম্বর ২০২৬

কাতারের আমিরকে ট্রাম্পের ফোন, কী আলোচনা হলো

প্রকাশ: শনিবার, নভেম্বর ০৭, ২০২৬
কাতারের আমিরকে ট্রাম্পের ফোন, কী আলোচনা হলো

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। আলোচনায় আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে কথা বলেন তারা।

কাতারের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংঘাত নিরসন ও উত্তেজনা বৃদ্ধি ঠেকাতে সংলাপ ও কূটনীতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন আমির। পাশাপাশি নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন ইরানের এক কর্মকর্তা।

ওই কর্মকর্তা জানান, ইরানের দেয়া সাতটি দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা হবে না। বর্তমানে ওয়াশিংটন প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে বলেও জানান তিনি।

ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড় এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেয়া। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান, যেকোনো প্রাথমিক আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

এ পরিস্থিতিতে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে দুই দেশের শর্তের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় আলোচনা কতটা এগোবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠাল ইরান

প্রকাশ: শনিবার, নভেম্বর ০৭, ২০২৬
কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠাল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে পাঠানো এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার আগে সাতটি শর্ত পূরণের দাবি জানিয়েছে তেহরান।

শর্তগুলো পূরণ না হলে কোনো আলোচনায় বসবে না বলেও জানিয়েছে দেশটি।

বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে।

তবে প্রস্তাবের বিস্তারিত বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর দুই দেশের মধ্যে আবারও সংঘাত তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীরা তৎপরতা বাড়িয়েছেন।

নির্বাচনের পর ইরানে সামরিক অভিযান আবারও শুরু করার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অন্যদিকে যুদ্ধ শুরু হলে আরও বড় পরিসরে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাশিয়া সফরকালে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই বলেন, কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে সাতটি শর্ত দিয়েছে তেহরান।

এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না এবং কোনো আলোচনাতেও বসবে না ইরান।

ইরানের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ছাড় এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান।

অন্যদিকে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, কোনো শর্ত পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নয়, বরং যেকোনো প্রাথমিক আলোচনার শুরুতেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব স্থানে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান।

পরে লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠে। সম্প্রতি এ সংঘাতের বিস্তার ঘটেছে ইয়েমেনেও।

সেখান থেকে ইরানঘনিষ্ঠ হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে।

কাতারের আমিরকে ট্রাম্পের ফোন, কী আলোচনা হলো

প্রকাশ: শনিবার, নভেম্বর ০৭, ২০২৬
কাতারের আমিরকে ট্রাম্পের ফোন, কী আলোচনা হলো

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। আলোচনায় আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে কথা বলেন তারা।

কাতারের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংঘাত নিরসন ও উত্তেজনা বৃদ্ধি ঠেকাতে সংলাপ ও কূটনীতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন আমির। পাশাপাশি নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন ইরানের এক কর্মকর্তা।

ওই কর্মকর্তা জানান, ইরানের দেয়া সাতটি দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা হবে না। বর্তমানে ওয়াশিংটন প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে বলেও জানান তিনি।

ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড় এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেয়া। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান, যেকোনো প্রাথমিক আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যু অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

এ পরিস্থিতিতে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে দুই দেশের শর্তের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় আলোচনা কতটা এগোবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

কাতারের কাছে তেলবাহী জাহাজে হামলা

প্রকাশ: শুক্রবার, নভেম্বর ০৬, ২০২৬
কাতারের কাছে তেলবাহী  জাহাজে হামলা

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) এবং ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর পৃথক তথ্য অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর বড় আঘাত এসেছে। এরমধ্যে কাতার উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক ট্যাংকার দুটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অননুমোদনহীন রুট ব্যবহার করে পারাপারের সময় পৃথক দুটি তেল ট্যাংকার ও একটি টাগবোটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

ইউকেএমটিও জানিয়েছে, কাতারের উপকূলে অজ্ঞাত প্রক্ষেপকের (ড্রোন অথবা মিসাইল) আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ওই ট্যাংকারের ক্রুদের বর্তমান অবস্থা কিংবা জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মাত্রা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ নিরসনে কাতার যখন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে, ঠিক তখনই এই নতুন হামলার খবর এলো। এর আগে গত মঙ্গলবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, মধ্যস্থতাকারীদের উত্থাপিত খসড়া প্রস্তাবসমূহ উভয় পক্ষই গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে এবং সংলাপের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

এর বাইরে গত রোববার কাতারের রাষ্ট্রীয় এলএনজি পরিবহন সংস্থা 'নাকিলাত; এক বিবৃতিতে জানায়, গত ৩০ অক্টোবর পারস্য উপসাগর অতিক্রম করার সময় তাদের এলএনজিবাহী জাহাজ 'আল মায়েদা' অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংস্থাটি স্পষ্ট করে যে, ওই ঘটনায় কোনো ক্রু আহত হননি এবং পরিবেশগত কোনো ক্ষয়ক্ষতিও হয়নি। আঘাতের গভীরতা ও ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করা হলেও জাহাজটি বর্তমানে নিরাপদ এবং সচল রয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক পৃথক বিবৃতিতে ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের অনুমোদনহীন জলপথ ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও একটি টাগবোটে পৃথক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

আইআরজিসি-র মতে, প্রণালীর দক্ষিণ অংশের একটি পথ অতিক্রম করার চেষ্টা করার সময় একটি ট্যাংকার মাইন বিস্ফোরণের শিকার হয়। অন্যদিকে, হরমুজের পূর্বাঞ্চল দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় একটি সুপারট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। ওই আগুন নেভাতে এবং সহায়তার উদ্দেশ্যে কাছে এগিয়ে যাওয়া একটি উদ্ধারকারী টাগবোটও পরবর্তীতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কাতারের নিরাপত্তায় রওয়ানা হলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা

প্রকাশ: শুক্রবার, নভেম্বর ০৬, ২০২৬
কাতারের নিরাপত্তায় রওয়ানা হলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা

কাতারের কোস্ট অ্যান্ড বর্ডার সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টে (কিউসিবিএসডি) তিন বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২৪ সদস্য দেশটির উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) ভোরে তারা ঢাকা ত্যাগ করেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

আইএসপিআর জানায়, নৌবাহিনীর সদস্যরা কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন কিউসিবিএসডির আওতায় দেশটির উপকূলীয় ও সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সামুদ্রিক টহল, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম এবং চোরাচালান প্রতিরোধসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবেন।

এর আগে সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশন্স) রিয়ার অ্যাডমিরাল গোলাম সাদেক কাতারে দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি তাদের পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১২ সাল থেকে কাতার কোস্ট অ্যান্ড বর্ডার সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টে দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়মিত সদস্য পাঠিয়ে আসছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। দায়িত্ব পালনে দক্ষতা, পেশাদারত্ব ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে তারা কাতারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আস্থা ও প্রশংসা অর্জন করেছেন।

নতুন করে নিয়োগ পাওয়া ২৪ সদস্যের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে পেশাগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।

কাতারে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পেশাদারত্ব ও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি জাতীয় রেমিট্যান্স প্রবাহেও সদস্যরা অবদান রাখবেন বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

ডিসেম্বর থেকে বিনা খরচে বিদেশে যাবেন প্রবাসী কর্মী

প্রবাসীদের মর্যাদা নিশ্চিত করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা

কাতারে নতুন ট্রাফিক আইন পাশ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ০৫, ২০২৬
কাতারে নতুন ট্রাফিক আইন পাশ

কাতারের শুরা কাউন্সিল তাদের ৫৪তম বার্ষিক অধিবেশনের (প্রথম সাধারণ অধিবেশন) সমাপনী বৈঠকে নতুন ট্রাফিক আইন এবং সংশোধিত রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি আইন সংক্রান্ত বিল দুটি অনুমোদন ও পাস করেছে।

তামিম বিন হামাদ হলে স্পিকার হাসান বিন আবদুল্লাহ আল-গানেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই চূড়ান্ত বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণের পর বিল দুটি সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়।

আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পাশাপাশি একটি দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ আইন প্রণয়ন বছরের ইতি টানা হয়েছে এই অধিবেশনে। বিদায়ী বছরে শুরা কাউন্সিল মোট ২৩টি খসড়া আইন পর্যালোচনা করেছে, যেখানে কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০-এর সাথে সংগতি রেখে বিশেষ প্রাধান্য পেয়েছে পরিবারের সার্বিক কল্যাণ, ডিজিটাল মাধ্যমে শিশু সুরক্ষা এবং উদীয়মান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার বিষয়গুলো।

এআই নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রণয়ন কার্যক্রমের বিস্তারিত

অধিবেশনে শুরা কাউন্সিল তাদের ‘স্বাস্থ্য, সাধারণ সেবা ও পরিবেশ কমিটি’-এর মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে কমিটি কাতারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন ও সঠিক ব্যবহারের ওপর উত্থাপিত প্রস্তাবিত সাধারণ বিতর্কটি আরও গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারে। এটি নির্দেশ করে যে, প্রযুক্তির ইতিবাচক রূপান্তর নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানোর বিষয়ে সংসদ অত্যন্ত গুরুতর ও নীতিগত অবস্থান বজায় রাখছে।

সংসদীয় হিসাব ও সামাজিক নীতিমালার অগ্রগতি

অধিবেশন সমাপনী বক্তব্যে স্পিকার হাসান বিন আবদুল্লাহ আল-গানেম শুরা কাউন্সিলের কার্যক্রমের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখার জন্য কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানীকে গভীর ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০-এর মূল লক্ষ্য অর্জনে আইন প্রণয়ন শাখা (শুরা কাউন্সিল) এবং নির্বাহী শাখা (সরকার)-এর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও সহযোগিতার সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে গভীর হয়েছে।

বিদায়ী বছরের প্রধান প্রধান অর্জন ও পরিসংখ্যান:

  • অধিবেশন ও আইন: সারা বছরে শুরা কাউন্সিল মোট ৩৭টি সাধারণ অধিবেশন পরিচালনা করেছে এবং ২৩টি খসড়া আইন পর্যালোচনার কাজ সম্পন্ন করেছে।

  • স্থায়ী কমিটির সক্রিয়তা: কাউন্সিলের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটি মোট ৮১টি বৈঠকে মিলিত হয় এবং দেশের সামাজিক ও প্রশাসনিক অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সব সুপারিশমালা প্রস্তুত করে।

  • পরিবার ও শিশু কল্যাণ: পিতা-মাতার যত্ন শক্তিশালীকরণ, পারিবারিক বন্ধন সুসংহত করা, সামাজিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে ক্রীড়া ক্লাবগুলোর অবদান প্রসারিত করা এবং শিশুবয়সে স্থূলতা নিয়ন্ত্রণের ওপর একাধিক কার্যকর সুপারিশ তৈরি করা হয়েছে।

  • ডিজিটাল শিশু সুরক্ষা আইন: শিশু ও কিশোররা যেভাবে ইন্টারনেট ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় হচ্ছে, তাদের সাইবার হুমকি থেকে রক্ষা করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ ‘ডিজিটাল শিশু সুরক্ষা আইন’-এর প্রস্তাব নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ও সংসদীয় কূটনীতিতে বিশাল সাফল্য

স্পিকার আল-গানেম সংসদীয় কূটনীতিতে কাতারের বলিষ্ঠ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরা কাউন্সিলের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুসহ সমগ্র আরব ও মুসলিম বিশ্বের অধিকার রক্ষায় কাতার তার দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থান ধরে রেখেছে।

তিনি আন্তর্জাতিক স্তরে কাতারের একটি ঐতিহাসিক অর্জনের কথা তুলে ধরেন। ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (IPU) অ্যাসেম্বলিতে কাতার ও তার বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর যৌথ প্রস্তাবে একটি জরুরি বিষয় সফলভাবে মূল এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রথম কোনো আরব ও ইসলামী দেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাব পর্যাপ্ত বৈশ্বিক সমর্থন পেয়ে আন্তর্জাতিক সংসদীয় এজেন্ডায় স্থান করে নেওয়ার ক্ষেত্রে এটিই প্রথম ও ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত।

বক্তব্যের শেষে স্পিকার শুরা কাউন্সিলের সকল সদস্য, কমিটি, সাধারণ সচিবালয়, স্থানীয় গণমাধ্যম এবং কাউন্সিলের কাজের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে মতামত ও সমর্থন প্রদানকারী কাতারি নাগরিকদের ধন্যবাদ ও শুভকামনা জানান।