৪ নভেম্বর ২০২৬

কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি নিতে চায় ভারত

প্রকাশ: বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬
কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি নিতে চায় ভারত

ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিকল্প উৎস থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে ভারত। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা এলএনজি কাতারের সঙ্গে নতুন সরবরাহ চুক্তির আওতায় আনার ভারতের প্রস্তাব বিবেচনা করতে রাজি হয়েছে কাতার।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পেট্রোনেট এলএনজির (পিএলএনজি) এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের বৃহত্তম গ্যাস আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পেট্রোনেট এলএনজি লিমিটেড ২০২৮ সাল থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি কেনার বিষয়ে কাতারের সঙ্গে আলোচনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার বিবেক মিত্তাল বিশ্লেষকদের সঙ্গে এক আলোচনায় এ তথ্য জানান। ভারতে সবচেয়ে বেশি এলএনজি সরবরাহ করে কাতার।

বর্তমানে পেট্রোনেটকে বছরে ৭৫ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি সরবরাহের চুক্তি রয়েছে কাতারের। ২০২৮ সালের এপ্রিলে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা আরও ২০ বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ২০৪৮ সাল পর্যন্ত ভারতকে এলএনজি সরবরাহ করবে কাতার।

নতুন চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা এলএনজি সরবরাহ করা যাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিবেক মিত্তাল বলেন, ২০২৮ সালে শুরু হতে যাওয়া চুক্তিতে গ্যাস সরবরাহের উৎস বাড়ানোর বিষয়ে কাতারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভারতের এই প্রস্তাব বিবেচনা করতে রাজি হয়েছে দেশটি।

এ ছাড়া অন্য দেশ থেকে কাতারের কেনা জ্বালানির একটি নির্দিষ্ট অংশ ভারতকে সরবরাহের প্রস্তাবও দিতে পারে কাতার।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের উডসাইডের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে বছরে ৩০ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি কেনার জন্য ২০ বছর মেয়াদি চুক্তি করেছে কাতারএনার্জি। ২০৩০ সাল থেকে এ সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের চেনিয়ের এনার্জির সঙ্গে দুটি চুক্তি করেছে কাতারএনার্জি। এসব চুক্তির আওতায় ২০৫৪ সাল পর্যন্ত বছরে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ মেট্রিক টন এলএনজি কেনার সুযোগ থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবিন পাস ও করপাস ক্রিস্টি স্থাপনা থেকে এসব গ্যাস সরবরাহ করা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে কাতারের জ্বালানি সরবরাহেও। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং কাতারের রাস লাফান গ্যাস স্থাপনায় হামলার পর গত মার্চে চুক্তি অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহ করতে না পারার কথা জানায় কাতারএনার্জি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এ পরিস্থিতি আপাতত ডিসেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করছে। অন্যদিকে, কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় তিনটি গ্যাসবাহী জাহাজের ভাড়া চুক্তিও স্থগিত করেছে পেট্রোনেট।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে নতুন ঊর্ধ্বগতি

প্রকাশ: বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে নতুন ঊর্ধ্বগতি

ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার খবর প্রকাশের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার বেড়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাত নিরসনে কাতারের মধ্যস্থতায় চলমান উদ্যোগ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আশাবাদে তেলের দরপতন হলেও মঙ্গলবার নতুন করে মার্কিন হামলার খবরে জ্বালানি বাজারে ফের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন হামলার ফলে দুপক্ষের মধ্যে আট মাস ধরে চলা সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হওয়ায় তেলের বাজার নতুন করে অস্থির হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার সকালে আন্তর্জাতিক ফিউচার মার্কেটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৮ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ বেড়ে ১০৫ ডলার ২৫ সেন্টে দাঁড়ায়।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেল প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয় ৯৬ ডলার ৯৩ সেন্টে, যা আগের তুলনায় ৪৭ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ বেশি। এর আগে সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮ ডলার ৬৬ সেন্ট বা ৭.৬৩ শতাংশ কমেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। কয়েকজন কর্মকর্তা এই হামলাকে প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে বর্ণনা করে জানান, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা সীমিত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, “এই খবর তেলের দামে নতুন করে কিছুটা ঝুঁকিজনিত মূল্য সংযোজন করেছে। বাজার যখন কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই এই খবর পরিস্থিতির চিত্র বদলে দিয়েছে।”

এদিকে কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চললেও এখনও কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি।

তবে সোমবার তেহরান জানিয়েছে, সংঘাত নিরসনে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনার পর ইরানের পক্ষ থেকে সংশোধিত প্রস্তাব দেওয়া হলেও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে আজ মধ্যবর্তী নির্বাচন

অগ্নিপরীক্ষায় ডোনাল্ড ট্রাম্প, চ্যালেঞ্জে ডেমোক্র্যাটরা

রিপাবলিকান ঘাঁটিতে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা, ইঙ্গিত সমীক্ষায়
প্রকাশ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৩, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে গত দুই বছরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কতটা জনবান্ধবমূলক কাজ করেছে তার রায় আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দেবেন মার্কিনিরা। ট্রাম্পের কথায় তার প্রশাসনের সাফল্যে কতটা মার্কিনিরা খুশি তা জানা যাবে আজ।

দিনটি তার জন্য অগ্নিপরীক্ষাও বটে। কারণ ভোটাভুটির আগে বিভিন্ন সমীক্ষায় রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটরাই এগিয়ে আছেন। তবে এই জনমত জরিপ সব সময় ভালো ফল দেয় না এমন প্রমাণও আছে। ফলে ২০২৪ সালের নভেম্বর ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে হারানো নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

তাই এই নির্বাচন ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ বর্তমান অবস্থা বহাল থাকলে আগামী দুই বছর অনায়াসে কোনো চাপ ছাড়াই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার কাজ চালিয়ে যাবেন, যা ডেমোক্র্যাটদের জন্য সুখকর নাও হতে পারে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে কী পরিণতি হবে ট্রাম্পের?

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে খুশি নন মার্কিনিরা। পরিস্থিতি এমন যে, প্রতিশ্রুতি মতো অভিবাসন নিয়ে একের পর এক কড়া পদক্ষেপের পরেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে একাধিক সমীক্ষায় রিপাবলিকানদের জন্য উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র।

দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত পাঁচটি রাজ্যে সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জোরালো লড়াইয়ে উঠে এসেছেন। কোথাও এগিয়ে তারা, কোথাও আবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। যদিও সরাসরি প্রেসিডেন্ট বেছে নেওয়ার ভোট নয় এটি, তবে এই ভোটের ফলই নির্ধারণ করবে আগামী দুই বছর প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তার ক্ষমতা কাটছাঁট করা হবে কি না।

এমনকি ডেমোক্র্যাটরা জিতলে তার প্রশাসনের কেউ কেউ অভিশংসনেরও মুখোমুখি হতে পারেন। আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, ওহাইও এবং টেক্সাস—এই পাঁচ রাজ্যে নিউ ইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমীক্ষায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে হ্রাসের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই রাজ্যগুলোর অধিকাংশেই জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প।

ভোরে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দফায় দফায় বিস্ফোরণ

পাঁচ রাজ্যে কী বলছে সমীক্ষা?

২ অক্টোবর প্রকাশিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির সমীক্ষা অনুযায়ী, আলাস্কায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলা ৫০ শতাংশ এবং রিপাবলিকান ড্যান সুলিভান ৪৩ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। আইওয়ায় রিপাবলিকান অ্যাশলি হিনসন ৪৮ শতাংশ এবং ডেমোক্র্যাট জশ টুরেক ৪৭ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। কানসাসে রিপাবলিকান রজার মার্শাল ও ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম হ্যামিল্টন দুজনেই ৪৫ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন।

অন্যদিকে, ওহাইও ডেমোক্র্যাট শেরড ব্রাউন ৪৯ শতাংশ এবং রিপাবলিকান জন হাস্টেড ৪৬ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো ৫১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে। সেখানে রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনের ঝুলিতে সমর্থন ৪৫ শতাংশ। অর্থাত্, সমীক্ষা অনুযায়ী, পাঁচ রাজ্যের মধ্যে তিনটিতে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে, কানসাসে সমানে-সমানে লড়াই এবং আইওয়ায় সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রিপাবলিকানরা।

ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ২৬ মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস, ক্ষতি শত কোটি ডলারের

ট্রাম্পের কাজে অসন্তুষ্ট ভোটারদের একাংশ

সমীক্ষার আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, পাঁচ রাজ্যের ৫৭ শতাংশ ভোটার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের সরকার পরিচালনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অর্থনীতি, মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ২১ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থনীতিই তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মূল্যবৃদ্ধি, প্রার্থীর যোগ্যতা এবং অভিবাসন নীতিও ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। এদিকে এনপিআর, পিবিএস নিউজ জেস মারিস্ট জিআইয়ের পৃথক সমীক্ষায় জাতীয় স্তরেও ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে ৫২ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে এবং ৪৪ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। স্বাধীন ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৫২ শতাংশ ও রিপাবলিকানদের ৩৯ শতাংশ সমর্থন রয়েছে।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কেন এত জল্পনা?

বর্তমানে মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি। ডেমোক্র্যাটদের আসন ৪৭টি। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেতে হলে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন বাড়াতে হবে। অর্থাত্, নিজেদের আসনগুলো ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের দখলে থাকা চারটি আসন ছিনিয়ে নিতে হবে।

তবে সমীক্ষায় ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার অর্থ এই নয় যে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিতভাবে তাদের হাতে চলে আসবে। কারণ, একাধিক রাজ্যে দুই প্রার্থীর ব্যবধান খুবই কম। ভোটারদের শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত এবং ভোটদানের হার নির্বাচনের ফল বদলে দিতে পারে।

প্রতিনিধি পরিষদ :
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের মতে, প্রতিনিধি পরিষদে চারটি আসন গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, ফ্লোরিডার ২৫তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট : ফ্লোরিডার ২০২৬ সালের নির্বাচনি এলাকা পুনর্বিন্যাসের পর অনুষ্ঠিতব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির বর্তমান সদস্য জ্যারেড মোসকোভিটজ, রিপাবলিকান পার্টির স্কট সিংগারের মুখোমুখি হয়েছেন, যিনি বোকারাটনের সাবেক মেয়র।

দ্বিতীয়ত, নিউ ইয়র্কের ১৭তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট : লোয়ার হাডসন ভ্যালিতে রিপাবলিকান দলের বর্তমান প্রতিনিধি মাইক ললার তৃতীয় মেয়াদে জয়ী হওয়ার লক্ষ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কেইট কনলির মুখোমুখি হয়েছেন। এই এলাকায় জীবনযাত্রার ব্যয়, ইসরায়েল এবং ইহুদিবিদ্বেষ—এই বিষয়গুলো প্রচারণার প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।

তৃতীয়টি হচ্ছে ওহাইওর ৭ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট। এখানে রিপাবলিকান দলের বর্তমান সদস্য ম্যাক্স মিলার, যিনি ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজের সাবেক সহযোগী, ডেমোক্র্যাট ব্রায়ান পয়েনডেক্সটারের মুখোমুখি হয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাটি উচ্চবিত্ত ও শ্রমজীবী পটভূমির মধ্যেকার বিভেদকে তুলে ধরেছে এবং এর পাশাপাশি উভয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক উদ্বেগ ও ব্যক্তিগত অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে।

চতুর্থটি হচ্ছে টেক্সাসের ১৫তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট। দক্ষিণ টেক্সাসের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাটি অভিবাসন, জীবনযাত্রার ব্যয় সাশ্রয় এবং ল্যাটিনোদের পরিবর্তিত ভোটদানের ধরন দ্বারা প্রভাবিত, যেখানে রিপাবলিকান পার্টির বর্তমান প্রতিনিধি মনিকা দে লা ক্রুজ ডেমোক্রেটিক পার্টির দীর্ঘদিনের তেহানো সংগীত তারকা ববি পুলিডোর মুখোমুখি।

কীসের আশঙ্কায় খাবার-পানি মজুতের নির্দেশ দিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ?

প্রকাশ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৩, ২০২৬
কীসের আশঙ্কায় খাবার-পানি মজুতের নির্দেশ দিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ?

হঠাৎ করেই বিশ্বের একাধিক উন্নত দেশে ঘরে ঘরে অন্তত তিন দিন থেকে এক সপ্তাহের খাবার ও পানি মজুত রাখার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকদের জন্য জারি করা এসব সরকারি নির্দেশনার পর বাজারগুলোতে টিনজাত খাবার, বোতলজাত পানি, টর্চলাইট ও ব্যাটারিচালিত রেডিও কেনার ধুম পড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে জনমনে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—বিশ্বজুড়ে কি বড় ধরনের কোনো যুদ্ধ বা আসন্ন মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে?

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার ‘বি রেডি’ নামের একটি জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরু করে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো, যেকোনো বড় ধরনের সংকট বা ব্ল্যাকআউটের প্রথম ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন নাগরিকেরা যেন নিজেরাই নিজেদের মৌলিক চাহিদা মিটিয়ে টিকে থাকতে পারেন।

ব্রিটিশ সরকারের নির্দেশনায় পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য দৈনিক তিন লিটার খাবার পানি, অপচনশীল শুকনো বা টিনজাত খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ, পাওয়ার ব্যাংক এবং হাতল ঘুরিয়ে চালানো যায় এমন রেডিও মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

লন্ডন প্রশাসনের ভাষ্যমতে, ঝড়, আকস্মিক বন্যা কিংবা সাইবার হামলায় জাতীয় গ্রিড বিপর্যস্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সেবা পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। নাগরিকেরা প্রথম কয়েক দিন নিজেদের রসদে চলতে পারলে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা প্রান্তিক মানুষদের দ্রুত সহায়তা দেওয়ার সুযোগ পাবে।

সরকারের এই আহ্বানের পরপরই যুক্তরাজ্যের খুচরা বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। সুপারমার্কেট চেইন আইসল্যান্ডে টিনজাত পণ্যের বিক্রি রাতারাতি প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে যায়।

পাশাপাশি ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রেডিও বিক্রি ১৬০ শতাংশ এবং টর্চলাইটের বিক্রি প্রায় তিন গুণ পর্যন্ত বাড়তে দেখা গেছে। তবে দেশটির খুচরা বিক্রেতারা নিশ্চিত করেছেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং দেশে কোনো খাদ্যসংকট তৈরি হয়নি।

একই ধরনের নাগরিক প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও। নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডা, জাপান, মেক্সিকো ও নেদারল্যান্ডসেও পরিবারগুলোকে অন্তত তিন দিনের জরুরি প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ রয়েছে।

আবার সুইডেন ও নরওয়ে নাগরিকদের অন্তত এক সপ্তাহ এবং জার্মানি প্রায় ১০ দিনের প্রয়োজনীয় রসদ মজুত রাখার পরামর্শ দিচ্ছে। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতিটি দেশের ঝুঁকির ধরন ভিন্ন। যেমন জাপানে মূল ফোকাস থাকে শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামির ওপর, আবার অস্ট্রেলিয়া ও মেক্সিকোতে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলাই মুখ্য।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষেত্রে অবশ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি বদলে যাওয়া ভূরাজনীতি ও সংঘাতের শঙ্কা বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশন তাদের ‘প্রিপেয়ার্ডনেস ইউনিয়ন স্ট্র্যাটেজি’র আওতায় সদস্যদেশগুলোকে যে বার্তা দিয়েছে, তাতে জলবায়ু ঝুঁকির সমান্তরালে সাইবার যুদ্ধ ও বহিরাগত আগ্রাসনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিশেষ করে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ সুইডেন তাদের বিখ্যাত ‘ইফ ক্রাইসিস অর ওয়ার কামস’ নির্দেশিকায় সংকটকালীন পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধকালীন টিকে থাকার কৌশল যুক্ত করেছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, উত্তর ইউরোপের দেশগুলোতে এমন নির্দেশিকা বহু দশকের পুরোনো ঐতিহ্য; এটি আকস্মিক কোনো যুদ্ধ ঘোষণার পূর্বাভাস নয়।

অন্যদিকে সামরিক ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি আত্মরক্ষার নতুন রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর তাদের ‘ফোর্ট্রেস আমেরিকা’ উদ্যোগের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোকে বাইরের রসদ ছাড়া অন্তত ৯০ দিন সচল রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এর মধ্যে রয়েছে সামরিক ঘাঁটির নিজস্ব জ্বালানি ও বিদ্যুৎব্যবস্থা নিশ্চিত করা, সাইবার নিরাপত্তা বাড়ানো এবং জরুরি মজুত দ্বিগুণ করা। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের বরাতে স্পষ্ট করা হয়েছে, ৯০ দিনের এই দীর্ঘ প্রস্তুতি শুধুই সামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখার অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা, সাধারণ জনগণের জন্য এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি, নিউজউইক, স্কাই নিউজ এবং দ্য গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ও সরকারি নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এসব নির্দেশনার পেছনে কোনো একক কারণ বা তাৎক্ষণিক যুদ্ধ আসন্ন হওয়ার প্রমাণ নেই।

বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাষ্ট্রীয় বা অরাষ্ট্রীয় শক্তির সাইবার হামলা এবং আকস্মিক বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো বহুমুখী ঝুঁকি মোকাবিলা করতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সরকারি গাইডলাইনগুলোকে যুদ্ধের সাইরেন হিসেবে দেখে আতঙ্কিত হওয়ার সুযোগ নেই। বরং মহামারি, যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং চরম আবহাওয়ার এই যুগে নাগরিক সমাজকে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত অচলবস্থার মুখে স্বাবলম্বী রাখাই আধুনিক রাষ্ট্রগুলোর এই সমন্বিত প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে কী পরিণতি হবে ট্রাম্পের?

প্রকাশ: সোমবার, নভেম্বর ০২, ২০২৬
মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে কী পরিণতি হবে ট্রাম্পের?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই বছর পর আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পরিবর্তন হয় না। তবে নির্ধারিত হয় কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। আর সেই ফলের ওপরই নির্ভর করতে পারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী দুই বছরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরেন ট্রাম্প। তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে। তবে মেয়াদের মাঝপথেই তাকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই বছর পরপর এই ভোট অনুষ্ঠিত হয় বলেই এর নাম মধ্যবর্তী নির্বাচন বা মিডটার্ম ইলেকশন।

কীভাবে হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন?

এই নির্বাচনে মূলত ভোট হয় কংগ্রেসের দুই কক্ষ- প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর, আইনসভা এবং স্থানীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদেও নির্বাচন হয়।

প্রতিনিধি পরিষদে আসন রয়েছে ৪৩৫টি। অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যার অনুপাতে এসব আসন বণ্টন করা হয়। সদস্যদের মেয়াদ দুই বছর হওয়ায় প্রতি দুই বছর পরপর সব আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে, সিনেটে রয়েছে ১০০টি আসন। প্রতিটি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে সিনেটর নির্বাচিত হন। তাদের মেয়াদ ছয় বছর। তবে সব আসনে একসাথে ভোট হয় না। প্রতি দুই বছর পরপর সাধারণত সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫টি আসনের পাশাপাশি সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হবে। এর মধ্যে ৩৩টি নিয়মিত নির্বাচন এবং দুটি বিশেষ নির্বাচন। অর্থাৎ, কংগ্রেসের মোট ৪৭০টি আসনের জন্য ভোট দেবেন মার্কিন ভোটাররা।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে কী হয়?

এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল হারলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বিরোধী দলের হাতে চলে যেতে পারে। তবে এর অর্থ প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যাওয়া নয়। অতীতের নির্বাচনগুলোতে এমন নজির রয়েছে।

১৯৯৪ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের প্রথম মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার দল ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রতিনিধি পরিষদের ৫৪টি এবং সিনেটের আটটি আসন হারায়। প্রায় ৪০ বছর পর প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ যায় রিপাবলিকানদের হাতে।

স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার নিয়ে বিরোধিতা, কর ও ব্যয়নীতি নিয়ে অসন্তোষ এবং ক্লিনটনের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়াকে এই ফলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হয়।

এরপর ২০১০ সালে বারাক ওবামার প্রথম মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা প্রতিনিধি পরিষদের ৬৩টি আসন হারায়। সিনেটেও ছয়টি আসন কমে যায় তাদের। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার পর বেকারত্ব, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার নিয়ে অসন্তোষের প্রভাব পড়ে ভোটে। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেয় রিপাবলিকানরা।

২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও একই ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা আসে। রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদের ৪১টি আসন হারালেও সিনেটে দুটি আসন বাড়ায়। ডেমোক্রেটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তদন্ত শুরু করে। ২০১৯ সালে তাকে অভিশংসনও করে প্রতিনিধি পরিষদ। তবে সিনেটে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় তাকে পদ থেকে সরানো যায়নি।

সর্বশেষ ২০২২ সালে জো বাইডেনের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা প্রতিনিধি পরিষদের মাত্র নয়টি আসন হারায়। উল্টো সিনেটে একটি আসন বাড়ে তাদের। মূল্যস্ফীতি ও বাইডেনের কম জনপ্রিয়তার মধ্যেও প্রত্যাশার তুলনায় ভালো ফল করে দলটি।

ট্রাম্পের সামনে রয়েছে যেসব রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

এবারের নির্বাচনে ট্রাম্পের সামনে বেশ কিছু রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, আমদানি পণ্যে শুল্ক, ইরান যুদ্ধ এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে তার প্রশাসন সমালোচনার মুখে। অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে রয়টার্স-ইপসোসের এক জরিপে ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩১ শতাংশ উত্তরদাতা।

এপি-নরকের জরিপেও জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় তার ভূমিকার প্রতি ৮৩ শতাংশ এবং অর্থনীতি পরিচালনায় ৭৪ শতাংশ উত্তরদাতা অনাস্থা জানিয়েছেন। আর ৬৫ শতাংশের মতে, শুল্কের কারণে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।

এই অসন্তোষের প্রভাব ভোটে পড়লে প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে রিপাবলিকানরা। কংগ্রেসের কোনো একটি কক্ষ বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণে গেলেই ট্রাম্পের জন্য আইন পাস, বাজেট অনুমোদন এবং প্রশাসনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ ও নীতিগত সিদ্ধান্তেও বাধার মুখে পড়তে পারেন তিনি।

প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ বিরোধীদের হাতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তের পরিধি বাড়তে পারে। এমনকি প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের উদ্যোগও নিতে পারে তারা। তবে অভিশংসনের পর পদ থেকে সরাতে হলে সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে শুধু মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলেই প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা ছাড়তে হয় না। ট্রাম্পের মেয়াদও ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে।

শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে কী হবে ট্রাম্পের?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ইতিহাস বলছে, এই ভোট শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যা নির্ধারণ করে না; প্রেসিডেন্টের পরবর্তী দুই বছরের রাজনৈতিক পথও অনেকটা ঠিক করে দেয়। ১৯৯৪ সালে ক্লিনটন, ২০১০ সালে ওবামা এবং ২০১৮ সালে ট্রাম্প- তিন প্রেসিডেন্টকেই মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

এবারও ট্রাম্পের দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে তার প্রেসিডেন্ট পদ তাৎক্ষণিকভাবে ঝুঁকিতে পড়বে না। তবে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে কংগ্রেসের তদন্ত বাড়তে পারে।

নতুন করে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগও তৈরি হবে। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধসহ সামরিক পদক্ষেপ ও যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েও কংগ্রেসে জবাবদিহির মুখে পড়তে পারেন তিনি।

অর্থাৎ, মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলেও ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউস ছাড়তে হবে না। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে তার দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছর আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া অনেক কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

ট্রাম্পের প্রাসাদের কাছে আছড়ে পড়ল বিমান, নিহত ৯

প্রকাশ: সোমবার, নভেম্বর ০২, ২০২৬
ট্রাম্পের প্রাসাদের কাছে আছড়ে পড়ল বিমান, নিহত ৯

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচে একটি ব্যক্তিগত জেট উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে চালকসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত প্রাসাদ মার-এ-লাগোর দূরত্ব মাত্র ৯ মাইল বা প্রায় ১৪ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার।

যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি টেক্সাসের অস্টিন শহরের বার্গস্ট্রম বিমানবন্দর থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।

এফএএ এক বিবৃতিতে জানায়, ৯ জন আরোহী নিয়ে ব্যক্তিগত জেটটি দক্ষিণ ফ্লোরিডার পাম বিচের ক্রেস্টহেভেন এলাকার একটি আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। এতে সেখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এফএএ এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) যৌথভাবে দুর্ঘটনার তদন্ত করবে। তদন্তের মূল দায়িত্ব পালন করবে এনটিএসবি। সংস্থাটি পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাবে।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধার ও জরুরি সেবাদানকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিরাপত্তার স্বার্থে ক্রেস্টহেভেন বুলেভার্ড ও ১০ম অ্যাভিনিউ নর্থের মধ্যবর্তী মিলিটারি ট্রেইল সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সাথে সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পাম বিচ কাউন্টি ফায়ার সার্ভিস তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে এক বার্তায় জানায়, বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। এলাকাটি এড়িয়ে চলুন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উড়োজাহাজটিকে দ্রুত নিচের দিকে নামতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পরই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আকাশে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা।

বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, লিয়ারজেট মডেলের উড়োজাহাজটি বিকেল ৩টা ৩৭ মিনিটে অস্টিন থেকে বাহামাসের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। বিধ্বস্ত হওয়ার আগে এটি ৪১ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল।

সূত্র: ফক্স নিউজ