৮ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশিদের সমকামী সাজিয়ে আশ্রয়ের আবেদন, যুক্তরাজ্যে গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশ: বুধবার, অক্টোবর ০৭, ২০২৬
বাংলাদেশিদের সমকামী সাজিয়ে আশ্রয়ের আবেদন, যুক্তরাজ্যে গ্রেপ্তার ৩

অভিনব এক প্রতারকচক্রের সন্ধান পেয়েছে যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট। চক্রটি বাংলাদেশি পুরুষদের সমকামী সাজিয়ে দেশটির হোম অফিসে ভুয়া আশ্রয়ের আবেদন করে আসছিল। লন্ডনভিত্তিক বাংলাদেশি এলজিবিটি সংগঠনের যোগসাজশে চালানো এই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের এ তথ্য সামনে এনেছে। খবর বিবিসির।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল ভিত্তিক ‘আপনজন’ নামের একটি বাংলাদেশি সংগঠন এই জালিয়াতির মূল কেন্দ্রবিন্দু। হোম অফিসের ফ্রেড ও ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনের আঞ্চলিক প্রধান ক্রিস ফস্টার জানান, এই চক্রটি প্রতিটি ভুয়া আশ্রয়ের আবেদনের জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১ হাজার থেকে শুরু করে ৪ হাজার ৫০০ পাউন্ড (প্রায় ৭ থেকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা) পর্যন্ত আদায় করত।

এর বিনিময়ে তারা সমকামী হিসেবে প্রমাণ করার জন্য ভুয়া চিঠি, সাজানো ছবি এবং সমকামী সম্পর্কের নকল প্রমাণপত্র তৈরি করে দিত, যেন বাংলাদেশে ফিরলে প্রাণনাশের ঝুঁকি রয়েছে— এমন অজুহাতে তারা যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হতে পারে।

মঙ্গলবার সকালে লন্ডনের কয়েকটি ঠিকানায় অভিযান চালিয়ে প্রতারণা ও অভিবাসন অপরাধের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করে হোম অফিস। সেখান থেকে নগদ বিপুল অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এছাড়া অবৈধভাবে অবস্থান করার দায়ে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বর্তমানে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ১০০টিরও বেশি আশ্রয়ের আবেদন পুনঃনিরীক্ষা করছে যুক্তরাজ্য সরকার।

জালিয়াতির এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, যারা নিপীড়নের ভুয়া নাটক সাজিয়ে সুবিধা নেয়, তারা প্রকৃত ভুক্তভোগীদের সাথে প্রতারণা করছে। এই ঘৃণ্য চক্র ও প্রতারকদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করে তাদের যুক্তরাজ্য থেকে বের করে দেওয়া হবে।

যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, আশ্রয়ের আবেদন নিয়ে জালিয়াতি করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এক বছরেই ৩ ঈদ আর ২ হজ, বিরল নজির দেখবে মুসলিম বিশ্ব

প্রকাশ: রবিবার, অক্টোবর ০৪, ২০২৬
এক বছরেই ৩ ঈদ আর ২ হজ, বিরল নজির দেখবে মুসলিম বিশ্ব

১ বছরে ২ ঈদ, হজ হয় ১ বার। শৈশব থেকে আমরা এমনই জেনে এসেছি। কিন্তু অচিরেই সেই ধারায় ছেদ পড়তে চলেছে। এমন এক বছর আসছে, যেখানে ২ হজ আর ৩ ঈদের দেখা মিলবে। এই তথ্য জানিয়েছেন সৌদি আরবের জলবায়ু ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ ড. আবদুল্লাহ আল মিসনাদ।

এর কারণ হিজরি চান্দ্র বর্ষ ও ইংরেজি সৌর বর্ষের হিসাবের পার্থক্য। হিজরি বছর চাঁদের কলার ওপর নির্ভর করে। এতে দিন থাকে ৩৫৪ বা ৩৫৫। ইংরেজি বছর সূর্যের হিসাবে চলে। এতে দিন থাকে ৩৬৫ বা ৩৬৬। তাই প্রতি বছর হিজরি তারিখ প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন এগিয়ে আসে।

২০৩৯ সালের শুরুতেই আসবে প্রথম ঈদুল আজহা। তারিখ ৬ জানুয়ারি, হিজরি ১৪৬০ সালের ১০ জিলহজ। এটি হজের শেষ দিন এবং কোরবানির বড় উৎসব। প্রায় ১২ মাস পর চান্দ্র বছরের চক্র আবার ঘুরে আসবে। তখন আরেকটি হজ মৌসুম শুরু হবে। ২৬ ডিসেম্বর হবে দ্বিতীয় ঈদুল আজহা। সেটি হিজরি ১৪৬১ সালের ১০ জিলহজ।

এর মানে, এক সৌর বছরে মক্কায় দুবার হজ হবে। এটি খুবই বিরল। দুই হজেই আরাফার দিন আলাদা করে আসবে। ঈদের আগের এই দিনে হাজিরা আরাফাতের ময়দানে জমায়েত হয়ে দোয়া করেন।

এই দুই ঈদের মাঝখানে পড়বে ঈদুল ফিতর। এটি ১৯ অক্টোবর হওয়ার কথা। ফলে এক বছরে দুটি কোরবানির ঈদ ও একটি আনন্দের ঈদ মিলিয়ে তিনটি ঈদ হবে।

এই পার্থক্য শুধু হজের মৌসুমে সীমাবদ্ধ নয়। রমজানেও কাছাকাছি সময়ে এমন ঘটনা ঘটবে। ২০৩০ সালে মুসলিমরা একই ইংরেজি বছরে দুটি রমজান পাবেন। একটি শুরু হবে জানুয়ারিতে, অন্যটি ডিসেম্বরে। ৩৩ বছর পর এমন হবে। এর আগে এটি ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে।

মরুভূমিতে জমকালো বিয়ে, জবাই ১৪০০ ভেড়া-ছাগল ও ২৭০ উট

প্রকাশ: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
মরুভূমিতে জমকালো বিয়ে, জবাই ১৪০০ ভেড়া-ছাগল ও ২৭০ উট

দক্ষিণ ইরাকের নাসরিয়া অঞ্চলের মরুভূমিতে আয়োজিত এক জমকালো বিয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমোধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। রাজসিক আয়োজন ও অতিথিদের আপ্যায়নে বিপুল সংখ্যক পশু জবাইয় করা হয়। বিষয়টি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

জানা গেছে, আল-বাদুর গোত্রের শেখ হায়দার আবিরের ছেলেদের বিয়ে উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ইরাকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক অতিথি আসেন।

অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য প্রায় এক হাজার চারশত ভেড়া ও ছাগল এবং ২৭০ টির বেশি উট জবাই করা হয় বলে জানা গেছে। মরুভূমির বিশাল আয়োজনে করা এই বিয়ের ভোজ ও অনুষ্ঠানের দৃশ্য ধারণ করা ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওগুলো ভাইরাল হওয়ার পর বিয়ের আয়োজনের ব্যাপকতা, অতিথি সংখ্যাক এবং ভোজের জন্য ব্যবহৃত পশুর সংখ্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

ইরাকের উপজাতীয় সংস্কৃতিতে বড় আকারের সামাজিক অনুষ্ঠান ও অতিথি আপ্যায়নের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের অনুষ্ঠানে বংশের মর্যাদা ও আতিথেয়তা পরায়নের অংশ হিসেবে বড় আয়োজন করার প্রচলন রয়েছে।

জার্মানিতে দক্ষ কর্মীদের জন্য সাড়ে ৬ লাখ শূন্য পদ, আবেদন করতে পারবেন যারা

প্রকাশ: সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
জার্মানিতে দক্ষ কর্মীদের জন্য সাড়ে ৬ লাখ শূন্য পদ, আবেদন করতে পারবেন যারা

দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য জার্মানিতে রয়েছে বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার পদ খালি রয়েছে, যা দেশটিতে ক্যারিয়ার গড়া এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ। সম্প্রতি দুবাইয়ের দুসিত থানি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘গালফ নিউজ লেভেলআপ’ সম্মেলনের এক ফায়ারসাইড চ্যাটে ওয়াই-অ্যাক্সিসের ডিরেক্টর ক্লিন্ট খান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) প্রায় ৩০ লাখ শূন্য পদ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজারই রয়েছে জার্মানিতে, যা পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ। এটিই প্রমাণ করে জার্মানিতে দক্ষ পেশাজীবীদের চাহিদা কতটা ব্যাপক।’

দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য জার্মানিতে প্রবেশের অন্যতম একটি মাধ্যম হলো ‘অপরচুনিটি কার্ড’। এটি মূলত চাকরি খোঁজার জন্য একটি রেসিডেন্স পারমিট, যার মাধ্যমে ইইউ-বহির্ভূত দেশের নাগরিকরা আগে থেকে কোনও চাকরির চুক্তি না থাকা সত্ত্বেও যোগ্য কোনও কাজ খোঁজার জন্য ১২ মাস পর্যন্ত জার্মানিতে অবস্থান করতে পারেন।

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, ‘অপরচুনিটি কার্ড আপনাকে জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার সুযোগ দিচ্ছে। শুরুতে আপনি খণ্ডকালীন বা পার্ট-টাইম কাজ করতে পারেন। পরবর্তীতে কোনও পূর্ণকালীন চাকরি পেয়ে গেলে এবং নিয়োগকর্তা স্পন্সর করতে রাজি হলে, আপনি তা নির্দিষ্ট ওয়ার্ক পারমিটে পরিবর্তন করে নিতে পারবেন।’

আবেদন করতে পারবেন যারা

আবেদনকারীরা মূলত পয়েন্টভিত্তিক পদ্ধতির মাধ্যমে অথবা জার্মানিতে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন দক্ষ কর্মী হিসেবে এই কার্ডের জন্য যোগ্য বিবেচিত হতে পারেন। পয়েন্ট পদ্ধতির ক্ষেত্রে আবেদনকারীর একটি স্বীকৃত একাডেমিক বা ভোকেশনাল ডিগ্রি, নিজের খরচ চালানোর মতো পর্যাপ্ত অর্থ এবং নির্ধারিত পয়েন্ট থাকা আবশ্যক। পেশাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, বয়স ও ভাষা দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে এই পয়েন্ট দেয়া হয়।

ক্লিন্ট খান উল্লেখ করেন, ‘যেসব পেশাজীবী উপযুক্ত চাকরি নিশ্চিত করতে পারেন, তাদের জন্য জার্মানিতে স্থায়ী হওয়ার আরেকটি মাধ্যম হলো ইইউ ব্লু কার্ড। নির্ধারিত বেতনের শর্ত পূরণকারী যোগ্য চাকরির অফার থাকা উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের লক্ষ্য করেই এটি প্রণয়ন করা হয়েছে।’


তিনি আরও জানান, ‘ব্লু কার্ড পারমানেন্ট রেসিডেন্সির পথ সুগম করে। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, এর ধারকরা নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষে ২৭ মাস পর স্থায়ীভাবে বসবাসের পারমিট পেতে পারেন। আর বি-১ (B1) লেভেলের জার্মান ভাষা দক্ষতা থাকলে মাত্র ২১ মাসের মধ্যেই এই সুযোগ পাওয়া সম্ভব।’