ফ্রান্সে স্কুলে বিদ্যমান সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশজুড়ে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৫০ পুলিশ সদস্য।
ফ্রান্সে কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনায় গভীর সংকটে পড়েছে দেশটির সরকার।
বেলজিয়ামে বিক্ষোভে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ১৯৫
শনিবারের বিক্ষোভে সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ, শত শত দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। দেশজুড়ে বিভিন্ন শহর থেকে দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রোববার জরুরি বৈঠকে বসেছে সরকার।
সহিংসতা মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের পদত্যাগ দাবি করেছেন বামপন্থি ও কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিকেরা।
বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন সরকারি ভবনে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। বাসস্টপ ভাঙচুর, সড়কে ব্যারিকেড স্থাপন এবং দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
রোববার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো। আগামী বসন্তে তার ক্ষমতা ছাড়ার কথা রয়েছে।
এদিকে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি নেতা মেরিন লে পেন জনমত জরিপে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইমানুয়েল ম্যাক্রো বলেন, ফ্রান্সে সহিংসতার কোনো স্থান নেই।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবারের বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশ ও প্রশাসনকে কয়েক ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে।
প্রথমত, প্যারিসসহ দেশটির বড় শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের জরাজীর্ণ স্কুল সংস্কার এবং আরো শিক্ষক নিয়োগের দাবির প্রতি সংহতি জানাতে এসব কর্মসূচিতে অভিভাবক, শিক্ষক, প্রবীণ ব্যক্তি, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষ অংশ নেন।
জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদও ছিল তাদের দাবির মধ্যে। বিক্ষোভকারীরা ব্যানার হাতে সরকারি সেবায় বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান এবং অভিযোগ করেন, সরকার তাদের কথা শুনছে না।
চার সপ্তাহ ধরে চলা মিছিল ও স্কুলে ব্যারিকেড কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় এসব শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ঘোষণা সিসির
তবে এর বাইরে বিভিন্ন গোষ্ঠী বিচ্ছিন্নভাবে জড়ো হয়ে রাস্তায় অগ্নিসংযোগ, ব্যারিকেড স্থাপন ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও দাঙ্গায় জড়ায়। প্যারিস, বোর্দো, নিস ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে এসব ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ ও প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া মুখোশধারী লুটেরারাও রাস্তায় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে দোকানের সামনের কাচ ভেঙে পণ্য লুট করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের সরকারকে একদিকে শিক্ষার্থীদের দাবি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জনঅসন্তোষ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জও সামলাতে হচ্ছে।
মাঝ আকাশে খুলে গেল দরজা: ঢাকায় জরুরি অবতরণ করল ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স