আরব উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় চলাচলকারী কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড (নাকিলত/Nakilat)-এর মালিকানাধীন ‘আল মাইদা’ (Al Mayeda) নামক একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাহক জাহাজের ওপর এক দুষ্কৃতকারী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক উসকানিমূলক হামলার তীব্র ভাষা ও কড়া শব্দে নিন্দা জানিয়েছে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌচলাচল রুটে এ ধরনের হামলা কেবল আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন নয়, বরং তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চেইনের স্থায়িত্ব ও সার্বিক নিরাপত্তার জন্য এক মারাত্মক হুমকি এবং অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ।
সুরক্ষিত আছেন ক্রুরা, বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা
ঘটনার পরপরই জাহাজ প্রস্তুতকারক ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি ‘নাকিলত’ পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর একটি আশ্বস্তকারী তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে:
-
ক্রুদের নিরাপত্তা: হামলায় জাহাজে থাকা নাবিক ও ক্রু সদস্যদের কেউ কোনো প্রকার শারীরিক আঘাত বা ক্ষয়ক্ষতির শিকার হননি। সবাই সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ রয়েছেন।
-
পরিবেশগত ও ভৌত ক্ষতি: জাহাজের ওপর হামলা হওয়া সত্ত্বেও কোনো বড় ধরণের কাঠামোগত ধ্বংস বা পরিবেশগত বিপর্যয় (যেমন গ্যাস লিক বা মারাত্মক অগ্নিকাণ্ড) ঘটেনি।
আত্মরক্ষা ও কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেছে যে, কাতার সবসময়ই আন্তর্জাতিক শান্তি, অবাধ নৌচলাচল এবং কূটনৈতিক আলোচনার পক্ষে। তবে জাতীয় স্বার্থ ও নিজস্ব সম্পদের সুরক্ষায় কোনো আপস করা হবে না।
আন্তর্জাতিক আইন, সামুদ্রিক সনদ ও কনভেনশন অনুযায়ী কাতার নিজেদের কৌশলগত সম্পদ, বাণিজ্যিক জাহাজ এবং নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো ধরনের প্রতিরক্ষামূলক বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণ করে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল ব্যাহত করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহকে দ্রুত ও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দোহা।