৩ নভেম্বর ২০২৬

সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির শঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে উপসাগরীয় দেশগুলো: দ্য গার্ডিয়ান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৩, ২০২৬
সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির শঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে উপসাগরীয় দেশগুলো: দ্য গার্ডিয়ান

ইরানের জব্দ করা ৬০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে কাতারের মধ্যস্থতায় চলছে পরোক্ষ আলোচনা। এই অর্থ ছাড়ের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর পথ তৈরি হতে পারে। তবে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা উপসাগরীয় দেশগুলো সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এ বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মকর্তারা ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির’ জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রোববার কাতারের রাজধানী দোহায় এ আলোচনা অব্যাহত থাকে। এতে মধ্যস্থতা করছে কাতার। দেশটি ইরানের জব্দ করা ৬০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা করছে। এই অর্থ ছাড়ের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু হতে পারে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেছেন, নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানো ইরান কিংবা তার প্রতিবেশী কোনো দেশের স্বার্থেই নয়। তবে পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে তার জন্যও প্রস্তুতি রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আগেও যেমন দেখিয়েছি, এবারও সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’

৪ দেশের শীর্ষ নেতাদের সাথে কথা বললেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী

গারগাশ আরো বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশটি তাদের প্রতিবেশী। দীর্ঘস্থায়ী সংকটে ইরান জড়িয়ে পড়ুক, তা তারা চান না।

এদিকে হরমুজ প্রণালির কাছে পাকিস্তানগামী কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) জাহাজে শুক্রবার অজ্ঞাতপরিচয় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও কাতারের মধ্যস্থতা অব্যাহত রয়েছে। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই তেহরান জাহাজটিকে সরাসরি অনুমতি ও নিরাপদে চলাচলের ছাড়পত্র দিয়েছিল।

দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট কাটাতে কাতার এমন একটি পরিকল্পনায় সমঝোতার চেষ্টা করছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও পরমাণু আলোচনা শুরুর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। এ প্রক্রিয়ার সময়সীমা সাত দিন থেকে কমিয়ে দুই দিনে আনতে সম্মত হয়েছে ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন অন্য পথের পরিবর্তে কূটনীতিকে বেছে নেয়, সেটিই তাঁর প্রত্যাশা। ওয়াশিংটনের ‘যুক্তিবোধের’ ওপর নির্ভর করে ইরান প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি—দুই পথের জন্যই প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন আরাগচি।

দোহার মধ্যস্থতামূলক আলোচনায় সরাসরি অংশ নিচ্ছেন না আরাগচি। সোমবার তাঁর তুর্কমেনিস্তান যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইরানের অন্য কূটনীতিকেরা দোহার আলোচনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।

এর আগে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ ধ্বংস করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এখনো এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবস্থা নেওয়া বাকি রয়েছে। হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা ‘ভালোভাবেই চলছে’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানকে খুব একটা নির্ভরযোগ্য মনে হয় না।

শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, কূটনৈতিক সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি জানান, আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের ‘সুরে’ ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করেছেন বলেও জানান রেজায়ি। তবে চিঠির জবাব এখনো দেননি তিনি।

শনিবার আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, তেলবাহী জাহাজ চলাচলে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের সম্পদ ছাড়ের পথে বাধা বন্ধ করা এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

তবে ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ আবারও জানিয়েছেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি নয় তেহরান। তিনি বলেন, ‘আমাদের শত্রুদের বুঝতে হবে, ইরানি জনগণ যেকোনো পরিস্থিতিতে বা চাপের মুখেও পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ বিষয়ে আলোচনার জন্য এই মহান জাতি শত্রুদের যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনার কিছু অংশে অবৈধ বোমা হামলার মুখে পড়তে হয়েছে।’

এদিকে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান রেজায়ি দাবি করেছেন, ট্রাম্প এমন এক যুদ্ধের চাপে রয়েছেন, যার আন্তর্জাতিক প্রভাব ভিয়েতনাম যুদ্ধের চেয়েও বিস্তৃত। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে তিনি বলেন, ‘আজ ট্রাম্প যেখানেই যান, তাঁকে জবাব দিতে হয়—কেন তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে এমন কোনো পরিবার নেই, যারা ইরানের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট চাপের মুখে পড়েনি।’

দ্য গার্ডিয়ান-এর কূটনৈতিক সম্পাদক প্যাট্রিক উইনটুরের প্রতিবেদন অবলম্বনে।

পাকিস্তানি নাগরিকদের অন অ্যারাইভাল ভিসা দিচ্ছে কাতার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৩, ২০২৬
পাকিস্তানি নাগরিকদের অন অ্যারাইভাল ভিসা দিচ্ছে কাতার

পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য কাতারে অন অ্যারাইভাল ট্যুরিস্ট ভিসার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ ভিসায় দেশটিতে ৩০ দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন তারা। তবে ভিসা পেতে ফিরতি টিকিট, নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের প্রমাণসহ বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। যাত্রার আগে হোটেল বুকিং ও স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থাও সম্পন্ন করতে হবে।

গত রোববার (১ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের নাগরিকরা এখন কাতারে পৌঁছানোর পর ৩০ দিনের পর্যটন ভিসা নিতে পারবেন। তবে এ জন্য তাদের নির্দিষ্ট আর্থিক সামর্থ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে ভিসার মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়ানো যাবে। এ ক্ষেত্রে নিশ্চিত ফিরতি টিকিট থাকতে হবে।

অবশ্য কাতারে অন অ্যারাইভাল ট্যুরিস্ট ভিসা নিতে ইচ্ছুক পাকিস্তানি নাগরিকদের দেশটিতে প্রবেশের সময়ই নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে দেশ ছাড়ার আগেই হোটেল বুকিং ও স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থাও সম্পন্ন করতে হবে। ভিসার মেয়াদ হবে ৩০ দিন। প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করলে একই মেয়াদে আরও একবার ভিসা বাড়ানো যাবে।

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি আবেদনকারীদের নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে— আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ হিসেবে বৈধ ক্রেডিট কার্ডে অন্তত ৫ হাজার কাতারি রিয়াল অথবা সমপরিমাণ অর্থ থাকতে হবে। নিশ্চিত ফিরতি টিকিট দেখাতে হবে। পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ছয় মাস থাকতে হবে।

ভিসা ৩০ দিনের জন্য বৈধ থাকবে। পরে আরও ৩০ দিন বাড়ানো যাবে। তবে মেয়াদ বাড়ানোর আগে নিশ্চিত ফিরতি টিকিট থাকতে হবে। পাকিস্তান থেকে সরাসরি কাতারে আসা যাত্রীদের সঙ্গে পোলিও টিকা নেয়ার সনদ থাকতে হবে। এছাড়া ব্যবসায়িক ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কেবল ব্যবসায়িক ভিসা দেয়ার কথাও বলা হয়েছে।

কাতারে যাওয়ার আগে যাত্রীদের হোটেল বুকিং ও স্বাস্থ্যবিমা করতে হবে। হোটেল বুক করতে হবে ডিসকভার কাতারের মাধ্যমে। আর অন্তত এক মাসের স্বাস্থ্যবিমা নিতে হবে, যার খরচ ৫০ কাতারি রিয়াল। কিউআইসি ও কিউএলএমসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে এ বিমা নেয়া যাবে।

সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির শঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে উপসাগরীয় দেশগুলো: দ্য গার্ডিয়ান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৩, ২০২৬
সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির শঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে উপসাগরীয় দেশগুলো: দ্য গার্ডিয়ান

ইরানের জব্দ করা ৬০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে কাতারের মধ্যস্থতায় চলছে পরোক্ষ আলোচনা। এই অর্থ ছাড়ের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর পথ তৈরি হতে পারে। তবে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা উপসাগরীয় দেশগুলো সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এ বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মকর্তারা ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির’ জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রোববার কাতারের রাজধানী দোহায় এ আলোচনা অব্যাহত থাকে। এতে মধ্যস্থতা করছে কাতার। দেশটি ইরানের জব্দ করা ৬০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা করছে। এই অর্থ ছাড়ের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু হতে পারে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেছেন, নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানো ইরান কিংবা তার প্রতিবেশী কোনো দেশের স্বার্থেই নয়। তবে পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে তার জন্যও প্রস্তুতি রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আগেও যেমন দেখিয়েছি, এবারও সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’

৪ দেশের শীর্ষ নেতাদের সাথে কথা বললেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী

গারগাশ আরো বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশটি তাদের প্রতিবেশী। দীর্ঘস্থায়ী সংকটে ইরান জড়িয়ে পড়ুক, তা তারা চান না।

এদিকে হরমুজ প্রণালির কাছে পাকিস্তানগামী কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) জাহাজে শুক্রবার অজ্ঞাতপরিচয় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও কাতারের মধ্যস্থতা অব্যাহত রয়েছে। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই তেহরান জাহাজটিকে সরাসরি অনুমতি ও নিরাপদে চলাচলের ছাড়পত্র দিয়েছিল।

দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট কাটাতে কাতার এমন একটি পরিকল্পনায় সমঝোতার চেষ্টা করছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও পরমাণু আলোচনা শুরুর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। এ প্রক্রিয়ার সময়সীমা সাত দিন থেকে কমিয়ে দুই দিনে আনতে সম্মত হয়েছে ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন অন্য পথের পরিবর্তে কূটনীতিকে বেছে নেয়, সেটিই তাঁর প্রত্যাশা। ওয়াশিংটনের ‘যুক্তিবোধের’ ওপর নির্ভর করে ইরান প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি—দুই পথের জন্যই প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন আরাগচি।

দোহার মধ্যস্থতামূলক আলোচনায় সরাসরি অংশ নিচ্ছেন না আরাগচি। সোমবার তাঁর তুর্কমেনিস্তান যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইরানের অন্য কূটনীতিকেরা দোহার আলোচনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।

এর আগে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ ধ্বংস করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এখনো এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবস্থা নেওয়া বাকি রয়েছে। হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা ‘ভালোভাবেই চলছে’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানকে খুব একটা নির্ভরযোগ্য মনে হয় না।

শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, কূটনৈতিক সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি জানান, আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের ‘সুরে’ ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করেছেন বলেও জানান রেজায়ি। তবে চিঠির জবাব এখনো দেননি তিনি।

শনিবার আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, তেলবাহী জাহাজ চলাচলে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের সম্পদ ছাড়ের পথে বাধা বন্ধ করা এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

তবে ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ আবারও জানিয়েছেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি নয় তেহরান। তিনি বলেন, ‘আমাদের শত্রুদের বুঝতে হবে, ইরানি জনগণ যেকোনো পরিস্থিতিতে বা চাপের মুখেও পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ বিষয়ে আলোচনার জন্য এই মহান জাতি শত্রুদের যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনার কিছু অংশে অবৈধ বোমা হামলার মুখে পড়তে হয়েছে।’

এদিকে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান রেজায়ি দাবি করেছেন, ট্রাম্প এমন এক যুদ্ধের চাপে রয়েছেন, যার আন্তর্জাতিক প্রভাব ভিয়েতনাম যুদ্ধের চেয়েও বিস্তৃত। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে তিনি বলেন, ‘আজ ট্রাম্প যেখানেই যান, তাঁকে জবাব দিতে হয়—কেন তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে এমন কোনো পরিবার নেই, যারা ইরানের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট চাপের মুখে পড়েনি।’

দ্য গার্ডিয়ান-এর কূটনৈতিক সম্পাদক প্যাট্রিক উইনটুরের প্রতিবেদন অবলম্বনে।

ভোরে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দফায় দফায় বিস্ফোরণ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৩, ২০২৬
ভোরে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দফায় দফায় বিস্ফোরণ

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহতে দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো।

বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে বিস্ফোরণের কারণ, হতাহত বা ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

কীসের আশঙ্কায় খাবার-পানি মজুতের নির্দেশ দিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ?

মূলত এমন এক সময়ে এই হামলার খবর এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে অনেকটা খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় সময় সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। আমরা জিতেছি’। তিনি আরও বলেন, ‘এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কিনা, তা আমি জানি না। কারণ, কয়েক মাস ধরে আমরা কোনো লড়াই করছি না।’

তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোট পরিসরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা এসব অভিযানকে প্রতিরক্ষামূলক বলে বর্ণনা করেছেন। তাদের ভাষ্য, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি বা জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন থেকে ইরানকে বিরত রাখতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।

এদিকে পৃথক প্রতিবেদনে আনাদোলু জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপ ও হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহতে সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে।

ফের যুদ্ধ বাধলে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে ইরান

বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হতাহত বা ক্ষতির বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি সংবাদমাধ্যম দুটি। মূলত হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই বিস্ফোরণের খবর এলো।

সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশ বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছে। তিনি নিশ্চিত করেন, কাতারের মধ্যস্থতায় এ যোগাযোগ সহজ করতে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন।

এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইসরায়েল এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। পরে এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।

হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। তবে প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়।

ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ২৬ মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস, ক্ষতি শত কোটি ডলারের

কাতারের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের পাশে থাকার ঘোষণা সৌদির

প্রকাশ: সোমবার, নভেম্বর ০২, ২০২৬
কাতারের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের পাশে থাকার ঘোষণা সৌদির

কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহী জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে দেশটির জাহাজ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাতার যেকোনো পদক্ষেপ নিলে তার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে রিয়াদ।

রোববার আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সামুদ্রিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য হুমকি তৈরি করে, এমন সব ধরনের কর্মকাণ্ড প্রত্যাখ্যান করে সৌদি আরব। এ ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌপথের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখা এবং সামুদ্রিক নৌ চলাচল ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির মালিকানাধীন ও পরিচালিত ‘আল মায়েদা’ নামের এলএনজি পরিবাহী জাহাজটি আজ উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলার শিকার হয়।

হামলার ঘটনায় কাতারের জাহাজের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ২৬ মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস, ক্ষতি শত কোটি ডলারের

প্রকাশ: সোমবার, নভেম্বর ০২, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে ইরান। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অঞ্চলটিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুই ডজনের বেশি ঘাঁটি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক বিশ্লেষণে স্যাটেলাইট চিত্র ও আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে উঠে এসেছে এমন তথ্য। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগস্ট পর্যন্ত চালানো এসব হামলায় অন্তত ২৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এতে সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি কয়েক শ কোটি ডলারের আর্থিক লোকসান হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইরান প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুর হামলা শনাক্তকারী রাডার ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে। কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান ও বাহরাইনের নৌ-সহায়তা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ঘাঁটির রাডার কাঠামো ধ্বংস করার পর উড়োজাহাজ রাখার স্থাপনা, গুদাম ও সেনাদের আবাসনগুলোতে হামলা চালানো হয়।

কুয়েতের আলী আল সালেম ও ক্যাম্প বুয়েরিং ঘাঁটিতে সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চলে। এ ছাড়া সৌদি আরব, জর্ডান ও কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন স্থাপনাও ক্ষতির মুখে পড়ে।

মার্চ মাসে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় একটি নজরদারি বিমান ও দুটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মার্কিন ১৫টি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুয়েতে এক ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ছয় মার্কিন সেনা।

ট্রম্প প্রশাসন ও মার্কিন সামরিক বাহিনী ক্ষয়ক্ষতির তথ্য গোপন বা স্যাটেলাইটচিত্র প্রকাশে বিলম্ব করলেও স্বাধীন বিশ্লেষণে এই বড় আঘাতের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বেশ কিছু সামরিক সরঞ্জাম ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কম খরচের ড্রোনের মুখে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এমন ক্ষতি আধুনিক যুদ্ধের এক নতুন বার্তা। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতার দিন যে ফুরিয়ে আসছে, এই সংঘাত তারই এক বড় ইঙ্গিত।