১ নভেম্বর ২০২৬

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে যা বললেন কাতারের আমির

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে যা বললেন কাতারের আমির

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) শিল্পের শীর্ষ সারির দেশ হিসেবে কাতার বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পারস্পরিক আস্থা ও স্বার্থের ভিত্তিতে অংশীদারত্ব জোরদারে ভূমিকা রেখে যাবে বলে দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানী।

জিইসিএফ শীর্ষ সম্মেলনে আমীরের অংশগ্রহণ

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত গ্যাস এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ ফোরাম (জিইসিএফ)-এর অষ্টম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই সম্মেলনে আমীরের সঙ্গে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জাসিম আল-থানী সহ উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদল অংশ নেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বার্তা

সম্মেলন শেষে নিজের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বার্তায় আমীর জানান, মস্কোয় আয়োজিত জিইসিএফ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।

তিনি লেখেন, বৈশ্বিক গ্যাসের বাজারে বর্তমান যেসব সংকট ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় যৌথ পদক্ষেপ নেওয়া এবং নিজেদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার ক্ষেত্রে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এলএনজি খাতে কাতারের শীর্ষ অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বস্ততা ও পারস্পরিক সুবিধাজনক সম্পর্কের ভিত্তিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সুরক্ষায় কাতার সর্বদা অবদান বজায় রাখবে।

তথ্যসূত্র: আমীরি দেওয়ান

নভেম্বর ২০২৬-এর জন্য জ্বালানি তেলের নতুন দর ঘোষণা কাতার এনার্জির

প্রকাশ: রবিবার, নভেম্বর ০১, ২০২৬
নভেম্বর ২০২৬-এর জন্য জ্বালানি তেলের নতুন দর ঘোষণা কাতার এনার্জির

কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা 'কাতারএনার্জি' (QatarEnergy) নভেম্বর ২০২৬ মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন বাজারদর ঘোষণা করেছে।

নতুন নির্ধারিত এই তালিকায় দেখা গেছে, চলতি মাসে প্রিমিয়াম পেট্রোল, সুপার পেট্রোল এবং ডিজেলের দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি; অর্থাৎ অক্টোবর মাসের দরই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

নভেম্বর ২০২৬ মাসের জ্বালানি তেলের নির্ধারিত মূল্য:

  • প্রিমিয়াম পেট্রোল (91): ১.৯৫ কাতারি রিয়াল (প্রতি লিটার)

  • সুপার পেট্রোল (95): ২.১০ কাতারি রিয়াল (প্রতি লিটার)

  • ডিজেল: ২.০৫ কাতারি রিয়াল (প্রতি লিটার)

মাসের প্রথম দিন থেকেই কাতারের সমস্ত ফিলিং স্টেশন বা পেট্রোল পাম্পগুলোতে এই নতুন মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাতারএনার্জি প্রতি মাসের শেষে পরবর্তী মাসের জন্য জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করে থাকে।

জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ শিক্ষার্থী

কাতারে বাংলাদেশ স্কুলের সাফল্য: এইচএসসিতে পাসের হার ৯২.৭৭

প্রকাশ: রবিবার, নভেম্বর ০১, ২০২৬
কাতারে বাংলাদেশ স্কুলের সাফল্য: এইচএসসিতে পাসের হার ৯২.৭৭

কাতারের মাটিতে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে কাতারস্থ বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির চার শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তাদের এ সাফল্যে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ, অধ্যক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকরা।

কর্তৃপক্ষ জানায়, এবার প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞান বিভাগে মোট ৩৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৩৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে চারজন, জিপিএ-৪ বা তার বেশি পেয়েছে ১৭ জন এবং জিপিএ-৩-এর বেশি পেয়েছে ১৬ জন শিক্ষার্থী। এ বিভাগে অকৃতকার্য হয়েছে দুজন। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৯৫ শতাংশ।

অন্যদিকে, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট ২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৯ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৯১ শতাংশ।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে মুহাম্মদ ওয়াদিস সাবা চৌধুরী, ইয়াছিন আরাফাত রাফিও, তাসনিমুল হাসান রাকিন ও মোঃ তামিম উল্লাহ।

করোনাকালীন সময়ের পর এবারই প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসজীবনের নানা ব্যস্ততা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের এ অর্জন নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের নিরলস সহযোগিতা। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ ও নিয়মিত পাঠদানের ধারাবাহিকতাও এ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসাইন আহমদ বলেন, কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ হযরত আলী খান এবং পরিচালনা পর্ষদের দিকনির্দেশনা, এখানকার সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ, কলেজ প্রশাসনের আন্তরিক প্রচেষ্টা, অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা এবং অভিভাবকদের নিরলস সহযোগিতার ফলেই এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।

তিনি এ অর্জনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজকে কাতারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রবাসে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্মাণ, জ্ঞানচর্চার প্রসার এবং নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির শিকড়কে আঁকড়ে রাখার প্রত্যয়। সে বিবেচনায় বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ অর্জন প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্যও আনন্দের উপলক্ষ।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করবে। প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশের শিক্ষার মর্যাদা সমুন্নত রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে যোগ্য, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তাঁরা।

পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর উন্নয়নে কাতারের আশগাল-এর বড় মেগা প্ল্যান

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর উন্নয়নে কাতারের আশগাল-এর বড় মেগা প্ল্যান

প্রতি বছরের ন্যায় আজ ৩১ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব শহর দিবস ২০২৬’ (World Cities Day 2026)। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “শহরের পুনরুজ্জীবন: সবার জন্য উপযুক্ত আবাসন”।

দ্রুত নগরায়ণ ও দূরদর্শী আবাসন পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কাতারের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে দেশজুড়ে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং সম্প্রসারণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কাতার গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ আশগাল।

আবাসিক এলাকাগুলোর ব্যাপক আধুনিকায়ন

আশগালের প্রজেক্ট অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর প্রকৌশলী খালিদ সাইফ আল-খায়ারীন কাতার নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, কাতারের বিভিন্ন আবাসন অঞ্চলগুলোতে নিরাপদ ও উন্নত পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে সংস্থাটি।

বর্তমানে ওয়েস্ট উম্মে সালাল, আল ইব, আল সুমামা, আল ওয়াব, আল মেশাফ, আল মামুরা, দক্ষিণ-পশ্চিম মুয়াইদার, আল খারাইতিয়াত এবং রওজাত আল হামামাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে নতুন ও পুরোনো সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা স্থাপন এবং পাবলিক সার্ভিস আধুনিকায়নের কাজ জোরকদমে চলছে।

টেকসই উন্নয়ন ও সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল ক্ষেত্রসমূহ:

স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবহার: আশগালের অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যবহৃত সামগ্রীর ৭৫ শতাংশেরই যোগান দেওয়া হচ্ছে স্থানীয় দেশীয় শিল্প থেকে, যা আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে।

পুনর্ব্যবহার ও সৌরশক্তি: নির্মাণকাজে তোলাপাথর, কংক্রিট ও অ্যাসফল্ট পুনর্ব্যবহার (Recycle) করা হচ্ছে এবং প্রজেক্ট সাইট ও সাইনবোর্ডে ব্যাপকভাবে সৌরশক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে।

পানি ব্যবস্থাপনা: বৃষ্টির পানি জমার সমস্যা সমাধানে ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক ও পাম্পিং স্টেশনগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ অতিরিক্ত পানি উন্নয়ন কাজে পুনরায় ব্যবহার করা হচ্ছে।

নিরাপদ পদচারণ ও সাইকেলিং: নাগরিক জীবনে সুস্থ অভ্যাসের অংশ হিসেবে এলাকাগুলোতে নিরাপদে হাঁটার পথ, সাইকেল ট্র্যাক ও সবুজ পার্ক তৈরি করা হচ্ছে।

আগামী ৫ বছরে ৩৩ হাজার প্লটে উন্নয়ন প্রকল্প

‘কাতার ন্যাশনাল ভিশন ২০৩০’-এর লক্ষ্য অর্জনে আগামী পাঁচ বছরে আরও বড় পরিসরে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে আশগাল।

আগামী ৫ বছরের মহাপরিকল্পনার আওতায় নাগরিকদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৩৩,০০০ আবাসিক প্লটে সুনির্দিষ্ট নাগরিক সুবিধা ও সংযোগ সড়ক নিশ্চিত করতে ৩০টিরও বেশি মেগা রোড ও অবকাঠামো প্রজেক্টের দরপত্র (Tender) আহ্বান করা হবে। কাজের গতি বৃদ্ধি ও নির্ভুল নগর পরিকল্পনার জন্য আশগাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়াচ্ছে।

মার্কিন-ইরান সংঘাত এড়াতে তেহরানে কাতারি প্রতিনিধি দল

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
মার্কিন-ইরান সংঘাত এড়াতে তেহরানে কাতারি প্রতিনিধি দল

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা যখন আবার নতুন করে চরম রূপ নেওয়ার আশঙ্কায়, ঠিক তখনই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বরফ গলাতে তৎপর হয়ে উঠেছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো। ওয়াশিংটন-তেহরান শান্তি আলোচনা নতুন করে শুরুর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এবার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে তেহরানে পৌঁছেছে কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইরনা শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কাতারি প্রতিনিধিদলের এ তেহরান সফরের খবরটি নিশ্চিত করেছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রীর একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারা মূলত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বর্তমান সংবেদনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে বিশদ আলোচনা করছেন।

গত কয়েকদিনে আরও কয়েকটি দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইরানের রাজধানী সফর করেছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছ থেকে পাঠানো একটি বার্তা পেয়েছে তেহরান। চিঠিটি মূলত ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মহসিন রেজাইয়ের উদ্দেশে পাঠানো হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, চিঠিতে এখনই কোনো সরাসরি শান্তিচুক্তির শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং ভবিষ্যতে কীভাবে আলোচনার টেবিলে বসা যায় বা আলোচনার একটি সম্ভাব্য কাঠামো কেমন হতে পারে, সেটার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ জানায়, ভ্যান্স গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এ বিশেষ যোগাযোগের উদ্যোগ নেন এবং চিঠিটি সফলভাবে জেনারেল মহসdন রেজাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

চলতি বছরের এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের পর থেকে শান্তি আলোচনাকে গতিশীল রাখতে কাতার ও পাকিস্তান জোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে। ইরানি এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবারও কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে অবস্থান করে পরিস্থিতি মূল্যায়নের কাজ করেছিল।

এমনকি গত মঙ্গলবার মস্কোয় একটি বৈঠকের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেন।

শুধু কাতারই নয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চলতি সপ্তাহে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও তেহরানে এসে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সম্প্রতি আগস্টে মক্কায় একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল এই তিন দেশ।

তবে পরিস্থিতি এখনও বেশ জটিল। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে, যা দেশটির তেল রপ্তানি ও সার্বিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে চরম সংকটে ফেলেছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্ববাজারের জন্য হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিতে হলে ওয়াশিংটনকে সাতটি সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি, বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের জাতীয় সম্পদ অবমুক্ত করা, দেশটির তেল খাতের ওপর থেকে আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া।

সূত্র: আল জাজিরা

ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করল কাতার

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করল কাতার

ইসরায়েলের সংসদীয় নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ও ফলাফল প্রভাবিত করতে অর্থায়নের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। দেশটির দাবি, নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধে কাতারকে জড়ানোর চেষ্টা করছেন ইসরায়েলি রাজনীতিবিদরা।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ ও তাদের সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগগুলো নাকচ করেন। তিনি এসব অভিযোগকে কাতারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অংশ বলে অভিহিত করেন।

ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে ফিলিস্তিনি দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন পাওয়ার পর এ বিতর্ক শুরু হয়। এরপর ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী নেতারা আরব রাজনৈতিক দলগুলোর কথিত বিদেশি অর্থায়ন নিয়ে তদন্তের দাবি জানান।

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিখও সংশ্লিষ্ট নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদের দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ঘটনাটিকে ‘রাআম-গেট’ আখ্যা দিয়ে নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ করেছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো তদন্তমূলক বা গোয়েন্দা তথ্য নেই বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গও অভিযোগগুলোর ভিত্তি প্রমাণের মতো তথ্য থাকার কথা জানাননি।

আল-আনসারি বলেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় কাতারের কোনো আগ্রহ নেই। ইসরায়েলি রাজনীতিবিদদের নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতার দায় কাতারের ওপর চাপানো উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে আটটি কম। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো পেয়েছে ৪৮টি আসন। ফিলিস্তিনি দলগুলোর আসনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সরকার গঠনের সমীকরণ আরও জটিল হয়েছে।