৯ আগস্ট ২০২৬

মেসির বাবা হোর্হে মেসি আর নেই

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ০৯, ২০২৬
মেসির বাবা হোর্হে মেসি আর নেই

বিশ্বকাপের ধাক্কা সামলে ক্লাব ফুটবলে ফেরার পরপরই বড় শোকের খবর পেলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার রোজারিওর একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে গেছেন এই ফুটবল তারকার বাবা ও এজেন্ট হোর্হে মেসি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।

জর্জ মেসি ঠিক কোন রোগে আক্রান্ত ছিলেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে গত কয়েক মাস ধরে তিনি শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে ছিলেন।

২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালেও তাঁর অসুস্থতার বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। একটি ম্যাচে গোলের পর লিওনেল মেসিকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। পরবর্তীতে মেসি নিজেই জানান, তাঁর আবেগের পেছনে ফুটবলসংক্রান্ত কোনো কারণ ছিল না। এরপরই আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমে তাঁর বাবার শারীরিক অসুস্থতার খবর প্রকাশিত হয়।

সে সময় পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তিনি চিকিৎসার মধ্যে রয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত দীর্ঘদিনের সেই অসুস্থতার সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে গেলেন তিনি।

মেসির বিশ্বসেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল তাঁর বাবার। শৈশবে গ্রোথ হরমোনের সমস্যায় আক্রান্ত মেসির চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা থেকে শুরু করে ১৩ বছর বয়সে স্পেনে পাড়ি জমানো সবকিছুতেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন হোর্হে।

পরবর্তী সময়ে কেবল বাবাই নন, মেসির দীর্ঘদিনের এজেন্ট ও অভিভাবক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন হোর্হে। চুক্তি সম্পাদন থেকে শুরু করে মাঠের বাইরের সব বিষয় সামলাতেন প্রচারবিমুখ এই মানুষটি।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী সেলিয়া কুচ্চিত্তিনি এবং চার সন্তান রদ্রিগো, মাতিয়াস, মারিয়া সোল ও লিওনেল মেসিকে রেখে গেছেন।

মেসির বাবা হোর্হে মেসি আর নেই

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ০৯, ২০২৬
মেসির বাবা হোর্হে মেসি আর নেই

বিশ্বকাপের ধাক্কা সামলে ক্লাব ফুটবলে ফেরার পরপরই বড় শোকের খবর পেলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার রোজারিওর একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না ফেরার দেশে চলে গেছেন এই ফুটবল তারকার বাবা ও এজেন্ট হোর্হে মেসি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।

জর্জ মেসি ঠিক কোন রোগে আক্রান্ত ছিলেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে গত কয়েক মাস ধরে তিনি শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে ছিলেন।

২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালেও তাঁর অসুস্থতার বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। একটি ম্যাচে গোলের পর লিওনেল মেসিকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। পরবর্তীতে মেসি নিজেই জানান, তাঁর আবেগের পেছনে ফুটবলসংক্রান্ত কোনো কারণ ছিল না। এরপরই আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমে তাঁর বাবার শারীরিক অসুস্থতার খবর প্রকাশিত হয়।

সে সময় পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তিনি চিকিৎসার মধ্যে রয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত দীর্ঘদিনের সেই অসুস্থতার সঙ্গে লড়াইয়ে হেরে গেলেন তিনি।

মেসির বিশ্বসেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল তাঁর বাবার। শৈশবে গ্রোথ হরমোনের সমস্যায় আক্রান্ত মেসির চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা থেকে শুরু করে ১৩ বছর বয়সে স্পেনে পাড়ি জমানো সবকিছুতেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন হোর্হে।

পরবর্তী সময়ে কেবল বাবাই নন, মেসির দীর্ঘদিনের এজেন্ট ও অভিভাবক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন হোর্হে। চুক্তি সম্পাদন থেকে শুরু করে মাঠের বাইরের সব বিষয় সামলাতেন প্রচারবিমুখ এই মানুষটি।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী সেলিয়া কুচ্চিত্তিনি এবং চার সন্তান রদ্রিগো, মাতিয়াস, মারিয়া সোল ও লিওনেল মেসিকে রেখে গেছেন।

মেসিকে হত্যার ছক, পুলিশের নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ০৯, ২০২৬
মেসিকে হত্যার ছক, পুলিশের নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসিকে হত্যার ভয়াবহ পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। পুলিশের নিরাপত্তা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসীরা অস্ত্র ও বোমা নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে মেসিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে মেসিসহ একাধিক তারকা ফুটবলার হুমকির মুখে পড়েছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও।

ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কোঅপারেশন সেন্টার (আইপিসিসি) এবং এফবিআইয়ের প্রতিবেদনে বিশ্বকাপ চলাকালে খেলোয়াড় ও ম্যাচ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা হুমকির বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। স্পেনের সংবাদপত্র ইনফরমাসিওন ডট ইএস ওই নিরাপত্তা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের রেফারি ফ্রঁসোয়া লেতেজিয়ে তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে ছয় হাজারেরও বেশি হুমকি পেয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে ফ্রান্সে থাকা তার পরিবারের সদস্যদেরও পুলিশি নিরাপত্তা দিতে হয়েছে।

জুলাইয়ের ৭ তারিখ আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ব্যক্তি লিখেছিল, ‘আমি আটলান্টা স্টেডিয়ামে ঢুকব এবং শরীরে বাঁধা চারটি বোমা দিয়ে মেসিকে উড়িয়ে দেব।’

মেসিকে ঘিরে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকির ঘটনা ঘটে ডালাস বিমানবন্দরে। এক ব্যক্তি ফোন করে পুলিশকে জানায়, সে আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে ‘বাড়িতে তৈরি বোমা এবং একটি এআর-১৫ রাইফেল’ নিয়ে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছে।

ওই ব্যক্তি দাবি করেছিল, তারা ‘দুই দলের পুলিশ ও খেলোয়াড়দের’ ওপর হামলা চালাতে চায়। তবে তার বক্তব্যে বিশেষভাবে লিওনেল মেসির নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।

আরেকটি ঘটনায় খেলা চলাকালে এক ব্যক্তি পুলিশকে ফোন করে দাবি করে, স্টেডিয়ামের ময়লার ঝুড়িতে সে ‘তিনটি বোমা’ রেখে এসেছে। খবর পাওয়ার পর বোমা বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষিত কুকুর ও তাদের প্রশিক্ষকদের নিয়ে আটলান্টা স্টেডিয়ামে তল্লাশি চালানো হয়।

নিরাপত্তা সংক্রান্ত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে ছিলেন মেসি।

মেসির পাশাপাশি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকেও একাধিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়েছে। ১৪ জুন ফিফার এক কর্মী কর্তৃপক্ষকে জানান, এক ‘সন্দেহভাজন ব্যক্তি’ রোনালদোর হোটেলে থাকার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা করছিল।

এর দুই দিন পর হিউস্টন পুলিশ ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে এবং রোনালদোর হোটেল থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে।

টরন্টোতেও রোনালদোকে ঘিরে একই ধরনের ঘটনা ঘটে। এক সমর্থক রোনালদোর সঙ্গে লিফটে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ব্যক্তি দাবি করেছিল, সে শুধু রোনালদোর সঙ্গে সেলফি তুলতে চেয়েছিল।

মিয়ামিতেও এক ব্যক্তি রোনালদোর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ ছাড়া পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ চলাকালে রোনালদোর জার্সি পরা এক ব্যক্তি মাঠে ঢুকে পড়েন।

বিশ্বকাপের সময় হুমকির শিকার হন ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপেও। ফ্রান্স-প্যারাগুয়ে ম্যাচে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদের এই খেলোয়াড়কে অনলাইনে ‘জাতিবিদ্বেষী’ বক্তব্যের মাধ্যমে অপমান করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫ ও ৬ জুলাই প্যারাগুয়েতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমবাপের ছবি ব্যবহার করে তৈরি একটি পুতুল ‘পুড়িয়ে দেখানো’ হয়।

বিশ্বকাপের মতো বড় আন্তর্জাতিক আসরে তারকা খেলোয়াড়দের ঘিরে এমন ধারাবাহিক হুমকি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে।

চেয়ার বাঁচাতে ট্রাম্পের দ্বারস্থ ইনফান্তিনো

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ০৪, ২০২৬
চেয়ার বাঁচাতে ট্রাম্পের দ্বারস্থ ইনফান্তিনো

বিশ্বকাপ ফুটবলের বাণিজ্যিক মালিকানার একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিতর্কের জেরে ওই পরিকল্পনা থেকে সরে এলেও চাপ কমেনি। এবার নিজের অবস্থান ধরে রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহায়তা চাইছেন বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইনফান্তিনো মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে একান্ত টেলিফোন বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন। দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে নিউইয়র্ক পোস্ট জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার সকালে তাদের মধ্যে কথা হওয়ার কথা ছিল।

তবে পরে এ দাবি নাকচ করে দেন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডিলান জনসন। এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, ইনফান্তিনোর সঙ্গে রুবিওর কোনো আলোচনার সূচি নেই। একই সঙ্গে যথাযথ তথ্য যাচাই ছাড়া এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করায় নিউইয়র্ক পোস্টের সমালোচনাও করেন তিনি।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বিক্রির পরিকল্পনা। অভিযোগ ওঠে, এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জোশুয়া কুশনারের প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা ছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়।

এদিকে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যেই আপত্তি জানিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। ওয়েলস ফুটবল ফেডারেশনও ঘোষণা দিয়েছে, ফিফার পরবর্তী সভাপতি নির্বাচনে তারা ইনফান্তিনোকে সমর্থন করবে না।

নিউইয়র্ক পোস্টের দাবি, গত শুক্রবার শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব বাতিল হওয়ার পর থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হননি ইনফান্তিনো।

চারদিকের সমালোচনা ও চাপের মধ্যে তিনি নিজেকে একাকী অনুভব করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইনফান্তিনোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে তিন কনফেডারেশনের জোট

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ০৪, ২০২৬
ইনফান্তিনোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে তিন কনফেডারেশনের জোট

জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যেন অথৈ সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন। অথচ খুব সহজেই টানা চতুর্থবার ফিফা প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল তার। সব টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা হিসাবনিকাশ পাল্টে দিলো। এই পরিকল্পনা বাতিল করেও রেহাই পাচ্ছেন না। তাকে গদি থেকে নামাতে এবার একজোট হয়েছেন উয়েফা, কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের নেতারা।

ইতালিয়ান-সুইস প্রশাসকের ওপর আস্থা হারানোর কথা ইতোমধ্যে জানিয়েছিল উয়েফা। আগামী মার্চের নির্বাচনে তাকে পুনঃনির্বাচনে সমর্থন প্রত্যাহার করেছে ইংলিশ ও ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এমন অবস্থায় চাকরি বাঁচানো তার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জের হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু গণমাধ্যমের দাবি, টিকে থাকতে সোমবার হোয়াইট হাউজে ‘বন্ধু’ ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাহায্য চেয়েছেন তিনি।

আর এবার দ্য টাইস এক প্রতিবেদনে বলেছে, ইনফান্তিনো পদত্যাগ না করলে ‘ফিফাকে অচল’ করতে তিন কনফেডারেশন সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই প্রতিবেদনে যোগ করা হয়েছে, ফিফা প্রেসিডেন্ট যদি ক্ষমতায় থেকে যান এবং আগামী নির্বাচনে লড়াই করতে চান, তাহলে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা করে রেখেছে তারা।

এর মধ্যে রয়েছে নিজেদের মতো করে একটি ‘বিদ্রোহী’ প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে এই তিন ফুটবল সংস্থা। আর ‘সরকারি বয়কট’ তো রয়েছেই। এর মানে তারা ফিফার সিদ্ধান্ত কিংবা পরিষদ ও কমিটি বৈঠকে থাকতে অস্বীকৃতি জানাবে।

দ্য টাইমস এক সূত্রের বরাত দিয়ে লিখেছে, ‘সবাই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে তাকে যেতেই হবে। তা না হলে আমরা তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। এর মধ্যে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাও রয়েছে - দক্ষিণ আমেরিকার বড় দেশগুলো কি ফ্রান্স বা স্পেন নাকি লেবানন বা জিবুতির সঙ্গে খেলতে বেশি পছন্দ করবে? সবাই খুব দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, এখন আর পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।’

জানা গেছে, বেশ কিছু দেশ ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত কেবল ১৫ দেশের সমর্থন পেয়েছেন তিনি। অথচ সপ্তাহখানেক আগেও মার্চের পুনঃনির্বাচনে দাঁড়াতে ৫৬ বছর বয়সী ২১১ ফিফা সদস্যের প্রায় সবার সমর্থন পেয়েছিলেন। জিততে তার ১০৬ ভোটের দরকার ছিল।

এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী তার বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়াতে এগিয়ে আসেননি। অবশ্য ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত হাতে সময় আছে। তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশ ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি জানালে জরুরি ফিফা পরিষদ বৈঠক ডাকতেই হবে।

ফিফার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে উয়েফা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, আগস্ট ০৪, ২০২৬
ফিফার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে উয়েফা

বিশ্বকাপ ও অন্যান্য বড় ফুটবল ইভেন্টের মালিকানাসংশ্লিষ্ট শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।

উয়েফা ইতোমধ্যে ফিফা এবং মার্কিন বিনিয়োগকারী জোশুয়া কুশনারকে পৃথক চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা আদালতে যাওয়ার পাশাপাশি সালিশি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে অভিযোগ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে পরিকল্পনাসংক্রান্ত কোনো নথি বা তথ্য যেন নষ্ট না করা হয়, সে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

দ্য টেলিগ্রাফ ও দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩১ জুলাই পাঠানো ছয় পৃষ্ঠার ওই চিঠিতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোসহ সংস্থাটির ১৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তার কাছে সংশ্লিষ্ট সব নথি ও তথ্য সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে। একই ধরনের চিঠি পাঠানো হয়েছে জোশুয়া কুশনারের কাছেও।

জোশুয়া কুশনার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই। তার পরিচালিত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘থ্রাইভ ইটারনাল’-এর কাছে ফিফা নতুন একটি প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ শেয়ার প্রায় ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিল।

উয়েফার পক্ষে একটি আন্তর্জাতিক আইন সংস্থা চিঠিতে দাবি করেছে, এই প্রকল্পের পরিকল্পনা, কাঠামো, মালিকানা, আর্থিক মূল্যায়ন এবং বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের তথ্য ও নথি সংরক্ষণ করতে হবে। এর মধ্যে বোর্ড সভার কার্যবিবরণী, কমিটির নথি, কৌশলগত পরিকল্পনা, আর্থিক বিশ্লেষণ, আইনি পরামর্শ, চুক্তির খসড়া এবং সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের রেকর্ডও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া ফিফার কর্মকর্তা, কর্মচারী, সদস্য দেশ, পরামর্শক, বিপণন প্রতিষ্ঠান ও পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গে হওয়া সব ধরনের যোগাযোগ সংরক্ষণেরও আহ্বান জানিয়েছে উয়েফা।

গত ২৮ জুলাই ফিফা ঘোষণা দিয়েছিল, বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতা পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি নতুন অলাভজনক সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে। ওই প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ শেয়ার ‘থ্রাইভ ইটারনাল’-এর কাছে বিক্রির পরিকল্পনাও প্রকাশ করা হয়।

তবে উয়েফাসহ বিভিন্ন মহলের তীব্র বিরোধিতার মুখে ৩১ জুলাই ফিফা ওই পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়ায়। এর আগে উয়েফা পরিকল্পনা প্রত্যাহার না করলে বিশ্বকাপসহ ফিফার টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকিও দিয়েছিল।

উয়েফার নথি সংরক্ষণের তালিকায় ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার, সাবেক মার্কিন নারী দলের কোচ জিল এলিস এবং প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুরের নাম রয়েছে। তবে তালিকায় নাম থাকা মানেই তারা সরাসরি এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন—এমনটি নয়।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে দ্য টেলিগ্রাফ ও দ্য অ্যাথলেটিক ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

এদিকে ৩০ জুলাই উয়েফার বৈঠকে ইউরোপের ৫৫টি সদস্য দেশ একমত হয় যে, ফিফা পরিকল্পনা থেকে সরে না এলে তারা ফিফার টুর্নামেন্ট বর্জনের পথে হাঁটবে। পরে উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করে।

পরিকল্পনা বাতিলের পর ১ আগস্ট দেওয়া এক বিবৃতিতে উয়েফা জানায়, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর তাদের আস্থা আর নেই। সংস্থাটি এই উদ্যোগকে গোপন, অস্বচ্ছ, এবং অন্ধকার কক্ষের লেনদেন, হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনা করেছে।