৩ নভেম্বর ২০২৬

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে কী পরিণতি হবে ট্রাম্পের?

প্রকাশ: সোমবার, নভেম্বর ০২, ২০২৬
মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে কী পরিণতি হবে ট্রাম্পের?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই বছর পর আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন হয় না। তবে নির্ধারিত হয় কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। আর সেই ফলের ওপরই নির্ভর করতে পারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী দুই বছরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরেন ট্রাম্প। তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে। তবে মেয়াদের মাঝপথেই তাকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই বছর পরপর এই ভোট অনুষ্ঠিত হয় বলেই এর নাম মধ্যবর্তী নির্বাচন বা মিডটার্ম ইলেকশন।

কীভাবে হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন?

এই নির্বাচনে মূলত ভোট হয় কংগ্রেসের দুই কক্ষ- প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর, আইনসভা এবং স্থানীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদেও নির্বাচন হয়।

প্রতিনিধি পরিষদে আসন রয়েছে ৪৩৫টি। অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যার অনুপাতে এসব আসন বণ্টন করা হয়। সদস্যদের মেয়াদ দুই বছর হওয়ায় প্রতি দুই বছর পরপর সব আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে, সিনেটে রয়েছে ১০০টি আসন। প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে সিনেটর নির্বাচিত হন। তাদের মেয়াদ ছয় বছর। তবে সব আসনে একসাথে ভোট হয় না। প্রতি দুই বছর পরপর সাধারণত সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫টি আসনের পাশাপাশি সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হবে। এর মধ্যে ৩৩টি নিয়মিত নির্বাচন এবং দুটি বিশেষ নির্বাচন। অর্থাৎ, কংগ্রেসের মোট ৪৭০টি আসনের জন্য ভোট দেবেন মার্কিন ভোটাররা।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে কী হয়?

এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল হারলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বিরোধী দলের হাতে চলে যেতে পারে। তবে এর অর্থ প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যাওয়া নয়। অতীতের নির্বাচনগুলোতে এমন নজির রয়েছে।

১৯৯৪ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের প্রথম মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার দল ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রতিনিধি পরিষদের ৫৪টি এবং সিনেটের আটটি আসন হারায়। প্রায় ৪০ বছর পর প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ যায় রিপাবলিকানদের হাতে।

স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার নিয়ে বিরোধিতা, কর ও ব্যয়নীতি নিয়ে অসন্তোষ এবং ক্লিনটনের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়াকে এই ফলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হয়।

এরপর ২০১০ সালে বারাক ওবামার প্রথম মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা প্রতিনিধি পরিষদের ৬৩টি আসন হারায়। সিনেটেও ছয়টি আসন কমে যায় তাদের। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার পর বেকারত্ব, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার নিয়ে অসন্তোষের প্রভাব পড়ে ভোটে। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেয় রিপাবলিকানরা।

২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও একই ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা আসে। রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদের ৪১টি আসন হারালেও সিনেটে দুটি আসন বাড়ায়। ডেমোক্রেটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তদন্ত শুরু করে। ২০১৯ সালে তাকে অভিশংসনও করে প্রতিনিধি পরিষদ। তবে সিনেটে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় তাকে পদ থেকে সরানো যায়নি।

সর্বশেষ ২০২২ সালে জো বাইডেনের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা প্রতিনিধি পরিষদের মাত্র নয়টি আসন হারায়। উল্টো সিনেটে একটি আসন বাড়ে তাদের। মূল্যস্ফীতি ও বাইডেনের কম জনপ্রিয়তার মধ্যেও প্রত্যাশার তুলনায় ভালো ফল করে দলটি।

ট্রাম্পের সামনে রয়েছে যেসব রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

এবারের নির্বাচনে ট্রাম্পের সামনে বেশ কিছু রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, আমদানি পণ্যে শুল্ক, ইরান যুদ্ধ এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে তার প্রশাসন সমালোচনার মুখে। অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে রয়টার্স-ইপসোসের এক জরিপে ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩১ শতাংশ উত্তরদাতা।

এপি-নরকের জরিপেও জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় তার ভূমিকার প্রতি ৮৩ শতাংশ এবং অর্থনীতি পরিচালনায় ৭৪ শতাংশ উত্তরদাতা অনাস্থা জানিয়েছেন। আর ৬৫ শতাংশের মতে, শুল্কের কারণে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।

এই অসন্তোষের প্রভাব ভোটে পড়লে প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে রিপাবলিকানরা। কংগ্রেসের কোনো একটি কক্ষ বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণে গেলেই ট্রাম্পের জন্য আইন পাস, বাজেট অনুমোদন এবং প্রশাসনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ ও নীতিগত সিদ্ধান্তেও বাধার মুখে পড়তে পারেন তিনি।

প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ বিরোধীদের হাতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তের পরিধি বাড়তে পারে। এমনকি প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের উদ্যোগও নিতে পারে তারা। তবে অভিশংসনের পর পদ থেকে সরাতে হলে সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে শুধু মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলেই প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা ছাড়তে হয় না। ট্রাম্পের মেয়াদও ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে।

শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে কী হবে ট্রাম্পের?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ইতিহাস বলছে, এই ভোট শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণ করে না; প্রেসিডেন্টের পরবর্তী দুই বছরের রাজনৈতিক পথও অনেকটা ঠিক করে দেয়। ১৯৯৪ সালে ক্লিনটন, ২০১০ সালে ওবামা এবং ২০১৮ সালে ট্রাম্প- তিন প্রেসিডেন্টকেই মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

এবারও ট্রাম্পের দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে তার প্রেসিডেন্ট পদ তাৎক্ষণিকভাবে ঝুঁকিতে পড়বে না। তবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে কংগ্রেসের তদন্ত বাড়তে পারে।

নতুন করে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগও তৈরি হবে। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধসহ সামরিক পদক্ষেপ ও যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েও কংগ্রেসে জবাবদিহির মুখে পড়তে পারেন তিনি।

অর্থাৎ, মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলেও ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউস ছাড়তে হবে না। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে তার দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছর আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া অনেক কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

কীসের আশঙ্কায় খাবার-পানি মজুতের নির্দেশ দিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ?

প্রকাশ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৩, ২০২৬
কীসের আশঙ্কায় খাবার-পানি মজুতের নির্দেশ দিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ?

হঠাৎ করেই বিশ্বের একাধিক উন্নত দেশে ঘরে ঘরে অন্তত তিন দিন থেকে এক সপ্তাহের খাবার ও পানি মজুত রাখার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের জন্য জারি করা এসব সরকারি নির্দেশনার পর বাজারগুলোতে টিনজাত খাবার, বোতলজাত পানি, টর্চলাইট ও ব্যাটারিচালিত রেডিও কেনার ধুম পড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে জনমনে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—বিশ্বজুড়ে কি বড় ধরনের কোনো যুদ্ধ বা আসন্ন মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে?

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার ‘বি রেডি’ নামের একটি জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরু করে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো, যেকোনো বড় ধরনের সংকট বা ব্ল্যাকআউটের প্রথম ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন নাগরিকেরা যেন নিজেরাই নিজেদের মৌলিক চাহিদা মিটিয়ে টিকে থাকতে পারেন।

ব্রিটিশ সরকারের নির্দেশনায় পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য দৈনিক তিন লিটার খাবার পানি, অপচনশীল শুকনো বা টিনজাত খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ, পাওয়ার ব্যাংক এবং হাতল ঘুরিয়ে চালানো যায় এমন রেডিও মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

লন্ডন প্রশাসনের ভাষ্যমতে, ঝড়, আকস্মিক বন্যা কিংবা সাইবার হামলায় জাতীয় গ্রিড বিপর্যস্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সেবা পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। নাগরিকেরা প্রথম কয়েক দিন নিজেদের রসদে চলতে পারলে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা প্রান্তিক মানুষদের দ্রুত সহায়তা দেওয়ার সুযোগ পাবে।

সরকারের এই আহ্বানের পরপরই যুক্তরাজ্যের খুচরা বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। সুপারমার্কেট চেইন আইসল্যান্ডে টিনজাত পণ্যের বিক্রি রাতারাতি প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে যায়।

পাশাপাশি ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রেডিও বিক্রি ১৬০ শতাংশ এবং টর্চলাইটের বিক্রি প্রায় তিন গুণ পর্যন্ত বাড়তে দেখা গেছে। তবে দেশটির খুচরা বিক্রেতারা নিশ্চিত করেছেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং দেশে কোনো খাদ্যসংকট তৈরি হয়নি।

একই ধরনের নাগরিক প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও। নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডা, জাপান, মেক্সিকো ও নেদারল্যান্ডসেও পরিবারগুলোকে অন্তত তিন দিনের জরুরি প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ রয়েছে।

আবার সুইডেন ও নরওয়ে নাগরিকদের অন্তত এক সপ্তাহ এবং জার্মানি প্রায় ১০ দিনের প্রয়োজনীয় রসদ মজুত রাখার পরামর্শ দিচ্ছে। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতিটি দেশের ঝুঁকির ধরন ভিন্ন। যেমন জাপানে মূল ফোকাস থাকে শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামির ওপর, আবার অস্ট্রেলিয়া ও মেক্সিকোতে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলাই মুখ্য।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষেত্রে অবশ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি বদলে যাওয়া ভূরাজনীতি ও সংঘাতের শঙ্কা বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশন তাদের ‘প্রিপেয়ার্ডনেস ইউনিয়ন স্ট্র্যাটেজি’র আওতায় সদস্যদেশগুলোকে যে বার্তা দিয়েছে, তাতে জলবায়ু ঝুঁকির সমান্তরালে সাইবার যুদ্ধ ও বহিরাগত আগ্রাসনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিশেষ করে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ সুইডেন তাদের বিখ্যাত ‘ইফ ক্রাইসিস অর ওয়ার কামস’ নির্দেশিকায় সংকটকালীন পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধকালীন টিকে থাকার কৌশল যুক্ত করেছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, উত্তর ইউরোপের দেশগুলোতে এমন নির্দেশিকা বহু দশকের পুরোনো ঐতিহ্য; এটি আকস্মিক কোনো যুদ্ধ ঘোষণার পূর্বাভাস নয়।

অন্যদিকে সামরিক ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি আত্মরক্ষার নতুন রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর তাদের ‘ফোর্ট্রেস আমেরিকা’ উদ্যোগের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোকে বাইরের রসদ ছাড়া অন্তত ৯০ দিন সচল রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এর মধ্যে রয়েছে সামরিক ঘাঁটির নিজস্ব জ্বালানি ও বিদ্যুৎব্যবস্থা নিশ্চিত করা, সাইবার নিরাপত্তা বাড়ানো এবং জরুরি মজুত দ্বিগুণ করা। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের বরাতে স্পষ্ট করা হয়েছে, ৯০ দিনের এই দীর্ঘ প্রস্তুতি শুধুই সামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখার অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা, সাধারণ জনগণের জন্য এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি, নিউজউইক, স্কাই নিউজ এবং দ্য গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ও সরকারি নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এসব নির্দেশনার পেছনে কোনো একক কারণ বা তাৎক্ষণিক যুদ্ধ আসন্ন হওয়ার প্রমাণ নেই।

বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাষ্ট্রীয় বা অরাষ্ট্রীয় শক্তির সাইবার হামলা এবং আকস্মিক বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো বহুমুখী ঝুঁকি মোকাবিলা করতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সরকারি গাইডলাইনগুলোকে যুদ্ধের সাইরেন হিসেবে দেখে আতঙ্কিত হওয়ার সুযোগ নেই। বরং মহামারি, যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং চরম আবহাওয়ার এই যুগে নাগরিক সমাজকে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত অচলবস্থার মুখে স্বাবলম্বী রাখাই আধুনিক রাষ্ট্রগুলোর এই সমন্বিত প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে কী পরিণতি হবে ট্রাম্পের?

প্রকাশ: সোমবার, নভেম্বর ০২, ২০২৬
মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে কী পরিণতি হবে ট্রাম্পের?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই বছর পর আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন হয় না। তবে নির্ধারিত হয় কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। আর সেই ফলের ওপরই নির্ভর করতে পারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী দুই বছরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরেন ট্রাম্প। তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে। তবে মেয়াদের মাঝপথেই তাকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই বছর পরপর এই ভোট অনুষ্ঠিত হয় বলেই এর নাম মধ্যবর্তী নির্বাচন বা মিডটার্ম ইলেকশন।

কীভাবে হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন?

এই নির্বাচনে মূলত ভোট হয় কংগ্রেসের দুই কক্ষ- প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর, আইনসভা এবং স্থানীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদেও নির্বাচন হয়।

প্রতিনিধি পরিষদে আসন রয়েছে ৪৩৫টি। অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যার অনুপাতে এসব আসন বণ্টন করা হয়। সদস্যদের মেয়াদ দুই বছর হওয়ায় প্রতি দুই বছর পরপর সব আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে, সিনেটে রয়েছে ১০০টি আসন। প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে সিনেটর নির্বাচিত হন। তাদের মেয়াদ ছয় বছর। তবে সব আসনে একসাথে ভোট হয় না। প্রতি দুই বছর পরপর সাধারণত সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫টি আসনের পাশাপাশি সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হবে। এর মধ্যে ৩৩টি নিয়মিত নির্বাচন এবং দুটি বিশেষ নির্বাচন। অর্থাৎ, কংগ্রেসের মোট ৪৭০টি আসনের জন্য ভোট দেবেন মার্কিন ভোটাররা।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে কী হয়?

এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল হারলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বিরোধী দলের হাতে চলে যেতে পারে। তবে এর অর্থ প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যাওয়া নয়। অতীতের নির্বাচনগুলোতে এমন নজির রয়েছে।

১৯৯৪ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের প্রথম মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার দল ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রতিনিধি পরিষদের ৫৪টি এবং সিনেটের আটটি আসন হারায়। প্রায় ৪০ বছর পর প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ যায় রিপাবলিকানদের হাতে।

স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার নিয়ে বিরোধিতা, কর ও ব্যয়নীতি নিয়ে অসন্তোষ এবং ক্লিনটনের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়াকে এই ফলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হয়।

এরপর ২০১০ সালে বারাক ওবামার প্রথম মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা প্রতিনিধি পরিষদের ৬৩টি আসন হারায়। সিনেটেও ছয়টি আসন কমে যায় তাদের। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার পর বেকারত্ব, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার নিয়ে অসন্তোষের প্রভাব পড়ে ভোটে। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেয় রিপাবলিকানরা।

২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও একই ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা আসে। রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদের ৪১টি আসন হারালেও সিনেটে দুটি আসন বাড়ায়। ডেমোক্রেটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তদন্ত শুরু করে। ২০১৯ সালে তাকে অভিশংসনও করে প্রতিনিধি পরিষদ। তবে সিনেটে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় তাকে পদ থেকে সরানো যায়নি।

সর্বশেষ ২০২২ সালে জো বাইডেনের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা প্রতিনিধি পরিষদের মাত্র নয়টি আসন হারায়। উল্টো সিনেটে একটি আসন বাড়ে তাদের। মূল্যস্ফীতি ও বাইডেনের কম জনপ্রিয়তার মধ্যেও প্রত্যাশার তুলনায় ভালো ফল করে দলটি।

ট্রাম্পের সামনে রয়েছে যেসব রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

এবারের নির্বাচনে ট্রাম্পের সামনে বেশ কিছু রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, আমদানি পণ্যে শুল্ক, ইরান যুদ্ধ এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে তার প্রশাসন সমালোচনার মুখে। অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে রয়টার্স-ইপসোসের এক জরিপে ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩১ শতাংশ উত্তরদাতা।

এপি-নরকের জরিপেও জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় তার ভূমিকার প্রতি ৮৩ শতাংশ এবং অর্থনীতি পরিচালনায় ৭৪ শতাংশ উত্তরদাতা অনাস্থা জানিয়েছেন। আর ৬৫ শতাংশের মতে, শুল্কের কারণে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।

এই অসন্তোষের প্রভাব ভোটে পড়লে প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে রিপাবলিকানরা। কংগ্রেসের কোনো একটি কক্ষ বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণে গেলেই ট্রাম্পের জন্য আইন পাস, বাজেট অনুমোদন এবং প্রশাসনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ ও নীতিগত সিদ্ধান্তেও বাধার মুখে পড়তে পারেন তিনি।

প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ বিরোধীদের হাতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তের পরিধি বাড়তে পারে। এমনকি প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের উদ্যোগও নিতে পারে তারা। তবে অভিশংসনের পর পদ থেকে সরাতে হলে সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে শুধু মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলেই প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা ছাড়তে হয় না। ট্রাম্পের মেয়াদও ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে।

শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে কী হবে ট্রাম্পের?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ইতিহাস বলছে, এই ভোট শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণ করে না; প্রেসিডেন্টের পরবর্তী দুই বছরের রাজনৈতিক পথও অনেকটা ঠিক করে দেয়। ১৯৯৪ সালে ক্লিনটন, ২০১০ সালে ওবামা এবং ২০১৮ সালে ট্রাম্প- তিন প্রেসিডেন্টকেই মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

এবারও ট্রাম্পের দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে তার প্রেসিডেন্ট পদ তাৎক্ষণিকভাবে ঝুঁকিতে পড়বে না। তবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে কংগ্রেসের তদন্ত বাড়তে পারে।

নতুন করে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগও তৈরি হবে। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধসহ সামরিক পদক্ষেপ ও যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েও কংগ্রেসে জবাবদিহির মুখে পড়তে পারেন তিনি।

অর্থাৎ, মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলেও ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউস ছাড়তে হবে না। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে তার দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছর আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া অনেক কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

ট্রাম্পের প্রাসাদের কাছে আছড়ে পড়ল বিমান, নিহত ৯

প্রকাশ: সোমবার, নভেম্বর ০২, ২০২৬
ট্রাম্পের প্রাসাদের কাছে আছড়ে পড়ল বিমান, নিহত ৯

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচে একটি ব্যক্তিগত জেট উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে চালকসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত প্রাসাদ মার-এ-লাগোর দূরত্ব মাত্র ৯ মাইল বা প্রায় ১৪ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার।

যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি টেক্সাসের অস্টিন শহরের বার্গস্ট্রম বিমানবন্দর থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।

এফএএ এক বিবৃতিতে জানায়, ৯ জন আরোহী নিয়ে ব্যক্তিগত জেটটি দক্ষিণ ফ্লোরিডার পাম বিচের ক্রেস্টহেভেন এলাকার একটি আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। এতে সেখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এফএএ এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) যৌথভাবে দুর্ঘটনার তদন্ত করবে। তদন্তের মূল দায়িত্ব পালন করবে এনটিএসবি। সংস্থাটি পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাবে।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধার ও জরুরি সেবাদানকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিরাপত্তার স্বার্থে ক্রেস্টহেভেন বুলেভার্ড ও ১০ম অ্যাভিনিউ নর্থের মধ্যবর্তী মিলিটারি ট্রেইল সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সাথে সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পাম বিচ কাউন্টি ফায়ার সার্ভিস তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে এক বার্তায় জানায়, বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। এলাকাটি এড়িয়ে চলুন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উড়োজাহাজটিকে দ্রুত নিচের দিকে নামতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পরই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আকাশে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা।

বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, লিয়ারজেট মডেলের উড়োজাহাজটি বিকেল ৩টা ৩৭ মিনিটে অস্টিন থেকে বাহামাসের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। বিধ্বস্ত হওয়ার আগে এটি ৪১ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল।

সূত্র: ফক্স নিউজ

ইরান যুদ্ধ খুব দ্রুত সমাপ্তির পথে: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ইরান যুদ্ধ খুব দ্রুত সমাপ্তির পথে: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধ খুব দ্রুতই সমাপ্তির পথে বলে আবারও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কীভাবে বা কত দিনের মধ্যে এ যুদ্ধের অবসান ঘটবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা রূপরেখা প্রকাশ করেননি তিনি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আল-জাজিরা’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কানসাস সিটির রেডিও স্টেশন ‘কেসিএমও’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এটি খুব শিগগিরই গুটিয়ে ফেলা বা শেষ করা হবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, আমাদের এমন একটি নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি প্রয়োজন যাতে ইরান কোনো দিনই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের নেওয়া সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক অবস্থানে অবশ্য বেশ দ্বিমুখী ও পরস্পরবিরোধী বার্তা দেখা যাচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের বিমান বা সামরিক হামলার পরিকল্পনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

অথচ একদিকে যেমন নতুন করে কঠোর সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স একটি নতুন প্রস্তাবিত শান্তি কাঠামোর রূপরেখা নিয়ে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যুদ্ধ ও শান্তি- যুক্তরাষ্ট্রের এ দ্বিমুখী অবস্থানের মধ্যেই ট্রাম্পের এমন মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোচনা তৈরি করেছে।

সূত্র: আল জাজিরা

ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সৈন্যের সংখ্যা জানালো পেন্টাগন

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সৈন্যের সংখ্যা জানালো পেন্টাগন

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে আরও দুইজন মার্কিন সেনাসদস্যের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন। এর ফলে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ২৩ জন সামরিক সদস্য প্রাণ হারালেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদন এ তথ্য উঠে এসেছে।

পেন্টাগনের তালিকায় নতুন যুক্ত হওয়া দুই নিহত সেনা মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্য। তবে তারা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্র বা শত্রুপক্ষের হামলায় মারা যাননি বলে দাবি করেছে পেন্টাগন। বিমানবাহিনীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, নিহত দুই সদস্যের মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। আর অন্যজনের মৃত্যুর মূল কারণ এখনও স্পষ্ট নয়, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। ফলে এ দুই মৃত্যুর সঙ্গে সরাসরি কোনো সামরিক সংঘর্ষের যোগসূত্র নেই বলেই উল্লেখ করেছে তারা।

প্রতিবেদনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিহত মোট ২৩ জন মার্কিন সেনার মধ্যে ঠিক কতজন সরাসরি হামলায় এবং কতজন অযুদ্ধজনিত কারণে মারা গেছেন, তার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়নি।

অন্যদিকে, পেন্টাগনের দেওয়া পরিসংখ্যান মানতে নারাজ ইরান। তেহরানের দাবি, বাস্তবে নিহত মার্কিন সেনা সদস্যের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রকাশিত তালিকার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। তবে ইরানের এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট