৬ নভেম্বর ২০২৬

ডিসেম্বর থেকে বিনা খরচে বিদেশে যাবেন প্রবাসী কর্মী

প্রকাশ: শুক্রবার, নভেম্বর ০৬, ২০২৬
ডিসেম্বর থেকে বিনা খরচে বিদেশে যাবেন প্রবাসী কর্মী

আগামী ডিসেম্বর বিজয়ের মাস থেকেই বিনা খরচে বিদেশে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, এ মাসে দুটি বা তিনটি ফ্লাইটের মাধ্যমে বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগটি চালু করা হবে। পাশাপাশি অন্যান্য চাহিদাপত্রের ভিত্তিতেও কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের মিলনায়তনে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণকারী তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্টদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী জানান, নতুন এই ব্যবস্থায় কর্মীদের বিদেশ যেতে কোনো অর্থ দিতে হবে না। সব খরচ বিদেশি নিয়োগকর্তা বা তাদের প্রতিষ্ঠান বহন করবে। প্রক্রিয়াটি সহজ করতে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কিছু সার্ভিস চার্জও বাদ দেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর কাজ নির্দিষ্ট কয়েকটি এজেন্সির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি যাতে সমান সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে একটি নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হবে। এছাড়া কর্মীদের বিদেশে যেকোনো সমস্যা সমাধানে সহায়তার জন্য মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে আলাদা সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

মেডিকেল পরীক্ষার ফি প্রসঙ্গে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য মেডিকেল ফি সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, এ ব্যবসাকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে। গুটিকয়েক ব্যক্তির অনিয়মের কারণে পুরো খাত যেন বিতর্কিত না হয়। ব্যবসায়িক স্বার্থের পাশাপাশি মানুষের কর্মসংস্থান, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং কর্মীদের বিদেশের আইনকানুন সম্পর্কে সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠাতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ভূমিকাই মুখ্য। কোনো এজেন্সির অবহেলা বা অনিয়মের কারণে যেন দরিদ্র মানুষ ভোগান্তিতে না পড়ে, সে বিষয়ে তিনি কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেন।

মতবিনিময় সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক, রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিসেম্বর থেকে বিনা খরচে বিদেশে যাবেন প্রবাসী কর্মী

প্রকাশ: শুক্রবার, নভেম্বর ০৬, ২০২৬
ডিসেম্বর থেকে বিনা খরচে বিদেশে যাবেন প্রবাসী কর্মী

আগামী ডিসেম্বর বিজয়ের মাস থেকেই বিনা খরচে বিদেশে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, এ মাসে দুটি বা তিনটি ফ্লাইটের মাধ্যমে বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগটি চালু করা হবে। পাশাপাশি অন্যান্য চাহিদাপত্রের ভিত্তিতেও কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের মিলনায়তনে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণকারী তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্টদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী জানান, নতুন এই ব্যবস্থায় কর্মীদের বিদেশ যেতে কোনো অর্থ দিতে হবে না। সব খরচ বিদেশি নিয়োগকর্তা বা তাদের প্রতিষ্ঠান বহন করবে। প্রক্রিয়াটি সহজ করতে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কিছু সার্ভিস চার্জও বাদ দেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর কাজ নির্দিষ্ট কয়েকটি এজেন্সির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি যাতে সমান সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে একটি নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হবে। এছাড়া কর্মীদের বিদেশে যেকোনো সমস্যা সমাধানে সহায়তার জন্য মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে আলাদা সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।

মেডিকেল পরীক্ষার ফি প্রসঙ্গে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য মেডিকেল ফি সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, এ ব্যবসাকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে। গুটিকয়েক ব্যক্তির অনিয়মের কারণে পুরো খাত যেন বিতর্কিত না হয়। ব্যবসায়িক স্বার্থের পাশাপাশি মানুষের কর্মসংস্থান, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং কর্মীদের বিদেশের আইনকানুন সম্পর্কে সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠাতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ভূমিকাই মুখ্য। কোনো এজেন্সির অবহেলা বা অনিয়মের কারণে যেন দরিদ্র মানুষ ভোগান্তিতে না পড়ে, সে বিষয়ে তিনি কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেন।

মতবিনিময় সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক, রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কাতার সশস্ত্র বাহিনীতে বাংলাদেশিদের নিয়োগে কাতারের প্রতিনিধি দল ঢাকায়

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ০৫, ২০২৬

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, বিবিপি, ওএসপি, জিইউপি, এনএসডাব্লিউসি, পিএসসি-এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন কাতার মিলিটারি পুলিশ ফোর্সেস-এর কমান্ডার মেজর জেনারেল রশীদ মোহাম্মদ মাসুদ আল-হবাব আল-হাজরী।

আজ বুধবার (০৪ নভেম্বর ২০২৬) বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে এই উচ্চপর্যায়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। মেজর জেনারেল রশীদ আল-হাজরী এই সাক্ষাতে কাতার সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

দেশ থেকে টাকা পাচার করে কাতারে শীর্ষ ব্যবসায়ী সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান হান্নান

সামরিক সহযোগিতা ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার

সাক্ষাৎকালে উভয় সামরিক কর্মকর্তা পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি কাতার ও বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, দ্বিপাক্ষিক সামরিক সম্পর্ক এবং কৌশলগত কৌশলগত বন্ধনকে আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় ও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

বাংলাদেশে কাতার প্রতিনিধি দলের সফরের উদ্দেশ্য

উল্লেখ্য, কাতার সশস্ত্র বাহিনীতে প্রেষণে নিয়োজিত হওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অভিজ্ঞ সদস্যদের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় জনবল বাছাইয়ের অংশ হিসেবে কাতার মিলিটারি পুলিশ ফোর্সেস-এর এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলটি বর্তমানে বাংলাদেশ সফরে রয়েছে।

দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার এই পারস্পরিক আস্থা ও জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া বাংলাদেশ ও কাতারের ঐতিহাসিক সামরিক সহযোগিতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশকে ইরানের নির্দেশনা মানতে হবে: ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন ইরানের রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশকে ইরানের নির্দেশনা মানতে হবে: ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন ইরানের রাষ্ট্রদূত

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ০৫, ২০২৬
বাংলাদেশকে ইরানের নির্দেশনা মানতে হবে: ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন ইরানের রাষ্ট্রদূত

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজ নিরাপদে পারাপার করতে ঢাকাকে অবশ্যই তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

আজ বুধবার ঢাকায় ইরান দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেশটির রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি বলেন, হরমুজে তেহরানের নির্দেশনা মেনেই জাহাজ চালাতে হবে।

তিনি বলেন, ইরানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কোনো দেশই এই কৌশলগত নৌপথ দিয়ে নিরাপদে জ্বালানি পরিবহন করতে পারবে না।

তিনি বলেন, ‘হরমুজ পার হতে অবশ্যই ইরানের বেঁধে দেওয়া নির্দেশনা মানতে হবে।’

বাংলাদেশের জন্য জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে তিনি কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করেন।

কোনো বাংলাদেশি জাহাজ প্রণালি পার হয়েছে কি না, জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, গোপনীয় এই তথ্য শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেই আছে।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে তিনি বলেন, ইরান, কাতার ও ওমানের এ বিষয়ে পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং আর কোনো হামলা না করার নিশ্চয়তা এর প্রধান শর্ত।

জলিল রহিমি আরও বলেন, রোহিঙ্গা মুসলিমরা যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তবে ইরান তাদের সমর্থন করবে।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, যেকোনো সংঘাতের জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর পারমাণবিক হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সমান জবাব দেওয়া হবে।

শাহজালালে পরিত্যক্ত বিমান ভাঙারি হিসেবে বিক্রির উদ্যোগ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৩, ২০২৬
শাহজালালে পরিত্যক্ত বিমান ভাঙারি হিসেবে বিক্রির উদ্যোগ

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোনে প্রায় এক দশক ধরে পড়ে থাকা ১২টি পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ অবশেষে বাজেয়াপ্ত করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে বাজেয়াপ্ত করা এসব উড়োজাহাজ এখন কার্যত স্ক্র্যাপ বা ভাঙারিতে পরিণত হওয়ায় ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ ছাড়াই আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।

এ লক্ষ্যে গত ১৬ জুলাই বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে ভিত্তিমূল্য ছাড়া নিলাম আয়োজনের অনুমোদন চেয়েছেন।

অ্যাপ্রোনে দখল প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার বর্গফুট

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ৮টি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ২টি এবং জিএমজি এয়ারলাইন্স ও অ্যাঞ্জেল এয়ারওয়েজের একটি করে বিমান রয়েছে। এগুলো শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো অ্যাপ্রোনে প্রায় এক লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট জায়গা দখল করে আছে।

এটি বিমানবন্দরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল এলাকা। এখান থেকেই কার্গো কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং উড়োজাহাজ পার্কিং করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত বিমান পড়ে থাকায় নিয়মিত ও অনিয়মিত উড়োজাহাজ পার্কিং, রপ্তানি পণ্য ওঠানামা এবং কার্গো পরিচালনায় চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহারও ব্যাহত হচ্ছে।

বিমান নয়, এখন কার্যত স্ক্র্যাপ

দীর্ঘদিন খোলা পরিবেশে পড়ে থাকায় উড়োজাহাজগুলোর অধিকাংশ যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকটিতে মরিচা ধরেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এগুলো আর বাণিজ্যিকভাবে উড্ডয়নের উপযোগী নয়। সম্ভাব্য ক্রেতারাও সচল উড়োজাহাজ হিসেবে নয়, বরং স্ক্র্যাপ বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ হিসেবে এগুলো কিনতে আগ্রহী।

ভিত্তিমূল্য নির্ধারণেই বড় জটিলতা

বেবিচক জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী উড়োজাহাজগুলোর মূল্য নির্ধারণ করতে যে ব্যয় হবে, বিক্রি থেকে সেই অর্থও উঠে আসার সম্ভাবনা কম। এ কারণে প্রচলিত ভিত্তিমূল্য নির্ধারণের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সহযোগিতা চাওয়া হলেও দেশে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী উড়োজাহাজ মূল্যায়নে সক্ষম কোনো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি। বিদেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে মূল্যায়নের বিষয়টি বিবেচনায় এলেও তাতে ব্যয় সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্যের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর বাজেয়াপ্ত

পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলোর এয়ারওয়ার্থিনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে যায়। পরে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সেগুলোর নিবন্ধন বাতিল করা হয়।

নিবন্ধন বাতিলের পর সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোকে একাধিকবার বিমান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পরে ২০২০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ৩০ দিনের চূড়ান্ত নোটিশ দিয়ে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উড়োজাহাজ অপসারণ না করলে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করে নিলামে বিক্রি করা হবে।

পরবর্তীতে বিষয়টি সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স, বন্ধক গ্রহণকারী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়।

সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৪ সালের ২৬ মে উড়োজাহাজগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেয়াপ্ত করে বেবিচক। এরপর জাতীয় দৈনিকেও এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায়

বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ১২টি উড়োজাহাজ বিমানবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। এগুলো ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ ছাড়াই আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নিলামে তোলার অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। মূল্য নির্ধারণে যে ব্যয় হবে, বিক্রি করে সেই অর্থ আদায় হবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। বাস্তবে এগুলো এখন স্ক্র্যাপে পরিণত হয়েছে।"

বেবিচকের ধারণা, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করলে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতামূলকভাবে অংশ নেবে। এতে বাজারভিত্তিক সর্বোচ্চ দর পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মূল্যবান অ্যাপ্রোন এলাকা পরিত্যক্ত উড়োজাহাজমুক্ত হয়ে অপারেশনাল সক্ষমতা ও কার্গো কার্যক্রম আরও বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

বিমান খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মূল্যবান অ্যাপ্রোন দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত উড়োজাহাজে দখল হয়ে থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দ্রুত এসব সরিয়ে ফেলতে পারলে বিমানবন্দরের পরিচালন সক্ষমতা বাড়বে, কার্গো কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং সরকারও সম্ভাব্য রাজস্ব আয় বাড়ানোর সুযোগ পাবে।

ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ভেঙে বন্যার শঙ্কা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ভেঙে বন্যার শঙ্কা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
উজানের পানি বাংলাদেশের নদ-নদীতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত

ভুটানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদ ভেঙে আকস্মিক বন্যার ঘটনায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উজানের পানি বাংলাদেশের নদ-নদীতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুটানের গাসা জেলার শিনতাফু হ্রদ ভেঙে এ বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে মো ছু নদীর তীরবর্তী জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র গাসা ছাচুর সব স্থাপনা ভেসে গেছে। তবে আগেই এলাকাটি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ায় এখন পর্যন্ত প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

শিনতাফু হ্রদ ভুটানের সম্ভাব্য বিপজ্জনক ১৭টি হিমবাহ হ্রদের একটি। এর আগে ২০২১ সালের আগস্টেও একই এলাকায় আকস্মিক বন্যা হয়েছিল। সেবার মো ছু নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে গাসা ছাচু ভাসিয়ে নেয়।
এদিকে, বন্যার পানি ইতোমধ্যে পুনাখা জং থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরের স্রিগাং এলাকা অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভুটান সরকার ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামকে সতর্ক করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে আসামের ধুবড়ি এবং পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি।

পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারেও সংকোশ নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। সংকোশ নদী আসাম হয়ে ব্রহ্মপুত্রে মিশেছে। এই ব্রহ্মপুত্র বাংলাদেশে প্রবেশ করে যমুনা নামে প্রবাহিত হয়েছে।

ফলে উজানের বন্যার পানি ভাটিতে নেমে এলে বাংলাদেশের নদ-নদীতেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে দেশে বন্যার ঝুঁকি কতটা তৈরি হবে, তা নির্ভর করছে পানির পরিমাণ, নদীর প্রবাহ ও উজান থেকে আসা পানির গতিপ্রকৃতির ওপর।