৭ নভেম্বর ২০২৬

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় গণবিয়ে, আনন্দ-আয়োজনের বিরল মুহূর্ত

প্রকাশ: শনিবার, নভেম্বর ০৭, ২০২৬
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় গণবিয়ে, আনন্দ-আয়োজনের বিরল মুহূর্ত

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় আনন্দের বিরল এক মুহূর্তের সাক্ষী হলেন ফিলিস্তিনিরা। বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন ২৫০ ফিলিস্তিনি দম্পতি। শুক্রবার গাজা সিটিতে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাদের গণবিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত মানবিক সহায়তা উদ্যোগ ‘অপারেশন নাইটলি নাইট ৩’-এর সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

‘থাওব আল ফারাহ’ বা ‘আনন্দের পোশাক’ স্লোগানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কনেরা ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি নকশিকাঁথার আদলে সূচিকর্ম করা পোশাক (তাতরিজ) পরে অংশ নেন। তাদের হাতে ছিল ফুল। অন্যদিকে, বরদের পরনে ছিল আনুষ্ঠানিক স্যুট ও ঐতিহ্যবাহী কেফিয়াহ।

যুদ্ধ ও আর্থিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিয়ে পিছিয়ে দিতে বাধ্য হওয়া দম্পতিদের পাশে দাঁড়াতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে আয়োজিত এ গণবিয়ে সংগীত, আনন্দ-উৎসব ও পারস্পরিক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে কিছুটা স্বস্তির সুযোগ পান গাজার বাসিন্দারা।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া জনপদে এমন আয়োজন নতুন করে আশার বার্তা দিয়েছে।

প্রতিকূলতার মধ্যেও জীবন, ভালোবাসা ও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় যে থেমে নেই, ২৫০ দম্পতির এ গণবিবাহ যেন তারই এক প্রতীক।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় গণবিয়ে, আনন্দ-আয়োজনের বিরল মুহূর্ত

প্রকাশ: শনিবার, নভেম্বর ০৭, ২০২৬
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় গণবিয়ে, আনন্দ-আয়োজনের বিরল মুহূর্ত

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় আনন্দের বিরল এক মুহূর্তের সাক্ষী হলেন ফিলিস্তিনিরা। বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন ২৫০ ফিলিস্তিনি দম্পতি। শুক্রবার গাজা সিটিতে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাদের গণবিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত মানবিক সহায়তা উদ্যোগ ‘অপারেশন নাইটলি নাইট ৩’-এর সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

‘থাওব আল ফারাহ’ বা ‘আনন্দের পোশাক’ স্লোগানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কনেরা ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি নকশিকাঁথার আদলে সূচিকর্ম করা পোশাক (তাতরিজ) পরে অংশ নেন। তাদের হাতে ছিল ফুল। অন্যদিকে, বরদের পরনে ছিল আনুষ্ঠানিক স্যুট ও ঐতিহ্যবাহী কেফিয়াহ।

যুদ্ধ ও আর্থিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিয়ে পিছিয়ে দিতে বাধ্য হওয়া দম্পতিদের পাশে দাঁড়াতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে আয়োজিত এ গণবিয়ে সংগীত, আনন্দ-উৎসব ও পারস্পরিক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে কিছুটা স্বস্তির সুযোগ পান গাজার বাসিন্দারা।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া জনপদে এমন আয়োজন নতুন করে আশার বার্তা দিয়েছে।

প্রতিকূলতার মধ্যেও জীবন, ভালোবাসা ও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় যে থেমে নেই, ২৫০ দম্পতির এ গণবিবাহ যেন তারই এক প্রতীক।

হরমুজে ইরান কেন কাতার, ভারত, চীন ও ইরাকের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিচ্ছে?

প্রকাশ: শনিবার, নভেম্বর ০৭, ২০২৬
হরমুজে ইরান কেন কাতার, ভারত, চীন  ও ইরাকের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিচ্ছে?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তখন থেকেই নৌচলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রেখেছে ইরান। যুদ্ধের আগে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবহন করা জ্বালানি তেলের প্রায় ২৫ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে যেতো।

পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে জুলাইয়ে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

আজ শুক্রবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, সম্প্রতি তেহরান চার দেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত মোকাদ্দাম ইরানি স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সিকে (আইএসএনএ) বলেছেন, ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজকে হরমুজ প্রণালিতে আরোপ করা বিধিনিষেধ থেকে ছাড় দিয়েছে ইরান। ‘এই দেশগুলোর জাহাজ অবাধে চলাচল করছে। যুক্তরাষ্ট্রও সেগুলোকে বাধা দিচ্ছে না।’

গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে এই চার দেশকে কেন ছাড় দেওয়া হয়েছে? আর অবরোধ বহাল থাকা অবস্থায় তাদের জাহাজগুলো কি সত্যিই অবাধে চলাচল করতে পারবে?

জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়ে বিনিময়ে কী পাচ্ছে ইরান?

সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার ও পার্লামেন্ট সদস্য হায়াত মোকাদ্দামের ভাষ্য, ভারত থেকে ওষুধ এবং চীনের কাছ থেকে রাজনৈতিক সমর্থন পাবে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছে কাতার। দেশটি আগে থেকেই ইরানকে কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে আসছে।

হায়াত মোকাদ্দাম বলেন, ভারত ও চীনের জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি আদায় করবে তেহরান। তবে কাতারের জাহাজ বিনা ফিতে চলাচল করতে পারবে। ইরাকি জাহাজকে মাশুল দিতে হবে কি না, তা তিনি জানাননি।

সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও মানবাধিকার অধ্যয়ন বিভাগের গবেষক এবং ইরানবিষয়ক বিশ্লেষক রুজবে পারসি আল জাজিরাকে বলেন, ‘ইরানের আইনপ্রণেতা যে কারণগুলো তুলে ধরছেন, সেগুলোই যদি ছাড় দেওয়ার পেছনের যুক্তি হয়, তাহলে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে।’

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতি বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাদের হাশেমি বলেন, ‘সম্ভবত ইরান এসব জাহাজকে বাধাহীনভাবে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে ট্রানজিট ফি বা পণ্যের মূল্যের একটি নির্দিষ্ট অংশ আদায় করছে।’

নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক বিশ্লেষক এবং লিবিয়ায় অস্ট্রিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে উলফগ্যাং পুস্তাই আল জাজিরাকে বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে তেহরান এই উদ্যোগ নিয়ে থাকতে পারে। এই উদ্যোগ সফল হলে ইরান উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় করতে পারবে। ইরানের অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। দেশটি ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ কেনে।’
এই চার দেশের জন্য বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য চারটি দেশই হরমুজ প্রণালির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের জ্যেষ্ঠ অপরিশোধিত তেল বিশ্লেষক মিউ শু আল জাজিরাকে বলেন, অক্টোবরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন উপসাগরীয় অঞ্চলের ১ কোটি ২ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪২ শতাংশ গেছে চীনে এবং ১৩ শতাংশ ভারতে।

ইরানবিষয়ক বিশ্লেষক রুজবে পারসি বলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারতের জন্য বড় ক্ষতির কারণ। অন্যদিকে, ইরান নিজে যেসব ওষুধ উৎপাদন করতে পারে না, সেগুলোর বড় উৎপাদক ভারত।’

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী কাতার আগস্টে এই প্রণালি দিয়ে কোনো এলএনজি পরিবহন করতে পারেনি। তবে অক্টোবরে দেশটি ১৮ লাখ টন এলএনজি পরিবহন করেছে বলে জানান শু।

একই সময়ে কাতারের অপরিশোধিত তেল পরিবহনের পরিমাণ দৈনিক ৫ লাখ ১৭ হাজার ব্যারেল থেকে কমে ১ লাখ ৯৩ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ইরাকের ক্ষেত্রে তা ১৬ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল থেকে বেড়ে ২৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল হয়েছে।

শু বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের উৎস শনাক্ত করতে পারেনি কেপলার। ফলে কাতার ও ইরাকের তেল পরিবহনের প্রকৃত পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

পারসি বলেন, ‘ভারত ও কাতারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, যা তাদের বজায় রাখতে হবে। তবে ট্রাম্পের আচরণে দুই দেশই হতাশ হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাতারের জন্য ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশটি এমন এক প্রতিবেশী, যাকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।’

‘তাই ইরানের বিধিনিষেধ থেকে ছাড় পাওয়ার ক্ষেত্রে চারটি দেশেরই কিছু সুবিধা রয়েছে। তবে এর সঙ্গে রাজনৈতিক ঝুঁকিও জড়িত’, যোগ করেন তিনি।

এ ঘোষণা কি নতুন?

এই উদ্যোগ নতুন নয়। যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরান বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর কিছু জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিতে শুরু করে। এপ্রিলে দেশটির সামরিক কমান্ড জানায়, ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ ইরাককে এ বিধিনিষেধ থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক বিশ্লেষক পুস্তাই বলেন, ‘ইরাককে ছাড় দেওয়ার মাধ্যমে ইরান সম্ভবত তার পশ্চিমের প্রতিবেশী এবং শিয়াপ্রধান দেশটির অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করতে চায়।’

জাহাজগুলো কি যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এড়িয়ে চলাচল করতে পারবে?

এটি নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় এলাকা বা বন্দরগুলোতে প্রবেশ কিংবা সেখান থেকে বের হওয়া ‘সব দেশের সব জাহাজের’ ওপর এই অবরোধ প্রযোজ্য হবে। তবে ইরানের বন্দর এড়িয়ে চলা জাহাজের ক্ষেত্রে এ বিধিনিষেধ কার্যকর হবে না।

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ‘বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বেঁচে থাকার জন্য অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী বহনকারী জাহাজ তল্লাশির পর চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।’

তবে হায়াত মোকাদ্দাম এই ছাড় শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য করা জাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করেননি বলে জানান বিশ্লেষক পুস্তাই।

তিনি বলেন, ‘সমঝোতার বিষয়টি সত্যি হলে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর ওপরও এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘ওয়াশিংটন ইরানের এই উদ্যোগ মেনে নিলে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।’

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্মতি দিলে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে, ‘ইরান থেকে আসা বা ইরানের উদ্দেশে যাত্রা করা চীন ও ভারতের জাহাজও এই ছাড়ের আওতায় আসবে।’

পুস্তাই বলেন, ‘এই দেশগুলোর জাহাজ’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, তা-ও স্পষ্ট নয়। এর অর্থ জাহাজের নিবন্ধিত পতাকাবাহী দেশ, মালিকানা, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, নাকি অন্য কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা, তা জানা যায়নি।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনাসহ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর শান্তি আলোচনায় বসার আগে অবরোধ প্রত্যাহার তেহরানের অন্যতম শর্ত। কাতারের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের একটি প্রস্তাব। এতে সাতটি শর্ত পূরণ করা হলে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে অবরোধ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।

পুস্তাই বলেন, ‘মনে হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে চলাচল এবং তেল রপ্তানির বিষয়টি পারমাণবিক ইস্যু থেকে আলাদা রাখতে চাইছে ইরান।’

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়াই বলে দেবে, এ কৌশল সফল হচ্ছে কি না।’

বিশ্বের তেলবাজারে কি এর কোনো প্রভাব পড়বে?

আইজি গ্রুপের প্রধান বাজার বিশ্লেষক ক্রিস বিউচ্যাম্প আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমার মনে হয়, আপাতত এসব ছাড়ের প্রভাব খুবই সীমিত।’

তিনি বলেন, ‘বাজার আবারও শান্তিচুক্তির সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নিয়ে হিসাব-নিকাশ করছে। আপাতত সবার নজর বৃহত্তর একটি চুক্তির সম্ভাবনার দিকে।’

তবে ছাড় পেলেই যে জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে, তা নয়। কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি জানিয়েছে, গত ৩০ অক্টোবর উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজ ‘আল মায়েদা’ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা এবং যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ অঞ্চলে ১২০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে অক্টোবরে।

মধ্যপ্রাচ্যের পথে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘থিওডর রুজভেল্ট’

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ০৫, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের পথে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘থিওডর রুজভেল্ট’

ইরানের সঙ্গে তীব্র চলমান উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট’। ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতেই মূলত এ রণতরীটি মোতায়েন করা হচ্ছে। সবশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, রণতরীটি ঘণ্টায় প্রায় ২৪ থেকে ৩১ নট গতিতে এগিয়ে চলছে।

নৌবহরের প্রকাশিত তথ্য পর্যবেক্ষণ করে জানা গেছে, বুধবার (৪ নভেম্বর) দক্ষিণ চীন সাগরে থিওডর রুজভেল্টের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়। সেখান থেকে আরব সাগরে গিয়ে পৌঁছাতে রণতরীটির আরও কয়েক দিন সময় লেগে যেতে পারে। তবে এটি এই মুহূর্তে সিঙ্গাপুরের কতটা কাছাকাছি রয়েছে কিংবা ঠিক কোন সময়ে আরব সাগরে নোঙর করবে, সে বিষয়ে স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এর আগে, ২৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো নৌঘাঁটি থেকে দীর্ঘ যাত্রা শুরু করেছিল ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট। বিশাল এই রণতরীটি মূলত ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ-৯ এর নেতৃত্ব দিচ্ছে। এর বহরে যুক্ত রয়েছে বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ, বিপুল পরিমাণ যুদ্ধবিমান এবং বিভিন্ন সামরিক উড়োজাহাজ। মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে রণতরীটি জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘কিন সোর্ড ২৭’-এ সরাসরি অংশ নেয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তি জোরদার করতেই থিওডর রুজভেল্টকে সেখানে পাঠানো হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সূত্রে আগেই জানা গিয়েছিল, নতুন রণতরীটি নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছালে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে তিনটিতে।

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত চরম আকার ধারণ করছে, ঠিক তখনই নতুন করে রণতরী পাঠানোর এ খবর সামনে এল। ওয়াশিংটন সেখানে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে চাইছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর থিওডর রুজভেল্ট ঠিক কী ধরনের মিশন পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে পেন্টাগন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

সৌদির সঙ্গে আলোচনা, বিদেশি সেনামুক্ত মধ্যপ্রাচ্য চায় ইরান

প্রকাশ: বুধবার, নভেম্বর ০৪, ২০২৬
সৌদির সঙ্গে আলোচনা, বিদেশি সেনামুক্ত মধ্যপ্রাচ্য চায় ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক দেশগুলোর নেতৃত্বে নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায় ইরান। এজন্য সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো শত্রুতা নেই। কাতার ও ওমানের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।

তার ভাষায়, আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের উদ্যোগেই নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত, যেখানে কোনো বিদেশি সামরিক উপস্থিতি থাকবে না।

সোমবার (২ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাঘচি জানান, সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের তেহরান সফরের সময় নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চার দেশ সহযোগিতা বাড়াতে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।

আরাঘচি বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার কোনো ইচ্ছা ইরানের নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। নতুন সংঘাত এড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোর সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।

এদিকে কাতারের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সামুদ্রিক অবরোধ বন্ধ, ইরানের তেল রপ্তানির সুযোগ নিশ্চিত করা, জব্দ সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর দাবি পূরণ করতে হবে। এরপরের দিন প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

আরাঘচি জানান, কাতারের মধ্যস্থতায় নিউইয়র্কে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। তবে সরাসরি বৈঠকের বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। তিনি স্পষ্ট করেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা আলাদা বিষয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। ইরান কূটনীতিতে আগ্রহী হলেও নতুন সামরিক হামলা হলে জবাব দিতে তাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

পাকিস্তানি নাগরিকদের অন অ্যারাইভাল ভিসা দিচ্ছে কাতার

প্রকাশ: মঙ্গলবার, নভেম্বর ০৩, ২০২৬
পাকিস্তানি নাগরিকদের অন অ্যারাইভাল ভিসা দিচ্ছে কাতার

পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য কাতারে অন অ্যারাইভাল ট্যুরিস্ট ভিসার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ ভিসায় দেশটিতে ৩০ দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবেন তারা। তবে ভিসা পেতে ফিরতি টিকিট, নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের প্রমাণসহ বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। যাত্রার আগে হোটেল বুকিং ও স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থাও সম্পন্ন করতে হবে।

গত রোববার (১ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের নাগরিকরা এখন কাতারে পৌঁছানোর পর ৩০ দিনের পর্যটন ভিসা নিতে পারবেন। তবে এ জন্য তাদের নির্দিষ্ট আর্থিক সামর্থ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে ভিসার মেয়াদ আরও ৩০ দিন বাড়ানো যাবে। এ ক্ষেত্রে নিশ্চিত ফিরতি টিকিট থাকতে হবে।

অবশ্য কাতারে অন অ্যারাইভাল ট্যুরিস্ট ভিসা নিতে ইচ্ছুক পাকিস্তানি নাগরিকদের দেশটিতে প্রবেশের সময়ই নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে দেশ ছাড়ার আগেই হোটেল বুকিং ও স্বাস্থ্যবিমার ব্যবস্থাও সম্পন্ন করতে হবে। ভিসার মেয়াদ হবে ৩০ দিন। প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করলে একই মেয়াদে আরও একবার ভিসা বাড়ানো যাবে।

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি আবেদনকারীদের নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে— আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ হিসেবে বৈধ ক্রেডিট কার্ডে অন্তত ৫ হাজার কাতারি রিয়াল অথবা সমপরিমাণ অর্থ থাকতে হবে। নিশ্চিত ফিরতি টিকিট দেখাতে হবে। পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত ছয় মাস থাকতে হবে।

ভিসা ৩০ দিনের জন্য বৈধ থাকবে। পরে আরও ৩০ দিন বাড়ানো যাবে। তবে মেয়াদ বাড়ানোর আগে নিশ্চিত ফিরতি টিকিট থাকতে হবে। পাকিস্তান থেকে সরাসরি কাতারে আসা যাত্রীদের সঙ্গে পোলিও টিকা নেয়ার সনদ থাকতে হবে। এছাড়া ব্যবসায়িক ভ্রমণের ক্ষেত্রে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কেবল ব্যবসায়িক ভিসা দেয়ার কথাও বলা হয়েছে।

কাতারে যাওয়ার আগে যাত্রীদের হোটেল বুকিং ও স্বাস্থ্যবিমা করতে হবে। হোটেল বুক করতে হবে ডিসকভার কাতারের মাধ্যমে। আর অন্তত এক মাসের স্বাস্থ্যবিমা নিতে হবে, যার খরচ ৫০ কাতারি রিয়াল। কিউআইসি ও কিউএলএমসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে এ বিমা নেয়া যাবে।