৪ নভেম্বর ২০২৬

সৌদির সঙ্গে আলোচনা, বিদেশি সেনামুক্ত মধ্যপ্রাচ্য চায় ইরান

প্রকাশ: বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬
সৌদির সঙ্গে আলোচনা, বিদেশি সেনামুক্ত মধ্যপ্রাচ্য চায় ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক দেশগুলোর নেতৃত্বে নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায় ইরান। এজন্য সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো শত্রুতা নেই। কাতার ও ওমানের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।

তার ভাষায়, আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের উদ্যোগেই নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত, যেখানে কোনো বিদেশি সামরিক উপস্থিতি থাকবে না।

সোমবার (২ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি জানান, সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের তেহরান সফরের সময় নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চার দেশ সহযোগিতা বাড়াতে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।

আরাঘচি বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার কোনো ইচ্ছা ইরানের নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। নতুন সংঘাত এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।

এদিকে কাতারের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সামুদ্রিক অবরোধ বন্ধ, ইরানের তেল রপ্তানির সুযোগ নিশ্চিত করা, জব্দ সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর দাবি পূরণ করতে হবে। এরপরের দিন প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

আরাঘচি জানান, কাতারের মধ্যস্থতায় নিউইয়র্কে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। তবে সরাসরি বৈঠকের বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। তিনি স্পষ্ট করেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা আলাদা বিষয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। ইরান কূটনীতিতে আগ্রহী হলেও নতুন সামরিক হামলা হলে জবাব দিতে তাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

সৌদির সঙ্গে আলোচনা, বিদেশি সেনামুক্ত মধ্যপ্রাচ্য চায় ইরান

প্রকাশ: বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬
সৌদির সঙ্গে আলোচনা, বিদেশি সেনামুক্ত মধ্যপ্রাচ্য চায় ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক দেশগুলোর নেতৃত্বে নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায় ইরান। এজন্য সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো শত্রুতা নেই। কাতার ও ওমানের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।

তার ভাষায়, আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের উদ্যোগেই নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত, যেখানে কোনো বিদেশি সামরিক উপস্থিতি থাকবে না।

সোমবার (২ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি জানান, সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের তেহরান সফরের সময় নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চার দেশ সহযোগিতা বাড়াতে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।

আরাঘচি বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার কোনো ইচ্ছা ইরানের নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। নতুন সংঘাত এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।

এদিকে কাতারের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সামুদ্রিক অবরোধ বন্ধ, ইরানের তেল রপ্তানির সুযোগ নিশ্চিত করা, জব্দ সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর দাবি পূরণ করতে হবে। এরপরের দিন প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

আরাঘচি জানান, কাতারের মধ্যস্থতায় নিউইয়র্কে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। তবে সরাসরি বৈঠকের বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। তিনি স্পষ্ট করেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা আলাদা বিষয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। ইরান কূটনীতিতে আগ্রহী হলেও নতুন সামরিক হামলা হলে জবাব দিতে তাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

পাকিস্তানি নাগরিকদের অন অ্যারাইভাল ভিসা দিচ্ছে কাতার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৩, ২০২৬
পাকিস্তানি নাগরিকদের অন অ্যারাইভাল ভিসা দিচ্ছে কাতার

পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য কাতারে অন অ্যারাইভাল ট্যুরিস্ট ভিসার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ ভিসায় দেশটিতে ৩০ দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন তারা। তবে ভিসা পেতে ফিরতি টিকিট, নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের প্রমাণসহ বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। যাত্রার আগে হোটেল বুকিং ও স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থাও সম্পন্ন করতে হবে।

গত রোববার (১ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের নাগরিকরা এখন কাতারে পৌঁছানোর পর ৩০ দিনের পর্যটন ভিসা নিতে পারবেন। তবে এ জন্য তাদের নির্দিষ্ট আর্থিক সামর্থ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে ভিসার মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়ানো যাবে। এ ক্ষেত্রে নিশ্চিত ফিরতি টিকিট থাকতে হবে।

অবশ্য কাতারে অন অ্যারাইভাল ট্যুরিস্ট ভিসা নিতে ইচ্ছুক পাকিস্তানি নাগরিকদের দেশটিতে প্রবেশের সময়ই নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে দেশ ছাড়ার আগেই হোটেল বুকিং ও স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থাও সম্পন্ন করতে হবে। ভিসার মেয়াদ হবে ৩০ দিন। প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করলে একই মেয়াদে আরও একবার ভিসা বাড়ানো যাবে।

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি আবেদনকারীদের নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে— আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ হিসেবে বৈধ ক্রেডিট কার্ডে অন্তত ৫ হাজার কাতারি রিয়াল অথবা সমপরিমাণ অর্থ থাকতে হবে। নিশ্চিত ফিরতি টিকিট দেখাতে হবে। পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ছয় মাস থাকতে হবে।

ভিসা ৩০ দিনের জন্য বৈধ থাকবে। পরে আরও ৩০ দিন বাড়ানো যাবে। তবে মেয়াদ বাড়ানোর আগে নিশ্চিত ফিরতি টিকিট থাকতে হবে। পাকিস্তান থেকে সরাসরি কাতারে আসা যাত্রীদের সঙ্গে পোলিও টিকা নেয়ার সনদ থাকতে হবে। এছাড়া ব্যবসায়িক ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কেবল ব্যবসায়িক ভিসা দেয়ার কথাও বলা হয়েছে।

কাতারে যাওয়ার আগে যাত্রীদের হোটেল বুকিং ও স্বাস্থ্যবিমা করতে হবে। হোটেল বুক করতে হবে ডিসকভার কাতারের মাধ্যমে। আর অন্তত এক মাসের স্বাস্থ্যবিমা নিতে হবে, যার খরচ ৫০ কাতারি রিয়াল। কিউআইসি ও কিউএলএমসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে এ বিমা নেয়া যাবে।

সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির শঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে উপসাগরীয় দেশগুলো: দ্য গার্ডিয়ান

প্রকাশ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৩, ২০২৬
সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির শঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে উপসাগরীয় দেশগুলো: দ্য গার্ডিয়ান

ইরানের জব্দ করা ৬০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে কাতারের মধ্যস্থতায় চলছে পরোক্ষ আলোচনা। এই অর্থ ছাড়ের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর পথ তৈরি হতে পারে। তবে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা উপসাগরীয় দেশগুলো সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এ বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মকর্তারা ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির’ জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রোববার কাতারের রাজধানী দোহায় এ আলোচনা অব্যাহত থাকে। এতে মধ্যস্থতা করছে কাতার। দেশটি ইরানের জব্দ করা ৬০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা করছে। এই অর্থ ছাড়ের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু হতে পারে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেছেন, নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানো ইরান কিংবা তার প্রতিবেশী কোনো দেশের স্বার্থেই নয়। তবে পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে তার জন্যও প্রস্তুতি রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আগেও যেমন দেখিয়েছি, এবারও সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’

৪ দেশের শীর্ষ নেতাদের সাথে কথা বললেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী

গারগাশ আরো বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশটি তাদের প্রতিবেশী। দীর্ঘস্থায়ী সংকটে ইরান জড়িয়ে পড়ুক, তা তারা চান না।

এদিকে হরমুজ প্রণালির কাছে পাকিস্তানগামী কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) জাহাজে শুক্রবার অজ্ঞাতপরিচয় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও কাতারের মধ্যস্থতা অব্যাহত রয়েছে। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই তেহরান জাহাজটিকে সরাসরি অনুমতি ও নিরাপদে চলাচলের ছাড়পত্র দিয়েছিল।

দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট কাটাতে কাতার এমন একটি পরিকল্পনায় সমঝোতার চেষ্টা করছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও পরমাণু আলোচনা শুরুর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। এ প্রক্রিয়ার সময়সীমা সাত দিন থেকে কমিয়ে দুই দিনে আনতে সম্মত হয়েছে ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন অন্য পথের পরিবর্তে কূটনীতিকে বেছে নেয়, সেটিই তাঁর প্রত্যাশা। ওয়াশিংটনের ‘যুক্তিবোধের’ ওপর নির্ভর করে ইরান প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি—দুই পথের জন্যই প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন আরাগচি।

দোহার মধ্যস্থতামূলক আলোচনায় সরাসরি অংশ নিচ্ছেন না আরাগচি। সোমবার তাঁর তুর্কমেনিস্তান যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইরানের অন্য কূটনীতিকেরা দোহার আলোচনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।

এর আগে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ ধ্বংস করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এখনো এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবস্থা নেওয়া বাকি রয়েছে। হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা ‘ভালোভাবেই চলছে’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানকে খুব একটা নির্ভরযোগ্য মনে হয় না।

শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, কূটনৈতিক সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি জানান, আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের ‘সুরে’ ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করেছেন বলেও জানান রেজায়ি। তবে চিঠির জবাব এখনো দেননি তিনি।

শনিবার আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, তেলবাহী জাহাজ চলাচলে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের সম্পদ ছাড়ের পথে বাধা বন্ধ করা এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

তবে ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ আবারও জানিয়েছেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি নয় তেহরান। তিনি বলেন, ‘আমাদের শত্রুদের বুঝতে হবে, ইরানি জনগণ যেকোনো পরিস্থিতিতে বা চাপের মুখেও পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ বিষয়ে আলোচনার জন্য এই মহান জাতি শত্রুদের যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনার কিছু অংশে অবৈধ বোমা হামলার মুখে পড়তে হয়েছে।’

এদিকে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান রেজায়ি দাবি করেছেন, ট্রাম্প এমন এক যুদ্ধের চাপে রয়েছেন, যার আন্তর্জাতিক প্রভাব ভিয়েতনাম যুদ্ধের চেয়েও বিস্তৃত। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে তিনি বলেন, ‘আজ ট্রাম্প যেখানেই যান, তাঁকে জবাব দিতে হয়—কেন তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে এমন কোনো পরিবার নেই, যারা ইরানের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট চাপের মুখে পড়েনি।’

দ্য গার্ডিয়ান-এর কূটনৈতিক সম্পাদক প্যাট্রিক উইনটুরের প্রতিবেদন অবলম্বনে।

এবার মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত সমাধানে এগিয়ে আসলো চীন

প্রকাশ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৩, ২০২৬
এবার মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত সমাধানে এগিয়ে আসলো চীন

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত সমাধানের লক্ষ্যে চীন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বৃদ্ধি করেছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) বেইজিংয়ে ইরানের এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিককে রাষ্ট্রীয় সফরে স্বাগত জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি সেক্রেটারি আলী বাঘেরি কানির সঙ্গে বৈঠকে জানান, আঞ্চলিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার পর ‘সংলাপিই এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র সম্ভাব্য পথ’। তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি এই সংঘাত শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন।

ফের যুদ্ধ বাধলে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে ইরান

বেইজিং থেকে আল জাজিরার ক্যাটরিনা ইউ জানান, তেহরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং ইরানি অপরিশোধিত তেলের প্রধান ক্রেতা হওয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি চীনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কিছু সময় স্থবির ছিল।

তবে বেইজিং চলমান প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে চায় এবং অগ্রগতির অভাবে তারা ক্রমশ অধৈর্য হয়ে উঠছে। এর অংশ হিসেবে চলতি মাসে চীনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন ইরান, ওমান ও সৌদি আরব সফর করবেন বলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে।

অন্যদিকে ১৯৭৮ সালে দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর ওমানের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে চীন সফর করেন সুলতান হাইথাম বিন তারিক। তাকে স্বাগত জানিয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন যে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলকে ‘মহাশক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্র করা উচিত নয়’।

হরমুজ প্রণালির অপর পাশে অবস্থিত ওমান কৌশলগত এই জলপথে নৌপথ নিরাপত্তার জন্য একটি প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে, যা দিয়ে ইউএস-ইরান সংঘাতের কারণে চলাচল সীমিত হওয়ার আগে বৈশ্বিক জ্বালানি রপ্তানির পাঁচ ভাগের এক ভাগ প্রবাহিত হতো। ওমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি ‘নতুন ঐতিহাসিক শুরুর বিন্দু’ হিসেবে বর্ণনা করে শি জিনপিং চীনের জ্বালানি আমদানির জন্য এই সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন।

ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ২৬ মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস, ক্ষতি শত কোটি ডলারের

রাষ্ট্রীয় এই সফরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ শক্তি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলসহ ১৪টি সহযোগিতা চুক্তি এবং একটি কারেন্সি সোয়াপ চুক্তি স্বাক্ষর করে চীন ও ওমান। এক যৌথ বিবৃতিতে উভয় দেশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল পুনরায় চালু করার আহ্বান জানায় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনায় ফেরার নির্দেশ দেয়।

ক্যাটরিনা ইউ জানান, সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় ওমানের ভূমিকা উভয় পক্ষের জন্যই অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে ওমানের অনেক বন্দর হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত হওয়ার কারণে।

সূত্র: আল জাজিরা

ভোরে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দফায় দফায় বিস্ফোরণ

প্রকাশ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৩, ২০২৬
ভোরে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দফায় দফায় বিস্ফোরণ

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহতে দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো।

বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে বিস্ফোরণের কারণ, হতাহত বা ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

কীসের আশঙ্কায় খাবার-পানি মজুতের নির্দেশ দিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ?

মূলত এমন এক সময়ে এই হামলার খবর এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে অনেকটা খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় সময় সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। আমরা জিতেছি’। তিনি আরও বলেন, ‘এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কিনা, তা আমি জানি না। কারণ, কয়েক মাস ধরে আমরা কোনো লড়াই করছি না।’

তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোট পরিসরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা এসব অভিযানকে প্রতিরক্ষামূলক বলে বর্ণনা করেছেন। তাদের ভাষ্য, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি বা জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন থেকে ইরানকে বিরত রাখতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।

এদিকে পৃথক প্রতিবেদনে আনাদোলু জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপ ও হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহতে সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে।

ফের যুদ্ধ বাধলে মধ্যপ্রাচ্যের যেসব স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে ইরান

বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হতাহত বা ক্ষতির বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি সংবাদমাধ্যম দুটি। মূলত হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই বিস্ফোরণের খবর এলো।

সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশ বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছে। তিনি নিশ্চিত করেন, কাতারের মধ্যস্থতায় এ যোগাযোগ সহজ করতে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন।

এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইসরায়েল এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। পরে এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।

হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। তবে প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়।

ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ২৬ মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস, ক্ষতি শত কোটি ডলারের