৪ নভেম্বর ২০২৬

কাতারজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে সালাতুল ইস্তিস্কার নামাজ: মুসল্লিদের সাথে শরিক হবেন আমীর

প্রকাশ: বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬
কাতারজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে সালাতুল ইস্তিস্কার নামাজ: মুসল্লিদের সাথে শরিক হবেন আমীর

মহানবীর (সা.) সুন্নাহ অনুসরণ করে বৃষ্টি ও রহমতের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়ার উদ্দেশ্যে দেশজুড়ে সালাতুল ইস্তিস্কা আদায়ের আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানী।

আগামীকাল ৫ নভেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার (২৫ জুমাদাল উলা ১৪৪৮ হিজরি) সকালে কাতারজুড়ে এই বিশেষ নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

আমীরি দেওয়ান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানী লুসাইল ঈদগাহ বা প্রার্থনা মাঠে সমবেত মুসল্লিদের সাথে নিজে উপস্থিত থেকে এই ইস্তিস্কার নামাজ আদায় করবেন।

আওকাফ ও ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা

কাতারের আওকাফ ও ইসলামী বিষয়ক মন্ত্রণালয় কাতারের নাগরিক ও প্রবাসীদের রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর সুন্নাহ অনুসরণে সর্বসম্মতিক্রমে এই নামাজে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সময়সূচি: ৫ নভেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকাল ঠিক ৫:৫৯ মিনিটে কাতারজুড়ে নির্ধারিত মসজিদ ও জামাত কেন্দ্রগুলোতে ইস্তিস্কার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

প্রস্তুতি ও নিয়মাবলী: ইস্তিস্কার নামাজে অংশগ্রহণের পূর্বে তওবা করা, পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা, দান-সদকা করা এবং বিনম্র ও নম্র অন্তরে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনার মানসিকতা নিয়ে হাজির হওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইস্তিস্কা নামাজের তাৎপর্য

‘ইস্তিসকা’ মানে বৃষ্টি প্রার্থনা করা। অনাবৃষ্টিকালে বৃষ্টি প্রার্থনার উদ্দেশ্যে একাকী কিংবা সমবেতভাবে আল্লাহ তাআলার কাছে ইস্তিগফার-দুআ-মুনাজাত-রোনাজারি করা; তদ্রুপ একাকী কিংবা সমবেতভাবে সালাত আদায় করা, অতঃপর আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ-মুনাজাত-রোনাজারি করে বৃষ্টি প্রার্থনা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবা-তাবেয়ীন অনাবৃষ্টি দেখা দিলে ইস্তিগফার ও আল্লাহ তাআলার কাছে কায়মনোবাক্যে দুআর প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দিতেন। এক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো সমবেত লোকদের নিয়ে সালাতুল ইস্তিসকা (বৃষ্টি প্রার্থনার সালাত) আদায় করে বৃষ্টির জন্য দুআ করেছেন।

আবার কখনো সালাত ছাড়া সমবেত লোকদের নিয়ে ইস্তিগফার-দুআ-মুনাজাত-রোনাজারি করে বৃষ্টি প্রার্থনা করেছেন। সাহাবা-তাবেয়ীনও অনাবৃষ্টি দেখা দিলে বৃষ্টির জন্য দুআ করেছেন।

বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরেও জাতীয়ভাবে দেশজুড়ে এই সুন্নাহ পালিত হতে যাচ্ছে।

কাতারজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে সালাতুল ইস্তিস্কার নামাজ: মুসল্লিদের সাথে শরিক হবেন আমীর

প্রকাশ: বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬
কাতারজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে সালাতুল ইস্তিস্কার নামাজ: মুসল্লিদের সাথে শরিক হবেন আমীর

মহানবীর (সা.) সুন্নাহ অনুসরণ করে বৃষ্টি ও রহমতের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়ার উদ্দেশ্যে দেশজুড়ে সালাতুল ইস্তিস্কা আদায়ের আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানী।

আগামীকাল ৫ নভেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার (২৫ জুমাদাল উলা ১৪৪৮ হিজরি) সকালে কাতারজুড়ে এই বিশেষ নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

আমীরি দেওয়ান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানী লুসাইল ঈদগাহ বা প্রার্থনা মাঠে সমবেত মুসল্লিদের সাথে নিজে উপস্থিত থেকে এই ইস্তিস্কার নামাজ আদায় করবেন।

আওকাফ ও ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা

কাতারের আওকাফ ও ইসলামী বিষয়ক মন্ত্রণালয় কাতারের নাগরিক ও প্রবাসীদের রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর সুন্নাহ অনুসরণে সর্বসম্মতিক্রমে এই নামাজে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সময়সূচি: ৫ নভেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকাল ঠিক ৫:৫৯ মিনিটে কাতারজুড়ে নির্ধারিত মসজিদ ও জামাত কেন্দ্রগুলোতে ইস্তিস্কার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

প্রস্তুতি ও নিয়মাবলী: ইস্তিস্কার নামাজে অংশগ্রহণের পূর্বে তওবা করা, পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা, দান-সদকা করা এবং বিনম্র ও নম্র অন্তরে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনার মানসিকতা নিয়ে হাজির হওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইস্তিস্কা নামাজের তাৎপর্য

‘ইস্তিসকা’ মানে বৃষ্টি প্রার্থনা করা। অনাবৃষ্টিকালে বৃষ্টি প্রার্থনার উদ্দেশ্যে একাকী কিংবা সমবেতভাবে আল্লাহ তাআলার কাছে ইস্তিগফার-দুআ-মুনাজাত-রোনাজারি করা; তদ্রুপ একাকী কিংবা সমবেতভাবে সালাত আদায় করা, অতঃপর আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ-মুনাজাত-রোনাজারি করে বৃষ্টি প্রার্থনা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবা-তাবেয়ীন অনাবৃষ্টি দেখা দিলে ইস্তিগফার ও আল্লাহ তাআলার কাছে কায়মনোবাক্যে দুআর প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দিতেন। এক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো সমবেত লোকদের নিয়ে সালাতুল ইস্তিসকা (বৃষ্টি প্রার্থনার সালাত) আদায় করে বৃষ্টির জন্য দুআ করেছেন।

আবার কখনো সালাত ছাড়া সমবেত লোকদের নিয়ে ইস্তিগফার-দুআ-মুনাজাত-রোনাজারি করে বৃষ্টি প্রার্থনা করেছেন। সাহাবা-তাবেয়ীনও অনাবৃষ্টি দেখা দিলে বৃষ্টির জন্য দুআ করেছেন।

বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরেও জাতীয়ভাবে দেশজুড়ে এই সুন্নাহ পালিত হতে যাচ্ছে।

কাতারের হাত ধরে ফের শান্তি চুক্তি? মার্কিন-ইরান চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সায়

প্রকাশ: বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬
কাতারের হাত ধরে ফের শান্তি চুক্তি? মার্কিন-ইরান চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সায়

কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের কাছে উপস্থাপিত একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়ায় যুক্তরাষ্ট্র অনুমোদন দিয়েছে বলে জানা গেছে। আনাদোলু এজেন্সি মঙ্গলবার এই খবর নিশ্চিত করেছে।

কাতারি সংবাদপত্র 'আল-আরাবি আল-জাদিদ'-কে সূত্রগুলো জানিয়েছে, 'মধ্যস্থতাকারী দলটি সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও এই সমঝোতা স্মারক সম্পর্কে অবহিত করেছে এবং তারাও এতে সম্মতি প্রকাশ করেছে।'

সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অবরুদ্ধ (ফ্রিজ করা) অর্থসম্পদের বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই কিছুটা ছাড় দিয়েছে।

'তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দেবে, যার বিনিময়ে ওয়াশিংটন ইরানের অবরুদ্ধ অর্থসম্পদের একটি অংশ মুক্ত করার ঘোষণা দেবে,' সূত্রগুলো উল্লেখ করে যে, দুটি ঘোষণাই একই সাথে দেওয়া হবে।

প্রাথমিক পদক্ষেপ এবং একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির ঘোষণাসহ উভয় পক্ষ কীভাবে একই সাথে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে—যা নতুন করে আলোচনার পথ উন্মুক্ত করবে—সে সংক্রান্ত প্রস্তুতি ও বন্দোবস্ত নিয়ে আলোচনা চলছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা চালানোর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি অর্জিত হওয়ার আগে তেহরান ইসরাইল এবং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন স্বার্থে পাল্টা হামলা চালিয়ে জবাব দিয়েছিল।

পরে ১৮ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরান হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করলেও, প্রণালীর নিরাপত্তা সম্পর্কিত দ্বিমতের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়।

যুদ্ধ বন্ধে ইরান-কাতার আলোচনায় যা উঠে এলো

প্রকাশ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৩, ২০২৬
যুদ্ধ বন্ধে ইরান-কাতার আলোচনায় যা উঠে এলো

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ করে দোহা ত্যাগ করেছেন ইরানি আলোচকরা। আলোচনায় অর্জিত অগ্রগতির ভিত্তিতে তৈরি সম্ভাব্য চুক্তির একটি খসড়া প্রস্তাব এখন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে দুই পক্ষ আবারও বৈঠকে বসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করে এক কর্মকর্তা জানান, ইরানি প্রতিনিধি দল দোহা ছাড়লেও আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক ছিল। কোনো মতভেদের কারণে বৈঠক থেমে যায়নি, বরং খসড়া প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্যই এ বিরতি নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। সেপ্টেম্বরে তেহরানের দেওয়া ৭ দফার পরিকল্পনা নিয়েই কথা হয়েছে।

দোহা বৈঠকের প্রসঙ্গে বাঘাই জানান, কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরোক্ষ বার্তা আদান-প্রদান সহজ করতে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দোহায় অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেন, আমাদের দাবিগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। এসব দাবি যৌক্তিক এবং ন্যায়সঙ্গত।

মার্কিন নৌ অবরোধের অবসান, ইরানের সব দাবির প্রতি সম্মান এবং ইরানের ন্যায্য প্রয়োজনীয়তা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনও চুক্তি সই হবে না। এমনকি এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত বা সুরক্ষিত করাও সম্ভব নয়।

অবশ্য তেহরানের শুরুতেই দেওয়া প্রাথমিক প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন করে সংঘাত শুরু হতে পারে- এমন আশঙ্কায় দোহায় এ কূটনৈতিক তৎপরতা। মার্কিন নির্বাচন নিয়ে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাওয়া হলে বাঘাই বলেন, নির্বাচনে নতুন একটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্ম হবে বলে তেহরান মনে করে না।

অন্যদিকে ট্রাম্পও নিজের অবস্থানে নমনীয় ও অনড়- দুই রূপই বজায় রেখেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন কোনো হামলা চালানো হবে না এবং আলোচনা বেশ ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিতে আবারও সামরিক পথ বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি।

৪ দেশের শীর্ষ নেতাদের সাথে কথা বললেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৩, ২০২৬
৪ দেশের শীর্ষ নেতাদের সাথে কথা বললেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী

আরব উপসাগর ও সংলগ্ন আন্তর্জাতিক নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে কাতার।

এ লক্ষ্যে লেবানন, জর্ডান, তুরস্ক ও মিসরের শীর্ষ কূটনীতবিদ ও সরকারপ্রধানদের সাথে দফায় দফায় ফোনালাপ ও পরামর্শ করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন জাসিম আল-থানী।

আলোচনায় কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোর মধ্যে সমন্বয় রেখে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মুক্ত ও নিরাপদ সামুদ্রিক চলাচল নিশ্চিত করতে একটি সর্বসম্মত চুক্তিতে পৌঁছানোর ওপর কাতার তাদের দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

যেসব নেতাদের সাথে কথা বলেছেন কাতার প্রধানমন্ত্রী

আঞ্চলিক এই সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান পৃথক ফোনালাপ করেছেন:

  • লেবানন: লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এবং পররাষ্ট্র ও প্রবাসী মন্ত্রী ইউসেফ রাজির সাথে।

  • জর্ডান: জর্ডানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদির সাথে।

  • তুরস্ক: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাথে।

  • মিসর: মিসরের পররাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রবাসী বিষয়ক মন্ত্রী বদর আবদেলআতির সাথে।

ফোনালাপগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয় এবং সামরিক সংঘাত এড়াতে কীভাবে যৌথ কূটনৈতিক পদক্ষেপ জোরদার করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে জানান, সামুদ্রিক নাব্যতা ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা সুরক্ষা এবং অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। কাতার সবসময়ই সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিশ্বাসী।

এছাড়া লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালামের সাথে আলাপকালে কাতার প্রধানমন্ত্রী লেবাননের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও দেশটির জনগণের প্রতি কাতারের অবিচল সংহতি ও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সাথে বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় নিয়েও ফোনালাপে আলোকপাত করা হয়।

আল জাজিরার ৩০ বছর পূর্তি: প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে আমীর শেখ তামিম

প্রকাশ: সোমবার, নভেম্বর ০২, ২০২৬

"গল্পের পথচলা অব্যাহত..." প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ মাধ্যম ‘আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক’-এর ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে।

গত সন্ধ্যায় আল জাজিরা সদর দপ্তরে আয়োজিত বর্ণাঢ্য এই বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানী।

অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পর আমীর আল জাজিরার গত তিন দশকের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, ইতিহাস ও অগ্রযাত্রার ওপর নির্মিত একটি বিশেষ ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। এছাড়া নেটওয়ার্কটির প্রতিষ্ঠাতা, মরহুম ফাদার আমীর শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানীর দৃষ্টিভঙ্গি ও গণমাধ্যমে আল জাজিরার ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরে একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

নতুন ডিজিটাল স্টুডিও ও নিউজ রুম পরিদর্শন

অনুষ্ঠান শেষে আমীর শেখ তামিম আল জাজিরার নতুন হাই-টেক স্টুডিও এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ নিউজ রুম পরিদর্শন করেন। এ সময় সম্প্রচার ও টেলিভিশন সংবাদ পরিবেশনায় ব্যবহৃত আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিশ্বমানের প্রযুক্তি সম্পর্কে তাঁকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন জাসিম আল-থানী, আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান শেখ হামাদ বিন সামের আল-থানী, ডিরেক্টর জেনারেল শেখ নাসের বিন ফয়সাল আল-থানী, দেশি-বিদেশি মন্ত্রী, আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।

তিন দশকের সাফল্য ও চ্যালেঞ্জের ইতিহাস

১৯৯৬ সালে ফাদার আমীর শেখ হামাদ বিন খলিফা আল-থানীর হাত ধরে মাত্র ৬ ঘণ্টার সম্প্রচার দিয়ে শুরু হওয়া আল জাজিরা আজ বিশ্ব গণমাধ্যমের অন্যতম পরাশক্তি।

গ্লোবাল নেটওয়ার্ক: বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে ৪৩ কোটি (৪৩০ মিলিয়ন) পরিবারে পৌঁছে যায় আল জাজিরা। বিশ্বের ৭০টিরও বেশি ব্যুরোতে ৯৫টি দেশের প্রায় ৩,০০০-এর বেশি কর্মী কাজ করছেন।

বিপ্লব ও সম্মাননা: ২০০১ সালে কাবুল ও ২০০৩ সালে বাগদাদে আল জাজিরার কার্যালয়ে হামলা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের সাহসী সাংবাদিকতা থামায়নি। ২০১১ সালের ‘আরব বসন্ত’-এর কভারেজের জন্য চ্যানেলটি মর্যাদাপূর্ণ ‘পীবডি অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করে।

সাংবাদিকদের আত্মত্যাগ: পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত আল জাজিরার ২৪ জনেরও বেশি সংবাদকর্মী শহীদ হয়েছেন। যাদের মধ্যে অন্যতম ২০২২ সালে জেনিনে নিহত শিরিন আবু আকলেহ এবং ২০২৫ সালে গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত আনাস আল-শরীফ।

৩০ বছর পূর্তির এই বিশেষ মুহূর্তে আল জাজিরা তাদের নতুন ডিজিটাল চ্যানেল ‘আল জাজিরা নাও’ (Al Jazeera Now) এবং ৩০টিরও বেশি নতুন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতিষ্ঠানটির ৫ কোটি ২০ লাখ (৫২ মিলিয়ন) অনুসারী রয়েছে।