৫ নভেম্বর ২০২৬

বাবা-দাদার জমির পরিমাণ ও অবস্থান জানবেন যেভাবে: ২ মিনিটেই মিলবে খতিয়ান

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ০৫, ২০২৬
বাবা-দাদার জমির পরিমাণ ও অবস্থান জানবেন যেভাবে: ২ মিনিটেই মিলবে খতিয়ান
টপ স্টোরিজ

নানা কারণে পৈতৃক সম্পত্তির পরিমাণ বা অবস্থান সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষেরই কোনো সঠিক ধারণা নেই। আবার যেখানে জমি আছে সেখানে দীর্ঘদিন না যাওয়ায় তা অন্যের দখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে শহরে চাকরি-ব্যবসা থাকায় বা অন্য কোনো কারণে অনেকের পক্ষে গ্রামের জমিজমার নিয়মিত খোঁজ রাখা বেশ কঠিন।

এ ধরনের সমস্যার সমাধানে ই-পর্চা (e-Porcha) নামের অনলাইন সেবা চালু করেছে সরকার। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সাহায্যে ঘরে বসেই বাবা, দাদা কিংবা নানা-নানীর নামে কোথায় কতটুকু জমি রয়েছে, তা সহজে খুঁজে বের করা যায়। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহার করে খুব অল্প সময় অর্থাৎ দুই থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই এসব তথ্য জানা যায়।

জমির তথ্য জানার জন্য আপনাকে প্রথমে যেতে হবে www.eporcha.gov.bd ওয়েবসাইটে। এরপর নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করেই সম্পত্তির তথ্য পাওয়া সম্ভব।

সম্পত্তির তথ্য পেতে প্রথমে গুগলে গিয়ে লিখুন ‘e-porcha’। এরপর যে ওয়েবসাইট আসবে, সেটিতে ক্লিক করুন। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর ‘খতিয়ান অনুসন্ধান’ অপশনে ক্লিক করুন। এরপর আপনাকে বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং মৌজার নাম দিতে হবে। এরপর নির্বাচন করতে হবে আপনার প্রয়োজনীয় সিএস, এসএ, আরএস, বিএস পর্চার ধরন। আপনি একসঙ্গে সবগুলো নির্বাচন করতে পারবেন না, তাই একবারে একটি করে নির্বাচন করতে হবে।

মৌজার নাম দেওয়ার পর, আপনি খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর বা মালিকের নাম অনুযায়ী অনুসন্ধান করতে পারবেন। চাইলে দাদা, বাবা, স্বামী, ভাই বা মামার নাম দিয়েও খোঁজ করা যাবে।

এরপর ক্যাপচা কোড সঠিকভাবে দিয়ে ‘অনুসন্ধান’ বাটনে ক্লিক করলেই আপনি দেখতে পাবেন সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ান তথ্য।

এই ডিজিটাল সেবা নাগরিকদের জন্য অনেকটাই স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভূমি অফিসে না গিয়ে ঘরে বসেই পাওয়া যাচ্ছে জমির সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য।

সরকার ইতোমধ্যে দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল করার লক্ষ্যে অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবেই e-porcha.gov.bd ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ নাগরিকদের জমিজমা সংক্রান্ত হয়রানি ও দুর্নীতি হ্রাস করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

১৩০ বছর বয়সে হজ করা আলজেরীয় নারী সারহুদার ইন্তেকাল

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬
১৩০ বছর বয়সে হজ করা আলজেরীয় নারী সারহুদার ইন্তেকাল
টপ স্টোরিজ

আলজেরিয়ার সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ নারী হাজ্জা সারহুদা সিতিতি মারা গেছেন। প্রচলিত জন্মসন অনুযায়ী মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১৩২ বছর। সম্প্রতি সৌদি সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া তার পবিত্র হজ পালনের বিশেষ ভিডিওচিত্র শেয়ার করে এই মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে।

সারহুদার জন্ম গালমা প্রদেশের শিনিউ এলাকায়। পরে তিনি তেবেসা শহরে বসবাস করতেন। ১৮৯৪ সালে জন্মগ্রহণ করা এই নারী দীর্ঘ জীবন, বড় পরিবার এবং জীবনের শেষ দিকে হজ পালনের কারণে দেশজুড়ে পরিচিতি পান। তার মৃত্যুতে আলজেরিয়ায় শোকের পাশাপাশি ব্যাপক আগ্রহও তৈরি হয়েছে।

২০ বছর বয়সে বিয়ে করেন সারহুদা। তার ১৫ জন সন্তান ছিল। জীবনের বড় অংশটাই তিনি সন্তান, নাতি-নাতনি ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাটিয়েছেন।

২০২৪ সালের জুনে ১৩০ বছর বয়সে তিনি পবিত্র হজ পালন করেন। এতে তিনি বিশেষভাবে আলোচনায় আসেন। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করে সৌদি আরবে হজ করতে যাওয়ার খবর তখন গণমাধ্যমে বেশ গুরুত্ব পায়। এর আগে তিনি দুইবার ওমরাহ করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৮৯৪ সালের জন্মসন ধরলে সারহুদার জীবদ্দশায় আলজেরিয়ার ইতিহাসের বড় বড় পরিবর্তন ঘটে গেছে। তিনি ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসন দেখেছেন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও দেশের স্বাধীনতা অর্জনের সময়কাল পার করেছেন। এরপর কয়েক দশকের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনেরও সাক্ষী ছিলেন তিনি।

তেবেসায় পরিবারের সঙ্গে থাকা এই নারীর জীবনকাহিনি আলজেরিয়ার মানুষের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তার দীর্ঘ জীবন একাধিক প্রজন্মের পরিবর্তন ও দেশের ইতিহাসের নানা অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

উটের মূত্র থেকে তৈরি ওষুধে সারবে ক্যানসার! সত্যতা জানাল সৌদি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬
উটের মূত্র থেকে তৈরি ওষুধে সারবে ক্যানসার! সত্যতা জানাল সৌদি
টপ স্টোরিজ

উটের প্রস্রাবের সক্রিয় উপাদান থেকে তৈরি ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে ক্যানসার নিরাময় সম্ভব—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবি পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে সৌদি আরব।

দেশটি নিশ্চিত করেছে, আলোচনায় থাকা পণ্যটি ক্যানসারের কোনো অনুমোদিত ওষুধ নয়; বরং এটি শুধুমাত্র একটি খাদ্যসম্পূরক।

সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, উটের মূত্র থেকে ক্যানসারের ওষুধ তৈরির খবরটি ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয় সৌদি খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে এসএফডিএ জানায়, আলোচনায় থাকা পণ্যটি ক্যানসার বা অন্য কোনো রোগের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত নয়। পণ্যটিতে মূলত শরীরের প্রতিদিনের পুষ্টির চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের মিশ্রণ রয়েছে।

সংস্থাটি জোর দিয়ে উল্লেখ করে, নিবন্ধিত এই পণ্যটি কেবল সাধারণ খাদ্যসম্পূরক হিসেবেই বিক্রি ও ব্যবহার করা যাবে। ক্যানসার নিরাময়ে এটি কার্যকরী—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক বা অনুমোদিত ভিত্তি নেই।

ক্যানসারের চিকিৎসায় এই পণ্যটির অনুমোদন পাওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছে সংস্থাটি।

সাধারণ মানুষকে এমন বিভ্রান্তিকর গুজবে কান না দেওয়ার এবং ক্যানসারের মতো প্রথাগত স্বাস্থ্য সমস্যায় বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত চিকিৎসাপদ্ধতি অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নবীদের হত্যা থেকে সুদ ও ওয়াদা ভঙ্গ! যেভাবে অভিশপ্ত হলো ইহুদি জাতি

প্রকাশ: শুক্রবার, অক্টোবর ০৯, ২০২৬
নবীদের হত্যা থেকে সুদ ও ওয়াদা ভঙ্গ! যেভাবে অভিশপ্ত হলো ইহুদি জাতি
টপ স্টোরিজ

আল্লাহর নবী হজরত ইসহাক আ.-এর প্রথম সন্তান ইয়াকুব আ. ও ছিলেন একজন নবী। তার প্রসিদ্ধ আরেকটি নাম ছিলো ইসরাইল। তার বংশধররা বনি ইসরাইল ইসরাইলের সন্তান নামে পরিচিত লাভ করে ইতিহাসে। তাদেরকে অভিশপ্ত জাতি হিসেবে ইতিহাস বার বার স্মরণ করে। কেনো তারা অভিশপ্ত হলো এ বিষয়ে আজ কথা বলবো।

কোরআনুল কারিমের সুরা নিসায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ জাতি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। হজরত ইসমাঈল ও ইসহাক আ.-এর বাবা ছিলেন মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম আ.। হজরত ইবরাহিম আ.-এর সন্তান ইসমাঈল আ.-এর বংশে জন্ম নিয়েছিলেন আল্লাহর প্রিয় হাবিব, শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সা.। হজরত ইসহাক আ.-এর বংশে জন্ম নিয়েছেন শতাধিক নবী।

বনি ইসরাইল (ইহুদি জাতি) অভিশপ্ত হওয়ার ১০টি কারণ তুলে ধরা হয়েছে সুরা নিসার ১৫৫-১৬১ আয়াতে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কোরআনে বলেন, সুতরাং তাদের মধ্যে কতক তো তার প্রতি ঈমান আনে এবং কতক তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। (ওই কাফিরদের সাজা দেওয়ার জন্য) জ্বলন্ত আগুনরূপে জাহান্নামই যথেষ্ট।

নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে, আমি তাদেরকে জাহান্নামে ঢোকাব। যখনই তাদের চামড়া জ্বলে সিদ্ধ হয়ে যাবে, তখন আমি তাদেরকে তার পরিবর্তে অন্য চামড়া দিয়ে দেব, যাতে তারা শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করতে পারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাক্ষমতাবান প্রজ্ঞাময়। যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আমি তাদেরকে এমন সব উদ্যানে দাখিল করব, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত থাকবে। তাতে তারা সর্বদা থাকবে। তাতে তাদের জন্য পুতঃপবিত্র স্ত্রী থাকবে। আর আমি তাদেরকে দাখিল করব নিবিড় ছায়ায়।

হে মুসলিমগণ! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করছেন যে, তোমরা আমানতসমূহ তার হকদারকে আদায় করে দেবে এবং যখন মানুষের মধ্যে বিচার করবে, তখন ইনসাফের সাথে বিচার করবে। আল্লাহ তোমাদেরকে যে বিষয়ে উপদেশ দেন, তা কতই না উৎকৃষ্ট। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সবকিছু দেখেন।

হে মুমিনগণ! তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর, তার রসুলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা এখতিয়ারধারী তাদেরও। ৪৭ অতঃপর তোমাদের মধ্যে যদি কোনও বিষয়ে বিরোধ দেখা দেয়, তবে তোমরা আল্লাহ ও পরকালে সত্যিকারের বিশ্বাসী হয়ে থাকলে সে বিষয়কে আল্লাহ ও রসুলের উপর ন্যস্ত কর। এটাই উৎকৃষ্টতর এবং এর পরিণামও সর্বাপেক্ষা শুভ।

হে নবী! তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা দাবি করে, তোমার প্রতি যে কালাম নাজিল করা হয়েছে তারা তাতেও ঈমান এনেছে এবং তোমার পূর্বে যা নাজিল করা হয়েছিল তাতেও, (কিন্তু) তাদের অবস্থা এই যে, তারা তাগুতের কাছে বিচারপ্রার্থী হতে চায়? অথচ তাদেরকে আদেশ করা হয়েছিল, যেন (সুস্পষ্টভাবে) তাকে অস্বীকার করে। বস্তুত শয়তান তাদেরকে চরমভাবে গোমরাহ করতে চায়।যখন তাদেরকে বলা হয়, এসো সেই ফায়সালার দিকে, যা আল্লাহ নাজিল করেছেন এবং এসো রসুলের দিকে, তখন মুনাফিকদেরকে দেখবে তোমার থেকে সম্পূর্ণরূপে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

সংক্ষেপে কারণগুলো হলো-

১. তাদের অভিশপ্ত হওয়ার কারণ হলো ব্যাপক পাপাচার

২. আল্লাহর প্রেরিত ধর্ম গ্রহণ করতে মানুষ বাঁধা দেয়া

৩. তাদের ধর্মে সুদ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও সুদ খাওয়া

৪. অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা

৫. অঙ্গীকার ভঙ্গ করা

৬. নবিদের হত্যা করা

৭. আল্লাহর প্রেরিত ধর্ম গ্রহণ না করে অজুহাত দেয়া যে আমাদের অন্তর তালাবদ্ধ, নতুন কোনো ধর্ম গ্রহণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।

৮. কুফরি করা

৯. মারিয়ামের আ. প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেয়া

১০. ইসাকে আ. শূলে বিদ্ধ করে হত্যার মিথ্যা দাবি করা। ইত্যাদি কারণে তারা অভিশপ্ত হিসেবে পরিগণিত হয়।

বাংলাদেশিদের সমকামী সাজিয়ে আশ্রয়ের আবেদন, যুক্তরাজ্যে গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
বাংলাদেশিদের সমকামী সাজিয়ে আশ্রয়ের আবেদন, যুক্তরাজ্যে গ্রেপ্তার ৩
টপ স্টোরিজ

অভিনব এক প্রতারকচক্রের সন্ধান পেয়েছে যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট। চক্রটি বাংলাদেশি পুরুষদের সমকামী সাজিয়ে দেশটির হোম অফিসে ভুয়া আশ্রয়ের আবেদন করে আসছিল। লন্ডনভিত্তিক বাংলাদেশি এলজিবিটি সংগঠনের যোগসাজশে চালানো এই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের এ তথ্য সামনে এনেছে। খবর বিবিসির।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল ভিত্তিক ‘আপনজন’ নামের একটি বাংলাদেশি সংগঠন এই জালিয়াতির মূল কেন্দ্রবিন্দু। হোম অফিসের ফ্রেড ও ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনের আঞ্চলিক প্রধান ক্রিস ফস্টার জানান, এই চক্রটি প্রতিটি ভুয়া আশ্রয়ের আবেদনের জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১ হাজার থেকে শুরু করে ৪ হাজার ৫০০ পাউন্ড (প্রায় ৭ থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা) পর্যন্ত আদায় করত।

এর বিনিময়ে তারা সমকামী হিসেবে প্রমাণ করার জন্য ভুয়া চিঠি, সাজানো ছবি এবং সমকামী সম্পর্কের নকল প্রমাণপত্র তৈরি করে দিত, যেন বাংলাদেশে ফিরলে প্রাণনাশের ঝুঁকি রয়েছে— এমন অজুহাতে তারা যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হতে পারে।

মঙ্গলবার সকালে লন্ডনের কয়েকটি ঠিকানায় অভিযান চালিয়ে প্রতারণা ও অভিবাসন অপরাধের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করে হোম অফিস। সেখান থেকে নগদ বিপুল অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এছাড়া অবৈধভাবে অবস্থান করার দায়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বর্তমানে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ১০০টিরও বেশি আশ্রয়ের আবেদন পুনঃনিরীক্ষা করছে যুক্তরাজ্য সরকার।

জালিয়াতির এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, যারা নিপীড়নের ভুয়া নাটক সাজিয়ে সুবিধা নেয়, তারা প্রকৃত ভুক্তভোগীদের সাথে প্রতারণা করছে। এই ঘৃণ্য চক্র ও প্রতারকদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করে তাদের যুক্তরাজ্য থেকে বের করে দেওয়া হবে।

যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, আশ্রয়ের আবেদন নিয়ে জালিয়াতি করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এক বছরেই ৩ ঈদ আর ২ হজ, বিরল নজির দেখবে মুসলিম বিশ্ব

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ০৪, ২০২৬
এক বছরেই ৩ ঈদ আর ২ হজ, বিরল নজির দেখবে মুসলিম বিশ্ব
টপ স্টোরিজ

১ বছরে ২ ঈদ, হজ হয় ১ বার। শৈশব থেকে আমরা এমনই জেনে এসেছি। কিন্তু অচিরেই সেই ধারায় ছেদ পড়তে চলেছে। এমন এক বছর আসছে, যেখানে ২ হজ আর ৩ ঈদের দেখা মিলবে। এই তথ্য জানিয়েছেন সৌদি আরবের জলবায়ু ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল মিসনাদ।

এর কারণ হিজরি চান্দ্র বর্ষ ও ইংরেজি সৌর বর্ষের হিসাবের পার্থক্য। হিজরি বছর চাঁদের কলার ওপর নির্ভর করে। এতে দিন থাকে ৩৫৪ বা ৩৫৫। ইংরেজি বছর সূর্যের হিসাবে চলে। এতে দিন থাকে ৩৬৫ বা ৩৬৬। তাই প্রতি বছর হিজরি তারিখ প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে।

২০৩৯ সালের শুরুতেই আসবে প্রথম ঈদুল আজহা। তারিখ ৬ জানুয়ারি, হিজরি ১৪৬০ সালের ১০ জিলহজ। এটি হজের শেষ দিন এবং কোরবানির বড় উৎসব। প্রায় ১২ মাস পর চান্দ্র বছরের চক্র আবার ঘুরে আসবে। তখন আরেকটি হজ মৌসুম শুরু হবে। ২৬ ডিসেম্বর হবে দ্বিতীয় ঈদুল আজহা। সেটি হিজরি ১৪৬১ সালের ১০ জিলহজ।

এর মানে, এক সৌর বছরে মক্কায় দুবার হজ হবে। এটি খুবই বিরল। দুই হজেই আরাফার দিন আলাদা করে আসবে। ঈদের আগের এই দিনে হাজিরা আরাফাতের ময়দানে জমায়েত হয়ে দোয়া করেন।

এই দুই ঈদের মাঝখানে পড়বে ঈদুল ফিতর। এটি ১৯ অক্টোবর হওয়ার কথা। ফলে এক বছরে দুটি কোরবানির ঈদ ও একটি আনন্দের ঈদ মিলিয়ে তিনটি ঈদ হবে।

এই পার্থক্য শুধু হজের মৌসুমে সীমাবদ্ধ নয়। রমজানেও কাছাকাছি সময়ে এমন ঘটনা ঘটবে। ২০৩০ সালে মুসলিমরা একই ইংরেজি বছরে দুটি রমজান পাবেন। একটি শুরু হবে জানুয়ারিতে, অন্যটি ডিসেম্বরে। ৩৩ বছর পর এমন হবে। এর আগে এটি ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে।