১ নভেম্বর ২০২৬

জুমার দিনে আল-আকসা মসজিদের খতিবকে তুলে নিয়ে গেল ইসরায়েল

প্রকাশ: শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬
জুমার দিনে আল-আকসা মসজিদের খতিবকে তুলে নিয়ে গেল ইসরায়েল
আল-আকসা মসজিদের খতিবকে আটক করেছে ইসরায়েল। ছবি: এক্স

পবিত্র আল-আকসা মসজিদের খতিব শেখ খালেদ আবু জুমআকে জুমার নামাজ আদায় ও খুতবা প্রদানের পরপরই আটক করেছে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম থেকে তাকে আটক করা হয়। জেরুজালেম গভর্নরেটের গণমাধ্যম শাখার বরাতে ওয়াফা বার্তা সংস্থা এই খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুমার নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা খতিব শেখ খালেদ আবু জুমআকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে এবং পরে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়।

তবে ঠিক কী কারণে বা কোন নির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরেই আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ফিলিস্তিনি মুসল্লি ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর নানা কড়াকড়ি, বিধিনিষেধ এবং আটকের ঘটনা আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেখ আবু জুমআর আটকের ঘটনার পরও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি ইসরায়েল।

সূত্র: ওয়াফা নিউজ এজেন্সি

ইসরায়েলে নির্বাচন : তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কি থেকে যাবেন নেতানিয়াহু?

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ইসরায়েলে নির্বাচন : তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কি থেকে যাবেন নেতানিয়াহু?

সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেলেও জটিল সমীকরণের কারণে নেতানিয়াহু কিংবা গাদি আইসেনকোত— কে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা এখনও অস্পষ্ট। এদিকে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনার কাজ শেষ হয়ে গেছে।

এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চূড়ান্ত কোনো সমাধান না এলে ফের নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে ইসরায়েলে। যদি তা ঘটে, সেক্ষেত্রে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রীর পদ পেতে পারেন। অন্তবর্তী প্রধানমন্ত্রীর কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই।

ইসরায়েলের সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী, কোনো দল বা জোট নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর সেই দল বা জোটের নেতারা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই সাক্ষাত বা বৈঠকে বিজয়ী দল বা জোটের কোন নেতা সরকারপ্রধান হবেন— তা নির্ধারিত হয় এবং তারপর সম্ভাব্য সেই প্রধানমন্ত্রীকে সরকার গঠনক করতে ৪২ দিন সময় প্রদান করা হয়।

বিজয়ী দল বা জোট যদি নিজেদের মধ্যে ঐক্যমতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে নির্বাচন বাতিল করে ফের নির্বাচনের আয়োজন করার বিধান আছে সংবিধানে। যদি গাদি আইজেনকোতের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে ঐকমত্য না নয়— তাহলে স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন নেতানিয়াহু।

তবে সেই সম্ভাবনা কম। যদিও তার নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে, তবে ইহুদি ভোটারদের কাছ থেকে পাওয়া অপ্রত্যাশিত জোরালো সমর্থন তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার সম্ভাবনা ক্ষীণ করে দিয়েছে।

বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ইসরায়েলের তিনটি প্রধান সম্প্রচারমাধ্যম পূর্বাভাস দিয়েছে যে, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী, অতি-ডানপন্থী ও অতি-অর্থোডক্স দলগুলোর জোট ১২০ আসনবিশিষ্ট নেসেটে (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট) ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন।

আরব ইসরায়েলিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে, তাদের ব্যাপক সমর্থন ছাড়া আইজেনকোটের ক্ষমতায় আসার কোনো বাস্তবসম্মত পথ খোলা নেই। যদিও অনেক ইহুদি রাজনৈতিক নেতা আরব ইসরায়েলি দলগুলোর সমর্থন গ্রহণের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ভোট গণনা অব্যাহত থাকায় ফলাফলে পরিবর্তন আসতে পারে, তবে কেন্দ্রীয়-বাম থেকে কট্টর ডানপন্থী দলগুলো নিয়ে গঠিত আইজেনকোটের জোট—যারা নেতানিয়াহুর বিরোধী—নির্বাচন-পূর্ববর্তী জরিপগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

যেকোনো জোট গঠনের আলোচনার সময় এবং সম্ভবত আগামী বছরের পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। যদিও একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে, তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে এই সরকারের হাতে যথেষ্ট ক্ষমতা থাকে। যেমন নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হলেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীর বিষয়গুলোর ব্যাপারেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে তার নেতৃত্বাধীন সরকার।

ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের রিসার্চ ফেলো গাই লুরি জানান, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা সাধারণ সরকারের মতোই থাকে, তবে তাদের ওপর ‘সংযম প্রদর্শনের দায়িত্ব’ বর্তায় এবং কিছু ক্ষেত্রে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা কিছুটা সীমিত থাকে।

সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা

ইসরায়েলে রেকর্ড আসন পেয়েও কেন ‘কিংমেকার’ হতে পারছে না আরব দলগুলো?

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
ইসরায়েলে রেকর্ড আসন পেয়েও কেন ‘কিংমেকার’ হতে পারছে না আরব দলগুলো?

ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পার্লামেন্টে রেকর্ডসংখ্যক আসন পেতে যাচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন কোনও জোটই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারায় সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কিন্তু ইসরায়েলের প্রধান ইহুদি দলগুলোর বিরোধিতায় নির্বাচনী সাফল্য সত্ত্বেও সরকার গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারের নির্বাচনের আংশিক ফল ও বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম দল দুটি মিলে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ১৭টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি এবং আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৯টি আসন পেতে পারে।

অন্যদিকে, ইহুদি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ জোট পেতে পারে ৫৩ আসন। আর আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮ আসন।

সাবেক ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল শেকের মতে, এবারের নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা আরব ভোটের পুনরুত্থান। তার ভাষায়, ইসরায়েলের রাজনৈতিক সমীকরণে এত বড় জনগোষ্ঠীকে আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, আরব দলগুলোর সামনে বড় বাধা রাজনৈতিক অঙ্ক নয়, বরং ইহুদি নেতৃত্বাধীন দলগুলোর অনীহা। অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লায় ফিলিস্তিন স্টাডিজবিষয়ক প্রতিষ্ঠান প্যালেস্টিনিয়ান ফোরাম ফর ইসরায়েলি স্টাডিজের মহাপরিচালক হোনাইদা ঘানাম বলেন, আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে সরকার গঠনের বৈধ অংশীদার হিসেবে মেনে নিতে অধিকাংশ ইসরায়েলি দলের আপত্তি রয়েছে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণ

টাইমস অব ইসরায়েল-এর হিসাব অনুযায়ী, আইজেনকটের বিরোধী জোটের সঙ্গে আরব দলগুলো যুক্ত হলে তাদের আসনসংখ্যা ৬৬-তে পৌঁছাতে পারে। এতে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সীমা অতিক্রম করা সম্ভব।

তবে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমেদ নাজ্জারের মতে, আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে বিরোধীদের অনীহা মূলত আদর্শিক। আইজেনকট আরব দলগুলোর প্রতি আনুগত্যের শর্ত আরোপ করেছেন এবং তাদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করার সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন।

রা’আমের নেতা মানসুর আব্বাস অবশ্য আইজেনকটের সরকারে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তার শর্ত, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়গুলোতে আরব দলকে দায়িত্ব দিতে হবে। জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিনও নেতানিয়াহুর ডানপন্থী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ভূমিকা রাখার কথা বলেছেন।

সমঝোতায় বাধা কোথায়?

নেতানিয়াহু আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর সরকার গঠনকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইসরায়েল বেইতেনু দলের নেতা আভিগদর লিবারম্যানও সরকারে কেবল ‘জায়নবাদী’ দল রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

তবে বিরোধী জোটের অংশ ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার পক্ষে। তার মতে, ইহুদি ও আরব ভোটের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে রাখার নীতি আর মেনে নেওয়া উচিত নয়।

ইসরায়েলের রাজনীতিতে অবশ্য এর আগেও এমন সহযোগিতার নজির রয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনের পর রা’আমের সমর্থন নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তবে সেই সরকার বেশিদিন টেকেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা না হলে নতুন নির্বাচন, বাইরে থেকে আরব দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার, বিরোধী জোট থেকে নেতানিয়াহুর শিবিরে দলবদল কিংবা জাতীয় ঐক্যের সরকার- এই চারটি সম্ভাবনা সামনে রয়েছে।

ফলে রেকর্ড আসন পাওয়ার পরও আরব দলগুলো শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে, তা নির্ভর করছে ইসরায়েলের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতার ওপর।

সূত্র: আল-জাজিরা

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ও কাতারের আমির

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ও কাতারের আমির

দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক কূটনৈতিক পদক্ষেপে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে বৈঠকে বসবেন মধ্যপ্রাচ্যের দুই শীর্ষ নেতার সঙ্গে।

সোমবার ২৫ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মস্কোয় আয়োজিত ‘গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলোর ফোরামের’ (জিইসিএফ) শীর্ষ সম্মেলনের আতিথেয়তা দেওয়ার পর পুতিন দুই নেতার সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। আজ মঙ্গলবার মস্কোতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন পুতিন।

তিনি আরও জানান, উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পর এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং নতুন ভূ-রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে এই বৈঠক মূল ভূমিকা পালন করতে পারে।

বিশেষ করে ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পুতিনের এই সাক্ষাৎ মস্কো-তেহরান সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পরিচিত কাতারের আমিরের সঙ্গে পুতিনের বৈঠকটি আঞ্চলিক শান্তি ও জ্বালানি খাতের সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলোর এই ফোরামে বিশ্ব জ্বালানি বাজার সম্পর্কিত আলোচনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিরসনে পুতিন, পেজেশকিয়ান ও কাতারের আমিরের মধ্যকার এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা বিশ্ব রাজনীতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে পরিবারসহ কূটনীতিক সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে পরিবারসহ কূটনীতিক সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ থেকে কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরবে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন, এমন কর্মীদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদেরও চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও লেবাননের মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতেও কর্মীসংখ্যা সমন্বয় করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে সিএনএন।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির কারণে যেসব কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্প্রতি কর্মস্থলে ফিরতে দেওয়া হয়েছিল, তাদের অনেককেই আবারও সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। এতে পরিবারগুলোর মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

গত ২৩ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো এক স্মারকলিপিতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক জে ক্লেটন জানান, মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশে মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। স্মারকলিপিটির বিষয়বস্তু প্রথম প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, বিদেশে কূটনৈতিক মিশনগুলোতে কর্মী মোতায়েনের বিষয়ে নিরাপত্তাসংক্রান্ত নতুন তথ্য নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। হুথিদের হামলার হুমকি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইরানের সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের তথ্যের ভিত্তিতে সীমিত কার্যক্রমের আওতায় থাকা দূতাবাসগুলোতে কর্মীসংখ্যা সমন্বয় করা হচ্ছে।

তবে এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া নিয়ে মার্কিন কূটনীতিকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কূটনীতিক সিএনএনকে বলেন, পরিস্থিতিকে শুধু বিশৃঙ্খল বললে কম বলা হবে। তার ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্য থেকে পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নিতে যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা অনেক ক্ষেত্রে পুরো ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

যুদ্ধের শুরুর দিকে কর্মস্থল ছেড়ে যাওয়া অনেক পরিবারকে নতুন বাসস্থান খুঁজতে এবং সন্তানদের অন্য স্কুলে ভর্তি করাতে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। সম্প্রতি তারা আবার কর্মস্থলে ফিরে স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এখন নতুন করে সরে যাওয়ার নির্দেশ পাওয়ায় একই ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন তারা।

আমেরিকান ফরেন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র নিকি গেমার বলেন, চলতি বছরের শুরুর দিকে পরিবারগুলো যে বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তারই পুনরাবৃত্তি। অনেক পরিবার কেবল নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে শুরু করেছিল। এর মধ্যেই আবার চলে যাওয়ার নির্দেশ পাওয়ায় তারা হতাশ, বিভ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা শুক্রবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মী ও তাদের পরিবারকে দৈনিক ভাতা এবং বাসস্থান ও স্কুলসংক্রান্ত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশের ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী নির্ধারিত সরকারি হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

সৌদি আরবে হুথিদের তৎপরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কর্মী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এর আগে সতর্ক করে বলেছে, হুথিদের হামলার ঝুঁকি তাৎক্ষণিক লক্ষ্যবস্তুর আশপাশের এলাকা ছাড়িয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনার কথা বলেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দ্রুত সামরিক পদক্ষেপ নিতে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ দিলেও এখন পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব থেকে জরুরি দায়িত্বে নেই, এমন মার্কিন কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও লেবাননের মার্কিন দূতাবাসগুলোতে কর্মীসংখ্যা গোপনে সমন্বয় করা হচ্ছে বলে সিএনএনকে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, লেবানন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও জর্ডানে সীমিত কার্যক্রমের আওতায় কর্মীদের উপস্থিতিতে সাময়িক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তবে কুয়েত ও বাহরাইনে কর্মীসংখ্যায় কোনো পরিবর্তন করা হয়নি বলে জানান তিনি।

কর্মীদের উপস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয় উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, সীমিত কার্যক্রমের আওতায় দূতাবাসগুলোতে কর্মীসংখ্যা প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় করা হয়ে থাকে।

সৌদি আরবের ক্ষেত্রে কর্মীদের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হলেও অন্য কয়েকটি দেশের দূতাবাস থেকে কর্মী সরানোর বিষয়ে প্রকাশ্যে ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এসব দূতাবাসের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। সেগুলো আগের মতোই সীমিত কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে। তবে এই অবস্থার মধ্যেও কর্মীসংখ্যা কমানো বা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

জর্ডানের রাজধানী আম্মান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ পাওয়া দূতাবাসকর্মীদের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত এক সূত্র বলেন, তাদের কাছে মনে হচ্ছে, একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অনেককে কর্মস্থলে ফিরতে দেওয়া হলেও এখন আবার তাদের চলে যেতে হচ্ছে। সব দূতাবাসে সন্তানদের ফিরতে দেওয়া না হলেও অনেক ক্ষেত্রে জীবনসঙ্গীদের ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্রের অভিযোগ, ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও মাঠপর্যায়ের কূটনীতিকদের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ে আবারও জটিলতা দেখা দিয়েছে। কর্মীদের পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেলে তাদের দৈনিক ভাতা দেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কিছু দূতাবাসে কর্মীদের নিয়ে প্রচলিত পরিকল্পনা বৈঠক বা টাউন হল সভাও হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে অনেকে নিজ নিজ দূতাবাসের নেতৃত্বের কাছ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার আগেই সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে প্রত্যাহারের খবর জানতে পেরেছেন।

আমেরিকান ফরেন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, এ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে তারা বিভিন্ন অভিযোগ পাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, যেসব পরিবার সম্প্রতি কর্মস্থলে ফিরেছে এবং সন্তানদের আবার স্কুলে ভর্তি করিয়েছে, তাদের আর্থিক সহায়তার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়াই নতুন করে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হচ্ছে।

নিকি গেমার বলেন, সৌদি আরবের বাইরে থাকা কয়েকটি দেশের পরিবারগুলোও আবাসন সহায়তা ও দৈনিক ভাতা নিশ্চিত না করেই চলে যাওয়ার নির্দেশ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। দূতাবাসগুলোর কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক অবস্থায় পরিবর্তন না আসায় এসব সুবিধা পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে তাদের জানানো হয়েছে।

বিদেশে হঠাৎ বাসস্থান ছাড়তে হলে নতুন বাড়ি খোঁজা ও অন্যান্য জরুরি ব্যয় মেটাতে পরিবারগুলো সাধারণত এসব ভাতার ওপর নির্ভর করে। বিশেষ করে পরিবারের কোনো সদস্যকে জরুরি দায়িত্বে দূতাবাসে থেকে যেতে হলে এ ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

গেমার বলেন, বিমানে ওঠার আগেই পরিবারগুলোর জানা প্রয়োজন, নতুন জায়গায় বাসস্থানের খরচ কীভাবে মেটানো হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা বলেন, সীমিত কার্যক্রম, অনুমোদিত প্রস্থান কিংবা বাধ্যতামূলক প্রত্যাহারের আওতায় থাকা কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের জন্য এ সময়টি যে কঠিন, তা কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারছে। অতিরিক্ত ব্যয় ও সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করানোসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবারগুলোকে সহায়তা করার চেষ্টা চলছে।

সাম্প্রতিক পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং আগামী দিনগুলোতে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।

ইরানে আজই হামলা হতে পারে, জানালেন ট্রাম্প

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২৬
ইরানে আজই হামলা হতে পারে, জানালেন ট্রাম্প

ইরানে আবারও সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রোববার (আজ) ইরানে হামলা শুরু হতে পারে। তবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে চুক্তিতে রাজি হলে বড় ধরনের সমঝোতার পথও খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলার আশঙ্কা কয়েক দিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় সময় শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, রোববারই ইরানে হামলা শুরু হতে পারে। তবে ইরানের সঙ্গে বড় কোনো চুক্তি হলে সামরিক পদক্ষেপ এড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

ইরানে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হামলার ব্যাপারে ভাবছি, সম্ভবত আগামীকাল (আজ রোববার) হতে পারে।’

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে চুক্তিতে সম্মত হলে নতুন করে হামলা থেকে রক্ষা পেতে পারে। তবে ইরান চুক্তি করতে চাইলেও তা মেনে চলার বিষয়ে দেশটির প্রতিশ্রুতি কতটা নির্ভরযোগ্য, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানিরা চুক্তি চায়। কিন্তু সমস্যা হলো, তারা কী চুক্তি মানার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে পারবে?’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটিই তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। গত বছরের জুনে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্পের ভাষ্য, চলতি বছর তিনি যদি আবারও ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত না নিতেন, তাহলে গত বছরের হামলা দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে যথেষ্ট কার্যকর হতো কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যেত।

এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগের মতোই তেল সরবরাহ হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে দেশটিকে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে বাধ্য করা হতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমার কাজটি হয়তো সম্পন্ন করতে হবে। আর নয়তো তারা হয়তো চুক্তি করবে। কিন্তু আমি নিশ্চিত নই। সামরিক হামলা বা চুক্তি যেভাবেই হোক, আমরা জিতব।’

ট্রাম্পের এসব বক্তব্যে ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা—দুই বিষয়ই সামনে এসেছে। তবে রোববার হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।