২৩ অক্টোবর ২০২৬

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান কাতার-ফ্রান্সের

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান কাতার-ফ্রান্সের

হরমুজ প্রণালিতে অবাধে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছে কাতার ও ফ্রান্স। একই সঙ্গে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং অবাধে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর দাবি জানিয়েছে দেশ দুটি।

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মধ্যে দোহায় বৈঠকের পর বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এসব আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে দুই নেতা বলেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের বাধা বা ফি ছাড়াই জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌ চলাচলের স্বার্থে এ পথ উন্মুক্ত রাখা জরুরি বলেও তাঁদের অবস্থানে প্রতিফলিত হয়েছে।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ওপর ইরানের সামরিক হামলার নিন্দা জানিয়েছেন কাতার ও ফ্রান্সের নেতারা। তাঁদের মতে, এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।

এর আগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) কাতারের মধ্যস্থতাকারী ইব্রাহিম বিন সুলতান আল-হাশমি জানিয়েছিলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও বলেন, তেহরান কূটনীতিকে আরেকটি সুযোগ দিতে প্রস্তুত।

গাজায় যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তার আহ্বান

যৌথ বিবৃতিতে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং সেখানে জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন কাতার ও ফ্রান্সের নেতারা। তাঁরা বলেন, কোনো শর্ত বা বাধা ছাড়াই নিরাপদে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, গাজার প্রায় ১৪ লাখ মানুষ খাদ্যসংকটে রয়েছে, যা অঞ্চলটির মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।

এদিকে, পশ্চিম তীর দখল বা ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে কাতার ও ফ্রান্স। একই সঙ্গে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে দেশ দুটি।

আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং গাজায় মানবিক পরিস্থিতির উন্নয়নে কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কাতার ও ফ্রান্স।

আরও পড়ুন

কাতারে লাইসেন্সবিহীন ওষুধ বিক্রিতে কঠোর ব্যবস্থা

কাতার ১০ বছরের ভিসা দিচ্ছে কাদের এবং কীভাবে?

স্যামসাং ওয়ালেটে যুক্ত হলো কাতারের জাতীয় পেমেন্ট কার্ড ‘হিময়ান’

কাতারে অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ালে ৭ বছরের জেল ও ৩ লাখ রিয়াল জরিমানা

মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ ১০০ ব্যবসায়িক নেতার তালিকায় কাতারের ৯ করপোরেট ব্যক্তিত্ব!

কাতারে জুমার নামাজের সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকান বন্ধ রাখার নতুন নিয়ম চালু

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান কাতার-ফ্রান্সের

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান কাতার-ফ্রান্সের

হরমুজ প্রণালিতে অবাধে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা এবং গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছে কাতার ও ফ্রান্স। একই সঙ্গে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং অবাধে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর দাবি জানিয়েছে দেশ দুটি।

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মধ্যে দোহায় বৈঠকের পর বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এসব আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে দুই নেতা বলেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের বাধা বা ফি ছাড়াই জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌ চলাচলের স্বার্থে এ পথ উন্মুক্ত রাখা জরুরি বলেও তাঁদের অবস্থানে প্রতিফলিত হয়েছে।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ওপর ইরানের সামরিক হামলার নিন্দা জানিয়েছেন কাতার ও ফ্রান্সের নেতারা। তাঁদের মতে, এসব হামলা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।

এর আগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) কাতারের মধ্যস্থতাকারী ইব্রাহিম বিন সুলতান আল-হাশমি জানিয়েছিলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও বলেন, তেহরান কূটনীতিকে আরেকটি সুযোগ দিতে প্রস্তুত।

গাজায় যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তার আহ্বান

যৌথ বিবৃতিতে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং সেখানে জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন কাতার ও ফ্রান্সের নেতারা। তাঁরা বলেন, কোনো শর্ত বা বাধা ছাড়াই নিরাপদে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, গাজার প্রায় ১৪ লাখ মানুষ খাদ্যসংকটে রয়েছে, যা অঞ্চলটির মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।

এদিকে, পশ্চিম তীর দখল বা ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে কাতার ও ফ্রান্স। একই সঙ্গে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে দেশ দুটি।

আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং গাজায় মানবিক পরিস্থিতির উন্নয়নে কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কাতার ও ফ্রান্স।

আরও পড়ুন

কাতারে লাইসেন্সবিহীন ওষুধ বিক্রিতে কঠোর ব্যবস্থা

কাতার ১০ বছরের ভিসা দিচ্ছে কাদের এবং কীভাবে?

স্যামসাং ওয়ালেটে যুক্ত হলো কাতারের জাতীয় পেমেন্ট কার্ড ‘হিময়ান’

কাতারে অনুমতি ছাড়া ড্রোন ওড়ালে ৭ বছরের জেল ও ৩ লাখ রিয়াল জরিমানা

মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ ১০০ ব্যবসায়িক নেতার তালিকায় কাতারের ৯ করপোরেট ব্যক্তিত্ব!

কাতারে জুমার নামাজের সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকান বন্ধ রাখার নতুন নিয়ম চালু

‘বদর’ চুক্তি নিয়ে বিশ্বখ্যাত বিশ্লেষকদের চাঞ্চল্যকর পর্যবেক্ষণ

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬
‘বদর’ চুক্তি নিয়ে বিশ্বখ্যাত বিশ্লেষকদের চাঞ্চল্যকর পর্যবেক্ষণ

মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে সৌদি আরবকে দৃশ্যপটের বাইরে রেখে তুরস্ক, পাকিস্তান, কাতার ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলোর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ‘বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন, আধুনিক প্রযুক্তির আদান-প্রদান এবং পশ্চিমা বিশ্বের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী রাজতান্ত্রিক শক্তির ওপর একক নির্ভরতা কমাতেই এই চার দেশ এক ছাতার নিচে আসছে বলে মত দিয়েছেন বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিশ্বের বিভিন্ন থিংকট্যাংক ও আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদ যখন ওয়াশিংটনের সাথে নিজেদের নিরাপত্তা চুক্তি ও সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে ব্যস্ত, তখন উদীয়মান এই চার দেশ নিজেদের সার্বভৌম নিরাপত্তা বলয় তৈরিতে বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল স্টিফেনস এ সমীকরণ বিশ্লেষণ করে বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা কাঠামো ছিল উপসাগরীয় দেশগুলো—বিশেষ করে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি ও ওয়াশিংটনের সামরিক সহায়তাকেন্দ্রিক।

তবে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় তুরস্ক ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো নিজেদের সামরিক শক্তিমত্তার ওপর দাঁড়িয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাইছে। কাতার ও ইন্দোনেশিয়ার মতো রাষ্ট্রগুলোর অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে তারা আর একক কোনো আঞ্চলিক শক্তির ছাতার নিচে বন্দি থাকতে রাজি নয়।’

তুরস্কের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চের প্রধান ড. এরদোগান কারাকুশ বলেন, ‘এই প্রতিরক্ষা জোট কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানোর জন্য নয়, বরং প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উৎপাদন ও কৌশলগত ভারসাম্য তৈরির জন্য গঠিত।

সৌদি আরব নিজস্ব কূটনৈতিক স্বার্থে পশ্চিমা ব্লকের দিকে ঝুঁকছে, অন্যদিকে আঙ্কারা এবং ইসলামাবাদ নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও ড্রোন প্রযুক্তির বিকাশকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই চুক্তির মূল কথা হলো—নিজেদের পায়ে দাঁড়ানো।’

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও ওয়াশিংটনভিত্তিক আটলান্টিক কাউন্সিলের অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা ইনিশিয়েটিভের ফেলো ড. সিনা আজিজি মন্তব্য করেন, ‘সৌদি আরবকে এ ধরনের জোটে অন্তর্ভুক্ত না করার পেছনে আঞ্চলিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং সাম্প্রতিক পররাষ্ট্রনীতির ভূমিকা রয়েছে।

কাতার ও তুরস্কের নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গি এবং সৌদি আরবের নিজস্ব এজেন্ডা সব সময় এক রেখায় চলেনি। দোহা এখন নিজেকে এমন এক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে যেখানে তারা নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য শুধুই উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর নির্ভর করে বসে থাকতে চায় না।’

অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল তালাত মাসুদ বলেন, ‘পাকিস্তান সব সময় মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে গভীর সামরিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চেয়েছে। তুরস্কের আধুনিক প্রযুক্তি, পাকিস্তানের দীর্ঘ সামরিক ও পারমাণবিক অভিজ্ঞতা এবং কাতার ও ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি একত্রিত হলে তা যে কোনো আঞ্চলিক চাপ মোকাবিলার জন্য এক শক্তিশালী বলয় গড়ে তুলবে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রচলিত ক্ষমতার সমীকরণের বাইরে এটি এক নতুন শক্তির উত্থান।’

বিশ্লেষকদের সামগ্রিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ‘বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কেবল একটি সামরিক কাগুজে চুক্তি নয়; এটি বৈশ্বিক বহুমাত্রিক ক্ষমতার যুগে একটি নতুন ভূকৌশলগত ভারসাম্য তৈরি করবে, যা মুসলিম বিশ্বের সামগ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের একক প্রভাবকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন

হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচল ও গাজায় যুদ্ধবিরতি আহ্বান কাতার-ফ্রান্স

কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই, কী আছে এই চুক্তিতে?

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬
কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই, কী আছে এই চুক্তিতে?

তুরস্ক, কাতার, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বুধবার তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সহযোগিতা আরও গভীর করতে এবং অংশীদারিত্বের বিকাশ ঘটাতে দোহায় দেশগুলো ‘বদর সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষর করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তির যথেষ্ট অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। এটি সামরিক উৎপাদনে সহযোগিতা বৃদ্ধি, সামরিক সক্ষমতা জোরদার এবং প্রযুক্তিগত সামরিক প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়নে সহায়তা করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

কাতারে রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ও অফিস বন্ধ!

এতে আরও বলা হয়, প্রতিটি দেশের অনন্য সামরিক উৎপাদন সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এই উদ্যোগ সহযোগিতা ও একীকরণকে সহজতর করবে, প্রতিরক্ষা শিল্প ক্ষমতা বাড়াবে এবং মিত্র ও বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর চাহিদা পূরণে সক্ষমতা আনবে।

ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনীর অধিকারী এবং শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্পের দেশ তুরস্ক ইরান যুদ্ধের মধ্যে কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা জোরদারে সহায়তা করে আসছে। তুরস্কে কাতারের একটি সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে।

এর আগে গত আগস্টে তুরস্ক পারমাণবিক অস্ত্রধারী পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের সঙ্গে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো এক পক্ষের ওপর হামলা সব পক্ষের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া প্রতিরক্ষা শিল্পে বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গেও তুরস্কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বদর চুক্তিটি দেশগুলোর প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যকার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে এবং নিরাপত্তা প্রচার ও অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতা বাড়াবে।

২০২৭ সালের বাজেট খসড়া অনুমোদন করল কাতার মন্ত্রিসভা!

এক মাসে ২ কোটি ১৬ লাখ মুসল্লি! মদিনায় মসজিদে নববীতে রেকর্ড

কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক 'বদর' প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬
কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক 'বদর' প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকরণ, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে বহুমাত্রিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দোহায় এক ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়া।

বুধবার (২১ অক্টোবর) চার দেশের প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বদর মেমোর্যান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ (Badr MoU) শীর্ষক এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

উদ্বোধনী এই চুক্তির আওতায় চার দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পাকিস্তানের ‘ডিফেন্স প্রোডাকশন অর্গানাইজেশন’ এবং তুরস্কের ‘প্রেসিডেন্সি অব ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ’ যৌথভাবে কাজ করবে।

চুক্তিটিতে মূলত সামরিক প্রযুক্তি বিনিময়, যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D), কৌশলগত কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

তুর্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলারের কাতার সফরকালে আয়োজিত এই যৌথ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে চার দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন।

তুরস্ক-পাকিস্তান-কাতার ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই, কী আছে এই চুক্তিতে?

চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন—কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আব্দুর রহমান বিন হাসান আল থানি, তুর্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলার, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ এবং ইন্দোনেশিয়ার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউসুফ জৌহারি।

এছাড়া অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন মন্ত্রী মুহাম্মদ রেজা হায়াত হাররাজ এবং তুর্কি প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থার সভাপতি হালুক গোরগুন উপস্থিত ছিলেন।

বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেট ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা, সতর্ক করল কাতার

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় তুর্কি প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থার সভাপতি হালুক গোরগুন জানান, 'বদর' সমঝোতা স্মারকটি চার দেশের নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে এবং কৌশলগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ে বড় ভূমিকা রাখবে। সেই সাথে এটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি, স্থায়িত্ব এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।

চুক্তিটির নামকরণ করা হয়েছে আরবি শব্দ 'বদর' (পূর্ণিমা) অনুসরণে, যা চারটি দেশের ভিন্ন ভিন্ন সামরিক শক্তি ও সম্পদকে একসাথে পুঞ্জীভূত করে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার প্রতীক বহন করে।

প্রতিষ্ঠাতা চার সদস্য রাষ্ট্রের সম্মতিক্রমে ভবিষ্যতে অন্যান্য বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর জন্যও এই জোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

কাতারের কাছ থেকে যেভাবে বিমান উপহার পেয়েছিলেন ট্রাম্প

২০২৭ সালের বাজেট খসড়া অনুমোদন করল কাতার মন্ত্রিসভা!

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬
২০২৭ সালের বাজেট খসড়া অনুমোদন করল কাতার মন্ত্রিসভা!

প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন জাসিম আল থানির সভাপতিত্বে বুধবার (২১ অক্টোবর) আমিরি দেওয়ানে কাতারের মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠক শেষে সভার গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ গণমাধ্যমকে জানান বিচারমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইব্রাহিম বিন আলি আল মোহান্নাদি।

সভার শুরুতে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক কাতার সফর এবং কাতারের আমির মহামান্য শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সাথে তাঁর দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ইতিবাচক ফলাফলকে স্বাগত জানায় মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিসভা উল্লেখ করে, এই সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে, যা অর্থনৈতিক, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতে দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে।

এছাড়া কাতার ও সিঙ্গাপুরের যৌথ কমিটির (HLJC) ৯ম বৈঠকের সফলতার প্রশংসা করা হয়, যার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে 'কৌশলগত অংশীদারিত্বে' উন্নীত হতে যাচ্ছে। গত ১৫ অক্টোবর আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত এশিয়ায় সহযোগিতা ও আস্থার ব্যবস্থাপনাবিষয়ক সম্মেলনের (CICA) ৭ম শীর্ষ সম্মেলনে কাতারের আমিরের অংশগ্রহণ এবং সেখানে আজারবাইজান ও উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে আয়োজিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোরও ইতিবাচক মূল্যায়ন করে মন্ত্রিসভা।

বাজেট ও নীতিগত সিদ্ধান্তসমূহ:

  • ২০২৭ অর্থবছরের সাধারণ বাজেট: ২০২৭ সালের জন্য রাষ্ট্রের প্রস্তাবিত খসড়া বাজেট আইন নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সংবিধান অনুযায়ী এটি চূড়ান্ত পর্যালোচনা ও অনুমোদনের জন্য শূরা কাউন্সিলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

  • মালিক সমিতি আইন বাস্তবায়নের বিধিমালা: ২০২৬ সালের ১১ নম্বর আইনের (মালিক সমিতি আইন) বাস্তবায়ন বিধিমালাসংক্রান্ত খসড়া সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটির (RERA) সাথে সমন্বয় করে যৌথ মালিকানাধীন আবাসন বা প্রোপার্টি ব্যবস্থাপনাকে সুশৃঙ্খল করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

  • আন্তর্জাতিক সমঝোতা স্মারক:

    ১. বেলজিয়ামের ফেডারেল পুলিশের সাথে কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ সহযোগিতাসংক্রান্ত একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক।

    ২. কাতার ও সৌদি আরবের মধ্যে জ্বালানি খাতে যৌথ সহযোগিতাসংক্রান্ত খসড়া সমঝোতা স্মারক।

    ৩. কাতারের দোহা পৌরসভা এবং মিসরের কায়রো গভর্নরেটের মধ্যে সিস্টার-সিটি বা সিস্টারশিপ (Twinning) চুক্তি।

বৈঠক শেষে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কমিটির ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন, ওমান ক্লাইমেট উইকে কাতারের পরিবেশমন্ত্রীর অংশগ্রহণের সারসংক্ষেপ এবং আবু ধাবিতে অনুষ্ঠিত অপরাধ প্রতিরোধ ও অপরাধ বিচারবিষয়ক ১৫তম জাতিসংঘ কংগ্রেসের ওপর বিচারমন্ত্রীর উপস্থাপন করা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে মন্ত্রিসভা।