৯ আগস্ট ২০২৬

সৌদির জিজান ও জুবাইলে বিকট বিস্ফোরণ, আরামকোর স্থাপনায় আগুন!

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ০৯, ২০২৬
সৌদির জিজান ও জুবাইলে বিকট বিস্ফোরণ, আরামকোর স্থাপনায় আগুন!

সৌদি আরবের জিজান ও জুবাইল অঞ্চলে আগুন এবং বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। জুবাইল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির একটি গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে এবং সেখানে আগুন ধরেছে বলে দাবি করেছে কয়েকটি আরব আঞ্চলিক সূত্র। তবে বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, জুবাইল এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে ঠিক কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, আরব সূত্রগুলোর দাবি, জুবাইল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির গ্যাস স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। এরপর সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনার ধরন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা হতাহতের বিষয়ে এসব সূত্র বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

এদিকে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জিজানে সৌদি আরামকোর একটি শোধনাগার-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় আগুন লেগেছে। তবে আগুনের কারণ সম্পর্কে মন্ত্রণালয় কোনো তথ্য দেয়নি। তারা জানিয়েছে, এ ঘটনায় কেউ নিহত হননি।

এর আগে আঞ্চলিক সূত্রগুলো দাবি করেছিল, জিজানে সৌদি আরামকোর স্থাপনাগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল। তবে জিজানে আরামকোর স্থাপনায় আগুন লাগার ঘটনা এবং জুবাইলে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সৌদিতে ধরপাকড় অভিযান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কতটা উদ্বেগের?

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ০৪, ২০২৬
সৌদিতে ধরপাকড় অভিযান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কতটা উদ্বেগের?

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান নাডিক কোম্পানিতে কাজ পাবেন, এমন নিশ্চয়তায় পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবের রিয়াদে যান ঢাকার কামরাঙ্গীর চরের বাসিন্দা মো. আরিফ হোসেন। রিয়াদে পৌঁছে সেখানে থাকা আরেকজন দালালকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দেন তিনি।

আরিফ হোসেনের মত এমন আরো বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে রিয়াদে অবস্থিত একটি স্থানে থাকার জায়গা দেন দালাল। তবে রিয়াদে যে কাজের কথা দেওয়া হয়েছিল সেই কাজ পাননি তিনি। বেশ কিছুদিন বসে থাকার পরে মক্কায় গিয়ে অন্য কাজে যোগ দেন আরিফ হোসেন।

কিন্তু এরপরই সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচালিত অভিযানে গ্রেপ্তার হন তিনি। ফলে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা খরচ করলেও কিছুই আয় করতে পারেননি বলে জানান।

তিনি বলেন, নাডিকে কাজ দেয় নাই, এক মাস চইলা যায় কাজ দেয় নাই। পরে বাধ্য হইয়া মক্কায় যাই অন্য কাজ নিয়া। জুলাইয়ের চার তারিখে পুলিশ (সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) ধরছিল, ১৬-১৭ দিন জেল খাটছি। এরপর ২২ জুলাই দেশে আসছি।

তবে শুধু আরিফ হোসেনই নন, এই তালিকায় আরো হাজারো প্রবাসী রয়েছেন। দেশটিতে গত কয়েক মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দফায় দফায় অভিযানে অন্তত ৪০ হাজার প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। যাদের মধ্যে বাংলাদেশিরাও রয়েছেন।

আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের ফেরত পাঠিয়েছে বলে ওই সময় প্রকাশিত গালফ নিউজের সংবাদে জানানো হয়। একইসঙ্গে, জুন মাস থেকে চলা এসব অভিযানে ৩০ হাজারের বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

আর সবশেষ ২৩ থেকে ২৯ জুলাই এই অভিযানে সাড়ে ১২ হাজারের বেশি প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়; যাদের মধ্যে বাংলাদেশিরাও রয়েছেন। যদিও সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়ে নিযুক্ত কনসুলার (শ্রম) খন্দকার সিরাজুস সালেকিন বলছেন, নিয়ম-কানুন ভঙ্গ না করলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আতঙ্কের কিছু নেই। এক কাজের জন্য গিয়ে অন্য কাজ করার মতো ঘটনায় আইন লঙ্ঘন হয়। যারা এসব বিষয়ে সচেতন থাকবেন তাদের ভয়ের কিছু নেই।

সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযান নিয়মিত অভিযানেরই অংশ বলেও জানিয়েছেন তিনি।

• অভিযান নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্বেগের কারণ আছে কী?
গালফ নিউজের তথ্য বলছে, গত ২৩ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত এক সপ্তাহে পরিচালিত যৌথ তল্লাশি অভিযানে ১২ হাজার ৬১৩ জন প্রবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। একইসঙ্গে, ১৪ হাজার ১৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর মধ্যে, আবাসন আইন ভঙ্গের অপরাধে ৭ হাজার ১০৩, শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩ হাজার ৩৯৭ জন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা অভিযোগে ৩ হাজার ৬৫৪ জনকে এই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সৌদি আরবের মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে গালফ নিউজের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অপরাধে ৩০ হাজার ৬৭৯ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তাদের মধ্যে ১৭ হাজার ৯০৩ জনকে ভ্রমণের কাগজপত্রের জন্য নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে এবং পাঁচ হাজার ৪২৪ জন দেশ ছাড়ার আগে ভ্রমণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষ করছেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, কেউ যদি অবৈধভাবে দেশটিতে প্রবেশ করতে চায়, পরিবহন করা বা নিয়ম ভঙ্গকারীদের লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করে, তাহলে তার সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। একইসঙ্গে, ১০ লাখ রিয়েল বা প্রায় দুই লাখ ৬৬ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানাও করা হতে পারে।

এছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত গাড়ি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং জনসম্মুখে নাম প্রকাশের মতো কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছে সৌদি আরব। তবে, ওই সাড়ে ১২ হাজারের মধ্যে কত সংখ্যক বাংলাদেশি রয়েছেন সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এই অভিযানের তথ্য সর্বশেষ তথ্য হলেও গালফ নিউজের সংবাদ ঘেঁটে দেখা যায়, এই দফার অভিযান শুরু হয়েছে ১৮ জুন থেকে ২৪ জুন। সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জুলাই মাসে দুই দফায় অভিযান চালায়।

এর মধ্যে ১৬ থেকে ২২ জুলাই এবং ২৩ থেকে ২৯ জুলাই সবশেষ অভিযানে দেশটির আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে, ৭ মে থেকে ১৩ মে এক সপ্তাহব্যাপী সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন ভঙ্গের অভিযোগে ১১ হাজার ২৭২ অবৈধ প্রবাসীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠায় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তবে, জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল নিযুক্ত কনসুলার(শ্রম) খন্দকার সিরাজুস সালেকিন জানান, গত সপ্তাহের সর্বশেষ এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে চার হাজার বাংলাদেশি জেদ্দার তারহিলের সফর জেলে রয়েছেন। অর্থাৎ বাংলাদেশে ফেরার জন্য সেখানে রয়েছেন তারা।

এছাড়া আরো প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাংলাদেশি সৌদি আরবের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দেশটির কারাগারে রয়েছেন। তবে, তাদের প্রত্যেকেই যে জুন থেকে শুরু হওয়া অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন সেটি নয়। এই গ্রেপ্তারকৃত ও সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে এই সময়ের আগের প্রবাসী বাংলাদেশিও রয়েছেন বলে জানান তিনি।

তবে সালেকিন বলছেন, সৌদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযান একটি নিয়মিত ঘটনা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, হজ মৌসুমসহ সামগ্রিক প্রেক্ষাপট মনিটরিং করে সৌদির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, এটা একটা রেগুলার প্রসেসে চলতে থাকে। হজ্জের সময় এটা খুব কঠোরভাবে চেক করা হয়। হজ ছাড়া অন্যান্য সময় অন্যান্য দেশের পারস্পরিক বিষয়ের সাথে রিলেট করে অভিযান পরিচালনা হয়। নানা ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে প্রবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠায় সৌদি আরব।

এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশটি নিয়ে নেতিবাচক পোস্ট করলেও সেটি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত এবং সৌদি আরব বিষয়টি মনিটরিং করে বলেও জানান তিনি।

এর মধ্যে, এক কাজের কথা বলে অন্য কাজে নিযুক্ত হওয়া, এক স্থানের কথা বলে অন্য স্থানে অবস্থান করা, যে মেয়াদে কাজের জন্য গিয়েছেন সেই সময় মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া অথবা সড়কে বা ফুটপাতে হকার হিসেবে পণ্য বিক্রি করা এমন নানা কারণে যারা দেশটিতে অবস্থান করছেন সৌদি কর্তৃপক্ষের অভিযানে তাদেরই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এটা একটা নরমাল প্রসিডিউর। এখানকার কিছু রুলস আছে। আপনি যেই কাজে আসছেন সেই কাজেই থাকতে হবে। দেখা যাচ্ছে আপনি আসছেন এক কাজে এসে আপনি এখানে বিজনেস করছেন।

‌‌‘‘এক জায়গার ইকামা নিয়ে আরেক জায়গায় কাজ করা যায় না। ধরুন, একজনের ইকামাতে জব লোকেশনটা রিয়াদ কিন্তু তিনি জেদ্দা বা মক্কায় আছেন এক্ষেত্রে রেসিডেন্স ভায়োলেশন হয়। অর্থাৎ যখন ইকামার সাথে আপনার ন্যাচার অফ ওয়ার্কের কনক্লুয়েন্সি বা চূড়ান্ত রূপ পাওয়া যাচ্ছে না তখন অভিযানে ধরছেন তারা।’’

সাধারণত এসব কারণেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া, অভিযানে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যাওয়ার পর যখন তিনি ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেন উনার নামে যদি কোনো মামলা হয় বিশেষ করে আর্থিক মামলা হয় তখন ওনার ট্রাভেল ব্যানড করে রাখা হয়। যতক্ষণ না পর্যন্ত ট্রাভেল ব্যানের টাকা পরিশোধ করা না যায় ততক্ষণ উনি নিজ দেশে যেতে পারেন না, বলেন কনসুলার সালেকিন।

গত ২৮ মে থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে হজ্জ ফেরত ফ্লাইট শিডিউল ছিল। সে সময় ফ্লাইট স্বল্পতায় যারা বাংলাদেশে ফিরতে পারেননি তারাও সেখানে অবস্থান করেছেন জুলাইয়ে অভিযানের ওই সময়ে।

সেইসব বাংলাদেশিদের দেশে পাঠাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তিনটি বাড়তি ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছিল। জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়ে নিয়োজিত কনসু্লার(শ্রম) খন্দকার সিরাজুস সালেকিন জানান, ২৬ ও ২৭ জুলাই প্রায় ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

যেসব প্রবাসী বাংলাদেশি আবাসন, চাকরি বা সৌদি আরবের বিভিন্ন আইন ভঙ্গ করেছেন জুলাইয়ে সৌদি আরবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কেবল তাদেরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান এই কনসুলার।

সৌদি আরবের রুলস-রেগুলেশনস মেনে চললে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আতঙ্কের কিছু নেই। তিনি বলেন, তারা যদি সৌদি রুলস, রেগুলেশনস মেনে চলেন এবং যে যেখানে কাজে আছেন সেখানে ঠিকমতো কাজ করেন রুলস ভায়োলেশন না করেন, তাহলে ইনশাল্লাহ কোনো ভয়ের কিছু নেই।

সৌদি আরবে প্রায় ৩৭ থেকে ৩৮ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি এখন বসবাস করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনো সৌদি আরবের শ্রম বাজার বাংলাদেশি লেবার মার্কেটের ওপর অনেকটাই ডিপেন্ডেন্ড। এ কারণেই সৌদি আরবে অবস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজের ইকামা দিয়ে অন্য কাউকে সাহায্য না করার মতো ঘটনার বিষয়ে আরো সচেতন হতে আহ্বান জানিয়েছেন জেদ্দা কনসুলেটের কনসুলার(শ্রম) খন্দকার সিরাজুস সালেকিন।

• সৌদি আরবে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের অবস্থা কী?
সত্তরের দশক থেকে সৌদি আরবের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের প্রবেশ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রম বাজার সৌদি আরব। বাংলাদেশের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ১১ লাখেরও বেশি মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশ গিয়েছেন। যার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষই সৌদি আরবে গেছেন।

২০২৫ সালে সৌদি আরবে রেকর্ড সংখ্যক কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ, এই সংখ্যা তার আগের বছরের ১৬ শতাংশ বেড়েছে গতবছর। অর্থাৎ সাত লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী গত বছর কর্মসংস্থানের জন্য দেশটিতে গিয়েছেন।

আর ২০২৪ সালে প্রায় ছয় লাখ ২৮ হাজার বাংলাদেশি সৌদি আরবে গিয়েছেন। কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশে এক বছরে জনশক্তি পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সৌদি আরবই সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর পরের অবস্থানে রয়েছে কাতার, দেশটিতে গত বছর এক লাখ ৪৭২ হাজার কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।

এছাড়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে সিঙ্গাপুর যেখানে ৭০ হাজার ৫৬ জন এবং কুয়েতে ৭২ হাজার ৭১৭ জনকে পাঠানো হয়েছে।

অবশ্য সৌদি আরবে পাঠানো কর্মী সংস্থার তুলনায় অন্যান্য দেশে এই হার খুবই কম। এ বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত নিউজ অব বাহরাইন পত্রিকার এক খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে বসবাসরত ৩৫ লাখ প্রবাসীর প্রতি বছর পাঁচ বিলিয়ন ডলার বা পাঁচশো কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠান বাংলাদেশে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের আগের রেকর্ড ভেঙ্গে প্রথমবারের মতো দেশের রেমিট্যান্স ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল বলে এই বছরের ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত বাসসের এক খবরে বলা হয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে বাংলাদেশ সৌদি আরবের সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানির একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। যেটি দুই দেশের ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিহাসে প্রথম চুক্তি। এই চুক্তির ফলে কর্মীদের সুরক্ষা, বেতন পরিশোধ, কল্যাণ এবং স্বাস্থ্যসেবার মান আরো উন্নত হবে।

নিউজ অব বাহরাইন পত্রিকা বলছে, এখন তাকামোল যাচাইকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ কর্মী নিয়োগের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সৌদি আরব। একইসঙ্গে, সৌদি আরবের বিশেষ ভিশন ২০৩০ প্রকল্পের অধীনে খনি ও নির্মাণ খাতে নতুন করে আরো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এই প্রকল্পের অধীনে ২০২৬ সালে নতুন একটি কর্মসংস্থান চুক্তির আওতায় আরো তিন লাখ বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফোন করে সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সতর্ক করলেন ইরানের আরাঘচি

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ০২, ২০২৬
ফোন করে সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সতর্ক করলেন ইরানের আরাঘচি
আব্বাস আরাঘচি, প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকের এই যোগাযোগকে চলমান সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফোনালাপে আরাগচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো ‘আগ্রাসনের’ উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের হামলায় অংশগ্রহণকারী আঞ্চলিক দেশগুলোকেও নিশানা করা হবে।

ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে যেকোনো হামলার জবাবে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হানার হুমকি বরাবরই দিয়ে আসছেন ইরানের শীর্ষ নেতারা। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াচ্ছে ইরান।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে আলাদাভাবে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং সংঘাত আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

এই ফোনালাপগুলোতে তেহরান মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছে এবং পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, তাদের সার্বভৌমত্ব বা জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যেকোনো আক্রমণের কঠোর জবাব দিতে তারা প্রস্তুত।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীতে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণের নিয়মগুলো উপেক্ষা করে এবং একটি ‘অননুমোদিত রুটের’ মধ্য দিয়ে জাহাজ পরিচালনা করে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি কড়া বিবৃতি দিয়েছে।

তেহরান আরও অভিযোগ করেছে, বাণিজ্যিক জাহাজের আড়ালে হরমুজ প্রণালীতে সামরিক চলাচল গোপন রাখা, নতুন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ আরোপ এবং ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে নতুন বিমান হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

ইরানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে একটি নতুন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিষয়ে ক্রমবর্ধমান জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই এই ঘটনাগুলো ঘটছে, অন্যদিকে তেহরান এই অঞ্চলের বাইরেও তাদের প্রতিশোধমূলক আক্রমণ প্রসারিত করার হুমকি দিচ্ছে।

ইয়েমেনে হামলার পর জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ২৫, ২০২৬
ইয়েমেনে হামলার পর জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব

ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সামরিক হামলার উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জাজান এবং লোহিত সাগর উপকূলীয় ইয়ানবু গভর্নরেটে সাময়িকভাবে 'সম্ভাব্য বিপদের' জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল দেশটির সিভিল ডিফেন্স ডিরেক্টরেট।

শনিবার (২৫ জুলাই) ডিরেক্টরেটের সাইরেন ও অফিশিয়াল বার্তার মাধ্যমে এই উচ্চ সতর্কবার্তা দেওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই অবশ্য সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর দুই অঞ্চলের জন্যই বিপদমুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়।

জরুরি সতর্কতা জারির প্রাথমিক মুহূর্তে সৌদি সিভিল ডিফেন্স ডিরেক্টরেট থেকে বিশেষ করে ইয়ানবু গভর্নরেটের অধিবাসী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সম্পূর্ণ শান্ত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। একই সাথে নাগরিকদের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেবল সরকারি নির্দেশনা ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার পরম পরামর্শ দেওয়া হয়।

হঠাৎ এই উচ্চ সতর্কতা জারি এবং কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তা প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ সিভিল ডিফেন্সের বিজ্ঞপ্তিতে খোলসা করা হয়নি। নিরাপত্তা ঝুঁকির সুনির্দিষ্ট রূপ কিংবা ঠিক কী ধরনের আকাশপথ বা সীমান্তভিত্তিক হুমকি তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারিভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য বা মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য যে, ইয়েমেন সংঘাতকে কেন্দ্র করে সীমান্ত বা কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে মাঝে মাঝেই প্রাক-সতর্কতামূলক নিরাপত্তামূলক প্রোটোকল সচল করা হয়। জাজান ও ইয়ানবু অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে।

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইয়েমেনের

প্রকাশ: শনিবার, জুলাই ২৫, ২০২৬
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইয়েমেনের

সৌদি আরব বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে অভিযোগ তুলে দেশটির বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার শপথ নিয়েছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা।

হুথিরা সৌদি আরবের জ্বালানিবাহী জাহাজে আক্রমণ এবং নৌ অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার জবাবে রিয়াদ শুক্রবার (২৪ জুলাই) ইয়েমেনের হুদায়দাহ শহরের সামরিক ঘাটি এবং কামারান দ্বীপে বিমান হামলা চালায়।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান যে বাণিজ্য জাহাজে হুমকি সৃষ্টিকারী হুথি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে তারা চূড়ান্ত ও জোরালো জবাব দিয়েছেন এবং সামরিক পদক্ষেপ শেষ করেছেন।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনায় তেহরান ক্রমশ গুরুতর ও আন্তরিক হয়ে ওঠায় তিনি ইরানের ওপর এখনই বড় কোনো সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নেননি। এছাড়া চীন ও রাশিয়া ইরানকে অস্ত্র বা গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করছে না বলে ট্রাম্প নিজের বিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন।

যুদ্ধের বিস্তৃতি বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন দূতাবাসগুলো তাদের নাগরিকদের এলাকা ছাড়ার সতর্কতা দিয়েছে। ওমান উপসাগরে মার্কিন অবরোধ অমান্য করায় একটি মার্চেন্ট জাহাজে হামলা চালিয়েছে সেন্টকম, আর ওদিকে ইরাকের এরবিল, কুয়েতের উদাইরি ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাটিতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানি বাহিনী ও তাদের সঙ্গীরা।

লন্ডনের হোটেলের বাথরুমে ২৯ বছর বয়সী সৌদি যুবরাজের মৃত্যু

প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬
লন্ডনের হোটেলের বাথরুমে ২৯ বছর বয়সী সৌদি যুবরাজের মৃত্যু

যুক্তরাজ্যের লন্ডনের একটি পাঁচতারা হোটেলে ২৯ বছর বয়সী এক সৌদি যুবরাজের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের মৃত্যু তদন্তকারী কর্মকর্তা 'করোনা'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল, পার্টি ড্রাগস এবং উদ্বেগ কমানোর ওষুধের মারাত্মক মিশ্রণের কারণে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) তার মৃত্যু হয়েছে। তদন্তে হত্যা বা আত্মহত্যার কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় একে ‘দুর্ঘটনাবশত মৃত্যু’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

মৃত ওই যুবরাজের নাম আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ বিন জালাউয়ি আল সৌদ। গত বছরের ২৫ নভেম্বর লন্ডনের কেনসিংটন এলাকার ম্যারিয়ট হোটেলের একটি কক্ষের বাথরুম থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তালাবদ্ধ কক্ষটি খোলার পর তাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে জরুরি চিকিৎসকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে ১৯ নভেম্বর এক সপ্তাহের জন্য ওই হোটেলে উঠেছিলেন তিনি।

ইনার ওয়েস্ট লন্ডন করোনারস কোর্টের তদন্তে যুবরাজের শরীরে মারাত্মক মাত্রায় নেশাজাতীয় দ্রব্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়। বিষতত্ত্ব পরীক্ষায় দেখা যায়, তার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল ১০০ মিলিলিটারে ২২২ মিলিগ্রাম, যা ইংল্যান্ডে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত বৈধ মাত্রার চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি। এর পাশাপাশি তার শরীরে ‘জিএইচবি’ নামের পার্টি ড্রাগ, গাঁজার আলামত এবং জ্যানাক্সসহ (অ্যালপ্রাজোলাম) উদ্বেগ কমানোর বিভিন্ন ওষুধের বিপজ্জনক মাত্রার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

ময়নাতদন্তে যুবরাজের কোনো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতার খোঁজ মেলেনি। চিকিৎসকদের মতে, মদ ও একাধিক ওষুধের এই বিষাক্ত মিশ্রণই তার মৃত্যুর মূল কারণ।

তবে এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যা নাকি আত্মহত্যা, সে বিষয়েও বিস্তারিত তদন্ত করেছে পুলিশ। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মৃত্যুর আগের দিন সন্ধ্যায় যুবরাজ একা হোটেলের বাইরে ধূমপান করতে গিয়েছিলেন এবং একাই নিজ কক্ষে ফিরে আসেন।

কক্ষে অন্য কারও প্রবেশের প্রমাণ না পাওয়ায় তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততার সন্দেহ বাতিল করা হয়। এ ছাড়া কক্ষ থেকে কোনো চিরকুট বা ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার হয়নি।

সহকারী করোনার জিন হারকিন তার রায়ে বলেন, ‘যুবরাজ আবদুল্লাহ নিজের জীবন শেষ করতে চেয়েছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একাধিক মাদকের বিক্রিয়ায় দুর্ঘটনাবশত তার মৃত্যু হয়েছে।’

শুনানিতে উপস্থাপন করা চিকিৎসা সনদের তথ্যমতে, মৃত্যুর আগে থেকেই এই সৌদি যুবরাজ মাদকাসক্তি ও মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। গত বছরের আগস্টে তিনি লন্ডনের একটি রিহ্যাবে ভর্তি হয়ে অ্যালকোহল ও ওষুধের আসক্তি কাটানোর চিকিৎসা নেন।

পরে অক্টোবরে অন্য একটি ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা শেষে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তখন চিকিৎসকেরা তাকে মানসিক অবসাদমুক্ত জানালেও, পরবর্তী সময়ে তিনি চিকিৎসকদের নির্ধারিত অনলাইন ফলোআপ সেশনগুলোতে আর অংশ নেননি।

যুবরাজের মৃত্যুর কয়েক দিন পর ২ ডিসেম্বর সৌদি আরবের রয়্যাল কোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে। রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, আবদুল্লাহ ছিলেন অত্যন্ত শান্তশিষ্ট ও পরোপকারী একজন মানুষ।

রিয়াদের ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহ মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।