৯ আগস্ট ২০২৬

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আরব আমিরাতে ছুটি ঘোষণা

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ০৯, ২০২৬
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আরব আমিরাতে ছুটি ঘোষণা

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

আগামী ২৮ আগস্ট (শুক্রবার) দেশটিতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হবে।

যেসব প্রতিষ্ঠানে শনিবার ও রোববার সাপ্তাহিক ছুটি থাকে, সেখানকার কর্মীরা শুক্রবারে এই ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা তিন দিনের ছুটির সুযোগ পাচ্ছেন।

তবে শারজাহর সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে ছুটির হিসাব কিছুটা ভিন্ন, কারণ সেখানে আগে থেকেই শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির আওতায় রয়েছে।

ইসলামি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়। তৎকালীন আরবের ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’ অর্থাৎ ঘোর সামাজিক অনাচার, বিশৃঙ্খলা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য থেকে মানবজাতিকে আলোর পথ দেখাতে একই দিনে ধরাধামে আগমন ঘটেছিল মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর।

মহানবীর জীবন ও আদর্শ শান্তি, সততা ও মানবতার প্রতীক হওয়ায় বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি উদযাপিত হয়।

আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেলের ট্যাংকারে 'ইরানের হামলা'

প্রকাশ: রবিবার, আগস্ট ০৯, ২০২৬
আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেলের ট্যাংকারে 'ইরানের হামলা'

হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির একটি তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমিরাত এই ঘটনাকে শত্রুভাবাপন্ন ইরানি হামলা ও জলদস্যুতা হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম জানায়, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় এডনকের জাহাজটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং ট্যাংকারটির নাম বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণও প্রকাশ করা হয়নি।

যদিও এখনও ইরান এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। এ বিষয়ে তেহরানের কোনো মন্তব্যও করেনি।

চলমান মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটিতে নৌ-চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলা অবাধ নৌ-চলাচল সংক্রান্ত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের পরিপন্থী।

তারা ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে হরমুজ প্রণালিকে অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে এবং অবিলম্বে এই পথ সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিল যে, তেহরানের শত্রুদের সাথে সম্পৃক্ত বা তাদের নির্দেশনা অমান্যকারী যেকোনো জাহাজের বিরুদ্ধেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আবুধাবির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি এডনক জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় তাদের মোট ১৫টি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

এসব হামলায় এখন পর্যন্ত একজন ক্রু সদস্য নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এডনক বর্তমানে চরম প্রতিকূল ও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সূত্র: রয়টার্স

উচ্চ সতর্কতার মধ্যে দুবাইয়ে ২০ মিনিটে সাত বিস্ফোরণ

প্রকাশ: বুধবার, আগস্ট ০৫, ২০২৬
উচ্চ সতর্কতার মধ্যে দুবাইয়ে ২০ মিনিটে সাত বিস্ফোরণ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে মাত্র ২০ মিনিটে ৭ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৫ আগস্ট) ভোরে শহরের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর এবং জেবেল আলি শিল্পাঞ্চলে এসব বিস্ফোরণ ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আকাশজুড়ে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহর আমিরাতি কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণ ঘটে দুবাইয়ে।

বিস্ফোরণের কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি আমিরাত কর্তৃপক্ষ।

মেহর নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণের অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আমিরাতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কয়েকটি ইরাকি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চলমান সংঘাতের মধ্যে ইয়েমেন থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ ছাড়া আমিরাতের সরকারি বা মূলধারার সংবাদমাধ্যমও বিস্ফোরণের কারণ হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

নাসার তাপীয় উপগ্রহচিত্রে জেবেল আলি বন্দরের পাশের একটি গুদাম এলাকায় আগুনের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুদামটি জ্বালানি সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত হতো।

এসব বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে আবাসিক এলাকার কাছাকাছি থেকে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পুরো সময়জুড়েই উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ হওয়ায় অতীতেও ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে দেশটির নাম আলোচনায় এসেছে।

বাংলাদেশকে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের ধন্যবাদ, শিগগির ঢাকা সফরের আগ্রহ

প্রকাশ: সোমবার, আগস্ট ০৩, ২০২৬
বাংলাদেশকে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের ধন্যবাদ, শিগগির ঢাকা সফরের আগ্রহ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) হামলার পর সংহতি প্রকাশ করায় বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। একই সঙ্গে, শিগগিরই ঢাকা সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

ঢাকাস্থ ইউএই দূতাবাস বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইউএই প্রেসিডেন্ট কঠিন সময়ে বাংলাদেশের সমর্থনের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

হামলায় ইউএইতে বসবাসরত দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন শেখ মোহাম্মদ।

তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

অর্থনৈতিক, উন্নয়ন ও মানবিক খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন ইউএই প্রেসিডেন্ট।

এছাড়া, বাংলাদেশ সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণকে তিনি আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং সুবিধাজনক প্রথম সুযোগেই সরকারি সফরে বাংলাদেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

শেখ মোহাম্মদ আশা প্রকাশ করেন, এই সফর দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের বিদ্যমান সুদৃঢ় সম্পর্ককে আরও গভীর করতে ভূমিকা রাখবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব এবং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক সম্পর্ক বিদ্যমান।

হরমুজ প্রণালীতে আরব আমিরাতের ২ জাহাজে ইরানের হামলা

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬
হরমুজ প্রণালীতে আরব আমিরাতের ২ জাহাজে ইরানের হামলা

সংযুক্ত আরব আমিরাত মঙ্গলবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে চলাচলের সময় তাদের দুটি তেলবাহী জাহাজে ইরান ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে এক নাবিক নিহত এবং আরো আটজন আহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত এ তথ্য জানিয়েছে।

এই হামলার আগে তেহরানে নতুন করে এক দফা বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

তেলসমৃদ্ধ সংযুক্ত আরব আমিরাত এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র। দেশটি এর আগেও ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, ওমানের আঞ্চলিক পানিসীমার মধ্যে হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথ দিয়ে যাওয়ার সময় ‘মোম্বাসা’ ও ‘আল বাহিয়াহ’ নামের দুটি জাতীয় তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে দুটি ইরানি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, হামলায় একজন ভারতীয় নাগরিক নাবিক নিহত হয়েছে। এছাড়া আটজন আহত হয়েছেন, আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

হামলার ফলে উভয় জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানানো হয়।

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি বলে উল্লেখ করেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানে নতুন করে এক দফা হামলা চালায়। এর পরপরই হরমুজ প্রণালীতে এই হামলার ঘটনা ঘটল, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সঙ্ঘাতকে আরো তীব্র করে তুলেছে।

হরমুজ প্রণালী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

এদিকে, সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত সব পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে, যাতে নৌপথটি সচল রাখার ব্যয় মেটানো যায়। একই সাথে গত মাসে প্রত্যাহার করা ইরানি জাহাজের ওপর অবরোধও পুনর্বহালের ঘোষণা দেন তিনি।

ইরান যুদ্ধ চলাকালে আমিরাতে আয়রন ডোম ও সেনা পাঠিয়েছিলাম: ইসরায়েলি মন্ত্রী

প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ০৭, ২০২৬
ইরান যুদ্ধ চলাকালে আমিরাতে আয়রন ডোম ও সেনা পাঠিয়েছিলাম: ইসরায়েলি মন্ত্রী

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কয়েক ডজন সেনা পাঠিয়েছিল ইসরায়েল। ইসরায়েলের পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুসালেম পোস্টের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

এর আগে, গত ২৬ এপ্রিল জেরুজালেম পোস্ট এবং আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যম এ ঘটনা প্রকাশ করেছিল। তবে তখন প্রতিবেদনগুলোতে ‘সূত্রের’ বরাত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ রোববার ইসরায়েলের পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ প্রকাশ্যে বিষয়টি নিশ্চিত করায়, এখন আর বিদেশি সূত্রের উল্লেখের প্রয়োজন নেই।

ইসরায়েলের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের (এমবিজেড) সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পরই ইউএইতে আয়রন ডোম ব্যাটারি ও ইন্টারসেপ্টর পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইরান উপসাগরীয় দেশটির দিকে যে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, সেগুলো এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়।

এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বাইরে প্রথমবারের মতো আয়রন ডোমের বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার। এর আগে সিঙ্গাপুর আয়রন ডোম কিনে পেয়েছে বলে জানা গিয়েছিল এবং রোমানিয়াও এটি পাওয়ার পথে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে দুই দেশ আব্রাহাম চুক্তিতে সই করার পর থেকেই ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। তবে সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের সময় সেই সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছে। যুদ্ধ চলাকালে ইরান, ইসরায়েলের তুলনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে কয়েক শ বেশি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। একই সঙ্গে দেশটির দিকে হাজার হাজার ড্রোনও পাঠানো হয়।

যুদ্ধে ইসরায়েলের আরও ঘনিষ্ঠ হলো আরব আমিরাতযুদ্ধে ইসরায়েলের আরও ঘনিষ্ঠ হলো আরব আমিরাত
যদিও অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছিল, তবু কিছু প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করে দেশের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল, যদিও প্রধান ভূমিকা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের, দক্ষিণ ইরানে অবস্থানরত ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলোর ওপর হামলা চালায়। এর উদ্দেশ্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা কমিয়ে আনা।

আয়রন ডোমের তথ্য ইরানে পাচার করেছেন ইসরায়েলি সেনাআয়রন ডোমের তথ্য ইরানে পাচার করেছেন ইসরায়েলি সেনা
অন্যদিকে, আঞ্চলিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও সৌদি আরব সহযোগিতা করলেও, রিয়াদকে এ ধরনের কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে বলে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। সৌদি আরব ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায়। তবে তাদের শর্ত হলো, জেরুজালেমকে অবশ্যই ফিলিস্তিনিদের জন্য দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে উল্লেখযোগ্য ছাড় দিতে হবে।