৩ নভেম্বর ২০২৬

শাহজালালে পরিত্যক্ত বিমান ভাঙারি হিসেবে বিক্রির উদ্যোগ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৩, ২০২৬
শাহজালালে পরিত্যক্ত বিমান ভাঙারি হিসেবে বিক্রির উদ্যোগ

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোনে প্রায় এক দশক ধরে পড়ে থাকা ১২টি পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ অবশেষে বাজেয়াপ্ত করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে বাজেয়াপ্ত করা এসব উড়োজাহাজ এখন কার্যত স্ক্র্যাপ বা ভাঙারিতে পরিণত হওয়ায় ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ ছাড়াই আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।

এ লক্ষ্যে গত ১৬ জুলাই বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে ভিত্তিমূল্য ছাড়া নিলাম আয়োজনের অনুমোদন চেয়েছেন।

অ্যাপ্রোনে দখল প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার বর্গফুট

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ৮টি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ২টি এবং জিএমজি এয়ারলাইন্স ও অ্যাঞ্জেল এয়ারওয়েজের একটি করে বিমান রয়েছে। এগুলো শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রপ্তানি কার্গো অ্যাপ্রোনে প্রায় এক লাখ ৯২ হাজার ১০০ বর্গফুট জায়গা দখল করে আছে।

এটি বিমানবন্দরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল এলাকা। এখান থেকেই কার্গো কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং উড়োজাহাজ পার্কিং করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত বিমান পড়ে থাকায় নিয়মিত ও অনিয়মিত উড়োজাহাজ পার্কিং, রপ্তানি পণ্য ওঠানামা এবং কার্গো পরিচালনায় চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহারও ব্যাহত হচ্ছে।

বিমান নয়, এখন কার্যত স্ক্র্যাপ

দীর্ঘদিন খোলা পরিবেশে পড়ে থাকায় উড়োজাহাজগুলোর অধিকাংশ যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকটিতে মরিচা ধরেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এগুলো আর বাণিজ্যিকভাবে উড্ডয়নের উপযোগী নয়। সম্ভাব্য ক্রেতারাও সচল উড়োজাহাজ হিসেবে নয়, বরং স্ক্র্যাপ বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ হিসেবে এগুলো কিনতে আগ্রহী।

ভিত্তিমূল্য নির্ধারণেই বড় জটিলতা

বেবিচক জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী উড়োজাহাজগুলোর মূল্য নির্ধারণ করতে যে ব্যয় হবে, বিক্রি থেকে সেই অর্থও উঠে আসার সম্ভাবনা কম। এ কারণে প্রচলিত ভিত্তিমূল্য নির্ধারণের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সহযোগিতা চাওয়া হলেও দেশে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী উড়োজাহাজ মূল্যায়নে সক্ষম কোনো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়নি। বিদেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে মূল্যায়নের বিষয়টি বিবেচনায় এলেও তাতে ব্যয় সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্যের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর বাজেয়াপ্ত

পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলোর এয়ারওয়ার্থিনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে যায়। পরে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সেগুলোর নিবন্ধন বাতিল করা হয়।

নিবন্ধন বাতিলের পর সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোকে একাধিকবার বিমান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পরে ২০২০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ৩০ দিনের চূড়ান্ত নোটিশ দিয়ে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উড়োজাহাজ অপসারণ না করলে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করে নিলামে বিক্রি করা হবে।

পরবর্তীতে বিষয়টি সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স, বন্ধক গ্রহণকারী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়।

সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৪ সালের ২৬ মে উড়োজাহাজগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেয়াপ্ত করে বেবিচক। এরপর জাতীয় দৈনিকেও এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায়

বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ১২টি উড়োজাহাজ বিমানবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। এগুলো ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ ছাড়াই আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নিলামে তোলার অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। মূল্য নির্ধারণে যে ব্যয় হবে, বিক্রি করে সেই অর্থ আদায় হবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। বাস্তবে এগুলো এখন স্ক্র্যাপে পরিণত হয়েছে।"

বেবিচকের ধারণা, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করলে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতামূলকভাবে অংশ নেবে। এতে বাজারভিত্তিক সর্বোচ্চ দর পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মূল্যবান অ্যাপ্রোন এলাকা পরিত্যক্ত উড়োজাহাজমুক্ত হয়ে অপারেশনাল সক্ষমতা ও কার্গো কার্যক্রম আরও বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

বিমান খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মূল্যবান অ্যাপ্রোন দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত উড়োজাহাজে দখল হয়ে থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দ্রুত এসব সরিয়ে ফেলতে পারলে বিমানবন্দরের পরিচালন সক্ষমতা বাড়বে, কার্গো কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং সরকারও সম্ভাব্য রাজস্ব আয় বাড়ানোর সুযোগ পাবে।

ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ভেঙে বন্যার শঙ্কা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ভেঙে বন্যার শঙ্কা, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
উজানের পানি বাংলাদেশের নদ-নদীতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত

ভুটানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদ ভেঙে আকস্মিক বন্যার ঘটনায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উজানের পানি বাংলাদেশের নদ-নদীতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুটানের গাসা জেলার শিনতাফু হ্রদ ভেঙে এ বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে মো ছু নদীর তীরবর্তী জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র গাসা ছাচুর সব স্থাপনা ভেসে গেছে। তবে আগেই এলাকাটি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ায় এখন পর্যন্ত প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

শিনতাফু হ্রদ ভুটানের সম্ভাব্য বিপজ্জনক ১৭টি হিমবাহ হ্রদের একটি। এর আগে ২০২১ সালের আগস্টেও একই এলাকায় আকস্মিক বন্যা হয়েছিল। সেবার মো ছু নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে গাসা ছাচু ভাসিয়ে নেয়।
এদিকে, বন্যার পানি ইতোমধ্যে পুনাখা জং থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরের স্রিগাং এলাকা অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভুটান সরকার ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামকে সতর্ক করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে আসামের ধুবড়ি এবং পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি।

পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারেও সংকোশ নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। সংকোশ নদী আসাম হয়ে ব্রহ্মপুত্রে মিশেছে। এই ব্রহ্মপুত্র বাংলাদেশে প্রবেশ করে যমুনা নামে প্রবাহিত হয়েছে।

ফলে উজানের বন্যার পানি ভাটিতে নেমে এলে বাংলাদেশের নদ-নদীতেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে দেশে বন্যার ঝুঁকি কতটা তৈরি হবে, তা নির্ভর করছে পানির পরিমাণ, নদীর প্রবাহ ও উজান থেকে আসা পানির গতিপ্রকৃতির ওপর।

সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাকি ৭ বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে আজ

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাকি ৭ বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে আজ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে বাকি সাতজনের মরদেহ আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেশে ফিরছে।

সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

গত ৯ আগস্ট রিয়াদের ওই সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর প্রথম দফায় গত ২৭ আগস্ট নয়জনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছিল। তবে বাকি সাতজনের মরদেহ আগুনে মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদ থেকে সব ধরনের ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় মরদেহগুলো প্রথমে সড়কপথে জেদ্দায় নেওয়া হয়েছে। পরে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া নিহত সাত বাংলাদেশি হলেন- নওগাঁ সদর উপজেলার মো. শাহিন, আত্রাই উপজেলার মো. হাসিবুল হাসান শুভ, মিনহাজ প্রামাণিক, মো. মাসিদুল সরদার সজিব ও মো. সাগর আলী এবং নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মোহাম্মদ শামীম ও মো. সাব্বির হোসেন।

ঢাকা-সৌদি রুটে বিমান চলাচলে চরম বিশৃঙ্খলা: ভোগান্তিতে প্রায় ২৩ হাজার প্রবাসগামী যাত্রী

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ঢাকা-সৌদি রুটে বিমান চলাচলে চরম বিশৃঙ্খলা: ভোগান্তিতে প্রায় ২৩ হাজার প্রবাসগামী যাত্রী

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোয় হামলার পর ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করায় ঢাকা-সৌদি রুটে বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ পর্যন্ত এ রুটের ১৫৯টি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইনসের এসব ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৩৭টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২০টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১৫টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট রয়েছে।

বেবিচকের হিসাবে, ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মোট ২২ হাজার ৭২১ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বাতিল ও স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলোর নতুন সময়সূচি নির্ধারণে কাজ করছে সংস্থাটি।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর হুথিদের হামলার পর সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। অন্যদিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দেয়।

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোয় চলমান বিধিনিষেধের কারণে এখনো ফ্লাইট চলাচলে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এতে সৌদিগামী যাত্রীদের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে।

দেশ থেকে টাকা পাচার করে কাতারে শীর্ষ ব্যবসায়ী সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান হান্নান

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
দেশ থেকে টাকা পাচার করে কাতারে শীর্ষ ব্যবসায়ী সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান হান্নান

বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার করে কাতারের শীর্ষ ব্যবসায়ী বনে গেছেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল (অব.) শেখ আবদুল হান্নান।

একই সঙ্গে সেখানে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিও পেয়েছেন। কানাডা, দুবাই ও কাতারে তার একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য মিলেছে।

কাতারে রয়েছে ট্রাভেল চ্যানেল ও ট্যুরস নামে একটি বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নানা অভিযোগে সম্প্রতি কাতারে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল (অব.) শেখ আবদুল হান্নান। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মার্কিন-ইরান সংঘাত এড়াতে তেহরানে কাতারি প্রতিনিধি দল

গোয়েন্দা সূত্রে সংস্থাটি জানতে পারে, বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার করে নিয়ে গিয়ে সেই দেশে বিনিয়োগ করে শীর্ষ ব্যবসায়ীর তালিকায় উঠেছেন শেখ আবদুল হান্নান। গত বছরের ২৭ জুলাই শেখ আবদুল হান্নান ও তার স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে দুদক।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শেখ আবদুল হান্নান ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তার ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্যও রয়েছে। তার স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধেও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে অনুসন্ধানে আবদুল হান্নানের কাতারের কিছু নথি ও ছবি এই প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। রেসিডেন্সি পারমিটে ‘ঝযধরশয অনফঁষ ঐধহহধহ’ নামটি ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে তার জন্ম তারিখ ১ জুন ১৯৬৩। সেখানে তার পেশা আরবি ভাষায় ‘মুহান্দিস মাশরু’ লেখা, এর অর্থ প্রকল্প প্রকৌশলী। নিয়োগকর্তা হিসেবে একটি ব্যবসা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কথা রয়েছে। পারমিটটির মেয়াদ ছিল ১৪ জুন ২০২৫ পর্যন্ত। তার পাসপোর্টের মেয়াদ ২০৩৪ সাল পর্যন্ত রয়েছে। আরেকটি ন্যাশনাল অ্যাড্রেস সার্টিফিকেটে একই নাম ও একই আইডি নম্বর দেখা যায়। এটি ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট ইস্যু করা হয়েছিল এবং এর মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত। ঠিকানা হিসেবে দোহার আল ফুরুসিয়া এলাকার নাম রয়েছে।

এ ছাড়া দোহায় তার ‘ট্রাভেল চ্যানেল অ্যান্ড টুরস’ নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সির ছবিও পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির সামনে ঢাকা-দোহা রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটের বিজ্ঞাপন দেখা যায়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল (অব.) শেখ আবদুল হান্নানই বলে জানিয়েছেন দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশে অর্জিত সম্পদ থেকে বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগটি আইন ও বিধি মোতাবেক তদন্ত করা হচ্ছে। কাতারের সম্পদ বা ব্যবসার উৎসও খোঁজা হচ্ছে।

দুদকের অনুসন্ধানে শেখ আবদুল হান্নানের স্ত্রী তাহমিদার নামে ১ কোটি ৯৪ লাখ ৮৬ হাজার ৭৩৪ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ১৮ লাখ ৫৫ হাজার ৭১৭ টাকার। তার নামে থাকা ৩২টি ব্যাংক হিসাবে মোট ১ কোটি ১৮ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্যও পাওয়া যায়।

এ ছাড়া আদালতের আদেশে শেখ আবদুল হান্নান, তার স্ত্রী ও ছেলের নামে থাকা মোট ৩৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়। এসব হিসাবের মধ্যে আবদুল হান্নানের পাঁচটি, ছেলে শেখ লাবিব হান্নানের নামে একটি এবং স্ত্রী তাহমিদা বেগমের নামে ৩২টি হিসাব রয়েছে। ওই সময় এসব হিসাবে মোট ১ কোটি ১৮ লাখ ৩৪ হাজার ৩২২ টাকা ছিল। দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা জানান, তাহমিদার কানাডার ভিজিটর (ই-১) ভিসার তথ্য পাওয়া গেছে।

ভিসাটি ২০২২ সালে সিঙ্গাপুরে ইস্যু করা হয়েছিল এবং এর মেয়াদ ছিল ২০২৫ সাল পর্যন্ত। শেখ আবদুল হান্নান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে কানাডা, দুবাই ও কাতারে সম্পদ এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বিদেশে থাকা অন্যান্য সম্পদের তথ্য সংগ্রহে চলতি বছরের ২৩ মে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে এবং ২১ জুন পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) সংশ্লিষ্ট শাখার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিদেশে সম্পদ অর্জন এবং দেশে অবৈধ সম্পদ থাকার অভিযোগে গত বছরের ৫ মে শেখ আবদুল হান্নান ও তার পরিবারের তিন সদস্যের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।

পরদিন ৬ মে তার জমি, ফ্ল্যাট, ভবন ও ব্যাংক হিসাব জব্দ বা অবরুদ্ধ করার বিষয়ে আদেশ দেওয়া হয়। আদালতের আদেশে খিলক্ষেতের একটি ছয় তলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় থাকা ৬৯৯ ও ৮২৩ বর্গফুটের দুটি ফ্ল্যাট, মিরপুর ডিওএইচএসের ২ হাজার ২৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট, মিরপুরে একটি আবাসন প্রকল্পে নির্মাণাধীন সাত তলা একটি ভবন এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ জমি জব্দের আদেশ দেওয়া হয়।

দুদক জানায়, গত ১৫ অক্টোবর কাতারে শেখ আবদুল হান্নানের গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান জানান, গ্রেপ্তার আবদুল হান্নানকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। জানা যায়, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে কমিশন পাওয়া শেখ আবদুল হান্নান ২০২১ সালের ১২ জুন বিমানবাহিনীর ১৬তম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০২৪ সালের ১১ জুন তিনি অবসরে যান।

আগামী ৫ বছরে ১ কোটি জনশক্তি রপ্তানির পরিকল্পনা: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
আগামী ৫ বছরে ১ কোটি জনশক্তি রপ্তানির পরিকল্পনা: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

অবৈধ উপায়ে বিদেশ গমন বন্ধ এবং বৈধ পন্থায় রেমিট্যান্স পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

বুধবার (২৮ অ‌ক্টোবর) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ হতে ‘প্রান্তিক শক্তি লিমিটেড’কে রিক্রুটিং লাইসেন্স প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন– বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই উদ্যোগ আমাকে আশার আলো দেখিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী ৫ বছরে ১ কোটি জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর যে পরিকল্পনা ও লক্ষ্য রয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশ এখন আর অদক্ষ শ্রমিক পাঠাবে না। বিশ্বের সব দেশ যেন বুঝতে পারে বাংলাদেশও বিশ্বমানের দক্ষ শ্রমিক তৈরি করতে সক্ষম।

অবৈধ অভিবাসন এবং হুন্ডির বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সবাইকে আহ্বান জানাই, আমরা আর অবৈধ পন্থায় বিদেশে যাব না। এতে দেশের ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। আমরা অবৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাব না এবং যে দেশে গমন করব, সে দেশের আইন অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলব। গুটিকয়েক মানুষের অপকর্মের জন্য যেন পুরো দেশের বদনাম না হয়।

প্রতারকদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, যারা দেশে কিংবা বিদেশে থেকে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছেন, তারা যদি অবিলম্বে এসব অপকর্ম থেকে সরে না আসেন, তবে আপনাদের পরিণতি হবে অত্যন্ত খারাপ। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আপনারা সঠিক ও সৎ পথে ব্যবসা পরিচালনা করুন, সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পাবেন। তবে অহেতুক ব্যক্তিগত স্বার্থে যারা কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেবে, তাদের দেশের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।